Home আন্তর্জাতিক মদিনায় হামলার অভিযোগ সৌদির, হুতিদের অস্বীকার

মদিনায় হামলার অভিযোগ সৌদির, হুতিদের অস্বীকার

2

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর মদিনাকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এর আগে তারা ইসলামের পবিত্র দুই শহর মদিনা ও মক্কাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে পড়েছে সৌদি আরব। এসব হামলার মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলাও রয়েছে, যা কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। গোষ্ঠীটির সঙ্গে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এসব হামলা হচ্ছে। জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইরানসমর্থিত হুতিদের শক্ত ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে রিয়াদ।

এসব হামলার জেরে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। সমকাল প্রতিবেদক জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। সৌদি আরবে চলমান বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে বিমান। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী বিমানের ফ্লাইট বন্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ সমকালকে জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদিগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের আরও তিনটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ নিয়ে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৩-এ। এসব ফ্লাইটের ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এদিকে বিমানবন্দর সূত্র আরও জানায়, রিয়াদসহ কয়েকটি স্থানে হুতিদের বোমা হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশ থেকে ওমরাহযাত্রীদের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। বিমানবন্দরে কয়েকজন ওমরাহযাত্রী বলেন, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাচ্ছেন তারা। তাদের বিশ্বাস, আল্লাহই তাদের হেফাজত করবেন।

এদিকে, পবিত্র ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবের মক্কায় গিয়ে আটকা পড়েছিলেন পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ নারী-পুরুষ। তারা অবশেষে বিকল্প পথে দেশে ফিরেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা বাংলাদেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলার কারণে সেখানকার বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরে তাদের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দুদিন সেখানে অপেক্ষার পর জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া দিয়ে কাতার এয়ারলাইন্সের বিমানে কাতার হয়ে বাংলাদেশে ফেরার ব্যবস্থা হয় তাদের।

হরমুজে দুই জাহাজডুবি

হরমুজ প্রণালির কাছে কনটেইনার জাহাজ ও ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার ডুবে গেছে। সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা তদারকির কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সেগুলোতে পৃথকভাবে প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা) আঘাত হেনেছিল।

ওই কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় জাহাজ দুটি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর বাইরে গত ১০ দিনেও নৌপথটির আশপাশে হামলা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা হামলা জোরদার করেছে।

প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা নিয়ে ইরানের কৌশল বদলের খবরের মধ্যেই দুই জাহাজডুবির কথা জানা গেল। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামে একটি ছোট কনটেইনার জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ডুবে যায়। এর ধারণক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত মঙ্গলবার জাহাজটিতে হামলা হয়। আগুন ধরার পর সেটি ডুবে যায়। এতে থাকা ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক একটি ঘটনায় অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডার পতাকাবাহী জাহাজ ‘কেপ ডাও’ প্রণালির কাছাকাছি ডুবে গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। ওই সময় এক ক্রু নিহত হন। বাকিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

সৌদিতে চাপা আতঙ্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কেন্দ্রীয় এলাকায় গতকাল মোবাইল ফোনে ‘আকাশ হামলা’র সতর্কবার্তা আসতে শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাতের আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। তবে এমন দৃশ্য দেখেও বেশির ভাগ বাসিন্দা ফোন বের করে ভিডিও ধারণ করা থেকে বিরত থেকেছেন। দেশটিতে এই সংযম অস্বাভাবিক, সেখানে মানুষ প্রতিদিনের নানা মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিয়মিত অনলাইনে শেয়ার করে থাকেন।
এসব ঘটনার ভিডিও ধারণের বিষয়ে সরকার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে। এ কারণেই তারা বিরত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও ভীতিকর। আমরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি এবং ক্ষেপণাস্ত্র দেখেছি।’ তিনি নিচু স্বরে আরও বলেন, ‘এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে না। কিন্তু নির্দেশনার কারণে আমার একবারও এটি ভিডিও করার কথা মনে হয়নি।’

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজটও এ সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সব স্কুলে বাড়ি থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এর মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি থেমে যায়নি। কিছু রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতানে এখনও ক্রেতার ভিড় রয়েছে।