Home আঞ্চলিক খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুব’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুব’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

280

স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের চিঠি বিকৃত করে নিজের বাবার নামের এতিমখানার প্রকল্প পাশ করার অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের হয় ( নং ৩/২২)। খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আছাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

তিনি বলেন, ‘গত ১১ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলা পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির আরও কিছু প্রসেস রয়েছে। তারপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখার উপ সচিব সাক্ষরিত এক পত্রে খুলনা জেলা পরিষদকে মামলাটি দায়েরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘২০১৬ সালের ৬ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি পত্রের ‘অসম্মতি’ শব্দের ‘অ’ বর্ণটি মুছে ফেলে ‘সম্মতি’ শব্দ ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়। ওই পত্রে বর্নিত মুক্তিযোদ্ধা চেয়ারম্যান স, ম. আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স ও এতিমখানা একাডেমী এর সভাপতি এস এম মাহবুবুর রহমান নিজেই এবং প্রতিষ্ঠানটি তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এস এম মাহবুবুর রহমানের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগটি খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কর্তৃক তদন্ত করা হয় এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমান হয়েছে।

এস এম মাহবুবুর রহমান পূর্বে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। তার পৈত্রিক বাড়িও সাতক্ষীরা জেলায়। ২০১৫ সালের ১২ জুলাই সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের এক সমন্বয় কমিটির সভায় ধুলিহরে মুক্তিযোদ্ধা চেয়ারম্যান স.ম. আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স ও এতিমখানার একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ৩৫ লাখ টাকা খরচ অনুমোদন চেয়ে পরদিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

ওই বছরের ২৮ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারি সচিব মোঃ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এতিমখানার প্রাক্কলন কত? ইতিপুর্বে কতটাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে? বরাদ্দ অর্থ কি কি কাজ করা হয়েছে? তার সচিত্র প্রতিবেদন প্রেরন, এতিমখানায় কতজন এতিম/অনাথ রয়েছে-এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

২০১৬ সালের ৬ মার্চ সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারি সচিব মোঃ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এতিমখানার নির্মাণ প্রকল্পের ৩৫ লাখ টাকার অনুমোদন দিতে অসম্মতি জ্ঞাপন করা হয়। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস,এম, মাহবুবুর রহমান স্ক্যানিং এর মাধ্যমে ওই চিঠি হইতে ”অ” শব্দুটি মুছে ফেলে ‘সম্মতি জ্ঞাপন করা হলো” মর্মে জাল চিঠিটি পরিষদকে কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন। পরে জেলা পরিষদের আরএডিপি’র ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় মুক্তিযোদ্ধা চেয়ারম্যান স, ম. আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স ও এতিমখানা একাডেমী নির্মাণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে এস এম মাহবুবুর রহমানের মোবাইলে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।