Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

25

ফকিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও বাইসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে। একই দিন সকাল সাড়ে ৮ টায় খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের ফকিরহাটের ফলতিতা এলাকায় দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়েছিল। দুর্ঘটনার পরেই মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ‘মরদেহটি উদ্ধার করেন। অপর দুই আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তার মধ্যে ভ্যানচালক আবুল কালাম (৫০) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই দিন বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় উপজেলার ফলতিতা এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ভ্যান ও বাইসাইকেলটি ফলতিতা থেকে ফকিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় রবি এক্সপ্রেস পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে বাইসাইকেলকে চাপা দেয় এবং এর পর ধাক্কা খায় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের সঙ্গে। এতে বাইসাইকেলচালক শাজাহান মোল্লা (৬৫), ভ্যানচালক আবুল কালাম (৫০) ও ভ্যানযাত্রী লাভলু শেখকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক লাভলু শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। ভ্যানচালক আবুল কালাম (৫০) গুরুতর আহত হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তার মৃত্যু হয়। অপর ইজিবাইক চালক শাহজাহান মোল্লাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. সবুজ শেখ। ##

ফকিরহাটে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল উদ্ধার, আটক-২
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার লখপুর এলাকা থেকে পিকআপ ভ্যান বোঝাই রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপুল পরিমান তামার তাঁর ও লোহার রড উদ্ধার করেছেন খুলনা র্যাব-৬ এর একটি দল। এসময় চালক সহ দুজনকে আটক করে। পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে র্যাব-৬ এর একটি দল গোপনে সংবাদ পেয়ে লখপুর মহাসড়কের পাশে থেকে পিকআপভ্যান বোঝাই তামার তাঁর ও লোহার রড় উদ্ধার করে। এসময় চালক সহ দুজনকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন পাবনার চরঘোষপুর এলাকার কালাম প্রামানিকের ছেলে বিপ্লব হোসেন (১৯) ও খুলনার দিলখোলা এলাকার দুলাল শেখের ছেলে পিকআপ ভ্যান চালক মেহেদী হাসান (২৩)। রাতেই উদ্ধার হওয়া পিকআপ ভ্যান সহ আটককৃ দুজনকে ফকিরহাট মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট মডেল থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করেন। ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. আলীমুজ্জামান বলেন, আসামীসহ পিকআপভ্যান বোঝাই মালামাল থানায় হস্তান্তর করেছেন র্যাব-৬। রোববার (৩০ এপ্রিল) সকালে আটককৃতদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফকিরহাটের বিভিন্ন কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা শুরু
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় বাগেরহাটের ফকিরহাটে রোববার (৩০ এপ্রিল) থেকে এসএসসি ও সমামান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষার প্রথমদিন সুষ্ঠ, সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন মোট পরীক্ষার্থীর ১৬জন অনুউপস্থিত ছিল বলে উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে। পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা বেগম নেলী ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিধান কান্তি হালদার সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা পরীক্ষা কেন্দ্র ও ভৈন্যু পরিদর্শন করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাটে এবার ৪টি কেন্দ্রে ও ২টি ভেন্যুতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে মূলঘর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এর ভেন্যু শিরীণ হক পইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বেতাগা ইউনাইটেট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এর ভেন্যু বেতাগা আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ফকিরহাট কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্র ও মূলঘর সাকিনা আজহার টেকনিক্যাল কলেজ কেন্দ্র। এরমধ্যে এসএসসি মূলঘর কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯১৭, বেতাগা ইউনইটেট কেন্দ্রে ৫৫২জন, এছাড়া দাখিল পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৯৬জন এবং কারিগরি বিভাগ থেকে রয়েছে ১৪৮জন। ফকিরহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আছাদুজ্জামান বলেন, এবছর ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৯টি মাদ্রাসা ও ১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮১৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথমদিনে ১৬জন পরীক্ষার্থী অনুপোস্থিত ছিল।

আশাশুনিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর আশাশুনির ৩ হাজার ৬শ’ ৭৯ জন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীর ৮ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রথম দিনের পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে পৃথক পৃথক পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়ানুর রহমান ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুল ইসলাম (পিপিএম)। রোববার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আশাশুনি সরকারি কলেজ (ভেনু), বুধহাটা বিবিএম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বুধহাটা কওছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা (ভেনু), দরগাহপুর এসকে আরএইচ কলেজিয়েট স্কুল, দরগাহপুর সিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসা (ভেনু), বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুল, বড়দল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (ভেনু) পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়ানুর রহমান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এবারও সংশোধিত ও পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচিতে হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে হবে পরীক্ষা। তিনি আরো বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কেউ গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ পরীক্ষা উপলক্ষে ২৬ এপ্রিল থেকে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত উপজেলার সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে। এসএসসি এবং এসএসসি ও দাখিলের (ভোকেশনাল) লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২৩ মে এবং দাখিলের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২৫ মে। পৃথক পৃথক পরিদর্শন শেষে বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে উপস্থিত ছিলেন বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল বাবলুর রহমান, বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান জগদিশ চন্দ্র সানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম এনামুল ইসলাম, পিআইও মোঃ সোহাগ খান, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার আক্তার ফারুক বিল্লাহ, এসআই আবু হানিফ, গাজী নুর নবী সহ স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, হল সুপার ও কেন্দ্র সচিবগণ প্রমুখ।

স্মার্ট খুলনা বিনির্মাণ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
তথ্য বিবরণী
স্মার্ট খুলনা বিনির্মাণ শীর্ষক মতবিনিময় সভা রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন। অতিথিরা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ নিয়ে এক সময় ছিলো জল্পনা-কল্পনা তা এখন বাস্তবতা। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশের বিনির্মাণে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন আইডিয়া নেয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায়ই স্মার্ট বাংলাদেশ সম্ভব হবে। তাঁরা আরও বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের তিনটি নীতি (পেপারলেস, ক্যাশলেস ও প্রেজেন্সলেস) ও চারটির স্তম্ভের (স্মার্ট সিটিজেন, সোসাইটি, ইকোনমি ও গভর্নমেন্ট) এর ওপরভিত্তি করে জেলা সংক্রান্ত ভিশন তৈরি করা যেতে পারে। সকল জেলার বিশেষ বৈশিষ্ট যেমন ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতি,ফসল, শিল্প কারখানা, পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট জেলায় রূপান্তরের জন্য ভবিষ্যৎমূখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।

মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ ইউসুপ আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুকুল কুমার মৈত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর কবিরসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

মোংলায় মাদক মামলার স্বাক্ষীদেরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলায় মাদক মামলার স্বাক্ষীদেরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছেন আসামীর পরিবারের সদস্যরা। এতে আহতদের মধ্যে দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের দেয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা। এ ঘটনায় আহতের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহতের পরিবার ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনিরঘোলের বটতলা বাজারের বাসিন্দা নুর আলী শেখের ছেলে রাজ্জাক শেখকে মাসখানেক আগে ফেলুরখন্ড এলাকা থেকে ২৫পিচ ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। ওই সময় উপস্থিল লোকজনকে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় স্বাক্ষী করেন পুলিশ। সেই মাদক মামলার স্বাক্ষীদের মধ্যে ইদ্রিস শেখ ও ইস্রাফিল শেখ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জয়মনিরঘোলের বটতলা বাজারে চিংড়ির পোনা কিনতে গেলে আসামী রাজ্জাকের পরিবার তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় রাজ্জাকের পিতা নুর আলী শেখ, মা রহিমন বেগম, ভাই সজিব, শাকিল ও দুলা ভাই সোহেল দা, রড ও লাঠিসোঠা নিয়ে হামলে পড়ে ইদ্রিসকে কুপিয়ে ও ইস্রাফিলকে পিটিয়ে জখম করেন। তখন সেখানে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেনের বড় ভাই মোসলেম গাজী মারামারি ঠিকাতে/ছাড়াতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করেন হামলাকারীরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে ইদ্রিস ও মোসলেমকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই সময় আরো আহত হন ইদ্রিস ও ইস্রাফিলের সাথে থাকা অপর পোনা ব্যবসায়ী সাইফুল ও মিরাজ। হামলায় গুরুতর আহত ইদ্রিস ও মোসলেম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ইদ্রিস ও মোসলেমের মাথায় দায়ের কোপে মারাত্মক জখম হয়েছে। এ ঘটনায় ইদ্রিসের বোন মিনারা বেগম বাদী হয়ে রবিবার দুপুরে থানায় হামলাকারী মাদক মামলার আসামীর পরিবারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত ইদ্রিস ও ইস্রাফিল বলেন, আমাদের আলাদা আলাদা চিংড়ি ঘের রয়েছে। ঘেরের জন্য পোনা কিনতে গেলে নুর আলী শেখসহ তার পরিবারের অন্যান্য লোকজন মিলে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এর মুল কারণ হলো নুর আলী শেখের বড় ছেলে রাজ্জাককে মাসখানেক আগে ইয়াবাসহ আটক করেছিলেন পুলিশ। ওই সময় উপস্থিত মতে পুলিশ আমাদেরকে ওই মাদক মামলায় স্বাক্ষী করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীর পরিবার আমাদেরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছেন। আর আসামী রাজ্জাক ওই মাদকের মামলায় বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।

স্থানীয়রা বলেন, নুর আলী শেখ ও রহিমন বেগমের পরিবারের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের হরিণ শিকার ও মাদকসহ নানা ধরণের অপরাধ কর্মকান্ডের একাধিক মামলা এবং অভিযোগ রয়েছে। বনবিভাগের মামলা ও অপরাধ তালিকায় (চোরা হরিণ শিকারী) নুর আলী-রহিমন পরিবারের সদস্যদের নামও (আসামী) রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগের তদন্তও চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেবহাটার নওয়াপাড়ায় কৃষকের ধানকেটে দিল যুবলীগের নেতাকর্মীরা
দেবহাটা প্রতিনিধি
অসহায় কৃষকের সহায়তায় দেশব্যাপী যুবলীগের ধানকাটা কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলা নওয়াপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃবৃন্দরা। রবিবার (৩০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের লিখিত নির্দেশ মোতাবেক এবং নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সাহেব আলীর পরামর্শক্রমে উক্ত ধানকাটা কর্মসূচি পালিত হয়।
নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক শেখ হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে যুগ্ন-আহবায়ক আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ, সদস্য বাপ্পা ঘোষ, সমীর ঘোষ, মোহাম্মদ তৌহিদদিন, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ মামুন মোড়ল, মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন, বাপি নাগ, শেখ আবুল হোসেন, শেখ আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, শেখ কাওসার আলী, বাবুলাল ঘোষ, সনজিত কর্মকার, চিরঞ্জিত ঘোষ, তাপস ঘোষ, ঝন্টু সরকার, তারক সরকার, শেখ শামীম হোসেন, শেখ নজরুল ইসলাম, শেখ ইব্রাহিম হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা ধানকাটায় অংশ নেন।
এ সময় গ্রাম হাদিপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গরিব, অসহায় কৃষক শেখ হাসান আলি এক বিঘা জমির ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন যুবলীগ নেতৃবৃন্দরা।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়ায় চলতি বোর মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এমনকি তীব্র গরম, অর্থিক সংকট, অতিবৃষ্টি সহ নানা সমস্যায় পড়েন কৃষক। তাই এসব অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়াতে প্রধান মন্ত্রী নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের যুবলীগের নেতাকর্মীদের কৃষক সহায়তার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কৃষকের ধানকাটা, মাড়াই করে ঘরে তোলা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

দামুড়হুদায় বজ্রপাতে ধান পুড়ে যাওয়া কৃষকদের সহায়তা
মাহমুদ হাসান রনি,দামুড়হুদা(চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গার বয়রার মাঠে বজ্রপাতে পুড়ে যাওয়া কৃষকদেন মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান। গতকাল শুক্রবার দামুড়হুদা নির্বাহী অফিসার রোকসানা মিতা বজ্রপাতে পুড়ে যাওয়া ফসলের মালিকদের সহায়তা প্রদান করেন।এসময় তার কার্পাসডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আঃ করিম উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৬ এপ্রিল সন্ধায় উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কার্পাসডাংগা- বয়রা মাঠে বজ্রপাতে কৃষক মোঃ ফারুকের ১ বিঘা ও মো: আক্তারুলের ১৬ কাঠা জমিতে কেটে রাখা স্তুপকৃত ধান বজ্রপাতে পুড়ে ছাই হয়ে যায় । ফলে তারা হয়ে পড়ে দিশেহারা। খবর পেয়ে পরদিনই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা মিতা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কৃষকদের পাশে দাড়ানোর লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

কয়রায় বিএনপির দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: কমিটি বাতিলে দাবি পদ বঞ্চিতদের
কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি
কয়রা উপজেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে দূ’গ্রুপের টানাপোড়ন চলছে দীর্ঘদিন, এবার ৮ জনকে পদ পদবী স্থগিত করার দাবি করে জেলা কমিটিতে সুপারিশ করেছেন আহবায়ক কমিটি। এদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক একাধিক সিনিয়র নেতা কর্মীর বর্তমান আহবায়ক কমিটিতে মান সম্মত পদ পদবী না পাওয়ায় একাধিক অভিযোগ এনে কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এসব নেতৃবৃন্দ। তবে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে বর্তমান আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ পাল্টা অভিযোগ করে, সাংবাদিকদের জানান, দলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পদ পদবী আছে এমন ৮ জন কে অভিযুক্ত করে সম্প্রতি অভিযোগ করা হয়েছে জেলা কমিটিতে। অন্যদিকে পদ বঞ্চিতদের অভিযোগ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল পরিক্ষিত এবং দলের দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে অনেকের নাম কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এবিষয় দলের সদস্য সচিব বাবুলের সাথে কথা বললে তিনি অর্থের বিনিময়ে সদস্য নিয়োগসহ তাদের সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, উপজেলা আহবায়ক কমিটি দিয়েছেন জেলা কমিটি যেহেতু অর্থের বিনিময়ে আমি নাম অন্তভূক্ত করেছি সেটা প্রশ্নেও উঠেনা। দলের এই চরম দূঃসময়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান বুঝে জেলা কমিটি যার যেখানে প্রাপ্য তাকে সেখানে বসিয়েছেন। দলীয় আহবায়ক কমিটির পদ পদবী থাকা সত্বেও ৮ জন ২৯ এপ্রিল দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সংবাদ সম্মেলন করায় তাদের বিরুদ্ধে পদ পদবী স্থগিত করার জন্য জেলা কে সুপারিশ করেছি।তিনি আরও বলেন, দলের মধ্যে এমন অনেক নেতা এবং কর্মী আছে যারা ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের হয়ে সকল নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেন। এসময় তিনি এক প্রশ্নের জবাবে পদ স্থগিত ব্যক্তিগণের নাম উল্লেখ করেন এবং তারা হলেন, বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মনিরুজ্জামান বেল্টু , এমএ হাসান ও আবু সাইদ বিশ^াস, সদস্য এ্যাডঃ শেখ আঃ রশিদ, কোহিনুর আলম, আঃ সামাদ, হাবিবুর রহমান, সালাউদ্দিন লিটন। অপর দিকে সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ শেখ আঃ রশিদ জানান, ২০২০ সালে ৯ সদস্য বিশিষ্ঠ আহবায়ক কমিটি কাজ করছে এবং সম্প্রতি জেলা থেকে ৪৯ সদস্য বিশিষ্ঠ আহবায়ক কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু এই কমিটিতে দলের দূঃসময়ের পরিক্ষিত নেতাকর্মদের মূল্যায়ন না করে সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত এমন কিছু কর্মীদের অর্থের বিনিময়ে নেতা বানিয়েছেন এবং এ ধরনের অভিযোগ বাবুলের বিরুদ্ধে অনেকেই করে আসছেন।

মহেশপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় হাসান আলী (৩৫) নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে মহেশপুর-ভৈরবা সড়কের নোয়ানীপাড়া মোড় নামক স্থানে এ দূর্ঘটনা ঘটে। সে সুন্দরপুর গ্রামের মোসারেফ হোসেনের ছেলে।
এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা যায়, হাসান আলী জিন্নানগর বাজারের পিটি গার্মেন্টেসের একজন কর্মী। সন্ধ্যার পর জিন্নানগর থেকে সুন্দরপুর গ্রামের তার বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে নোয়ানীপাড়া মোড় নামক স্থানে রাস্তার উপর একটি গাছের ডাল পড়ে ছিল। এ সময় ডালের সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা ছাগল বোঝায় একটি পিক-আপ তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এসবিকে ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ হাসান লুথান জানান, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মহেশপুর থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন কিন্তু থানায় কোন অভিযোগ না দেওয়ায় মামলা হয়নি।

জেলে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে মহেশপুরের এক শিক্ষার্থী
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি,
ঝিনাইদহের মহেশপুরের এক শিক্ষার্থী চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন জেল হাজতে থেকে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামী হিসেবে জেল হাজতে থাকায় তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সুযোগ দেওয়া হয়। ওই শিক্ষার্থী ফতেপুর ইউনিয়নের শামছুদ্দিন সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। গত ২৬ এপ্রিল হৃদয় আদালতে আত্মসমর্পণ করে।
ঝিনাইদহ জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে তাকে বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিয়ম-নীতি মেনে কারাগারের একটি কক্ষে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সে খালিশপুর পরীক্ষা কেন্দ্রের একজন পরীক্ষার্থী ছিল।
ফতেপুর শাসুদ্দীন সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হৃদয় তার স্কুলের একজন নিয়মিত ছাত্র। একটি মামলায় ঝিনাইদহ কারাগারে থাকায় কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
মহেশপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৮২জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত রয়েছে ৬৫ জন। এছাড়া মাদ্রাসা পর্যায়ে ২টি কেন্দ্রে ৬শ ২৪জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ২৮জন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হৃদয় নামে একটি ছেলে জেলে বসে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

ঝিনাইদহে নমুনা শস্য কর্তৃন ও কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
খাইরুল ইসলাম নিরব, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে নমুনা শস্য কর্তৃন ও কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে সদর উপজেলার হলিধানি ইউনিয়নের হলিধানী গ্রামের ভেটেরিনারি কলেজ এলাকায় এ আয়োজন করে সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আজগর আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায়, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মোঃ জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর এ নবী, হলিধানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এনামুল হক নীলু, হলিধানী ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি অফিসার মফিজ উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জুনাইদ হাবীব।
কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠানের প্রথমে হলিধানি গ্রামের কৃষক মোঃ আমিনুর রহমানের বোরো ধানের জমির প্লটে ২০বর্গমিটারে নমুনা শস্য কর্তৃন করা হয়। যার মাধ্যমে জেলায় মোট ধান উৎপাদনের মরিমাণ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় স্থানীয় ও গবেষণাসহ ২৩ হাজার ৭ শত ৫০ হেক্টর জমিতে মোট ৭ থেকে ৮ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৮৯ হাজার ৮শত ১৪ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তর।

দর্শনায় শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন
মাহমুদ হাসান রনি,দামুড়হুদা(চুয়াডাঙ্গা)
চুয়াডাঙ্গার দর্শনার দুটিকেন্দ্রে এসএসসিও সমমানের পরীক্ষা ২৩, বাংলা প্রথম পত্র শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়ছে।এসময় দর্শনা পৌর মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে দেখেন ।
রবিবার সকাল ১০টায় সারাদেশের ন্যায় জেলার দর্শনা থানাধীন দর্শনা পৌর এলাকার মেমনগর বিপ্র দাস মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে মেমনগর বিপ্র দাস মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৭৬ জন।
পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৭২ জন। অনুপস্থিত
পরীক্ষার্থীর ছিল ৪ জন। অন্যদিকে দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল২৬৮ জন। পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর ছিল ২৬০ জন।
অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ০৮ জন উভয় কেন্দ্রে কোন বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।দর্শনা থানা পুলিশ প্রশ্ন ও উত্তর পত্র স্কট করা সহ কেন্দ্রে পুরাপোশাকে সতর্ক অবস্থায় ডিউটি করেন এবং ডিএসবির গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত ছিল।

কৃষকদল খুলনা মহানগর শাখার আহ্বায়ক সজিবকে গ্রেফতারে খানজাহান আলী থানা কৃষক দলের নিন্দা
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
খুলনা মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সজিবকে, গত ২৮ এপ্রিল রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। কৃষকদল নেতা সজিবকে গ্রেফতার এর তিব্র নিদ্দা ও প্রতিবাদ ও নিশর্ত্ব মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন খানজাহান আলী থানা কৃষকদল নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন কৃষকদল খুলনা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান আলী, কৃষক দল খানজাহান আলী থানার আহ্বায়ক মোঃ শরিফুল ইসলাম টগর , কৃষক দল খানজাহান আলী থানার সদস্য সচিব মোঃ শামীম শেখ, মোঃ রাকিব সরদার, মোঃ বাবুল আক্তার, মোঃ নাজমুল হোসেন বিপ্লব, মোঃ ইনছাপ আলী,মোঃ শাহ আলম,মোঃ বাদল মুন্সি,মোঃ তরিকুল মোড়ল,মোঃ মহিউদ্দিন সর্দার,মোঃ আমিন উদ্দিন- প্রমুখ। বিবৃতিতে বিএনপির চলমান আন্দোলন কে গতিশিল করার লক্ষে সক্রিয় ভুমিকা রাখার কারনে,আক্তারুজ্জামান সজিব সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি রেখে অবৈধ ভাবে গ্রেফতারের নিন্দা জানান নেতৃবৃন্দ।

মুসল্লীদের মাঝে ক্ষোভে উত্তেজনা সৃষ্টি
শিরোমণি উত্তরপাড়া মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে হামলার চেষ্টা প্রতিহত করলো মুসল্লী, বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চলছে ষড়যন্ত্র, থানায় অভিযোগ
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন শিরোমণি উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটিতে গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকার চিহিৃত একটি মহলের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে মসজিদের সাধারণ মুসল্লীগণ। বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ালে অভিযুক্তরা মসজিদে বিশৃংখলা সৃষ্টির পায়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মুসল্লীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শিরোমণি উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল্লাহ মাসরুর স্বক্ষরিত থানায় করা লিখিত অভিযুক্ত সুত্রে জানাগেছে, শিরোমণি উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকার একটি অন্যতম প্রচীন ও বৃহত্তর মসজিদ। এই মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকার আব্দুল গণির পুত্র শেখ গিয়াস উদ্দিন, শেখ আকছার আলীর পুত্র আবজাল হোসেন এবং শেখ আব্দুল আজিজের পুত্র শেখ ইকরাম হোসেন মসজিদ কমিটির সদস্য সহ সাধারণ মুসল্লীদের উষ্কানিমূলক কথাবার্তা বলে বিশৃংখলা সৃষ্টির পায়তারা করে আসছিল। গত ৭ এপ্রিল জুম্মার নামাজের মসজিদ কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিনসহ মুসল্লীদের সাথে খারাপ আচারণ করলে উত্তেজনা সৃস্টি হয়। এ সময় আবজাল হোসেন মসজিদ থেকে বেরিয়ে দলবল নিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে মুসল্লিদের উপর হামলা চালালে মুসল্লীরা প্রতিহত করলে তারা পিছু হটে যায়। ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা মসজিদ কমিটির সদস্যসহ মুসল্লীদের সাথে পায়ে পড়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করায় মসজিদ কমিটি এবং মুসল্লীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে গত ১৭ এপ্রিল খানজাহান আলী থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে হামলাকারীরা নতুন করে বিশৃংখলা সুষ্টির চেষ্টা করায় মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এলাকার একটি মাদক চক্রের পৃষ্ঠপোষকতা এবং অভিযুক্ত আবজাল হোসেন সৎ ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীগণ।

খুলনা দিবস উপলক্ষে বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর কেক কাটা ও আলোচনা সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
শুভ শুভ শুভ দিন, ২৫ শে এপ্রিল খুলনার ১৪২তম খুলনা দিবস। এ দিন উপলক্ষে বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর উদ্যোগে কেক কাটা ও আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টায় সংগঠণের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সভাপতি মো. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক এস এম মাহাবুবুর রহমান খোকনের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খুলনা দিবসের উপর আলোচনা করেন ও কেক কাটেন খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পাটির খুলনা জেলা সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মধু, নাগরিক সমাজ আহব্বায়ক .এড. আ ফ ম মহাসিন, সিপিবি মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, ওয়ার্কাস পাটি মহানগর সভাপতি মফিদুল ইসলাম, ওয়াকার্স পাটির জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মো. দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, আইনজীবি এড. কাজী মো. আমিনুল ইসলাম মিঠু ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শেখ হারুনুর রশিদ।
বক্তারা বলেন আজ থেকে ১৪১বছর পুর্বে ১৮৮২ সালের এই দিনে নতুন জেলা হিসেবে খুলনা গেজেট নোটিফিকেশন হয়। সেই থেকে দিনটিকে স্বরনীয় রাখতে ২৫ এপ্রিল দিনটি খুলনা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসী প্রতিবারের ন্যায় এবার ও আলোচনা সভা ও কেক কেটে সকলের মাঝে বিতরন করেন। দিনটিকে স্বরণী রাখতে বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর এ আয়োজনকে ও তার নেতৃবৃৃন্দ কে ধন্যবাদ জানান। সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন মুন্সি আহমেদ হোসেন। এ সময় বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ হেমায়েতুল ইসলাম, সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু. ডা. আব্দুস সালাম, শেখ হেদায়েত হোসেন হেদু, মো. কামরুল ইসলাম কামু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, সাধারন সম্পাদক এস এম মাহাবুবুর রহমান খোকন, শেখ মোহাম্মাদ আলি, এম এ জলিল, মো. কামরুল ইসলাম ভুট্রো, ক্বারী শরীফ মিজানুর রহমান, শেখ শহিদুল ইসলাম, আরিফ, জিসান, আলহাজ্ব তাহেরুল আলম চৌধুরী, মো. শফিকুল ইসলাম অভি, রেজাউল ইসলাম রাজা, মো. আশরাফুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন তোকা, রফিকুল ইসলাম রফিক, শিক্ষক আঃ মান্নান, আ. মান্নান ওরফে মুন্নাফ, মো. জাভেদ আলম, কৃষক নাজমুল তারেক তুসার. সৈয়দা তৈইফুন নাহার, এড. আরিফুল ইসলাম, মো. তারিকুল ইসলসাম. শেখ তৈয়বুর রহমান, মো. মিকাইল হোসেন, আবু বক্কার, আজমল প্রমুখ।

রূপসায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু
রূপসা প্রতিনিধি
সারাদেশের ন্যায় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে রূপসা উপজেলায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত কাল ৩০ এপ্রিল সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয়েছে। উপজেলার ৫ কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯৯৩ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৯৬৫ জন। অনুপস্থিত রয়েছে ২৮ জন শিক্ষার্থী।
শিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪৫ জন। ছাত্র ২৪১ জন, অনুপস্থিত ২জন। ছাত্রী ২০৪ জন, অনুপস্থিত ২ জন । বেলফুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৯৫ জন। ছাত্র ২৯৭ জন, অনুপস্থিত ১ জন। ছাত্রী ৩৯৭ জন, অনুপস্থিত ৪ জন। কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫৭ জন। ছাত্র ১৮৩ জন, অনুপস্থিত নেই । ছাত্রী ২৭৪ জন, অনুপস্থিত ৫ জন। কাজদিয়া ভকেশনাল কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩১ জন। ছাত্র ৯১ জন, অনুপস্থিত ২ জন। ছাত্রী ৪০ জন, অনুপস্থিত ১ জন। সামন্তসেনা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬৫ জন, ছাত্র ১৫৪ জন, অনুপস্থিত ১০ জন। ছাত্রী ১০১ জন, অনুপস্থিত ১ জন।

কুষ্টিয়ায় হামলার ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ ২ জনের মৃত্যু
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে দগ্ধ হওয়া ছয়জনের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। রোববার দুপুর ২টার দিকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।

মৃতরা হলেন- চিলমারী বাজারপাড়ার মৃত নবির মণ্ডলের ছেলে দিনু মণ্ডল (৭০) এবং একই এলাকার তোফাজ্জেল মণ্ডলের ছেলে আকতার মণ্ডল (৩৫)।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ওসি মজিবুর রহমান।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত ও অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন। স্থানীয় হাসপাতালসহ ঢাকা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল চারজনকে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় চারটি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।

এ সময় হামলাকারীরা ওই সব বাড়ি থেকে গরু, ছাগল, ঘরের আসবাবপত্র ও সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় এবং কেটে ফেলে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ঘটনায় মণ্ডল পক্ষের মোজাম্মেল মণ্ডল বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দৌলতপুর থানায় হত্যাচেষ্টা ও বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৭৩ জনের নাম উল্লেখসহ ১২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চিলমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেলি দেওয়ানকে। মামলার ৩নং আসামি তারই ভাই চিলমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল দেওয়ান।

মামলার সূত্র ধরে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের অভিযানিক দল শুক্রবার রাতে চিলমারীর চরে অভিযান চালিয়ে চিলমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল দেওয়ানসহ (৪৩) ১৩ জনকে গ্রেফতার করে।

এছাড়াও একই দিন রাতে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকায় র্যাব অভিযান চালিয়ে মামলার ১নং প্রধান আসামি শেলি দেওয়ানকে (৫৬) গ্রেফতার করে। পরে তাদের দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। আসামিদের শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে রোববার দুপুরে আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ দিনি মণ্ডল ও আক্তার মণ্ডল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তবে এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

 

সুন্দরবন থেকে ৩ জেলে আটক
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অভয়ারণ্য এলাকা থেকে তিনজন জেলেকে বনবিভাগের সদস্যরা আটক করেছেন। শনিবার বিকেলে স্মার্ট পেট্রোল দলের প্রধান নির্মল কুমার মন্ডলের নেতৃত্বে সুন্দরবনের জলঢাকা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার গাবুরার ডুমুরিয়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুল মান্নান ও পৌত্র ইমরান হোসেন এবং মৃত আনছার মোল্যার ছেলে মো. আমানউল্লাহ।

বন আইনে দায়েরকৃত সিআর মামলায় আটক তিন জেলেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় জেলেদের ব্যবহৃত একটি নৌকা, শিকারকৃত মাছ ও জাল জব্দ করা হয়।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ইকবাল হোসাইন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাছ শিকারের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়েছিলেন ওই জেলেরা। তবে প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকায় গিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

হামলা-পাল্টা হামলায় অশান্ত দৌলতপুর
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
জমি নিয়ে বিরোধ ও রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় অশান্ত হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়ন।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চিলমারী বাজারে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনার মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম শেলি দেওয়ান, তাঁর ছোট ভাই চিলমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল দেওয়ানসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে পুলিশ সদস্য, ডিবি ও র্যাবের যৌথ অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে হামলায় আহতের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, চিলমারী বাজারের একটি রাস্তা তৈরিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিকদার ও খাঁ বংশের সঙ্গে মণ্ডল বংশের বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার মণ্ডল বংশের লোকজনের সাথে শিকদার ও খাঁ বংশের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগে মোজাম্মেল মণ্ডল নামে একজন মামলা করেন। সেই মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম শেলি দেওয়ান ও তাঁর ভাই তোফায়েল দেওয়ানকে আসামি করা হয়। শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়ার হাউজিংয়ের বাসা থেকে তাঁদের আটক করে র্যাব। তবে গতকাল শনিবার বিকেলে সাইফুল ইসলাম শেলি দেওয়ান জামিন পান।

পুলিশের ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল বলেন, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশ তৎপর। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

সাপ নিয়েই হাসপাতালে দংশনের শিকার নারী
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
মৃত সাপ সঙ্গে নিয়েই হাসপাতালে এলেন সাপের দংশনে আহত এক নারী। আপাতত তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রোববার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এমনই ঘটনা ঘটে।
ওই নারীর নাম অঞ্জনা বেগম (৩০)। তিনি চুয়াডার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের ব্যবসায়ী জাহিদ হাসানের স্ত্রী।

জাহিদ হাসান বলেন, ‘দুপুরে আমার বাবা মাঠ থেকে জ্বালানির জন্য কিছু শুকনা বাঁশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। আমার স্ত্রী সেই শুকনা বাঁশগুলো রান্নাঘরে নিয়ে রাখছিল। এসময় বাঁশের মধ্যে থাকা একটি সাপ তার হাতের তালুতে কামড় দেয়। পরে দ্রুত আমার স্ত্রীকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। যেহেতু আমরা সাপটি মেরে ফেলেছিলাম, তাই চিকিৎসার সুবিধার্থে সাপটিও সঙ্গে করে নিয়ে আসি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, দুপুরে সাপের কামড়ে আহত এক নারীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। একটি মৃত সাপও তারা সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আপাতত তিনি শঙ্কামুক্ত বলে ধারণা করছি।

চুয়াডাঙ্গার পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পানকৌড়ি’র প্রতিষ্ঠাতা বখতিয়ার হামিদ বলেন, সাপটির নাম বেত আঁচড়া। যার ইংরেজি নাম ‘ব্রোঞ্জ ব্যাক ট্রি স্নেক’। এই সাপ সম্পূর্ণ বিষহীন। ভয়ের কিছু নেই। ওই নারী প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যাবেন বলে আমার ধারণা।

 

 

 

গোপালগঞ্জে ফসলি জমির মাটি কাটায় একলাখ টাকা জরিমানা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় রবিবার ভেকু দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করার দায়ে দু’জন মাটি ব্যবসায়ীকে মোট একলাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান এ জরিমানা করেন।
অর্থদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের মৃত রতন কাজীর ছেলে শামীম কাজী (৪৮) ও গোপালগঞ্জ সদরের মাস্টারপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে বাবুল শিকদার (৩৫)।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, মাটি ব্যবসায়ী শামীম কাজী ও বাবুল শিকদার কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে দুই মাটি ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সাপের কামড়ে বছরে মারা যান ৬ হাজারের বেশি মানুষ
ঢাকা অফিস।।
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ ৮১ হাজার ৯১১ জন সাপের কামড়ের শিকার হন। তাদের মধ্যে অন্তত ৬ হাজার ৪১ জন মারা যান বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শনিবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় কালাজ্বর কর্মসূচির সহকারী পরিচালক ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান বলেন, সাপের কামড় বাংলাদেশে একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তবে, সাপে কাটলে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। কারণ, বাংলাদেশের বেশিরভাগ সাপই বিষহীন। দেশে মাত্র ৭ বা ৮ প্রকার বিষধর সাপ রয়েছে।

তিনি বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত স্থানের ওপরে বা নিচে কোনকিছু দিয়ে শক্ত করে বাঁধা যাবে না। তাতে আক্রান্ত স্থানে পচন ধরে যেতে পারে। সাপে কামড় দিলে মোটা কাপড় বা ব্যান্ডেজ দ্বারা প্যাঁচানো উচিত যাতে মাঝারি চাপ অনুভূত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সাপের কামড়ের ওষুধ পাওয়া যায়।

‘ফায়দা নিতে খালেদা জিয়াকে অসুস্থ বানিয়ে রাখছে বিএনপি’
ঢাকা অফিস
রাজনৈতিক ফায়দা লাভের উদ্দেশ্যে বিএনপি খালেদা জিয়াকে অসুস্থ বানিয়ে রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রোববার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হচ্ছেন এবং তিনি খুব ভালো আছেন। বিএনপির আসল উদ্দেশ্য খালেদা জিয়াকে অসুস্থ বানিয়ে রাখা ও দেখানো। রাজনৈতিক ফায়দা নিতে বিএনপি সব সময় সেটা করে আসছে।

তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না, সেটি তাদেরই সিদ্ধান্ত। গণমানুষের সংগঠন ক্রমাগতভাবে নির্বাচনের বাইরে থাকলে সেটি আর গণমানুষের সংগঠন থাকে না।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় গেছে। আমরা জনগণের শক্তিতে ও জনগণের রায়কে বিশ্বাস করি। বরং বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। সেজন্য তারা নির্বাচন বর্জন করছেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ১৪ বছর ধরে বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনে আসছি। এগুলো শুনতে শুনতে মানুষের কাছেও হাস্যকৌতুক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির কর্মীরাও এসব বিশ্বাস করে না।

৩৪ মাস ধরে বেতন নেই পলিটেকনিকের ৭৭৭ শিক্ষকের
স্টাফ রিপোর্টার
রাজু আহমেদ। খুলনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কারিগরি বিষয়ের শিক্ষক। ২০১২ সাল থেকে কলেজটিতে পাঠদান করছেন তিনি। একই সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কলেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজেও। তবে গত ৩৪ মাস ধরে চাকরি জটিলতায় বেতন পাচ্ছেন না। শুধু রাজু আহমেদ নন, তার মতো সারা দেশের ৭৭৭ জন শিক্ষক পড়েছেন এমন বিড়ম্বনায়।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে বেতন-ভাতার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি করেছেন সরকারি পলিটেকনিকের এসব শিক্ষক। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কারিগরি শাখা ও বাংলাদেশ পলিটেকনিক টিচার্স ফেডারেশন’-এর ব্যানারে শিক্ষকরা এ আন্দোলন করছেন।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক সংকট দূর করতে ২০১২ সালে দেশের ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এক হাজার ১৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। তবে বর্তমানে ৭৭৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইপি) প্রকল্পের আওতায় দুই ধাপে এসব শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হয়। দুই দফায় বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি চলমান ছিল। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি পরিপত্রের মাধ্যমে এসব শিক্ষকের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে বলা হয়।

প্রকল্প শেষে এসব শিক্ষকের চাকরি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ২০১৯ সালের ২২ মে সুপারিশ করা হয়। সেই আলোকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের থোক বরাদ্দ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত এসব শিক্ষকের বেতন দেয়া হয়। এরপর থেকে এসব শিক্ষকের বেতন বন্ধ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

কর্মসূচির বিষয়ে বাংলাদেশ পলিটেকনিক টিচার্স ফেডারেশনের উপদেষ্টা মো. সালাউদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা গত তিন বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছি। চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়েছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও কারিগরি অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক দাবি পূরণ করতে না পারায় তা এখনো ঝুলে আছে। আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ইমন আলী বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে বেতন বন্ধ। মানবেতর জীবনযাপন করছি। এর মধ্যে অনেকের চাকরির বয়সও শেষ। আমরা এই সংকটের সমাধান চাই।’