Home Lead ঋণের বোঝা আর দস্যু আতঙ্ক নিয়ে সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি জেলেদের

ঋণের বোঝা আর দস্যু আতঙ্ক নিয়ে সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি জেলেদের

41

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।


তিন মাস অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটানোর পর অবশেষে হাসি ফুটেছে মোংলার প্রায় ৩০ হাজার জেলে পরিবারের মুখে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় বেকার বসে ছিলেন এসব জেলে।


হাতে গোনা কয়েকজন সরকারি সহায়তা পেলেও অধিকাংশ জেলেই সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তিন মাস তাদের দিন কাটাতে হয়েছে চরম কষ্টে। তবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ায় এখন তারা নতুন করে জীবিকার স্বপ্ন দেখছেন।

বন বিভাগ জানায়, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও মাছের বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে জেলে ও পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। ২০১৯ সাল থেকে এ কার্যক্রম চালু রয়েছে। তিন মাস বন্ধ থাকার পর এবারও ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন উন্মুক্ত হবে। দেশের বিশাল এই বনাঞ্চলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়া, যা থেকে প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আয় করে সরকার। এ সম্পদ রক্ষার্থে নির্দিষ্ট সময় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে।

সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা। কেউ তাদের নৌকা-ট্রলার রং করছেন, কেউ নতুন জাল তৈরি করছেন, আবার কেউবা নতুন নৌকা প্রস্তুত করছেন। তবে এ বছর বনদস্যুদের পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠার খবর জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবুও পরিবারের দায়-দায়িত্ব ও বেঁচে থাকার তাগিদে মহাজনদের কাছ থেকে দাদন এবং বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে আবারও বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি নৌকায় সাধারণত দুই থেকে তিনজন করে জেলে থাকেন। প্রথম দফায় তারা ছয় দিন সুন্দরবনে অবস্থান করে মাছ ও কাঁকড়া ধরে ফিরবেন। এরপর আবার নতুন করে অভিযানে যাবেন। এভাবে বছরের নয় মাসই সুন্দরবনে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করেন তারা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪৫০টি নদী-খাল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি খাল অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত খালগুলোতে সারা বছরই মাছ ধরা নিষিদ্ধ। তবে বাকি নদী-খাল ও জলাভূমিতে পারমিটধারী জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে পারেন।

চিলা ইউনিয়নের জেলে জলিল হাওলাদার বলেন, ‘দীর্ঘ তিন মাস বেকার বসে থাকার পর এখন সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ধার-দেনা করে জাল ও নৌকা সব প্রস্তুত করেছি। বন বিভাগ থেকে পাশ ও পারমিট পেলেই মাছ ধরতে বনে প্রবেশ করব।’

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দিপন চন্দ্র বলেন, ‘সব বনজীবীকে বনের আইন মেনে চলতে হবে। বনরক্ষীদের টহল ও কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা কেউ অমান্য করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’