রাজু হাওলাদার।।
খুলনায় চলতি মওসুমে ২৮৯ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেড়েছে। ৯ উপজেলার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বেড়ে ওঠা ফসল আর ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। উন্নত জাতের বীজ ও সার প্রণোদনা পাওয়ার পাশাপাশি গত বছর সরিষা চাষ করে লাভবান হওয়ায় এবার কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরও প্রত্যেক সরিষা চাষি অধিক মুনাফা লাভ করবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন গবেষণা বিভাগ দৌলতপুর খুলনার পাইলট প্রদর্শনী প্লটের পাশাপাশী ঘেরের কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বিনা মূল্যে সার, বিজ ও জমি তৈরিতে আর্থিক সহায়তায় দিয়ে উপকূলের লবণাক্ত এলাকায় বারি ১৯ জাতের সরিষার আবাদ সম্প্রসারণ করছে।
এদিকে সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে জেলার এক হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের জন্য ১৩ হাজার ৬০০ জন চাষিকে বীজ ও সার দিয়ে সহায়তা করেছে কৃষি বিভাগ। দৌলতপুর মেট্রো এলাকার ৫০ জন, লবণচরা মেট্রোর ৫০ জন, রূপসা উপজেলার দুই হাজার জন, বটিয়াঘাটার এক হাজার ৮০০ জন, দিঘলিয়ার এক হাজান ২০০ জন, ফুলতলার এক হাজার ৪০০ জন, ডুমুরিয়ার দুই হাজার ৩০০ জন, তেরখাদার এক হাজার ২০০ জন, দাকোপের ৩০০ জন, পাইকগাছার এক হাজার ৮০০ জন ও কয়রার এক হাজার ৫০০ জন চাষির প্রত্যেককে এক কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রণোদনা দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে জেলায় এক হাজার ৯৫৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুর মেট্রো এলাকায় ১৪ হেক্টর, লবণচরায় ৭ হেক্টর, রূপসা উপজেলায় ৩০৫ হেক্টর, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২৫০ হেক্টর, দিঘলিয়া উপজেলায় ১২০ হেক্টর, ফুলতলা উপজেলায় ১৮০ হেক্টর, ডুমুরিয়া উপজেলায় ৪২০ হেক্টর, তেরখাদা উপজেলায় ১৬০ হেক্টর, দাকোপ উপজেলায় ২৮ হেক্টর, পাইকগাছা উপজেলায় ২৬০ হেক্টর ও কয়রা উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। তবে বারি সরিষা উৎপাদন কর্মসূচির ২৩-২৪ অর্থ বছরে পার্টনার প্রকল্প থেকে বারি সরিষা ১৪, বারি সরিষা ১৭, সরিষা ১৮, সরিষা ১৯ জাতের প্রায় ৭০০ বিঘা ঘেরের পতিত জমিতে চাষ করা হয়। এই জাতের সরিষার উৎপাদন বিঘা প্রতি ৮ থেকে ৯ মণ। বেশি ফলনের আশায় ব্যাপক হারে বারি ১৯ জাতের সরিষার অবাদ করছে স্থানীয় কৃষকরা। প্রথমবার এই নতুন জাত পেয়ে কৃষক ধারণা করছে প্রায় ৮ থেকে ৯ মণ ফলন হতে পারে। বিনা চাষে শুধু কাদা-কাদা নরম জমিতে সার বীজ ও শ্রমিক বাবদ বিঘা প্রতি খরচ ৪ হাজার টাকা। আর প্রতিবিঘায় সরিষার উৎপান ৮ মণ হিসেবে প্রতি মণ সরিষা ৩ হাজার টাকা বিক্রি করলে বিঘা প্রতি কৃষকের আয় খরচবাদে প্রায় ২০ হাজার টাকা।
বটিয়াঘাটার কৃষক শ্যামল পাল বলেন, অল্প খরচ ও স্বল্প সময়ে সরিষার ফলন ঘরে তোলা যায়। ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ার চলতি মৌসুমে সরিষার ফলনও হয়েছে বেশ। গত বছর এই জমিতে প্রথমে আমন ধান পরে তরমুজ এবং তিল চাষ করেছি। সরিষার বর্তমান বাজারদর পায় মণ প্রায় ৩ হাজার টাকা। আরো বলেন, যে কোন বিষয়ে কৃষি অফিসে গেলে কৃষি অফিসার আমাদের খুব আন্তরিকভাবে পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বটিয়াঘাটা কৃষি অফিসার সরদার আব্দুল মান্নান সার্বক্ষনিক খবর নেন। রোদে শুকিয়ে গুদামজাত করে পরে বিক্রি করতে পারলে সরিষার বাজার দর আরো বেশি পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন গবেষণা বিভাগ দৌলতপুর খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, কৃষির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর গুলো। স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষককে একের অধিক ফসল ফলানোর জন্য নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ের অফিসারগণ সার্বক্ষণিক মাঠে কৃষকের সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, কৃষকের খেয়াল রাখলে কৃষক ফলন ফলানোর উৎসাহিত হন। আমাদের সকল পেশার মানুষের উচিৎ কৃষক ভাইদের উৎসাহিত করা। এক জমিতে কৃষক একন তিন ধরনের ফসল ফলাতে পারছে। যদি কোন ধরনের দূর্যোগ না হয় তাহলে কৃষক আরো বেশি ফলন পাবে বলে তিনি আশা করেন।











































