Home আঞ্চলিক বেনাপোলের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দুটি নির্মাণের ৭ বছরেও শুরু হয়নি...

বেনাপোলের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দুটি নির্মাণের ৭ বছরেও শুরু হয়নি সেবা কার্যক্রম

6

বেনাপোল  প্রতিনিধি     ।।

বেনাপোলের মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র দুটি নির্মাণের ৭ বছরেও শুরু হয়নি সেবা কার্যক্রম । ফলে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গর্ভবতী মায়েরা। অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে আসবাব।

স্থানীয়রা বলছেন, বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার গুরুত্ব অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। দীর্ঘ দিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে প্রায়ই মারা যাচ্ছেন গর্ভবর্তী মা ও শিশু। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন করোনা পরিস্থিতি স্বভাবিক হলেই হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম শুরু হবে।

জানা যায়, দেশের মা ও শিশুদের সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ডেভলভমেন্ট খাতে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৪৭টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করেন। ২০১৪ সালে ৭৮টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র তৈরি শেষ হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালে বেনাপোল বন্দর এলাকায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং ২০১৩ সালে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যায়ে গোড়পাড়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মান করা হয়।

স্বপ্ন দেখছিল এ অঞ্চলের মানুষ ভালো চিকিৎসা সেবা পাবেন। বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না গর্ভবতী কোন মা। কিন্তু স্বপ্নের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র গত ৭ বছর ধরে কোন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়নি। অসুস্থ মানুষের একমাত্র সেবা কেন্দ্র শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র। কিন্তু সেখানে গুরুতর অসুস্থ কোন রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয় না। রোগী গেলেই তাদের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পাঠিয়ে দেন যশোর জেনারেল হাসপাতালে। বেনাপোল থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে যশোর জেলা শহরে পৌঁছানোর মারা যান অনেকেই।

শার্শার নিজামপুর ইউনিয়নে বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার নিতু বলেন, গেল মাসে তার এক আত্মীয় গর্ভবর্তী অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হন। লকডাউনে যানবাহন চলছিল না। মোটরসাইকেলে বসিয়ে যশোর নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। দ্রুত চিকিৎসা না পেয়ে প্রায় এমন মৃত্যুর খবর ঘটছে প্রতিনিয়ত।

বেনাপোলের বাসিন্দা আশানুর জানান, গতমাসে তার মেয়ে গর্ভবর্তী অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে শার্শা স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার তাকে যশোর নেয়ার পরামর্শ দেন। খুলনা নেওয়ার পথে সে মারা যায়। বাড়ির কাছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও ডাক্তারের অভাবে চালু হয়নি। এখানে সেবা পেলে হয়তো মেয়েকে হারাতে হত না।

শার্শা উপজেলা মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, বেনাপোল ও শার্শা উপজেলায় দুটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আপাতত ৫টি করে বেড ও চেয়ার টেবিল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্ত আজো চিকিৎসার যন্ত্রপাতি বরাদ্দ হয়নি। সরকারের পরিকল্পনা ছিল এক সাথে সবকটি সেবা কেন্দ্র চালু করবে। কিন্তু পদ অনুমোদন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিলতায় এতদিন নিয়োগ হয়নি। অবশেষে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রত্যেক মাও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দুই জন চিকিৎসক, দুই জন নার্সসহ মোট ১৮ জন জনবল থাকবে। করোনা পরিস্থিতি স্বভাবিক হলেই চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু হবে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানান, বেনাপোল ও শার্শা উপজেলায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দুটি চালু হওয়া জরুরী। বিষয়টি সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ তদারকি করছেন। জেলা প্রশাসক মহাদ্বয়কে অবগত করা হয়েছে বিষয়টি।