Home জাতীয় খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ!

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ!

8


>>মুক্তির শর্ত অনুসারে সুযোগ নেই


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট:


বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্ত অনুসারে তার বিদেশে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবুও স্বজনরা তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। চেষ্টা সফল হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যেতে চান স্বজনরা। এ জন্য খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডাঃ জোবায়দা রহমান লন্ডনের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সূত্র জানায়, ৬ মাসের জন্য মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ইতোমধ্যেই প্রায় ৩ মাস সময় পার করে ফেলেছেন। এখনও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে স্বজনরা চাচ্ছেন তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন নিয়ে যেতে। তবে সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোন অবস্থাতেই তাকে বিদেশে নেয়া সম্ভব নয়। আর বিদেশে নেয়ার অনুমতি পাওয়া গেলেও মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতা প্রয়োজন। আর এ সমঝোতা কিভাবে করা যায় সেজন্যই স্বজনরা অবিরাম দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে খালেদা জিয়ার স্বজনরা মনে করছেন, যেভাবে চেষ্টা করে খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে সেভাবে চেষ্টা করেই তার মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো ও বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আর এ চেষ্টায় যেন সফল হওয়া যায় সেজন্যই খালেদা জিয়া নিজে এবং তার স্বজনরা বিগত ৩ মাসে সরকারের বিপক্ষে কোন কথা বলেননি। বরং ভেতরে ভেতরে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আগের মতো এ চেষ্টায় তারা সফল হবেন বলে আশাবাদী।


এদিকে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে একটি অংশ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে সক্রিয় করার চেষ্টা করলেও শারীরিক অসুস্থতা ও মামলাজনিত কারণে আপাতত তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাচ্ছেন না। স্বজনরা তাকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়ায় তিনি এখন রাজনৈতিক কোন বক্তব্যই দিচ্ছেন না।

ইতোমধ্যেই কোন কোন রাজনৈতিক নেতা তার সঙ্গে দেখা করে রাজনৈতিক বক্তব্য আদায় করার চেষ্টা করলেও খালেদা জিয়া কৌশলে তা এড়িয়ে যান। নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক একজন বিএনপি নেতা জানান, শারীরিক অসুস্থতা ও মামলাজনিত কারণ ছাড়াও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এখন রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চান না। তিনি চান উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে। এছাড়া তিনি তার মুক্তির সময় আরও বাড়িয়ে নিতে চান।

এ জন্য তার কিছু স্বজন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর আইনগতভাবে তাকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করা যায় কি কি না দলীয় আইনজীবীরা সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা যায়, বিএনপির কিছু নেতা খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়াতে ব্যর্থ হয়ে তাকে দিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে একটি বিবৃতি দেয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তাতে রাজি হননি। তার স্বজনরা খালেদা জিয়াকে কঠোর নজরদারিতে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করায় বিএনপি নেতরা এখন খালেদা জিয়ার কাছে আগের মতো ভিড়তেও পারছেন না।


প্রায় সোয়া ২ বছর কারাবন্দী থাকার পর ২৫ মার্চ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসায় অবস্থানের পর থেকেই বিএনপিসহ সমমনা বিভিন্ন রাজনেতিক দলের নেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তার স্বজনদের পরামর্শে বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত লোকদের সাফ জানিয়ে দেন আপাতত তার রাজনীতি নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। তাই রাজনৈতিক কোন নেতা তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে যেন তাদের নিরুৎসাহিত করা হয়। ঈদের পর আবারও নতুন উদ্যমে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দু’একজন তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেও অধিকাংশ নেতাই সে চেষ্টায় ব্যর্থ হন।
২৫ মার্চ রাতে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ঘনিষ্ঠ ক’জন আত্মীয়, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ক’জন বিএনপি নেতা ছাড়া আর কেউ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। পরদিন ২৬ মার্চ থেকে তিনি নিজ বাসার দ্বিতীয় তলায় স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইন শুরু করেন। প্রায় দেড় মাস তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর বিএনপি নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। তবে কারও সঙ্গেই খালেদা জিয়া কোন রাজনৈতিক আলোচনা করেননি।

হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ার পর সবার আগে ১১ মে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরদিন ১২ মে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস গুলশানের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। এর পর ২৫ মে ঈদের দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করেন। ঈদের পরদিন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন তার সঙ্গে দেখা করেন। এরপর দেখা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

এছাড়া সম্প্রতি আবারও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিকে খালেদা জিয়ার স্বজনরা প্রায় দিনই গুলশানের বাসা ফিরোজায় গিয়ে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় কিভাবে তাকে বিদেশে নেয়া যায় সে চেষ্টার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সঙ্গে আবারও দেখা করার পর বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, তার সঙ্গে কোন রাজনৈতিক বিষয়ে কথা হয়নি। কারণ, খালেদা জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ। তবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলেও মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি দেশের ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন।


মুক্তি পাওয়ার পর অসুস্থ খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত চিকিৎসা বোর্ডের পরামর্শে গুলশানের বাসায় তার সঙ্গে থাকা নার্সের মাধ্যমে নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন। এছাড়া আপাতত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা বাসায়ই করা হয়। তার ডায়াবেটিস এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। শারীরিক অন্য সমস্যাগুলোও স্থিতিশীল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রিউমেটিক আর্থ্রারাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। তবে এসব রোগে ভুগলেও মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকায় তিনি আগের চেয়ে ভাল আছেন।
কারাগার থেকে বাসায় ফেরার পর প্রতিদিনই লন্ডনপ্রবাসী ছেলে তারেক রহমান, ছেলের বউ ডাঃ জোবায়দা রহমান, তারেক রহমানের মেয়ে জায়মা রহমান, প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, তার দুই মেয়ে জাসিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানের সঙ্গে ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কথা বলছেন।

এ সময় পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিচ্ছেন। জানা যায়, তারেক রহমানের স্ত্রী ডাঃ জোবায়দা রহমান খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে লন্ডনের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিচ্ছেন। সরকারের অনুমতি পেলে লন্ডনে নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়েও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে তার আগে বিমান চলাচল শুরু হলে লন্ডন থেকে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান খালেদা জিয়াকে দেখতে দেশে আসবেন। তবে যদি সরকারের অনুমতি পাওয়ার পরও কোন কারণে বিমান চলাচল শুরু না হয় সে ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় বিমান রিজার্ভ করে হলেও খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেয়ার চেষ্টা করবে তার স্বজনরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, সরকার সহযোগিতা করলে অনেক কিছুই সম্ভব। এছাড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদখানসহ ক’জনের বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার উদাহরণ তো রয়েছেই।


প্রসঙ্গত, বিএনপি ও দলীয় আইনজীবীদের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হাল ধরেন স্বজনরা। স্বজনদের দৌড়ঝাঁপ ও আবেদনের প্রেক্ষিতে করোনা পরিস্থিতিতে বয়স ও মানবিক বিবেচনায় সরকারের নির্বাহী আদেশে ২৫ মার্চ ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজনসেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সরাসরি গুলশানের বাড়ি ফিরোজায় উঠেন।-জনকন্ঠ