Home আঞ্চলিক খাল খননের সোয়া কোটি টাকা ইউপি চেয়ারম্যানের পকেটে!

খাল খননের সোয়া কোটি টাকা ইউপি চেয়ারম্যানের পকেটে!

40


>>নদকে খাল দেখিয়ে প্রকল্পে টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
>>কৃষকের ফসলি জমির ওপর দিয়ে চালানো হয়েছে মাটিকাটা ভেকু।
>>সম্পূর্ণ রেকর্ডীয় মালিকানাধীন জমি খননের অভিযোগ।

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

মাদারীপুরের শিবচরে ফসলি জমি খাল দেখিয়ে সোয়া কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও কমিটির লোকজনের বিরুদ্ধে। আর ফসলি জমির ওপর দিয়ে নামমাত্র খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় এতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

অভিযুক্ত আবুল কালাম চোকদার শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দির ইউপি চেয়ারম্যান।

সরেজমিন দেখা যায়, শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউপির ভান্ডারীকান্দি গ্রামের মধ্য দিয়ে একটি খাল প্রবাহিত হয়েছে। খালটি আড়িয়াল খাঁ নদের একটি অংশ। যা একই ইউপির ক্রোকচর গ্রামে গিয়ে শেষ হয়। নদটির অপরপাশে কৃষি জমি। একইভাবে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সাড়ে ১১ কিলোমিটার খনন করার কথা। জাপান সরকারের অর্থায়নে স্থানীয় ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ বিভাগ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

অভিযোগ আছে, নদকে খাল দেখিয়ে প্রকল্পে টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান। নামমাত্র খনন করা হয়েছে, আর কৃষকের ফসলি জমির ওপর দিয়ে চালানো হয়েছে মাটিকাটা ভেকু মেশিনও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।

এইরমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউপি বাহাদুর খাল, টেংরামারী খাল, ক্রোকচর খালসহ ৬টি খালের নামে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। এরইমধ্যে সোয়া কোটি টাকা বিল তুলে নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও কমিটির লোকজন।

দক্ষিণ ক্রোকচর এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম মুন্সির স্ত্রী মাকসুদা বেগম বলেন, আমাদের এখানে কখনো কোনো খাল ছিল না। এটা আমরা নদ হিসেবেই জানি। এখানে খাল খননও করা হয়নি। আর নদের একটি অংশে আমাদের ফসলি জমি।

একই এলাকার সিরাজ মাতুব্বরের স্ত্রী সেলিনা বেগম বলেন, আমাদের এলাকায় খাল নেই। এখানে ব্লকের মাধ্যমে ইরি ধান চাষাবাদ হয়। এখানে কেউ খাল খনন করেনি। এখানে খাল খননের এমন কোনো খবর আমরা জানিও না।

মনির হোসেন শেখ নামে একজন বলেন, আমাদের মালিকানা জায়গার ওপর দিয়ে খাল খনন করতে এসেছিল লোকজন। পরে সবাই বাধা দিয়েছেন। এখানে খাল খননের দরকার নেই। এখানে ফসলি জমি। আর মূল কথা, এখানে কখনো খাল ছিল না।

ভান্ডারীকান্দি ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুর রহমান শিকদার বলেন, এখানে যে প্রজেক্ট দেওয়া হয়েছে, সম্পূর্ণ রেকর্ডীয় মালিকানাধীন জমি। এই প্রকল্পে অধিকাংশ জায়গা খনন করা হয়নি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের পকেট ভারি হয়েছে, জনগণের কোনো উপকারই হয়নি।

ভান্ডারীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম বেপারী বলেন, যতটুকু খাল খনন করা হয়েছে, সেটাতে আমাদের আরো ক্ষতি হয়েছে। এটা খাল খনন হয়নি, এটা রেকর্ডীয় সম্পত্তি খনন করেছে। মানুষের চাষের জমির ওপর দিয়ে ভেকু মেশিন চালিয়ে ক্ষতি করেছে। এর বিচার চাই।

ভান্ডারীকান্দি ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জোনায়েত হোসেন বলেন, খাল খননের প্রজেক্ট আসছে শুনেছি। খননের নামে শুধু রাস্তার পাশ দিয়ে নামমাত্রই ভেকু মেশিন চালাইছে। কীভাবে এই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করতেছে সেটাও আমরা বুঝি না। আমাদের দাবি, জনগণের স্বার্থে খাল খনন যেন, সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হয়।

এ ব্যাপারে জানতে কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি ইউপি চেয়ারম্যানকে। যদিও এসব অভিযোগ মুফোঠোনে অস্বীকার করেছেন তিনি।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম চোকদার বলেন, আমরা সমিতির মাধ্যমে সঠিকভাবেই খাল খনন করেছি। এলাকার দু’একজন লোক বাজে মন্তব্য করছে। খাল খননের নামে কোনো ফসলি জমির ক্ষতি করিনি। জাইকার প্রকল্প সঠিকভাবেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফরের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, খাল খনন প্রকল্প করার সময় নকশায় ভুল ছিল। এটি সংশোধন করা না হলে আর কোনো বিল দেওয়া হবে না। এখন বর্ষা মৌসুম না গেলে আর খনন সুযোগ নেই। পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে, আর কোনো বিল দেওয়া হবে না।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, খাল খনন না করে বিল তুলে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। নদের জায়গায় প্রকল্প দিয়ে সরকারি টাকা আত্মাসাৎ গুরুতর অপরাধ। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।