মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট এর উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার
রশীদ হারুন
ভুট্টার ডগায় সবুজ পাতা দখিনা বাতাসে দোল খাচ্ছে। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। আনন্দের যেন সীমা নেই। দিগন্ত জোড়া মাঠে রয়েছে ভুট্টার চারার সবুজের সমরোহ। বিনা চাষে ও স্বল্প ব্যয়ে চাষীরা রোপণ করছেন ভুট্টা। পাশের পতিত জমিতে ঘরু ঘাষ খাচ্ছে। অনেক দর্শনার্থী বিকেল হলেই শহর বা বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখতে আসেন এই মনোরম ও চমৎকার পরিবেশ। অনেকে ভুট্টা চারার ছবি তুলছেন। এটি এককালে প্রদত্তা নদী ছিল। এখন খালে পরিনত হয়েছে। ভরাখালি খাল থেকে কৃষকরা মেশিনের সাহায্যে সেচ দিচ্ছেন। এই খালে যে পরিমান পানি সল্পতা। তবে এই বৃষ্টিতে একটু স্বস্তি পেয়েছে কৃষকরা। কৃষকদের। পানির অভাব রয়েছে। কৃষকরা এই ভরাখালি খালটি খননের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন।

বটিয়াঘাটার দেবীতলা এলাকায় ১৯৯৬ সালে ১০একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’র লবনাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষনা কেন্দ্র। এইখানে রয়েছে এলাচ, চুইঝাল, ড্রাগন ফ্রুটি, টমোটো, শিমসহ নানাবিধ সবজি, সুর্যমুখী ও ভুট্টা। রয়েছে ভাসমান নানা প্রজাতির কৃষি।
সূত্র জানিয়েছে, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট এর উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বটিয়াঘাটা উপজেলার ১১০ জন কৃষক প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে পলি ব্যাগে চারা রোপন পদ্ধতিতে তরমুজের চাষ ৫৭৫ বিঘা,সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগে বোরো ধান ১০ বিঘা ও সবজির চাষ ৫ বিঘা,বিনা চাষে ডিবলিং, চারা রোপন ও পলি ব্যাগের চারা রোপন পদ্ধতিতে ভুট্টার চাষ ১০ বিঘা করা হয়েছে। লবণাক্ত এলাকায় একটি ফসল আবাদ করা হয় আমন ধানের মৌসুমে ,শুষ্ক মৌসুমে ফসল আবাদের মূল সমস্যা হল লবণাক্ত পানি ।
আমন ধান কাটার পর এলাকার জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এখন পতিত জমিতে ফলছে সোনা। কৃষককের মুখে ফুটছে হাসির ফোয়ারা। রোপন কৃত তরমুজের মধ্যে রয়েছে ড্রাগন,গঙ্গা, হানিকুইন ও বিগ ফ্যামেলি। ভুট্টার মধ্যে রয়েছে বারী, হাইব্রিড-১৬ ও সামিট। উচ্ছের মধ্যে রয়েছে গঙ্গা জলি। মিষ্টি কুমড়ার মধ্যে রয়েছে সুইন্ট। চিচিঙ্গার মধ্যে রয়েছে আশা ও পদ্মা। বোরোর মধ্যে রয়েছে মিতালী-৪, আফতাব-৭০ এবং ছক্কা-১২০৩। প্রদর্শনীতে রোপনকৃত ভুট্টায় কিছু কিছু ফুল আসছে। চাষকৃত ভুট্টা এপ্রিল মাসের শেষে কাটা শুরু হবে এবং মে মাসের মধ্যে ঘরে তোলা যাবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে। হাসি ফুটবে কৃষকদের মুখে। স্বার্থক হবে তাদের গায়ের ঘাম। সরে জমিনে দেখা গেছে, রোপন কৃত ভুট্টার চারার চেয়ে পলি ব্যাগের চারা একটু বড় এবং দেখতেও বেশ ভালো।
গতবছর ২৫ বিঘা জমিতে ও চারা ভুট্টার আবাদ করা হয়। কৃষক ছিলেন ১৫জন। উৎপাদন হয়েছিল প্রতি হেকটরে ৮টন। ২৬ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। যার মুল্য দাড়ায় ৫লাখ ২০হাজার টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পন্য কিনি নিয়ে যায়। এতে তাদের আর বিক্রি করতে তেমন কোন কষ্ট করতে হয়নি। কৃষকদের বিনা মূল্যে সার ও বীজসহ সকল উপকরণ বিনা মূল্যে প্রদান করা করেছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট।
লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্র এর উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ এলাকার কৃষকেরা জমির পার্শ্ববর্তী ভরাখালী খালের পানি ব্যবহার করে খরিফ মৌসুমে আবাদ করছে । উক্ত এলাকার অন্যান্য খাল পুনঃখননের ব্যবস্থা করলে মিষ্টি পানির সংরক্ষনের পরিমান বৃদ্ধির পাশাআশি আবাদকৃত জমির পরিমানও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত ফসল ঘরে তোলা শুরু করবে।
সূত্র জানিয়েছেন, তরমুজঃ জাতের নাম-ড্রাগন,হানিকুইন,গঙ্গা ও বিগ ফ্যামিলি। মোট চাষী- ৮৫ জন। মোট জমি- ৫৭৫ বিঘা পলি ব্যাগে বীজ বপন- ৯-১৮ ফেব্রুয়ারি। পলি ব্যাগের চারাজমিতে রোপন- ২৪- ২৯ ফেব্রুয়ারি। সরাসরি বীজ বপন- ২৪-২৮ফেব্রুয়ারি।
চারার বয়স- ১২-১৫ দিন। ১৫-২০ দিন আগে জমিতে বীজ রোপন করা যায় ও ফসল কর্তন করা যায় । লবণাক্ততা বৃদ্ধির ও ঝড়-ঝঞ্জার আগেই ফসল ঘরে তোলা যায় । ভুট্টাঃ জাতের নাম-বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৬।মোট চাষী- ১১ জন। জমি- ১০ বিঘাচাষ পদ্ধতি:বিনা চাষেপলি ব্যাগের চারা রোপনপদ্ধতি: পলি ব্যাগে বীজ বপন- ৮-১২ জানুয়ারি। পলি ব্যাগের চারা জমিতে রোপন- ২৮- ২৯ জানুয়ারি। চারার বয়স- ১৫-২০ দিন। বিনা চাষে চারা রোপন পদ্ধতি: বীজ তলায় বীজ বপন- ৮-১২ জানুয়ারি। চারা জমিতে রোপন- ২৮- ২৯ জানুয়ারি।চারার বয়স- ১৫-২০ দিন। বিনা চাষে ডিবলিং পদ্ধতি: ডিবলিং পদ্ধতিতে বীজ বপন:১৫-২০ জানুয়ারি। ফসলের বর্তমান অবস্থাঃ পরিপক্ক অবস্থা
উদ্দেশ্য- বিনা চাষে ৩০-৪৫ দিন আগে জমিতে বীজ রোপন করা যায় ও ফসল কর্তন করা যায় । লবণাক্ততা বৃদ্ধির ও ঝড়-ঝঞ্জার আগেই ফসল ঘরে তোলা যায় । উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় পতিত জমিতে অতিরিক্ত একটি ফসল আবাদ করা। সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসল আবাদ করা।
এলাকার কৃষক নেতা কাকন মল্লিক বলেন, গত বছর ফলন ভালো হয়েছিল। বিনা চাষে অধিক লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। এ বছর আরো বেশী জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। কৃষকদের সেচের মাধ্যম হচ্ছে ভরাখালি খালটি। খালটি মৃত প্রায় । দ্রুত খনন না করলে কৃষকদের সেচ দিতে সমস্যা হবে। তিনি এই খালটি খননের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। মৃত্তিকা সম্পাদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’র এসআরডিআই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শচিন্দ্র নাথ বিশ্বাসসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত ভুট্টার ক্ষেত পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর এসআরডিআই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শচিন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, গত ১২ মার্চ কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। তিনি ঘুরে দেখেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বছর ১১০জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাদের বীজ ও সারসহ সকল প্রকার উপকরণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে সরকার কাজ করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর জন্য মৃত্তিকা সম্পাদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট নিরলস ভাবে কাজ করছে।











































