Home Lead নুরের মাথায় আঘাত, ভেঙে গেছে নাকের হাড়: বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত

নুরের মাথায় আঘাত, ভেঙে গেছে নাকের হাড়: বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত

42


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের জেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথার হাড়, নাক ও ডান পাশের চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। মাথায় আঘাতের কারণে সামান্য রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং এক চোখে মারাত্মক ক্ষতি দেখা দিয়েছে। যদিও তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন, তবে চিকিৎসকরা বলছেন তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন। তাকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময়ের পর তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব হবে। তার চিকিৎসায় ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ওদিকে অন্তর্র্বতী সরকার এ ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তথ্য সূত্র: দৈনিক মানবজমিন
চিকিৎসকদের মতে, নুরের মাথায় আঘাতের কারণে সামান্য রক্তক্ষরণ হলেও বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। তবে আরও কিছু পরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করেন। এ সময় নুরকে দেখতে আসেন বিএনপি-জামায়াতসহ অন্য দলের নেতাকর্মীরা। তারা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
গতকাল সকালে ঢামেক জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে নুরকে হাসপাতালে আনা হয়। সে সময় তার নাক থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো এবং গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে রাখা হয়েছিল। দ্রুত তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। তিনি বলেন, রাতে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সকালে মাথার সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে দেখা গেছে, আঘাতের কারণে নুরের চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং চোখে রক্ত জমাট বেঁধেছে। চোখ-মুখ ফুলে গেছে এবং চোখের ভেতরে রক্ত জমেছে। ইতিমধ্যে নিউরো সার্জারি, নাক-কান-গলা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাত পাওয়া যায়নি। তার আরেকটি সিটি স্ক্যান করা হবে, যাতে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের অবস্থা বেড়েছে নাকি কমেছে তা বোঝা যাবে।
ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নুরের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। তার জ্ঞান ফিরেছে, তবে মাথা ও নাকে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তিনি জানান, অন্তত ৪৮ ঘণ্টা না গেলে চিকিৎসকরা নুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না।
এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুরের খোঁজ-খবর নেয়ার পর গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, নুরুল হক নুরকে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। এতে তার নাক ফেটে গেছে, চোখে আঘাত লেগেছে। রাশেদ বলেন, আমরা অতীতে সেনাবাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছি, এখনো আমরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নই। তবে সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য নুরের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সেনাবাহিনী আমাদের কার্যালয়ে ঢুকে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, পুলিশের অনুরোধে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে। কিন্তু পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে, এমন কোনো অনুরোধ পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয়নি বলে জানান তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ডিজিএফআই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভিডিও ও লাইভ সরাতে চাপ দিচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানানোর জন্যও বিশেষ সংস্থার প্রভাব খাটানো হচ্ছে। জিএম কাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করলে পিঠের চামড়া থাকবে না।
ডাক্তাররা বলেছেন, উনি আশঙ্কামুক্ত নন, তারা উনাকে ৪৮ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে চাচ্ছেন। এ হামলা মর্মান্তিক। এ ঘটনায় একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে জড়িতদের বিচার করতে হবে। এ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধের অনেক পদক্ষেপ রয়েছে, কিন্তু এ রকম নির্মমভাবে পিটিয়ে নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯শে আগস্ট রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করলে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত ১১টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ওই সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসলে দলটির নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন।