Home জাতীয় ৬ দিন আগে গ্রামে ফিরলেন শিক্ষক মেহেরীন, তবে লাশ হয়ে

৬ দিন আগে গ্রামে ফিরলেন শিক্ষক মেহেরীন, তবে লাশ হয়ে

34

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
আগামী ২৮ জুলাই গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়ায় আসার কথা ছিল রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মেহেরীন চৌধুরীর। তার আগেই মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয় তাকে। তবে জীবিত নয়, মৃত।
সোমবার (২১ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে তাতে অনেকের সঙ্গে প্রাণ হারান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মেহেরীনও। ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে ওইদিন রাতেই মারা যান তিনি।
এদিকে, ঢাকা থেকে মেহেরীনের লাশবাহী গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে শোকাহত মানুষের ঢল নামে। তাকে একনজর দেখতে মানুষ ভিড় করে সেখানে। পরে জানাজা শেষে বিকেল ৪টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জলঢাকার বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী ২৮ জুলাই। ওই সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা ছিল শিক্ষক মেহেরীনের। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শোকসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সভাপতির অকাল মৃত্যুতে ছুটি ঘোষণা করা হয় প্রতিষ্ঠানটির।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মরহুম মোহিতুর রহমান চৌধুরী ও ছাবেরা চৌধুরী দম্পতির বড় সন্তান মেহেরীন চৌধুরী। তারা দুই ভাই ও দুই বোন। শিক্ষাজীবন শেষে মেহেরীন ২০০২ সালে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৮ সালে শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার চর আত্রাই গ্রামের মনছুর হেলালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
স্বামী ঢাকার একটি কম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাদের রয়েছে দুই ছেলে সন্তান। এর মধ্যে বড় ছেলে আইয়ান রশিদ মিয়াজ ‘ও’ লেভেল শেষ করেছে। আর ছোট ছেলে আদিল রশিদ মাহিদ ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দেবে। মেহেরীনের বাবা মোহিতুর রহমান চৌধুরী ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ও মা ছাবেরা চৌধুরী ২০২০ সালের ৩০ জুন মারা যান।
সূত্র আরো জানায়, মেহেরীনের জন্ম ১৯৭৯ সালের ৬ জুন। তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকার শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও ১৯৯৭ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিতুমীর কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন।
বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস ছামাদ জানান, মেহেরীনের বাবা মোহিতুর রহমান চৌধুরী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালাতো ভাই। তার মায়ের নাম রওশন আরা। সেদিক থেকে মেহেরীন চৌধুরী জিয়াউর রহমানের ভাতিজি।
বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মহুবর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল এডহক কমিটির সভাপতি হন মেহেরীন। তিনি ২২ জুন প্রতিষ্ঠানে এসে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের দিকনির্দেশনা দেন। ২৮ জুলাই অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সোমবার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগে দুপুর ১২টার দিকে মুঠোফোনে আমার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এ সময় ওই অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না বলে আমাকে জানিয়েছিলেন।’
প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তার (৪৫) বলেন, ‘মেহেরীন চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়িতে থাকেন না ঠিকই। কিন্তু বিভিন্ন ঈদে পর্বে গ্রামে আসতেন। শীতের সময় শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। যে কলেজে তিনি সভাপতি হয়েছেন, ওই কলেজটি তাদেরই দাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন।’