Home আন্তর্জাতিক তুরস্কে ভারি বৃষ্টিতে বন্যা : নিহত ২, ছয় প্রদেশে স্কুল বন্ধ

তুরস্কে ভারি বৃষ্টিতে বন্যা : নিহত ২, ছয় প্রদেশে স্কুল বন্ধ

2

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। বন্যায় সড়ক ও বাড়িঘর ডুবে গেছে, আটকে পড়েছে বহু যানবাহন। এ ছাড়া বহু ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইস্তাম্বুলসহ ছয়টি প্রদেশে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি আজ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। এ সময় উদ্ধারকারী দলগুলো সড়ক থেকে পানি সরানো, ভূমিধস মোকাবেলা এবং পানিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করে।

ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন পৌরসভার (আইএমএম) তথ্য অনুযায়ী, শহরের বেয়কোজ এলাকায় ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালের পর এটি শহরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ঘটনাগুলোর একটি। এ ছাড়া আইয়ুপসুলতানে ১৯০ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং সারিয়েরে ১৮৭ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পৌরসভা জানিয়েছে, বন্যা ও দুর্যোগসংক্রান্ত ৬ হাজার ৯৩৭টি জরুরি প্রতিবেদন পেয়েছে তারা।

অন্যদিকে ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় বুধবারের বৃষ্টিতে ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা, ১৫টি ভূমিধস এবং ৪৭ জনের আটকে পড়ার তথ্য নথিভুক্ত করেছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ জরুরি উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শহরের প্রধান দুটি বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় অবতরণ করতে না পারা ৪৩টি ফ্লাইটকে অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। এদিকে বন্যায় মেট্রো স্টেশন, আন্ডারপাস ও প্রধান সড়কগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ৪৩টি বিমান বিকল্প বিমানবন্দরে চলে যায়। এর মধ্যে ৩৯টি ফ্লাইট তুরস্কের অভ্যন্তরে এবং চারটি ফ্লাইট দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে।

প্রচণ্ড বাতাস ও বাতাসের গতির আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে সাবিহা গোকচেন বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিকে ‘উইন্ড শিয়ার’ বলা হয়। এটি বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বুধবার রাত ১০টা ২ মিনিটে ওই বিমানবন্দরে আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।