Home স্বাস্থ্য ত্বকের পানিশূন্যতা ও ব্রণ এড়াতে সঠিক যত্ন নেবেন যেভাবে

ত্বকের পানিশূন্যতা ও ব্রণ এড়াতে সঠিক যত্ন নেবেন যেভাবে

6


মিলি রহমান।।

গত দশকে ত্বকের যত্ন বা স্কিনকেয়ার কেবল কিছু নির্দিষ্ট উপাদানের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া আর অনলাইনের কল্যাণে নিয়াসিনামাইড, স্যালিসিলিক অ্যাসিড, রেটিনল, পেপটাইড এবং ভিটামিন সি-এর মতো উপাদানগুলোর নাম এখন সবার মুখেই শোনা যায়। বিভিন্ন তথ্যে দেখা গেছে, জেন জেড প্রজন্মের প্রায় ৬২% মানুষ কোনো ব্র্যান্ড দেখে নয়, বরং উপাদানের নাম দেখেই প্রসাধন সামগ্রী খুঁজে নেন। আর ‘নিয়াসিনামাইড’ খোঁজার হার বেড়েছে প্রায় ৭০% উপাদানগুলো সম্পর্কে জানা ভালো, তবে উপাদানটি কী কাজ করে তা জানার পাশাপাশি এটি আপনার ত্বকের আসলেই দরকার কি না বা আপনার রুটিনে কীভাবে মানাবে, তা জানাও জরুরি।
ত্বককে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর রাখার কথা ভাবলে এই পার্থক্যটা বোঝা খুব দরকার। কারণ রোদ, দূষণ, মানসিক চাপ, প্রদাহ এবং নানা রকম ইরিটেশন বা অস্বস্তি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ক্ষতি করে। তাই দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের যত্ন নেওয়ার শুরুটা হওয়া উচিত নিজের ত্বকের বর্তমান অবস্থা ভালোভাবে বোঝার মাধ্যমে।

উপাদানের আগে নিজের ত্বককে চিনুন
ব্রণ, কালচে দাগ, শুষ্কতা, তৈলাক্তভাব, সংবেদনশীলতা বা মুখের বলিরেখা–কোনো সমস্যাই একা একা আসে না। নতুন কোনো শক্তিশালী উপাদান রুটিনে যোগ করার আগে দেখুন আপনার ত্বক কেমন আচরণ করছে এবং এখন কী কী ব্যবহার করছেন। ত্বক যদি এমনিতেই খুব শুষ্ক থাকে, তবে প্রথমেই কোনো এক্সফোলিয়েটর বা স্ক্রাব ব্যবহার না করাই ভালো। আবার যদি কালচে দাগ দূর করতে চান, তবে শুধু ব্রাইটনিং সিরামের ওপর ভরসা না করে প্রতিদিন রোদ থেকে বাঁচার ব্যবস্থা বা সানস্ক্রিনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিন।

এ বিষয়ে কারমিক বিউটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. বৈভব মিত্তাল বলেন, “এখান থেকেই ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ত্বকের বর্তমান অবস্থা, এটি কতটা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে এবং এটি কী ধরনের পরিবেশে থাকে–সবকিছুই এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। এই বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করলে আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ–দুসময়ের জন্যই ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে পারি।”

আপনার উপাদানগুলো আসলে কী কাজ করে তা জানুন
ত্বকের ধরন বোঝার পর উপাদান সম্পর্কে জানলে তবেই তা সত্যিকারের কাজে লাগে। ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য রক্ষায় নতুন নতুন উপাদান যোগ হচ্ছে। যেমন–কোষের শক্তি বাড়াতে কাজ করা এনএডি+, ত্বকের মাইক্রোবায়োম ও পরিবেশের সুরক্ষার সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা ‘ফটোবায়োম’, কিংবা কোষের পুনর্নবীকরণ ও ব্রণ সারাতে ‘ননি স্টেম সেল’ নিয়ে এখন অনেক গবেষণা হচ্ছে।

শুধু লেবেলের পার্সেন্টেজ দেখেই ভুল করবেন না
আমরা অনেক সময় সিরামের গায়ে লেখা পার্সেন্টেজ (যেমন ১০% বা ২০%) মেপে দেখার পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করি, অথচ ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার বা সানস্ক্রিনের মতো নিত্যদিনের জিনিসগুলো কেনার সময় এত ভাবি না। কোনো পণ্যের গায়ে বেশি পার্সেন্টেজ লেখা থাকলেই সেটি খুব শক্তিশালী হবে, এমন কোনো কথা নেই। পণ্যের মান কেমন, এটি কীভাবে ত্বকে কাজ করে, এর সঙ্গে আর কী উপাদান রয়েছে এবং দিনে কতবার এটি ব্যবহার করা উচিত–সব মিলিয়েই এর কার্যকারিতা নির্ভর করে। এএইচএ বা বিএইচএ উপাদানগুলো কাজের হলেও, সবচেয়ে ভারী বা ঘনীভূত ফর্মুলাটিই আপনার জন্য সেরা হবে, তা কিন্তু নয়।

একটি ভালো ক্লিনজার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক না করেই পরিষ্কার করবে, ময়েশ্চারাইজার ত্বকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জোগাবে, এবং সানস্ক্রিন রোদের হাত থেকে ভালো সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন ব্যবহার করার মতো আরামদায়ক হবে। একটি প্রসাধন আমরা বছরে শত শত বার ব্যবহার করি, তাই প্যাকের গায়ে কী লেখা আছে তার চেয়ে বড় কথা হলো–আপনার ত্বক এটি কতটা সহজে সহ্য করতে পারছে।

রুটিনকে নিজের মতো মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন
ত্বকের ট্রেন্ডগুলো যত দ্রুত বদলায়, ত্বক কিন্তু তত দ্রুত বদলায় না। একসঙ্গে অনেকগুলো নতুন পণ্য ব্যবহার শুরু করলে কোনটি উপকার করছে আর কোনটি ক্ষতি করছে, তা বোঝা যায় না। তাই ধীরে ধীরে একটি একটি করে পণ্য রুটিনে যুক্ত করুন, নিয়ম মেনে ব্যবহার করুন এবং দেখুন ত্বক কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। ট্রেন্ডিং প্রডাক্টের পিছে না ছুটে ত্বকের আরাম, আর্দ্রতা, তৈলাক্তভাব এবং সংবেদনশীলতার দিকে নজর দিন।
মূল কথা হলো–এমন একটি রুটিন তৈরি করা, যা কোনো ধরনের ঝামেলা বা অস্বস্তি ছাড়াই নিয়মিত আপনার ত্বকের যত্ন নেবে। ত্বক তো বোঝে না কোনটি ট্রেন্ডিং উপাদান। এটি শুধু দেখে আপনি এর ওপর কী লাগাচ্ছেন, কত ঘন ঘন লাগাচ্ছেন এবং ত্বক তা কতখানি সহ্য করতে পারছে। ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার আসল রহস্য হলো এটিই: প্রতিদিন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া যা আপনার ত্বকের জন্য সত্যিই উপকারী। বুদ্ধিমানের মতো বেছে নেওয়া, নিয়মিত থাকা এবং একটু ধৈর্য ধরা–এটাই হলো সুন্দর ত্বকের মূল চাবিকাঠি।