অধ্যাপক ডা. সৈয়দ একে আজাদ।।
ড্রুপি আইলিড (Ptosis) অর্থ হলো চোখের পাপড়ি ঝরে যাওয়া। রোগটি শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই হতে পারে। তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঠিক করা যায়। অনেক শিশু আছে, যারা জন্মগতভাবে ptosis নিয়ে জন্মায়। মূলত দুর্বল পেশির কারণে দৃষ্টি ধীর হয়ে এমন হয়। রোগের প্রকোপ বাড়লে শুধু চোখের ছোটখাটো ড্রপ থেকে শুরু করে চোখের পাপড়ি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হতে পারে। জন্মের পরই লক্ষণ বোঝা যায়। বংশগত কারণে এমনটা হতে পারে। আবার জীবনের যে কোনো পর্যায়ে এ রোগ হতে পারে। যদি লক্ষণ দেখা দেয়, তবে শুরুতেই চিকিৎসা করানো ভালো। সমস্যা গুরুতর হয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, এমনকি অপারেশনের দরকার পড়ে।
লক্ষণ : চোখের পাতা ঝুলে যায়। একটি চোখ আক্রান্ত হতে পারে, আবার দুটি চোখ আক্রান্ত হতে পারে। উভয় চোখ ptosis দ্বারা আক্রান্ত হলে অনেকে বুঝতে পারেন না। এ রোগে চোখে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি আসে। চোখে ঘুমঘুম ভাব হয়। দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হতে থাকে। পিটিসিস-এ আক্রান্ত শিশুরা প্রায়ই ভালোভাবে দেখার জন্য তাদের মাথা পেছনে ঝোঁকাতে থাকে। তাদের ঘাড় বা কাঁধ উঁচু করতে পারে। ড্রুপি আইলিডের কারণে কোনো কোনো শিশু তাদের ভ্রƒ তুলে চোখের মনির মাঝখানে এনে দেখার চেষ্টা করে। প্রাপ্তবয়স্কদের চোখের পাতা ঝুলে যেতে পারে কখনো কখনো ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে। চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের সময় ভুলবশত চোখের পাতার একটি টেন্ডন কেটে যায়। দুর্ঘটনাজনিত আঘাত থেকে টেন্ডনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি স্নায়বিক বা পেশিসংক্রান্ত রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া চোখে টিউমারের কারণেও এমনটা হতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে ড্রুপি একই লক্ষণ দেখা যায়। আইলিড হওয়ার কারণে চোখ নড়াচড়ায় অসুবিধা, স্নায়বিক রোগ, চোখের পাতা বা অন্যান্য স্থানে টিউমার, চোখে ফোলাভাব হচ্ছেÑ এমনটি দেখা যায়।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা : আপনি কোনো দুর্ঘটনায় পড়েছেন কিনা, অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বা আপনার স্ট্রোক হয়েছে কিনা, চক্ষু বিশেষজ্ঞ রোগের পুরো ইতিহাস জেনে নেবেন। দুচোখেই সমস্যা হলে রোগীর দুই চোখের তুলনা করে চক্ষু বিশেষজ্ঞ সহজেই রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। যদি এক চোখে সমস্যা দেখা দেয়, তখন উভয় চোখ প্রভাবিত হয়। তখন নির্ণয় করা কঠিন, বিশেষ করে যখন চোখের পাতা ঝুলে থাকে। ডাক্তার রোগীর চোখের সিøট ল্যাম্প পরীক্ষা করবেন। এটি উচ্চ-তীব্রতর আলোর একটি পাতলা রশ্মি। ফোকাস করার জন্য একটি কম পাওয়ার মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করতে হয়। পদ্ধতিটি সাধারণত চোখের রুটিন পরীক্ষার মতো। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ছানিও পরীক্ষা করবেন। একইসঙ্গে আপনার সকেটের উচ্চতা, আপনার ptosis-এর স্তর ও আপনার ঝুলে থাকা চোখের পাতার অবশিষ্ট শক্তি নির্ধারণ করতে চোখের পাতা এবং সকেটের পরিমাপ করবেন। ptosis নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুর প্রথম অবস্থার ছবি তুলে রাখতে হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোয় নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করতে হবে। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষায় শিশুর দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং অ্যাম্বলিওপিয়া এড়াতে সাহায্য করবে।
লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন
বিভাগীয় প্রধান, চক্ষুরোগ বিভাগ
আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা
০১৫৫২৪০৯০২৬; ০১৭২২০৭৩২১৭











































