Home খেলাধুলা রোনালদোর ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা

রোনালদোর ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা

0


স্পোর্টস ডেস্ক

উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ চলাকালে পর্তুগাল জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। একই সঙ্গে তাকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

তবে আগামী নভেম্বরে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগালের নেশনস লিগের দুটি ম্যাচ রয়েছে। ওই দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো।

প্রধান কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জেরে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে একাদশে না রাখায় কোচের ওপর ক্ষুব্ধ হন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তার অভিযোগ, খেলার সময় দেওয়ার বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন জেসুস।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু প্রশমনকারী বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। রোনালদোর নিজের দোষ স্বীকার এবং আগে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড না থাকায় জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়েছে। তবে এটি ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ অনুমোদিত জরিমানা।

দল ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোচের বিরুদ্ধে কথা না রাখার অভিযোগ তোলেন রোনালদো। পাশাপাশি তাদের মধ্যে বিরোধের বিস্তারিতও তুলে ধরেন তিনি।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগের ঘটনা ব্যাখ্যা করে রোনালদো বলেন, ‘আমি পুরোপুরি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, যখন কোচ আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, নরওয়ের বিপক্ষে ৩০ মিনিট খেলার জন্য আমি প্রস্তুত কি না। আমি তখন শারীরিক পুনর্বাসনের দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছিলাম। বরাবরের মতো সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন ও দলের কার্যক্রমে যুক্ত ছিলাম। আমার ধারণা ছিল, সেদিন আর খেলতে হবে না। এ নিয়ে আমার কোনো সমস্যা ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অনুরোধ আমার শারীরিক পুনর্বাসন ও অনুশীলন পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কারণ, আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ অক্টোবর দারাগাঁওয়ে মাঠে নামার কথা ছিল। তারপরও আমি রাজি হয়েছিলাম। কোচ আমাকে প্রস্তুত থাকতে বলেন, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব।’

ঘটনার পরিণতি তুলে ধরে রোনালদো বলেন, ‘এরপর কী ঘটেছিল, তা সবাই জানেন। বিরতির পর আমি মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়ে ওয়ার্মআপ করি। সময় গড়াতে থাকে, কিন্তু আমাকে আর মাঠে নামানো হয়নি। কোচ আমার সঙ্গে কথা রাখেননি।’

রোনালদো জানান, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন যে শাস্তিই দিক, তিনি তা মেনে নেবেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল ফেডারেশন। সোমবার তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রীড়াবিদ রোনালদো। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে তার আনুমানিক আয় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা অবশ্য মনে করেন, রোনালদো এখনো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। কোচ জেসুসের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে অধিনায়ক আবারও দলে ফিরবেন বলে আশাবাদী তিনি।

প্রোয়েনসা বলেন, ‘আমরা পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে উঠে আসা সবচেয়ে বড় সম্পদের ঘরে রয়েছি—তিনি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, আমাদের অধিনায়ক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’