Home আঞ্চলিক দেড় বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা ‘কালা শওকত’

দেড় বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা ‘কালা শওকত’

63

স্টাফ রিপোর্টার।।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর খুলনা নগরীর আলোচিত যুবলীগ নেতা শওকত হোসেন ওরফে ‘কালা শওকত’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৫ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, খুলনা নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার বিহারি কলোনি মোড় এলাকার বাসিন্দা মৃত আবদুল আলিমের ছেলে শওকত হোসেন একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে এবং তিনি নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দেড় দশকে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির নানা ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে। নগরীর বিভিন্ন বাণিজ্য মেলা, বড় মার্কেট ও বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাকে ঘিরে আতঙ্কের পরিবেশ ছিল বলে জানান অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক ঠিকাদার জানান, ২০১২ সালে একটি প্রকল্পের টেন্ডার জমা দেওয়ার পর শওকত তার বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করে টেন্ডার প্রত্যাহারের কাগজে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করেন। পরে গণপূর্ত অফিসে নিয়ে গিয়ে সেই কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আরেক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, ম্যানুয়াল টেন্ডারের সময় শওকত ও তার লোকজন টেন্ডার বাক্স পাহারা দিতেন। তাদের পছন্দের বাইরে কেউ টেন্ডার জমা দিলে তা ভেঙে শিডিউল ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানি সামজিন লিমিটেডের মাধ্যমে আমদানি করা প্রায় ৩৩ হাজার টন গম নিয়ে বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গেও তার নাম জড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৯০ কোটি টাকা মূল্যের ওই গম কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় তিনি ও তার ঘনিষ্ঠরা জড়িত ছিলেন।

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম বলেন, “শওকত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমিদখলসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।