Home Uncategorized আওয়ামী লীগের সামনে ৫ চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগের সামনে ৫ চ্যালেঞ্জ

51

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
২৮ অক্টোবর বিএনপির সন্ত্রাস, তাণ্ডব, সহিংসতা আওয়ামী লীগকে সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে গেছে। কিছুদিন আগেও আওয়ামী লীগ যেমন কোণঠাসা ছিল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ অনেকটাই চাপের মুখে ছিল কিন্তু ২৮ অক্টোবরের ঘটনাবলি এই চাপকে যেন উল্টে দিয়েছে। এখন এই চাপ বিএনপির কাছেই স্থানান্তরিত হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের জন্য ২৮ অক্টোবর ঘটনা আশীর্বাদ হলেও এখনো আওয়ামী লীগকে দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই বরং সামনের দিনগুলোতে আওয়ামী লীগের জন্য অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করেই টানা চতুর্থ বারের মতো দলটি ক্ষমতায় আসতে পারে। আওয়ামী লীগের সামনে যে চ্যালেঞ্জ গুলো এখন অপেক্ষা করছে তা হল-

১. বিএনপির আন্দোলন: আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপির আন্দোলন এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যদিও ২৮ অক্টোবরের পর বিএনপির ২৯ অক্টোবরের হরতাল এবং অবরোধের প্রথম দিন তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। সাধারণ মানুষ হরতালকে যেমন প্রত্যাখ্যান করেছিল অবরোধকে তার চেয়ে বেশি প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ ঘর ছেড়ে কাজে গেছে এবং জীবনযাত্রা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি এত সহজে হাল ছেড়ে দেবে না। বরং এই আন্দোলনকে তারা একটা গতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। এখন দেখার বিষয় বিএনপির কৌশল কি? আওয়ামী লীগ যদি আত্মতুষ্টিতে ভোগে বা বিএনপি ইতোমধ্যেই হেরে গেছে বলে মনে করে তাহলে দলটি ভুল করবে। সেজন্য প্রতিপক্ষকে খাটো না ভেবে সম্ভাব্য সহিংস রাজনীতিকে মোকাবিলা করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করছে।

২. বিএনপি-জামায়াতের জোট: ২৮ অক্টোবরের ঘটনাবলিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছে। তা হলো দীর্ঘদিন পর বিএনপি এবং জামায়াত আবার এক হয়েছে। দু’টি রাজনৈতিক দল সমান্তরালভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করছে। এই কর্মসূচি ঘোষণার ফলশ্রুতিতে রাজনীতিতে আবার নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ জামায়াত হলো একটি বড় ধরনের সহিংস সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা যখন মাঠে নামে তখনই বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের আগে এ ধরম বড় ধরনের সহিংসতা ঘটলে সেটা নির্বাচনের পর প্রভাব ফেলবে। এই চাপ আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে হবে। নির্বাচনের আগে এটিও আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৮ অক্টোবর এবং তার পরবর্তী বিএনপির সহিংস রাজনীতিতে হতবিহ্বল এবং এবং হতবাক। তারা বিএনপি এরকম একটি ভুল করবে সেটা প্রত্যাশা করতে পারেনি। মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কথাবার্তা আচার আচরণেও তা বোঝা যায়। এই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিবৃতি গুলোতে সহিংসতার নিন্দা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনাটা কেউই স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছেন না। কিন্তু তারপরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতি অনেকটাই সহানুভূতিশীল থাকবে বলেই অনেক কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে এবং তারা বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করবে এবং বিএনপিকে সংলাপে আনার জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে কিভাবে আওয়ামী লীগ মোকাবিলা করে সেটা আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় ধরনের চাপ।

৪. অন্তকলহ বাড়বে: আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের যখন আন্দোলন বেগবান ছিল বিশেষ করে তাদের জন জনসমাবেশ গুলোতে যখন লোকবল বেশি ছিল তখন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেকটাই কমে গিয়েছিল। বরং আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিল। কিন্তু এখন যখন বিএনপি সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে তখন আওয়ামী লীগ মনে করছে যে বিএনপি বোধ হয় শেষ এবং তারা আর কিছু করতে পারবেন না। এর ফলে আওয়ামী লীগের মধ্যে এমপি হওয়ার জন্য কোন্দল, একে অন্যকে ঘায়েল করার কোন্দল আবার নতুন করে বাড়তে পারে। নির্বাচনের আগে এটি আওয়ামী লীগের জন্য হবে প্রচণ্ড ক্ষতিকর।

৫. প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মারাদের ষড়যন্ত্র: যখনই আওয়ামী লীগ আত্মতুষ্টিতে ভুগবে তখনই প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে যারা ঘাপটি মেরে আছে তারা সক্রিয় হবে এবং এর ফলে আওয়ামী লীগের জন্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে অনেকে মনে করে। এই পাঁচ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।