চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করার ১০ মাসেও কাজ শুরু করা যায়নি। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে চুক্তি স্বাক্ষর না করায় পুরো প্রকল্পটি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। পরে দরপত্র বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনগত জটিলতায় তা আটকে থাকে। তবে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আইইউজিআইপি)’-এর তৃতীয় ধাপের আওতায় ১৬ কোটি ৫৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। দরপত্রে অংশ নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দর প্রস্তাব করে কাজ পায় ‘ডিসিএলওএমএইচ (জেভি)’ নামে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ১৯ জানুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ‘নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ)’ জারি করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের আগে ঠিকাদারকে ৬৮ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩০ টাকা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ে জামানত জমা না দিয়ে কেবল সময় বাড়ানোর আবেদন করে। পরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘নোটিশ ফর ডিমান্ডিং জাস্টিস’ শিরোনামে আইনি প্রতিকার চাইলে প্রকল্পটির সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আলমডাঙ্গা পৌরসভার ১৪টি স্থানে প্রাক্কলিত ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট আট হাজার ৯৫৯ মিটার (প্রায় ৯ কিলোমিটার) পিচঢালাই ও ঢালাই সড়ক নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য– চারতলা সত্যনারায়ণ মন্দির থেকে একাত্তর চত্বর পর্যন্ত ১৪১১ মিটার সড়ক (ব্যয় ২.৬৯ কোটি টাকা), আনন্দধাম ব্রিজ থেকে এরশাদপুর নতুন বাজার ও সংযোগ সড়কের ১৩৬৪ মিটার উন্নয়ন (ব্যয় ১.৯৩ কোটি টাকা), চাতাল মোড় থেকে হাইরোড ও লোকমান ক্লিনিকের সামনে থেকে রাজ্জাকের দোকান পর্যন্ত ১১৩৮ মিটার সড়ক (ব্যয় ১.৬৫ কোটি টাকা) এবং এরশাদপুর চাতাল মোড় থেকে সবেদ আলী চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত ৮৭২ মিটার সড়ক নির্মাণ।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় রামদিয়া, এরশাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দুটি ক্রস-ড্রেন, ৪৯৪ মিটার নদী বা খাল রক্ষা প্যালাসাইডিং, ২৭৮টি আধুনিক স্ট্রিটলাইট এবং পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১১৯৭ মিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারের দেওয়া আইনি নোটিশের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে কোনো রিট পিটিশন দায়ের হয়নি। ফলে রিট না হওয়ায় দরপত্র বাতিলের ওপর থেকে প্রশাসনিক স্থবিরতা উঠে গেছে।
পৌরসভার মামলার পরামর্শক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাজেদুর রহমান প্রকল্প-সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আগের দরপত্র বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানে কোনো আইনি বাধা নেই বলে মতামত দিয়েছেন। আইইউজিআইপি প্রকল্পের পরিচালকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আহাদ আলী মন্টুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একপর্যায়ে সংযোগ কেটে দেন ঠিকাদার।
সার্বিক বিষয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, প্রকল্পটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে
এগিয়ে চলছে।
আইনি জটিলতা নিরসন করে দ্রুত কাজ শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন আলমডাঙ্গা পৌরসভার সচিব রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়াটি নিয়ম অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ২৮ অক্টোবর নগর সমন্বয় কমিটির একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিগগির পুনঃদরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কাজগুলো শুরু হলে পৌর নাগরিকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।










































