Home Lead খুলনায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পিটানোর হুমকি, পাল্টা চ্যালেঞ্জে উত্তেজনা

খুলনায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পিটানোর হুমকি, পাল্টা চ্যালেঞ্জে উত্তেজনা

1937


শামিম শিকদার।।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুলনায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এক সাবেক ছাত্রদল নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মহানগর ও সদর থানা বিএনপির শীর্ষ পাঁচ নেতাকে মারধরের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দলীয় অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।


গত ১২ ফেব্রুয়ারি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ওই ছাত্র নেতা লেখেন, “সবাই প্রস্তুত থাকেন ত. ম. হু. ফ. ব (নামের প্রথম অক্ষর) সবাইকে আমরা পিটাবো যেকোন সময় যেকোন মুহূর্তে।” স্ট্যাটাসটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।


পাল্টা জবাব ও প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ:
হুমকিপ্রাপ্তদের মধ্যে ‘ফ’ নামের প্রথম অক্ষরযুক্ত এক শীর্ষ নেতা পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হুমকিদাতার পোস্টের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। জবাবে তিনি লেখেন, “… সাহেব, খুব বেশি প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার নেই ছোটভাই। আগামীকাল সকালে তোমার বড়ভাইয়ের কদমতলার দোকানে আমি থাকবো ইনশাআল্লাহ্। ওখানে আসলেই আমাকে অন্তত পাওয়া যাবে।

তারপরও তোমার যদি কষ্ট হয়ে যায়, তো যাদের তুমি মারবা, তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই নাহয় তোমার বাড়িতে দেখা করবানি। একজন … সাহেবকে কষ্ট দিলে আমাদের আবার পাপ হতে পারে। বেশি টেনশন নেওয়ার দরকার নেই, কথা যখন দিয়েছি তখন দেখা অবশ্যই হচ্ছে ভাইডি।”


এই পাল্টা চ্যালেঞ্জ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। পরদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হুমকিপ্রাপ্ত নেতা কদমতলায় অভিযুক্ত নেতার বড় ভাইয়ের দোকানে যান বলেও জানা গেছে। তবে সেখানে যাওয়ার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ভিন্ন ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।


ভিডিও নিয়ে বিতর্ক:
হুমকিপ্রাপ্ত নেতার সমর্থকদের দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখার চেষ্টা করেন। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনাকে অন্যভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। অপরদিকে হুমকিদাতার ঘনিষ্ঠরা ভিন্ন দাবি করছেন। ফলে ভিডিওটি নিয়ে দলীয় মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন:
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকে নেতৃত্ব, প্রভাব ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে ভেতরে ভেতরে টানাপোড়েন চলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য হুমকি ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ সেই দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় নেতাদের এ ধরনের প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ ও হুমকি সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতিবাচক বার্তা দেয়। তারা দ্রুত সাংগঠনিক তদন্ত ও শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


প্রশাসনের অবস্থান:
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।


খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন-এটি কি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক উত্তেজনা, নাকি এর প্রভাব মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে? দলীয় উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।