Home আঞ্চলিক এক মণ্ডপেই দুই শতাধিক প্রতিমায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

এক মণ্ডপেই দুই শতাধিক প্রতিমায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

18

স্টাফ রিপোর্টার।।


আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব ঘিরে খুলনার মণ্ডপগুলোতে এখন সাজসজ্জা আর প্রতিমা নির্মাণের ব্যস্ততা। জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কালার খরসংগ মন্দিরে এবারের সবচেয়ে বড় আয়োজন হচ্ছে, যেখানে তৈরি হচ্ছে একসাথে ২০১টি প্রতিমা।


মণ্ডপে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সারি সারি প্রতিমা। শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলেছেন রামায়ণ, মহাভারত, গীতা ও পুরাণের কাহিনী। দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও মহিষাসুর ছাড়াও রয়েছে দেবীর দশ রূপ এবং ভগবান বিষ্ণুর দশ অবতার। প্রতিমাগুলোতে চলছে রং তুলির শেষ কাজ, চারপাশে ব্যস্ত শিল্পীদের পদচারণা। প্রতিমা নির্মান আর প্রস্তুতি দেখতে এখন থেকেই প্রতিদিন পূজা মন্দিরে ভিড় করছেন ভক্তরা।

ভক্তেদের মধ্যে একটা মিশ্র অনুভূতি চলছে একদিকে উৎসুকতা ও আনন্দ, অন্যদিকে অপেক্ষার উত্তেজনা।

মৃণাল কান্তি রায় বলেন, প্রতিদিনই আসি প্রতিমা দেখতে, রং হয়ে যাচ্ছে, মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে, আর মনে হয় ‘মা এলেই ভালো লাগবে, এখন মায়ের আগমনের অপেক্ষায় আছি। সুমনা সরকার নামে আরেক ভক্ত বলেন, শুধু সাজসজ্জা দেখলেই মন ভরে যায়; রং তুলি, দুর্গার চোখ, প্যান্ডেলের আলো—এই সব মিলিয়ে উৎসবের একটা ভিন্ন আবেশ তৈরি হয়।

প্রতিমা নির্মাণে নিয়োজিত ভাস্কররা জানালেন, চার মাস ধরে দিন-রাত কাজ করছেন তারা। প্রতিটি প্রতিমায় চেষ্টা করেছেন আলাদা বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে। খরসংগ কালার মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ সুব্রত সরকার বলেন, নতুন প্রজন্মকে সনাতন ধর্মের ইতিহাস জানাতে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করা হয়েছে। শিল্প, রং আর ঐতিহ্যের সমন্বয়ে দুর্গোৎসবকে আরও বর্ণিল করে তুলতে চাই আমরা।

কালার খরসংগ মন্দিরের পাশাপাশি কাছাকাছি আরও একটি পূজামণ্ডপে তৈরি হচ্ছে ১৫১টি প্রতিমা। প্রতিদিন শত শত ভক্ত প্রতিমা দেখতে সেখানে ভিড় করছেন। মিকশিমিল শাহাপাড়া সার্বজনীন পূজা উদযাপন

কমিটির নেতা উজ্জ্বল কুমার সাহা বলেন, প্রতিমা থেকে শুরু করে প্যান্ডেলের আলোকসজ্জা—সবকিছুতেই আলাদা মাত্রা আনার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা চাই দর্শনার্থীরা এসে এক ভিন্ন আবহ অনুভব করুন।
প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনও নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ সবকিছু নজরদারিতে রেখেছে। এবছর খুলনা জেলায় মোট ৯১৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

শিউলির সুবাস আর শরতের বাতাসে ইতোমধ্যেই বইতে শুরু করেছে আগমনী বার্তা। প্রতিমার রঙে, প্যান্ডেলের সাজে আর ভক্তদের মুখে অপেক্ষার আবেগে সাজছে খুলনা। এখন কেবল অপেক্ষা মা দুর্গার আগমনের ঘণ্টাধ্বনির।