স্টাফ রিপোর্টার।।
ছবদুল গাজীর বয়স এখন ১০৬ বছর। স্ত্রী মারা গেছেন বহু বছর আগে। ১২ বছর ধরে ইট ভেঙে সংসার চালাতে হচ্ছে তাকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর। একটু কাজ করলেই হাঁপিয়ে ওঠেন। ঠিকমতো শুনতে পান না। পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিন মেয়ে বেঁচে থাকলেও দুই ছেলে মারা গেছেন। বন্ধ হয়ে গেছে বয়স্কভাতা।
এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে জীবনযুদ্ধে হার না মানা সেই ছবদুল গাজীর পাশে দাঁড়িয়েছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তিনি ওই বৃদ্ধের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। একইসঙ্গে সরকারি অন্যান্য সহায়তারও আশ্বাস দেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবদুল গাজী যশোরের অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামের মৃত হারান গাজীর ছেলে। গত এক যুগ ধরে মৃত ছেলের স্ত্রী ও সন্তানদের সংসারে বসবাস করেন তিনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইট ভেঙে ৩০০-৪০০ টাকা আয় করে সেই টাকা দিয়ে চলে তাদের সংসার।
সম্প্রতি বৃদ্ধ ছবদুল গাজীর জীবনচিত্র নিয়ে একটি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টিগোচর হয়।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত ছবদুল গাজী বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমার ছবি তুলেছিল। তারপর ইউএনও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার অফিসে এনে সাহায্য করেছেন। আল্লাহর কাছে সবার জন্য দোয়া করব।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, ‘বৃদ্ধ ছবদুল গাজীর বন্ধ হওয়া বয়স্কভাতা দ্রুত সচল করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতি মাসে নওয়াপাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হবে। সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও ব্যবস্থা করা হবে।’











































