Home আঞ্চলিক সুন্দরবনে ২৬০ টন কয়লাবোঝাই কার্গো জব্দ, আটক ৯

সুন্দরবনে ২৬০ টন কয়লাবোঝাই কার্গো জব্দ, আটক ৯

2


শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লা পাচারের সময় ইন্দোনেশীয় কয়লাবোঝাই একটি বাল্কহেড কার্গো জব্দ করেছে বন বিভাগ। এ সময় কার্গোতে থাকা ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা কার্গোতে আনুমানিক ২৬০ টন কয়লা আছে। এ ঘটনায় বন আইনসহ প্রচলিত আইনে দুটি মামলা করেছে বন বিভাগ।

আজ সোমবার দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল রবিবার বিকালে বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদী থেকে কার্গোটি জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন তরিকুল ইসলাম (৩৪), দুলাল হাওলাদার (৩৪), সুমন তালুকদার (২১), নুরনবী (৩০), এনায়েত করিম (৪০), মো. ওবায়দুল (২২), মামুন (২২), মো. লায়েক মিয়া (৫০) ও কবির হোসেন (৩০)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা ও মোরেলগঞ্জ, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) শ্যামা প্রসাদ রায়ের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা ভোলা নদীতে নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় কয়লাবোঝাই কার্গোটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তারা সেটি থামিয়ে ভেতরে থাকা লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু তারা কয়লার প্রকৃত মালিকের নাম জানাতে পারেননি। পরে কার্গোসহ ৯ জনকে আটক করা হয়।

বন বিভাগের দাবি, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোংলা বন্দরের পশুর নদীর জয়মনি এলাকায় একটি মাদার ভ্যাসেল থেকে কার্গোতে প্রায় ২৬০ টন ইন্দোনেশীয় কয়লা বোঝাই করা হয়েছিল।
এরপর কার্গোটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে সুন্দরবনের ভেতরের নদীপথ ব্যবহার করে অন্য কোথাও নেওয়া হচ্ছিল। তবে কয়লার প্রকৃত মালিকানা, পরিবহনের বৈধতা এবং কার্গোটির গন্তব্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে বন বিভাগ।

শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুন্দরবনের সংরক্ষিত নদীপথ ব্যবহার করে কয়লা পরিবহনের ঘটনায় বন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে শরণখোলা থানায় আরও একটি মামলা করে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম জানিয়েছেন, বন বিভাগ কয়লাবোঝাই কার্গোসহ আটক ৯ জনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় একটি মামলা করেছেন। আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।