Home আঞ্চলিক খুলনায় কর্মরত এসআই সাইদুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

খুলনায় কর্মরত এসআই সাইদুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

5
Kalerkantho Pic Size - 1

স্টাফ রিপোর্টার
প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে পুনরায় বিয়ে ও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবিসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)-এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনার পর আদালত অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন এসআই এসএম সাইদুজ্জামান (৩৪)। তিনি বর্তমানে খুলনা জেলার খালিশপুর থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার তুজারপুর গ্রামের শেখ মোঃ নুরুদ্দীনের ছেলে।

যৌতুক ও প্রতারণার অভিযোগ


গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সাইদুজ্জামানের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২৯)। বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে সাইদুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়া জারি করেছেন।
মামলায় এসআই সাইদুজ্জামান ছাড়াও তার পিতা শেখ মোঃ নুরুদ্দীন (৬২), মাতা শাহিনুর বেগম (৫৫) এবং ভগ্নিপতি আরিফুজ্জামান (৫০) ও বিল্লাল হোসেনকে (৪৮) আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাইদুজ্জামানের ভগ্নিপতি ও ভাংগা সরকারি কে এম কলেজের প্রভাষক মো:আরিফুজ্জামান ও অপরজন চরবিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো:বিল্লাল হোসেন উভয় বিয়ে স্বাক্ষী থেকে শ্যালককে সহযোগিতা করেন।
মামলার আরজিতে ভুক্তভোগী বলেন, ২০২৬ সালের গত ১৩ মার্চ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মধ্য বনগ্রাম এলাকার সুমাইয়া আক্তারের সাথে এসআই এসএম সাইদুজ্জামানের রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর ২১ এপ্রিল থেকে তারা খুলনা শহরে সাইদুজ্জামানের ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আসামিরা যৌতুকের দাবিতে সুমাইয়া আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন এবং সুমাইয়া ও তার পরিবারের দেয়া ১০ ভরি স্বর্ণালংকার কৌশল করে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেন। এছাড়া বিবাহের পর সংসার চালানোর কথা বলে বাদীর মায়ের কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সুমাইয়া জানতে পারেন যে, আসামিরা তার কাছে তথ্য গোপন করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। এসআই সাইদুজ্জামান ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আখি কবির নামে এক নারীকে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিবাহ করেছিলেন এবং সেই বৈবাহিক সম্পর্ক গোপন রেখে সুমাইয়াকে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এবং পরবর্তীতে আপোষ-মীমাংসার আলোচনার নামে আসামিরা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমাইয়াকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী সুমাইয়া আক্তার যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৩ ধারা এবং দণ্ডবিধি আইনের ৪৯৫/১০৯ ধারায় প্রতারণা ও যৌতুক দাবির অভিযোগে পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেন।