Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

241
রাজধানীর বাবুবাজার ব্রীজের নীচে একাংশ ভরে গেছে কচুরিপানায়। এতে ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল-সংগৃহীত

উত্তাল সাগর গিলছে বেড়িবাঁধ-সমুদ্র সৈকত-মেরিন ড্রাইভ
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
মৌসুমি বায়ুর কারণে সাগর উত্তাল হওয়ার পাশাপাশি পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে লবণ পানি প্রবেশ করছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় এলাকার বাঁধগুলো। ভাঙন দেখা দিয়েছে সৈকতের কয়েকটি পয়েন্টে। ১০-১২টি স্থান ভেঙে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে মেরিন ড্রাইভ সড়কও। ভাঙন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরুর কথা বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দেওয়া হয়েছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত। সাগর উত্তাল হওয়ার পাশাপাশি তার সঙ্গে যোগ হয়েছে পূর্ণিমার জোয়ার। ফলে হু হু করে বাড়ছে জোয়ারের পানি।
শনিবার দুপুরের জোয়ারে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকার ১৭টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বিশেষ করে মহেশখালীর মাতারবাড়ি, ধলঘাটা, কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরং এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে সাগরের পানি প্রবেশ করেছে।
সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টসহ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে মেরিন ড্রাইভ সড়ক। আজ দুপুরে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক ঢেউ এসে পড়ছে সৈকতে। ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে যাচ্ছে ঝাউগাছ, তলিয়ে যাচ্ছে জিওব্যাগ। তছনছ হচ্ছে বালিয়াড়ির রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা। সমুদ্রের এমন বিরূপ আচরণ দেখে অবাক পর্যটকরা।

ঢাকার গুলশান থেকে আসা পর্যটক মহসিনুল কবির বলেন, ‘অনেক বছর পর দেখছি কক্সবাজার সৈকতেও ভাঙছে। এটা আমাদের জন্য ভালো খবর না।’

রাজশাহীর বাগমারা থেকে আসা পর্যটক নাসিমা ইসলাম বলেন, ‘সাগরে পানি বেড়ে যাওয়ায় ভয় পাওয়ার পাশাপাশি উপভোগও করছি।’

সরেজমিনে এসে আজ দুপুরে কক্সবাজার প্উাবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজীর সাইফ আহমেদ জানান, পূর্ণিমার ভরা কটালের পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার কারণে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলসহ সমুদ্র সৈকতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, কুতুবদিয়া মহেশখালীর বেশকিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। ওই সব এলাকায় দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। ভাঙন প্রতিরোধে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পাউবো। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন এলাকায় প্রাথমিকভাবে প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান জানান, কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বেশকিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে সড়কের বিভিন্ন অংশ। যেহেতু সড়কটি সেনাবাহিনী নির্মাণ করেছে, তাই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হয়েছে।

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘পরিবেশ প্রতিবেশের বিষয়টি মাথায় রেখে মেরিন ড্রাইভের কাজ করতে হবে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সেভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে মেরিন ড্রাইভ রক্ষা করবে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরান জানান, ‘পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে মেরিন ড্রাইভ সমুদ্র সৈকত ও বেড়িবাঁধ ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। আশাকরি এ ব্যাপারে খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

বাগেরহাট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু হানিফের প্রচারণা
খবর বিজ্ঞপ্তি
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রামপালের সন্তান ও খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ মোঃ আবু হানিফ শনিবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রামপাল উপজেলার সোনাতুনিয়া মাদ্রাসা স্ট্যান্ড, বালিয়াভিটা, হাওলাদার বাড়ি মোড়, পোলের হাট বাজার, ভরসাপুর বাজার সহ রামপালের বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে গণসংযোগ ও পথ সভা করেন। গণসংযোগকালে ও পথসভায় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেকেন্দার আলী, ইউপি সদস্য ওলিয়ার রহমান, ইনামুল কবির, শুকুর শেখ, আঃ মালেক, খেয়াম হোসেন খিজির, মানুজুর হোসেন, ওয়াদুদ, রশিদ, জিল্লুর রহমান, আঃ রাজ্জাক, আঃ কুদ্দুস, গোলাম আজম, রেজাউল ইসলাম, খান বিল্লাল হোসেন, অসিত মন্ডল, জিল্লু শেখ, হক শেখ, আব্দুল হাই, গোলাম মোস্তফা, মজনুর রহমান, আসাফুর রহমান, জাহিদুর রহমান, সোহাগ সেখ, মান্নান শেখ, মুক্ত শেখ, আব্দুল মান্নান শেখ, শিশির বর, শেখ মোঃ রাসেল, উজ্জ্বল শেখ, মনি শেখ, নাহিদ শেখ, জিয়াউর রহমান, টগর শেখ, শরিফুল ইসলাম, তাজমুল ইসলাম, লিটু শেখ, বোরহান শেখ, জুবায়ের শেখ, জাহিদুল ইসলাম, শাওন শেখ সহ স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীরা।#

শ্রমিকদল নেতার সুস্থতা কামনায় নগর বিএনপির বিবৃতি
।। খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা ক্রিসেন্ট জুট মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, খালিশপুর শিল্পাঞ্চল শ্রমিকদলের আহবায়ক মোহাম্মাদ হোসেন দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ক্যান্সার ইনটিস্টিউটে চিকিৎসাধীন আছেন। শ্রমিক নেতার আশু সুস্থতা কামনা করেছে খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ। শনিবার (৫ আগস্ট) বিএনপি মিডিয়া সেল প্রদত্ত খবর বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ শ্রমিক নেতার সুস্থতা কামনায় সকলের দোয়া কামনা করেছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন। অনুরুপ বিবৃতি দিয়েছে খালিশপুর থানা বিএনপির আহবায়ক শেখ জাহিদুল ইসলাম ও সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বিশ^াস।

খুলনা আইনজীবী ভবনে নারী আইনজীবীকে হত্যার হুমকি: থানায় জিডি
স্টাফ রিপোর্টার।।
পুর্ব শত্রুতার জের ধরে এবার খোদ আইনজীবী ভবনে বসে নারী আইনজীবী সাহারা ইরানীকে জীবননাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ আগস্ট ( বৃহস্পতিবার) বেলা আনুমানিক আড়াইটায়। ভুক্তভোগী আইনজীবী এ ব্যাপারে বাদী হয়ে খুলনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন (ডায়েরী নং ১৮৮)। ডায়েরীতে তিনি উল্লেখ করেন।
ফুলতলা থানার দামোদর প্রাইমারী স্কুলের পাশের মহিউল ইসলাম ভুইয়ার পুত্র মাসুম বিল্লাহ, দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার মোজাম হোসেন ভূঁইয়ার কন্যা শাহানাজ ইয়াসমিন শম্পা, মোজাম হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী সায়েরা খাতুন পুতুল পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতির হুমকী দিয়ে আসছে। ঘটনার দিন খুলনা আইনজীবী সমিতির ১ নং গেটে বাদী রিক্সার জন্য অপেক্ষা করা কালীন সময় হঠাৎ বিবাদীগণ তাকে দেখতে পেয়ে অসৎ কার্য চরিতার্থ করার জন্য তাদের ব্যবহৃত মোবাইলে বাদীর ছবি তুলতে থাকে। ছবি তুলতে নিষেধ করলে তারা বাদীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ সহ জীবননাশের হুমকী প্রদান করে। বাদী সাধারণ ডায়েরীতে বড় ধরণের ক্ষতি সাধনসহ পরিবারের সদস্যেদের মিথ্যা মামলা দিয়া হয়রানির আশংকা প্রকাশ করেন। বাদী আরো উল্লেখ করেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা তুলে না নিলে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে।
এ ব্যাপার নারী আইনজীবী এড. সাহারা ইরানী জানান, বিবাদীদের সাথে তার মামলা চলমান থাকায় তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দামোদর এলাকার একটি বিশেষ বাড়ির নাম ব্যবহার করে তারা এসব হুমকি দিচ্ছে। তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।

খুলনায় জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
শিক্ষকরা জাতী গড়ার কারীগর। আদর্শ সমাজ ও আদর্শ প্রজন্ম গড়তে শিক্ষকদের ভূমিকা অতুলনীয়। অথচ শিক্ষকরাই আজ অবহেলিত সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে বৈষম্যের শিকার। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝে বৈষম্য বজায় রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
গতকাল শনিবার (৫ আগষ্ট ) সকাল ১১ টায় খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সহ সকল এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, শিক্ষার সর্বস্তরের সকল ধর্মের ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং মাদ্রাসার শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রাখার দাবিতে খুলনা জেলা ও মহানগর যৌথ উদ্যোগে আয়েজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

জাতীয় শিক্ষক ফোরম খুলনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শায়খুল ইসলাম বিন হাসান এর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোঃ গোলাম মোস্তফা বাঙালী ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুল আলমের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন জাতীয় শিক্ষক ফোরাম শুধু মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ চায় না বরং মাদ্রাসা শিক্ষা ধারায় ইবতেদায়ী থেকে কামিল পর্যন্ত এবং জেনারেল শিক্ষা ধারায় মাধ্যমিক থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় করণের লক্ষ্যে শিক্ষক ফোরাম ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে।

মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব ও মহানগর সেক্রেটারি মুফতি ইমরান হোসাইন, মুফতী রবিউল ইসলাম রাফে। বক্তব্য রাখেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন মহানগর সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মোঃ রেজাউল করিম রনি, মুফতি আশরাফুল ইসলাম, মাওঃ ইমদাদুল্লাহ, মাওলানা হুমায়ুন কবির, আলহাজ্ব মাওলানা আবু তাহের, মোঃ আমজাদ হোসাইন, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ আদম, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল কাফি, কবি সৈয়দ আলী হাকীম, মুফতি জাকির হোসাইন, মাওলানা জালাল উদ্দিন, মুফতি আব্দুল কুদ্দুস, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, মুফতি আরিফ বিল্লাহ, মাস্টার জাফর সাদেক, মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান , মুফতি ফারুক হোসাইন, মুফতি নাঈম আশরাফ, মাওলানা বেলাল হোসাইন,মাওঃ আব্দুর রাজ্জাক, মুফতি আব্দুস সালাম, মুফতি আওসাফুর রহমান, মুফতি রফিকুজ্জামান, মাওলানা আলামিন, মুফতি শাহিনুর রহমান প্রমুখ।

খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি অচিন্ত্য কুমার দাসের সুস্থ্যতা কামনা
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি অচিন্ত্য কুমার দাসের আশু রোগমুক্তি কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন- খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি এ্যাড. মহানন্দ সরকার, খলিনা মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহ সভাপতি যথাক্রমে নামজুল কবির সাদি, শাহ মোঃ লায়েকুল্লাহ, তৈমুর হোসেন শাহীন, এ্যাড. গাউসুল আজম, খান আকরামুজ্জামান, শেখ মোঃ তোবারেক হোসেন তপু, আশরাফুল ইসলাম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজ্জাক হাওলাদার, মাসুম হায়দার, প্রিন্স হোসেন কালু, গাজী খোকন, কাজী হাসানুর রশিদ রাসেল, গফ্ফার মোড়ল, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল কাদির উৎসব, নজরুল ইসলাম আজাদ, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, এজাজ আহমেদ, মোঃ কালাচান, কামরুজ্জামান রজব, অপূর্ব দত্ত নেকু, মাজহার জোয়ার্দার পান, যুবনেতা দেলোয়ার হোসেন লালু, শাকিল আহমেদ লাল, বাবলু বিশ^াস, রেজা মহসিন, মিলন খান, শেখ মাসুদ রানা, জি এম মিলন, মোঃ হানিফ, গাজী মোশারেফ প্রমুখ।

কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতি খুলনা জেলা সম্মেলন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি গঠনের জন্য বর্ধিতসভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতি খুলনা জেলা সম্মেলন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আজ ০৫ আগস্ট শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বকসিপাড়া মোড়স্থ গঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে জেলা কমিটির এক বর্ধিতসভা জেলা সদস্য গাজী লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সদস্য সমরেশ রায়, গাজী নওশের, মোস্তফা খালিদ খসরু, শেখ আঃ ওহাব, হান্নান গাজী, জনক সাহা, রামকৃষ্ণ মিস্ত্রী, অজিত জোতদার, অনিমেশ রায়, মোজাম্মেল হক খান, আনিসুর রহমান মিঠু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সভায় আগামী জেলা সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনান্তে সর্বসম্মতিক্রমে সমরেশ রায়কে আহ্বায়ক ও মোস্তফা খালিদ খসরুকে সদস্য সচিব করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। প্রস্তুতি কমিটির অন্যান্যরা হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী লুৎফর রহমান, শেখ আব্দুল ওহাব, রামকৃষ্ণ মিস্ত্রী ও হান্নান গাজী, সদস্য গাজী নওশের, মোকলেছুর রহমান মুকুল, পবিত্র হালদার ও নরেন্দ্র নাথ (ডুমুরিয়া), কৃষ্ণপদ রায় (দাকোপ), শিবু সাহা, জনক সাহা ও অজিত জোয়ার্দ্দার (বটিয়াঘাটা), প্রভাকর বিশ্বাস সোনা (রূপসা), ডাঃ রঞ্জিত বালিপর্বত (তেরখাদা), দিলীপ রায় (পাইকগাছা), জলিল মোল্লা (ফুলতলা), রানু রায় (খুলনা)।
সভায় অপর এক প্রস্তাবে আগামী ১১ নভেম্বর ২০২৩ শনিবার খুলনা জেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি মনিরুজ্জামানের দৃষ্টান্ত
পি কে অলোক,ফকিরহাট।
আত্নশক্তিতে বলিয়ান ব্যক্তি কখনো দেওলিয়া হয়না, যার জলন্ত প্রমান দিয়েছেন বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া (কাটাখালী) এলাকার মনিরুজ্জামান মনি নামের একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে স্বাবলম্বি ও পরিবারকে স্বচ্ছল করার জন্য ওর্য়াকশর্পের কাজ বেছে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেই চলেছেন। শুধু তাই নয়, ওর্য়াকশপের কাজ ছাড়াও তিনি মাটি কাটা, নদীতে মাছ ধরা সাতার কাটা এমকি গাছে উঠে নারকেল-সুপারি পাড়া ও গাছের ডাল কাটার মত ঝুকিপূর্ণ কাজ করে এলাকায় একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জানা গেছে,ফকিরহাটের পিলজংগ ইউনিয়নের টাউন নওয়াপাড়ার কাটাখালী বাসস্ট্যান্ডের উত্তরপাশের্^ মহাসড়কের পূর্বপাশের্^ নদীর চরে (যাযাবর পল্লী) সরকারী একখন্ড জায়গায় এই মনিরুজ্জামানের বসবাস। স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও তার দুই ছেলে দুই মেয়ে এই চারজনকে নিয়ে তার পরিবার। ৫বছর বয়সে তিনি যখন খুলনার দাকোপ থানার সুতারখালী ইউনিয়নের নলিয়ার গ্রামে বসবাস করতেন সেই সময় জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তার দুটো চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তখন থেকেই তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এই ভাবে প্রায় ২২বছর আগে তিনি তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে কাটাখালী বাস্ট্যান্ডের পাশের্^ নদীর চরে ছোট্ট একটি কুড়েঘর বেধে সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে থাকেন।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগ যখন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতেন, সে সময় তিনি মহাবিপাকে পড়ে যেতেন। কিন্তু সরকারী নির্দ্দেশ কোন ক্রমেই উপেক্ষা করা যাবে না। তাই তিনি নিজের ঘর নিজেই ভেঙ্গে নদীর ওপারে রেখে পুনরায় আবারও চলে আসতেন পূর্বের স্থানে। এই ভাবে তিনি ২০টি বছর ঐ সরকারী জমিতে ছোট্ট একটি কুড়ে ঘর বেধে সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। আজ তিনি ২০বছর এই টাউন নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পিলজংগ ইউনিয়নের নাগরিক।
মনিরুজ্জামান সরদার মনি বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৬/১৭ বছর ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। কিন্তু এখন আর তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করেন না। শেখেরডাঙ্গা এলাকার আল্লারদান ওর্য়াকশপের মালিক মোস্তাক শেখ তাকে তার ওর্য়াকশপে কাজ দিয়েছেন, সেখানেই তিনি ৫বছর ধরে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে সাথে নিয়ে কাজ করেই চলেছেন। স্বল্প বেতনে সারাদিন রোজগার করে যা আয় হয় তাই দিয়েই তাদের সংসার চলে। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি হয়েও তিনি সেখানে চেয়ার-টেবিল আলমারি দরজা-জালনা ও নানাপ্রকার গ্রিল মেরামত ও ঘষা মাজার কাজ করছেন। ওর্য়াকশপের মালিক মোস্তাক শেখ জানান, সে চোখে দেখেনা তার পরেও সে বিচক্ষন বুদ্ধিমান একবার কোন কাজের কথা বললে সে মনে রাখতে পারে। অন্যান্য শ্রমিকদেরকে নিয়ে সমস্যা হলেও তাকে নিয়ে আমার কোন সমস্যা হয়না।
স্ত্রী ফাতেমার সহযোগীতা আর অনুপ্রেরনায় তিনি এসব কাজ করেন। তিনি নিজের চোখে কোন কিছু না দেখতে পেলেও স্ত্রীর চোখ দিয়ে তিনি সবকিছু দেখতে পারেন বলেও তিনি জানান। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ওশুধু ওর্য়াকশপের কাজ করে না, সে গাছে চড়া সাতার কাটা মাছ ধরা মাটি কাটা সহ বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজও করতে পারেন। ফাতেমা বেগম বলেন, আমরা ভূমিহীন পরিবার সরকারী জায়গায় ছোট্ট্ একটি কুড়েঘর বেধে সেখানে দীর্ঘ ২০/২১বছর বসবাস করছি। সরকারী ভাবে ১টি প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড ছাড়া আমরা আর কোন সরকারী সহযোগীতা পাইনা। এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি মনিরুজ্জামান মনি সরকারী ভাবে জমি সহ ঘর পাওয়ার জন্য উর্দ্ধতন প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন। ##

“ফকিরহাট সনাতন জাগরণের সংঘ”
পাগলা দিয়াপাড়া শাখার গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের বর্ষপূর্তী অনুষ্ঠান
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট সনাতন জাগরণ সংঘের গীতা শিক্ষা কেন্দ্র পাগলা দেয়াপাড়া শাখার প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান শুক্রবার (০৪ আগস্ট) বিকাল ৫ টায় পাগলা দিয়াপাড়া রাধা-গোবিন্দ মন্দির চত্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের সমবেত কন্ঠে গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। রাধা-গোবিন্দ মন্দির কমিটির সভাপতি দেবপ্রসাদ দাস এর সভাপতিত্বে ও পূজা উদযাপন পরিষদ ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন শাখার সাধারন সম্পাদক অসীম কুমার দেবনাথ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন দাশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক দাস শিশির কুমার। অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক সঞ্জয় কুমার ধর (সুমন), সনাতন জাগরণী সংঘের সভাপতি বাপ্পা কুমার দত্ত ও রাধা-গোবিন্দ মন্দির কমিটির সভাপতি দেবপ্রসাদ দাস সহ সনাতন জাগরনী সঙ্গে নেতৃবৃন্দ। পরে তিনজন কৃতি শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

কেশবপুরে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির কমিটি গঠন
কেশবপুর প্রতিনিধি :
কেশবপুরে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে এ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তৃতা করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ উজ জামান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, সাংবাদিক এম এ রহমান, ক্লিনিক মালিক আজিজুর রহমান, মিজানুর রহমান বাবু, শাহরিয়ার হাবিব প্রমুখ। সভায় প্রায় সবকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে কেশবপুর সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক আজিজুর রহমানকে সভাপতি, মর্ডান হাসপাতালের মালিক রবিউল ইসলামকে সহ সভাপতি, কপোতাক্ষ ক্লিনিকের মালিক মিজানুর রহমান বাবুকে সাধারণ সম্পাদক, হিরা ডায়াগনস্টিকের মালিক মোস্তফা কামালকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাইকেল হাসপাতালের মালিক শাহরিয়ার হাবিবকে কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করা হয়েছে।

আগামী তিন বছর এ কমিটি দায়িত্ব পালন করবেন। সভার শুরুতে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করেন অনুষ্ঠানে সভাপতি ক্লিনিক মালিক আজিজুর রহমান।

রাজাপুরে বেহাল সড়কে ৬ গ্রামের মানুষ ৫০ বছর ধরে দুর্ভোগে
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুর মঠবাড়ি ইউনিয়নের ৭ কিলোমিটার সড়কে স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আজ পর্যন্ত কোন উন্নয়নের বা আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। বর্ষার এ মৌসুমে কার্দমাক্ত হওয়ায় ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ৬ গ্রামের ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যুগ যুগ ধরে। গর্ভবর্তী নারী ও বৃদ্ধ রোগীদের চিকিৎসাও করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের গুদিঘাটা নামক এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের এক কিলোমিটারে যুদ্ধের পরবর্তী কোন এক সময় ইটের সলিং করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সলিং ভেঙ্গে চুরে মাটির সাথে মিসে গেছে এবং অনেক স্থান থেকে সড়কের পাশ ভেঙ্গে গর্তে পড়ে গেছে। ওই সড়কের কালভার্ট ব্রীজ গুলো ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গা কালভার্ট ও ব্রীজের উপরে এলাকাবাসি কাঠ ও গাছ দিয়ে ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। সলিং দেয়া এক কিলো মিটারের শেষ থেকে বাকি ৩ কিলোমিটারের মধ্যে আধা কিলোর কিছু অংশে ইট দেয়া হলেও বাকি মাটির সড়কে কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। এ সড়কের ৩টি সংযোগ সড়ক পশ্চিম বাদুরতলা গ্রামে একটি শাখা, চল্লিশ কাহনিয়া গ্রামে একটি শাখা ও উত্তর উত্তমপুর গ্রামে একটি শাখা নিয়ে মোট তিনটি মাটির সড়ক চলে গেছে। ওই তিনটি সড়কও প্রায় ৩ কিলোমিটার ওই সড়ক দিয়ে উত্তমপুর, পশ্চিম বাদুরতলা, পূর্ব বাদুরতলা, বদনিকাঠি, মঠবাড়ি ও সাউথপুর গ্রামের প্রায় দশহাজার লোক ও ষোলটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যুগ যুগ ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় শাহিন, আবু মিয়া, আল ইমরান কিরন, সোহরাপ ও শাহ আলমসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আমাদের মঠবাড়ি ইউনিয়নের চার কিলোমিটার সড়কে স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আজ পর্যন্ত কোন উন্নয়নের বা আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। বহু জনপ্রতিনিধি যুগে যুগে নির্বাচিত হয়েছেন। সকল জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাবাসি সড়কটি পাকা করনের দাবি জানিয়ে আসলেও কোন লাভ হয়নি। প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে এসেছেন এবং বড় বড় অশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেণ। কিন্তু নির্বাচনের পরে কেউ কোন কথা রাখেনি। স্থানীয় আব্দুল বারেক হাওলাদার, আবু বক্কর হাওলাদার, হারুন মল্লিক, মজিদ হাওলাদার ও কবির হাওলাদার বলেন, ওই সড়ক দিয়ে মঠবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, আফাজ উদ্দিন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, এমএস আলম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তমপুর দাখিল মাদ্রাসা, আব্দুল মালেক বালিকা বিদ্যালয়, আব্দুল মালেক কলেজ, বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজ, আদাখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বাদুরতলা ১১৫ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুদিঘাটা সরকারি প্রাথিমক বিদ্যালয়, মঠবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা, পশ্চিম বাদুরতলা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বাদুরতলা ঈদগাহ ইবতেদায়ী স্বতন্ত্র মাদ্রাসা ও পূর্ব বাদুরতলা নূরানী মাদ্রাসাসহ এলাকাবাসি মীরের হাট, বাগরী হাট ও বাদুরতলা হাটে চরম দুর্ভোগে আসা যাওয়া করছেন। বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যাওয়া ছেলে মেয়েরা প্রায়ই কর্দমক্ত হয়ে যায়। কাদায় জামাকাপড় নষ্ট হওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয় না গিয়ে বাড়ি ফেরত অসতে হচ্ছে। স্থানীয় আসলাম হোসেন, শহীদ হাওলাদার, মোহাম্মাদ আলী হাওলাদার ও শিমুল হাওলাদার বলেন, ওই এলাকায় কোন লোক যদি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে তখন কোন বাহনে করে চিকিৎসা করাতে নেয়ার উপায় থাকেনা। অসুস্থ্য রোগীকে কাঁধে করে নিয়ে স্বজনদেরকে ডাক্তারের কাছে যেতে হচ্ছে। কোন বোঝা নিয়ে খুব কষ্ট করে এলাবাসির যাতায়াত করতে হচ্ছে। এমনকি বর্ষা মৌসুমে শিশু শিক্ষার্থী, বৃদ্ধদের চলাচলে ভোগান্তির সীমা থাকেনা। এবিষয়ে মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ জালাল হাওলাদার জানান, স্বাধীনতার পরে ওই জনগুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় তেমন কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। যাতায়াতের সড়কটিও বেহাল প্রায় ১ কিলোমিটার বেহাল। কিছু এলাকায় ইট সলিং করা হচ্ছে। তবে ঝুকিপূর্ণ একটি সাকোর স্থানে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়রন ব্রীজ করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে ওই সাঁকো থেকে পরে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। যুগ যুগ ধরে ওই এলাকার লোকজন অবহেলিত রয়েছে বলে তিনিও মানীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। এ বিষয়ে ঝালকাঠির এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম সরকার জানান, জেলার সকল বেহাল সড়কের খোঁজ নেয়া হচ্ছে। অচিরেই এ সম্পর্কে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং বরাদ্দ পেলে সড়ক সংষ্কার ও মাটির গ্রামীন সড়ক পাকাকরনের আওতায় আনা হবে।

নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার ওষুধ, ২৫ দিন ধরে নেই জলাতঙ্কের টিকাও
ঝালকাঠি প্রতিনিধি।
ঝালকাঠির নলছিটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই নেই সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার ওষুধ (অ্যান্টিভেনাম)। প্রায় ২৫ দিন ধরে নেই জলাতঙ্কের টিকা। বাধ্য হয়ে এসব রোগীদের ছুটতে হচ্ছে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শেরেই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব রোগীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন।
নলছিটি উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি একটি পৌরসভা ও ১০ টি ইউনিয়নের প্রায় ২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নেই সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার ওষুধ (অ্যান্টিভেনাম) ও জলাতঙ্কের টিকা। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জেলা সদরে যেতে নৌপথ ব্যবহার করতে হয়। নলছিটি থেকে বরিশালের দূরত্ব বেশি হওয়ায় সেখানে যেতেও অনেক খরচ ও সময় লেগে যায়। এতে উপজেলার মানুষ চরম ঝুঁকিতে আছেন। বিশেষ করে সাপে কাটা রোগীর ঝুঁকি অনেক বেশি। রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্করোধী প্রতিষেধকের সরবরাহ নেই। কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। জলাতঙ্করোধী টিকার সহজলভ্যতার বিষয়টি খুবই জরুরি। সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার ওষুধ (অ্যান্টিভেনাম) নেই। বাধ্য হয়ে রোগীদের বরিশাল যেতে হচ্ছে। এ রোগীর চিকিৎসা হওয়াটা অতি জরুরি। বরিশাল যেতে অনেক সময়ও লাগে ততক্ষণে ওই রোগী মারা যেতে পারে। তাছাড়া অনেকে বরিশালে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য থাকে না। নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শিউলী পারভীন জানান, জলাতঙ্কের প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) শেষ হয়েছে। চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আর নলছিটিতে খুব বেশি সাপে কাটা রোগী আসে না। যারা আসে তাদের মধ্যে বিষাক্ত নয় এমন সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাই বেশি। অ্যান্টিভেনাম না থাকায় সাপে কাটা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেরেই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই।

ডুমুরিয়ায় চুকনগরে আলোচিত হালিমা ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু, ক্লিনিক মালিক লাপাত্তা
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় চুকনগরে আলোচিত হালিমা ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় ফাতেমা খাতুন নামে এগারো বছরের এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সে ¯’ানীয় বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনির ছাত্রী। এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আত্ন গোপন করেছে বলে জানা গেছে।
মৃতের চাচা আলামিন মৌলঙ্গী জানান,গত ৩১ জুলাই সকালে উপজেলার বাদুড়িয়া গ্রামের ভাই আলামিন মৌলঙ্গীর মেয়ে ফতেমা খাতুন পেটে ব্যথা নিয়ে হালিমা মেমোরিয়াল নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী মোঃ কামাল হোসেনের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নিরিক্ষা করে অ্যাপেনডিক্স হয়েছে বলে জানান এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপারেশন করানোর পরামর্শ দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ফাতেমা খাতুনের অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের জন্য অস্ত্রপাচার করেন। অস্ত্রপাচারের সময় ভূলবশতঃ প্রস্বাবের নাড়ি কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এরপর ৪দিন পর শুক্রবার সকালে ক্লিনিক মালিক কামাল হোসেন ফাতেমা খাতুনকে আবারও ওটিতে নিয়ে যায় এবং ঘন্টা দুয়েক পরে ওটি থেকে বের করে রোগীর স্বজনদের কাছে ফাতেমা খাতুন গুরুতর অসু¯’্ বলে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাতেমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়।স্বজনরা তখন দিশেহারা হয়ে খুলনা গাজী মেডিকেল হাসপাতালে ফাতেমাকে ভর্তি করেন। কর্তৃপক্ষ ফাতেমার অব¯’া অবনতি দেখে আইসিউতে নিবিড় পর্যেবক্ষনে রাখে এবং একই দিন বিকেলে চিকিৎসাধীন অব¯’ায় তার মৃত্যৃ হয়।
এদিকে স্কুল ছাত্রী ফাতেমা খাতুনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ¯’ানিয় লোকজন ক্লিনিকে ছুটে আসলে ক্লিনিক মালিক কামাল হোসেনসহ স্টাফরা মেইন গেট বাদে প্রতিটা কক্ষ তালা বন্ধ করে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ সেখ কনি মিয়া বলেন, ঘটনা জানার পর পুলিশ ঘটনা¯’ল পরিদর্শন করেছে। এখনও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত পুর্বক ব্যব¯’া গ্রহন করা হবে।

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযথভাবে শহীদ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান। শনিবার (৫ আগষ্ট) সকাল ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা এর সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলার চৌকস সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ আজাহার আলী।

কালিগঞ্জ থানা’র অফিসার ইনচার্জ মোঃ মামুন রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান, সাংবাদিক সমিতির উপজেলা সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দীন প্রমুখ। সভায় উপস্থিত ছিলেন সরকারী কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধি,বীর মুক্তিযোদ্ধা,সাংবাদিক,সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও সূধীবৃন্দ।

কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ব্র্যাকের আ্যডভোকেছি কর্মশালা অনুষ্ঠিত
কালিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কালিগঞ্জ উপজেলায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক-এর নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ক ইউনিয়ন পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে তারালি ইউনিয়ন পরিষদের হল রুমে,০৩আগস্ট ২০২৩ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়,এ সময় কুশলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিশেষ অতিথি কালিগঞ্জ উপজেলা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক সত্যপাঠ এর উপজেলা প্রতিনিধি শেখ আল-নূরআহম্মেদ(ইমন),ইউডিসি বসুদেব সরকার,এছাড়াও উক্ত ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড এর (নারী-পুরুষ)ইউ,পি সদস্য-সদস্যা গন, গ্রাম পুলিশ,দফাদার প্রমূখ,অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ হুমায়ুন রশীদ, ডিস্ট্রিক্ট কো-অডিনেটর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সাতক্ষীরা, এবং অনুষ্ঠানটি সার্বিক তত্ত্বাবধানে সহযোগিতা ছিলেন প্রিন্স শাহ সোহাগ ও ফিল্ড অর্গানাইজার খুকুমণি পারভিন, কালিগঞ্জ,সাতক্ষীরা,সকলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সফল ভাবে সম্পন্ন হয়।

সরকারি খুলনা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এঁর ৭৪ তম জন্মবার্ষিক পালিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
গত ৫ আগস্ট ২০২৩ ছিলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এঁর ৭৪ তম জন্মবার্ষিক। শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিক উদযাপন উপলক্ষে সরকারি খুলনা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কর্তৃক আয়োজিত হয়েছিলো নানাবিধ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানমালায় রয়েছিল আলোচনাসভা,শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের সুযোগ্য অধ্যক্ষ জনাব কাজী নেয়ামুল শাহীন। উপস্থিত ছিলেন ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও চীফ ইন্সট্রাক্টর জনাব পলি রানী দাস,নন টেকনোলোজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও চীফ ইন্সট্রাক্টর জনাব রেজাউল হক,কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ইন্সট্রাক্টর জনাব গৌতম কুমার ধর, সিভিল ও আর্কিটেকচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ইন্সট্রাক্টর জনাব মৌসুমি আক্তার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সকল বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় প্রধান ও অন্য বক্তাদের পরে বক্তব্য রেখেছেন অধ্যক্ষ মহোদয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল জাতির কতবড় পাওয়া ও গর্বের ছিলো তা অধ্যক্ষ মহোদয়ের আলোচনায় উঠে এসেছে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে তিনি পুরস্কার তুলে দেন। সবশেষে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এঁর রূহের মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় দোয়া মাহফিলের ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি খুলনা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এঁর ৭৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন অধ্যক্ষ কাজী নেয়ামুল শাহীন।

আইসিটি প্রশিক্ষণে বক্তারা
নারী উদ্যোক্তারা বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন
খবর বিজ্ঞপ্তি
ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আইসিটির (তথ্যপ্রযুক্তি) ব্যবহার এসব কর্মকান্ডে গতি বাড়াবে এবং ব্যয় কমানোর মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে। নারী উদ্যোক্তারা বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক নারী ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। তাই তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানে প্রাধান্য দিতে হবে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। কোনভাবেই যেন এর অপব্যবহার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি ২০১৮ এর আইনটি নিয়ে আরো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব, এর সুফল এবং সমাজের নানা মাত্রিক পরিবর্তন আনতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ আমরা যত্রতত্রভাবে ব্যবহার না করি সেদিকে নজর রাখতে হবে।’ জনউদ্যোগ এর আয়োজনে খুলনায় দুই দিনব্যাপী আইসিটি প্রশিক্ষণে বক্তারা এসব কথা বলেন।
শনিবার সকাল ৯টায় অবসেস স্থানীয় একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জনউদ্যোগ আয়োজিত আইইডি’র সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী আইসিটি প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ খুলনার সদস্য ও সমাজসেবক মাসুদ মাহামুদ। প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা সৈয়দ লুৎফুল হক । সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেনের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনা আর্ট স্কুলে পরিচালক বিধান চন্দ্র রায়, আইইডির সাংবাদিক সিয়াম সরোয়ার জামিল, জনউদ্যোগ যুব সেলের জয় বৈদ্য প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। ২০৪১ সালের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অর্থনীতির মূল ধারায় এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ আরও বেশি বৃদ্ধি করা আবশ্যক। এই প্রেক্ষাপটে আইসিটি সাব-সেক্টর হতে পারে একটি আদর্শ মাধ্যম। নারী উদ্যোক্তাদের যথাযথ সহযোগিতা করা সম্ভব হলে রপ্তানি খাতে যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তা আমাদের অর্থনীতিতে নতুন দিনের সূচনা করতে পারে। আইসিটি ব্যবহারে সহজে ও দ্রুত গতিতে ব্যবসা পরিচালনা করা যায়। ফলে মানুষ এক জায়গায় বসবাস করে অন্য জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ পাচ্ছে।
সভায় বক্তারা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মানসম্পন্ন আইসিটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, বিদেশে পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে অর্জিত আয় নিরাপদে দেশে আনা, ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোকে যুগোপযোগী করা, উপজেলা পর্যায় পযন্ত প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষিত জনবলের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি বৃদ্ধিসহ নানা দাবি তোলেন।

কিশোরী ফুটবলারদের মারধর ও হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ওয়ার্কার্স পার্টির
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনার বটিয়ঘাটার উপজেলার তেঁতুলতলা সুপার কুইন ফুটবল একাডেমীর কিশোরী ফুটবলারদের মারধর ও হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজ এক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ২৯ জুলাই বিকেলে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা তেঁতুলতলা গ্রামে চার নারী ফুটবলারকে শারীরিকভাবে মারধর করেন স্থানীয় কয়েকজন। ফুটবলাররা তেঁতুলতলা সুপার কুইন ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়। একাডেমির এক সদস্যের হাফ প্যান্ট পরা ছবি তার পরিবারের সদস্যদের দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মারধর করা হয়। এতে আহত হয় চার নারী ফুটবলার মঙ্গলি বাগচি, সাদিয়া নাসরিন, হাজেরা খাতুন ও জুঁই মণ্ডল। এ ঘটনার পরদিন নূপুর খাতুন, তাঁর বাবা নুর আলম, ভাই সালাউদ্দিন ও মা রঞ্জি বেগমকে আসামি করে মামলা দায়ের করে আহত কিশোরী ফুটবলার সাদিয়া নাসরিন। ওই মামলায় নুর আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাশাপাশি মামলার পর দিন সাদিয়াকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয় নুপুর, তাঁর মা ও ভাই। একই সাথে সাদিয়া ও তার একাডেমী খেলোয়ারদের শরীরে এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয় আসামিরা।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন যখন দেশের নারী ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক শিরোপা অর্জন করে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছে তখন খুলনার বটিয়াঘাটা কিশোরী ফুটবলারদের উপর এ ধরনের শারীরিক নির্যাতন দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেবে তা মোটেও কাম্য নয় সে কারণে দ্রুত বিচার ট্রাইইব্যুনালের মাধ্যমে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দরা হলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্র কমিটির সদস্য ও খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড এড. মিনা মিজানুর রহমান, কেন্দ্র কমিটির বিকল্প সদস্য ও খুলনা মহানগর কমিটির সভাপতি কমরেড শেখ মফিদুল ইসলাম, জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড এস এম ফারুখ-উল ইসলাম, পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য কমরেড গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, কমরেড শেখ মিজানুর রহমান, কমরেড মনির আহমেদ, কমরেড খলিলুর রহমান, কমরেড আব্দুস সাত্তার মোল্লা, কমরেড নারায়ণ সাহা, কমরেড আমিরুল সরদার, নির্বাহী সদস্য কমরেড মনিরুজ্জামান, কমরেড প্রভাষক রেজাউল করিম, কমরেড কৌশিক দে বাপী, কমরেড অজয় দে, কমরেড আরিফুর রহমান বিপ্লব, কমরেড আলাউদ্দিন, কমরেড বাবুল আক্তার, কমরেড গৌরী মণ্ডল, কমরেড কামরুল হোসেন জোয়ারদার, কমরেড আ. হামিদ মোড়ল, কমরেড মনির হোসেন, কমরেড মাস্টার সন্দীপন রায়, কমরেড হাফিজুর রহমান, কমরেড ফারুক মাস্টার, কমরেড সাইদুল ইসলাম , কমরেড কৃষ্ণ কান্তি ঘোষ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

খুকৃবিতে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
খরব বিজ্ঞপ্তি
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ(খুকৃবি) দেশের ৮টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থবারের মতো গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ৩ হাজার ৫৪৮টি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু ৮১,২১৯ জন পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। শনিবার (৫ আগস্ট) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে।
এদিকে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কেন্দ্র খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এবং কেসিসি উইমেন্স কলেজে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম চৌধুরী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোজ-খবর নেন। এসময় তিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন। উক্ত কেন্দ্রে ২ হাজার পরীক্ষাথীর মধ্যে ১৭৬৯ জন উপস্থিত ছিল।
এছাড়া,খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সারোয়ার আকরাম আজিজ এবং রেজিস্ট্রার ডাঃ খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার শাজাহান পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় এইচএসসি/সমমান পর্যায়ের ইংরেজিতে ১০, প্রাাণিবিজ্ঞানে ১৫, উদ্ভিদবিজ্ঞানে ১৫, পদার্থবিজ্ঞানে ২০, রসায়নে ২০ এবং গণিতে ২০ নম্বরের প্রশ্ন থাকার কথা রয়েছে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশের ৮টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী এন্ড এ্যানিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়।

 

শহীদ শেখ কামালের জন্মদিনে খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন
খবর বিজ্ঞপ্তি
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দ। শনিবার (৫ আগস্ট) সকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম সম্মুখে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ মোঃ আবু হানিফ, সহ-সভাপতি এফ এম হবিবুর রহমান, কুমারেশ মন্ডল, মোঃ মঈনউদ্দিন মাসুদ রানা, এস এম আসাদুজ্জামান নূর, এইচ এম কামাল, প্রচার সম্পাদক মোঃ ওহিদুজ্জামান, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আবু সাঈদ খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোঃ কামরুল হাসান বাপ্পি, স্বপন কুমার রায়, জিএম তৈয়েবুর রহমান, রাজীব দাশ টাল্টু, শিশির বর প্রমুখ।#

রামপালে লায়ন ইকবাল লতিফের গণসংযোগ
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বাগেরহাট -৩ (রামপাল মোংলা) আসনের নৌকার ভোট চাইছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সদস্য শেখ ইকবাল লতিফ সোহেল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরে নৌকার প্রত্যাশী হিসাবে তিনি ব্যাপক প্রচার -প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত বলে দাবী করেন। বর্তমানে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে সভা, সমাবেশ ও শোডাউনসহ ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছেন। নৌকার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে রামপালের গৌরম্ভা, রাজনগর ও হুড়কার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যান এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলেন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন, উজলকুড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজী শেখ সেকেন্দার আলী, আওয়ামীলীগ নেতা লিয়াকত শেখ, হায়দার আলী, মো. বাকি বিল্লাহ শেখ, আব্দুল মান্নান, সবুজ মিস্ত্রী, মো. মোসলেম উদ্দিন, মসিউর রহমান খোকন, সাবেক ছাত্রনেতা রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ নেতা সায়েম শেখ, এনামুল হক মোড়ল, মুজিবর রহমান প্রমুখ।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পৌর বিএনপি ও ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মীকে আটক
মাহমুদ হাসান রনি,দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
চুয়াডাঙ্গার দর্শনার পৌ বিএনপি ও ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দর্শনা থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট, দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন, ছাত্রদল নেতা সোয়েব আকতার, আসিব হাসান ও ফয়সাল হোসেনকে আটক করা হয়।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা জানান, শনিবার দুপুরে তাদের নাশকতা মামলায় কোর্টে চালান করা হয়েছে।

লিটন মন্ডল থেকে চিলা ইউপির মানুষ মুক্তি পাবে কবে!
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বনবিভাগের এক মামলায় জেলে খেটে বের হয়েছেন মাত্র ২০দিন হলো, আরো দুইটি মামলা ঘাড়ে ঝুলছে। এরপরও প্রতারণা করে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্নসাৎ করা এক প্রকার নেশায় পরিণত হয়েছে তার। সরকারী চাকুরী, ভিজিডি কার্ড, আবাসনে সরকারী ঘর পাইয়ে দেওয়ার মত নানা প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে এখন পলাতক এই ব্যক্তি। তার নাম লিটন মন্ডল (৪০)। মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের মৃত অতুল মন্ডলের ছেলে এ লিটন।
এই লিটনের বিরুদ্ধে তার এলাকায় সাধারণ মানুষের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ভুক্তভোগীরা বলছেন, কখনো সে মানবাধিকার কর্মী, কখনো আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স আবার কখনো উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ আত্নীয়ের পরিচয় দিয়ে থাকেন লিটন। প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে এসব তকমা লাগিয়েই মানুষকে বোকা বানান সে। চতুর লিটন এতটাই কৌশলী যে তাকে সহজে ধরার কোন উপায়ই যেন নেই কারো। কিন্তু লিটনের সব প্রতারণা একে একে ধরা পড়ায় একজোট বেঁধেছেন তার প্রতারণরা শিকার কয়েক’শ মানুষ। আর তা বুঝেই ততক্ষণে আত্নগোপনে চলে গেছেন লিটন। কোথায় আছেন সে খবর এলাকার কেউই জানেন না।
শনিবার (৫ আগষ্ট) দুপুরে তার বিচার চেয়ে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে এ সময় যোগ দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরেরা।
লিটনের বিচার চাইতে এসে মিনাল কান্তি রায় নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, তার জমির কাগজপত্র ঠিকঠাক করে দিবে বলে দুই মাস আগে ১লাখ ৪০হাজার টাকা নিয়ে কোন কাজই করে দেয়নি লিটন। এখন টাকাও দিচ্ছেনা সে। বাড়ীতে গিয়েও না পেয়ে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান মিনাল।
চিলার কাটাখালী গ্রামের বলয় রায় ও আলম গাজী বলেন, ভিজিডি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের দুইজনের কাছ থেকে ৬০হাজার টাকা নিয়ে এখন উধাও হয়ে গেছে লিটন।
সরকারী আবাসনের ঘর দেওয়ার কথা বলে জয়মনি গ্রামের অজিত রায়, সুরঞ্জন রায়, বিকাশ রায়, মানিক শিকদার ও আলম ফকিরের কাছ থেকে ২০হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন লিটন। এখন লিটনের হদিস মিলছে না।
সবির কুমার বাড়ই নামের গ্রাম পুলিশ বলেন, তার ছেলেকে উপজেলায় চাকুরী দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ১০হাজার টাকা নিয়েছেন লিটন। এরপর সরকারী ঘর দেওয়ার কথা বলে আরও ১০হাজার টাকা নেয় সে। কিন্তু ঘর কিংবা চাকুরী কোনটাই কপালে জোটেনি সবিরের কপালে। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিটনের বিচারের দাবী জানিয়েছেন তিনি।

চিলা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন বলেন, চিলা ইউনিয়নে মাদকের প্রথম ব্যবসা নিয়ে আসেন এই লিটন মন্ডল। এলাকায় যুবকদেরকে মাদক ধরিয়ে দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে আটকও করেছিলো। আবার কয়েকদিন হলো বনবিভাগের মামলায় জেল খেটে জামিনে বের হয়ে এসে লিটন এলাকার বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকারি ঘর, পানির ট্যাংক ও ভিজিডি কার্ড দিবে বলে প্রলোভন দিয়ে বেড়াচ্ছে শুনেছি। তার ফাঁদে পা দিয়ে সকলে টাকা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এসব সুবিধা পাননি কেউই। প্রতারণা করে এই এলাকার নিরীহ মানুষকে নিঃস্ব করেছে সে। তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
এ সময় চিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিহির ভান্ডারী ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল হাওলাদারও লিটন মন্ডলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে তার শাস্তির দাবীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে লিটন মন্ডলকে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার বিষয়ে খোঁজ নিতে তার এলাকায় গেলে লিটন ঢাকায় আত্নগোপনে আছেন বলে জানান তার প্রতিবেশিরা।

এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর দাশ বলেন, লিটন মন্ডলের বিরুদ্ধে এর আগেও মৌখিক অনেক প্রতারণার অভিযোগ শুনেছি। তবে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত কোন অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রামপালে বিএনপির আরও ৭ নেতার উচ্চ আদালতে জামিন
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
রামপাল থানা পুলিশের করা নাশকতার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আরও ৭ নেতা জামিন লাভ করেছন। বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তাদের ৬ সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন প্রদান করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি মুস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম শুনানী শেষে তাদের জামিন মন্জুর করেন।

জামিনপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দরা হলেন, আলী আকবর সম্রাট, মো. রবিউল ইসলাম, সৈয়দ কুদরত, সৈয়দ মওদুদ আহমেদ, আনিসুর রহমান, মন্জুরুল ইসলাম ফারাজী ও বাদল ফারাজী। নেতৃবৃন্দের আগাম জামিন লাভের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী এ্যাডভোকেট মো. বোরহান খান। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ফয়লা ফাড়ির এসআই খন্দকার আ. মবিন বাদী হয়ে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে রামপাল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। পু্লশি ওই রাতে বিএনপির ৪ নেতাকে আটক করে আদালতে পাঠালে বিজ্ঞ আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠান। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানান, বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

বিএনপি নেতা ডাঃ গাজী আব্দুল হক চিকিৎসাধীন খায়রুল মোল্লার মায়ের সুস্থ্যতা কামনা জেলা বিএনপির
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কেন্দ্রীয় মহাসচিব প্রবীন রাজনীতিক অধ্যাপক ডাঃ গাজী আব্দুল হক অসুস্থ্য হয়ে চিকিৎসাধীন। জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলামের মমতাময়ী মা বার্ধক্যজনিতকারণে অসুস্থ্য রয়েছেন। এছাড়া জেলা মৎস্যজীবী দলের নেতা মোঃ আজিজুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিএনপি নেতা গাজী আব্দুল হকসহ সকলের আশুসুস্থ্যতা কামনা করে গতকাল শনিবার (০৮ আগস্ট) বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আমির এজাজ খান, সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী ও যুগ্ম-আহবায়ক শেখ আবু হোসেন বাবু প্রমুখ।।

মহেশপুরে শেখ কামালের ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি,
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৫ আগষ্ট বাংলাদেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪তম জন্ম বাষিকী পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,ঝিনাইদহ ৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড.শফিকুল আজম খান চঞ্চল। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা খাতুন হেনা,পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী আব্দুর সাত্তার,শিক্ষাবিদ এটিএম খাইরুল আনাম,উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শরীফ শাওন,কৃর্ষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা,উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সৈয়দ শাহরিয়ার আকাশসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সুজন খুলনার মানববন্ধনে বক্তারা
শান্তিপূর্ন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন
খবর বিজ্ঞপ্তি
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বানে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন খুলনা জেলা ও মহানগর কমিটির যৌথ উদ্যোগে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সুজন মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি এসএম সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান সুমনের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন সুজন বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক এড. কুদরত ই খুদা, বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু, ব্লাস্ট খুলনার সমন্বয়কারী এড. অশোক কুমার সাহা, একুশের আলো খুলনার সভাপতি নারী নেত্রী সুতপা বেদজ্ঞ, নারী অধিকার সুরক্ষা ফোরামের সমন্বয়কারী এড. তছলিমা খাতুন ছন্দা, আইআরভি’র নির্বাহী পরিচালক মেরিনা যুথি, শেখ আইনুল হক, সৈয়দ আলী হাকিম, এড. এটিএম মনিরুজ্জামান, আফজাল হোসেন রাজু, তাহেরুল আলম চৌধুরি, খন্দকার খলিলুর রহমান, মাহবুবুল হক, আসিফ ইকবাল, নুরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, জাহানারা আক্তারী, সুপ্রিয়া মন্ডল, কানন মল্লিক, মমতা বিশ্বাস, বিথি কনিকা প্রমূখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। আসন্ন নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। এ নিয়ে চলছে নানামুখী কাঁদা ছাড়াছুড়ি। যা দেশকে করছে অস্থিতিশীল। অবিলম্বে সবাইকে একমঞ্চে বসিয়ে শান্তিপূর্ন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।

খুবিতে শেখ কামালের জন্মদিনে আলোচনা সভায় উপাচার্য
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ কামালের মতো আদর্শিক গুণাবলী সম্পন্ন যুবক প্রয়োজন
খবর বিজ্ঞপ্তি
০৫ আগস্ট (শনিবার) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জ্যেষ্ঠ পুত্র, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সকাল ১১টায় শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন শেখ কামাল। তিনি ঢাকা কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ’৬৬ এর ছয়দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলে শেখ কামাল মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ মাতৃকাকে বাঁচাতে এবং স্বাধীনতার জন্য জেনারেল এমএজি ওসমানির এডিসি হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তখন তিনি মা, ভাই-বোন কারও চিন্তা করেননি।
উপাচার্য বলেন, শেখ কামাল অত্যন্ত সাংস্কৃতিক মনা একজন মানুষ ছিলেন। তিনি ছায়ানটের সদস্য ছিলেন। সব অনুষ্ঠান তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ দিয়ে শুরু করতেন। পাকিস্তান সরকার যখন রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিলো তখন তিনি এর অহিংস প্রতিবাদ করেছিলেন। এটিকে জাতীয় সঙ্গীত করার পেছনেও তাঁর অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের জন্য শেখ কামালকে আমাদের স্মরণ করতে হবে। তিনি নিজে একজন অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ছিলেন, ফুটবল ও বাস্কেটবল খেলতে তিনি পছন্দ করতেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গঠন করেন। আবাহনী ক্লাবের মাধ্যমে তিনি দেশের যুবকদের খেলাধুলা আগ্রহী করে সংগঠিত করেন। সাধারণ মানুষের জন্যও তার চিন্তা-ভাবনা ছিলো অনন্য। তিনি রাষ্ট্রপতির ছেলে হয়েও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, অপপ্রচার দ্বারা আমরা খুব সহজেই প্রভাবিত হই। তার জ্বলন্ত উদাহরণ শেখ কামাল। তাঁকে ইতিহাসে অপপ্রচার দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ইতিহাসকে নিজেদের ইচ্ছামতো লেখা হয়েছে। মানুষের মাঝে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সময় এসেছে এই অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার, প্রতিবাদ করার।
উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে অভিলক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তা বাস্তবায়নে শেখ কামালের মতো আদর্শিক গুণাবলী সম্পন্ন যুবকদের প্রয়োজন। যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
উপাচার্য বক্তব্যের শুরুতে ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে শহিদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সকল সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ, জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী জাতীয়ভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে দিবসটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করায় উপাচার্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর অমিত রায় চৌধুরী। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুসের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আইন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. ওয়ালিউল হাসানাত, কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. রুবেল আনছার, খানজাহান আলী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আব্দুল জব্বার, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মো. শরীফ হাসান লিমন, সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান সিদ্দিকী, অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উপ-রেজিস্ট্রার দীপক চন্দ্র মন্ডল, সেকশন অফিসার মোস্তফা আল মামুন প্রবাল, কর্মচারী মো. তরিকুল ইসলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল ১০.৩০ মিনিটে শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে বৃক্ষরোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন উপাচার্য। এসময় ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বাদ জোহর দিবসটি উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও প্রশাসন ভবন সংলগ্ন জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

খুবিতে এএমএমএস সফটওয়্যার বিষয়ে প্রশিক্ষণে ইউজিসি সদস্য
ডিজিটাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এর সদস্য প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বলতে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট সোসাইটিকে বোঝায়। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডি-নথি, ই-গভর্নেন্স সর্বোপরি ডিজিটাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলেই নিয়মিত অডিট পরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা অনেকাংশে ফিরিয়ে আনতে পারে। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট সেলকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, অডিট ম্যানেজমেন্ট এন্ড মনিটরিং সিস্টেম (এএমএমএস) ২.০ সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার এবং গতিশীলতা বাড়বে। অডিট প্রক্রিয়া আরও কম সময়ে ও কম খরচে করা সম্ভবপর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিকসহ সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ইউজিসি নানা ধরনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীগণ আর্থিক-অডিট পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন খুঁজে পাবেন, যা তাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজ ০৫ আগস্ট (শনিবার) সকাল ৯টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ইউজিসি’র আয়োজনে ‘অডিট ম্যানেজমেন্ট এন্ড মনিটরিং সিস্টেম (এএমএমএস) ২.০’ সফটওয়্যার বিষয়ে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিতে অডিটের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভিন্ন রুলস, ভিন্ন ম্যানেজমেন্ট যা নিয়ে পরবর্তীতে অডিট আপত্তি দেখা যায়। এই অডিট আপত্তি আমাদের বন্ধ করতে হবে। এএমএমএস সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করা আরও সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি সব সময় দুর্নীতি থেকে দূরে রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ডি-নথির মাধ্যমে যে স্বচ্ছতা এসেছে, এই সফটওয়্যার ব্যবহারের আর্থিক খাতে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। উপাচার্য সব বিশ্ববিদ্যালয়কে একই আর্থিক নীতিমালায় পরিচালনের জন্য একটি ইউনিফাইড সফটওয়্যার তৈরির পরামর্শ দেন। যা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে একটি সুনির্দিষ্ট পথে পরিচালনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর অমিত রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউজিসি’র উপ-পরিচালক (অডিট) মো. আব্দুল মান্নান।
এসময় ইউজিসি’র অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোস্তাফিজার রহমান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক শেখ মুজিবুর রহমানসহ প্রশিক্ষণে নেওয়া খুলনা অঞ্চলের ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগ এবং অডিট সংশ্লিষ্ট ২২ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বটিয়াঘাটায় নারী ফুটবলারদের উপর বর্বরোচিত হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা জেলার বটিয়ঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা সুপার কুইন ফুটবল একাডেমীর চার নারী ফুটবলারদের মারধর ও হেনস্তার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে ৫ আগস্ট শনিবার বেলা ১১:৩০টায় পিকচার প্যালেস মোড়ে সম্মিলিত নারী অধিকার সুরক্ষা ফোরাম, খুলনা’র উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক নারী নেত্রী এড. তছলিমা খাতুন ছন্দার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নারী নেত্রী সুতপা বেদজ্ঞের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেনÑবাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সদস্য ও খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড এস এ রশীদ, সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক নাগরিক নেতা এড. কুদরত-ই-খুদা, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী এড. মোমিনুল ইসলাম, ব্লাস্ট খুলনা সমন্বয়কারী এড. অশোক কুমার সাহা, সুজনের বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু, সিপিবি মহানগর সভাপতি কমরেড মিজানুর রহমান বাবু, বাসদের আব্দুল করিম, সনজিত মণ্ডল, পোল্ট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন, খুলনা জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যণ সমিতির মোঃ জাহিদুল ইসলাম টোটন, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খোকন, নারী নেত্রী অধ্যক্ষ রেহেনা আক্তার, অধ্যাপক রমা রহমান, অধ্যাপক অজন্তা দাস, সাবিত্রী চক্রবর্ত্তী, মেরীনা যুথি, জাহানারা আক্তারী, কানন মল্লিক, মমতা বিশ্বাস, উল্লাসিনী সরকার, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, তেঁতুলতলা ফুটবল একাডেমির সদস্য অর্পিতা রায়, নারী নেত্রী শিরিন পারভীন, আলমাস আরা, টিইউসির রঙ্গলাল মৃধা, শ্রমিকনেতা নূর ইসলাম, এড. এ টি এম মনিরুজ্জামান মুরাদ, যুব ইউনিয়ন মহানগর সভাপতি আফজাল হোসেন রাজু, যুবনেতা রামপ্রসাদ রায়, আইনুল হক, অলিপ বিশ্বাস, উন্নয়ন ফোরামের মোঃ আসিফ ইকবাল, সাংবাদিক খলিলুর রহমান সুমন, বাপপী বিশ্বাস, কৃষ্ণা রায় প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, তেঁতুলতলা সুপার কুইন ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়দের হাফ প্যান্ট পরাকে কেন্দ্র করে চার নারী ফুটবলার মঙ্গলি বাগচি, সাদিয়া নাসরিন, হাজেরা খাতুন ও জুঁই মণ্ডলকে মারধর ও হেনস্তা করায় হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।

তিনি ছিলেন যুব সমাজে নিরাপত্তার আশ্রয় স্থল: সিটি মেয়র
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, শেখ কামাল ছিলেন যুব সমাজে নিরাপত্তার আশ্রয় স্থল। তিনি সব সময় যুব সমাজকে সুসংগঠিত করতে নানামুখী কাজ করেছেন। যুব সমাজকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে জড়িয়ে রাখতেন। তিনি আরো বলেন, শেখ কামাল তাঁর রক্তের ধারাবাহিকতায়ই মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর বহুমাত্রিক গুনাবলিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিপথগামী কতিপয় সেনাসদস্যরা জিয়ার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যার পরিকল্পনার আগে ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিলো। তারা হত্যার ক্ষেত্র তৈরী করতে এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছিলো। যেমনটি করা হয়েছিলো চিলির আলেন্দার ক্ষেত্রে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে আর সেসব মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ হয়েছিলো। কিন্তু তৎক্ষণে বাংলাদেশের সংবিধানকে স্থগিত করে সামরিক আইন জারি করা হয়েছিলো। তিনি আরো বলেন, শেখ কামাল রাষ্ট্রপতির সন্তান হলেও তার মধ্যে কোন অহংকার ছিলো না। তিনি সকলের সাথে সাধারণ মানুষের মতই বন্ধুত্ব নিয়ে মিশতেন। তাঁর মত চৌকস মেধাবি ব্যক্তিকে হারিয়ে আজ বাংলাদেশে নেতৃত্বের সংকট। শেখ কামালের রক্তের শপথ নিয়ে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে ’৭১ ও ৭৫-এর খুনীদের চিরতরে বাংলাদেশ থেকে বিদায় করতে হবে।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শহীদ ক্যাপ্টেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকীতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময়ে বক্তব্য রাখেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা। মহানগর আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা মল্লিক আবিদ হোসেন কবির, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, শেখ মো. আনোয়ার হোসেন, এ্যাড. অলোকা নন্দা দাস, মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল, রনজিত কুমার ঘোষ, নূরীনা রহমান বিউটি। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম বন্দ, জামাল উদ্দিন বাচ্চু, অধ্যা. আলমগীর কবির, প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাকসুদ আলম খাজা, শেখ নুর মোহাম্মদ, চ. ম মজিবুর রহমান, আব্দুল হাই পলাশ, মো. জাহিদুল ইসলাম, শেখ আবিদ উল্লাহ, মুন্সি আইয়ুব আলী, কাউন্সিলর হাসান ইফতেখার চালু, শেখ এশারুল হক, সরদার আব্দুল হালিম, মো. জাকির হোসেন হাওলাদার, এ্যাড শামীম মোশাররফ, মো. শিহাব উদ্দিন, মীর মো. লিটন, মো. সফিকুর রহমান পলাশ, নাছরিন আক্তার, এ্যাড. শামীম আহমেদ পলাশ, নজীবুল হক নজিব, জেসমিন সুলতানা শম্পা, আফরোজা জেসমিন বিথী, নাছরিন সুলতানা তন্দ্রা, নুর জাহান রুমি, রোকেয়া রহমান, খাদিজা কবির তুলি, রেজওয়ানা প্রধান, দিপ্তী রায়, লাকী আক্তার, নওশের আলী, আব্দুল ওহাব, কিংকর সাহা, আজিম উদ্দিন, লেলিন, জব্বার আলী হীরা, ওমর কামালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
শেখ কামালের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়।

খুলনায় বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শহিদ শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উদযাপন
তথ্য বিবরণী
খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বাংলাদেশের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গণের অন্যতম পথিকৃৎ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা জেলা ও মহানগর কমান্ড, কেসিসি’র মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফ , কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক, রেঞ্জ ডিআইজি মঈনুল হক, জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা।

এ উপলক্ষ্যে শনিবার খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র বলেন, বহুগুণের অধিকারী শেখ কামাল ছিলেন বাংলাদেশের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গণের অন্যতম পথিকৃৎ। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তাঁর অবদান ছিলো অনস্বীকার্য। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ ছিলো তাঁর। তিনি বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক, আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, শেখ কামাল যেমন ক্রীড়াবিদ ছিলেন তেমনি ছাত্র হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। শহিদ শেখ কামাল ঢাকা থিয়েটরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। সহপাঠি শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তুলে ছিলেন স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম, নৈতিকতা, দিক নিদের্শনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এই আহবান জানান মেয়র।

খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, কেএমপির পুলিশ কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক, রেঞ্জ ডিআইজি মঈনুল হক ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনার জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন। অনুষ্ঠানে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর কবির বক্তৃতা করেন।

আলোচনা সভা শেষে প্রশিক্ষিত যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদানের জন্য নয় জনের মাঝে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের রূহের মাগফেরাত কামনা করে কোরআন খতম/বিশেষ দোয়া মাহফিল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়। এছাড়া আগস্ট মাসব্যাপী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উদযাপন বিষয়ক একটি দৃষ্টিনন্দন ব্যানার সকল দপ্তর, সংস্থা, ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন, সংস্থা/সকল বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিসের সামনে/গেটে/গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শন/স্থাপন করা হয়।

কুয়েটে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উদ্্যাপিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এ শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী ২০২৩ উদ্্যাপিত হয়েছে। দিনটি উদ্্যাপন উপলক্ষ্যে ০৫ আগস্ট শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসস্থ পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট সংলগ্ন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মিহির রঞ্জন হালদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সোবহান মিয়া। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জমি ও পুকুর কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনসংযোগ ও তথ্য শাখার সহকারী পরিচালক মনোজ কুমার মজুমদার। অনুষ্ঠানে বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

হাজারো জেলে পরিবার হতাশ: দাকোপে স্থানীয় নদীতে দেখা মিলছে না ইলিশের
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি
ভরা মৌসুমেও খুলনার দাকোপে স্থানীয় বিভিন্ন নদীতে দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের দেখা মিলছে না। এতে রূপালী ইলিশের স্বাদ ভুলতে বসেছেন এলাকার জনসাধারণ। আবার বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় উপজেলার হাজারো জেলে পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পৃথক ৩টি দ্বীপের সমন্বয় গঠিত এই উপজেলার চারপাশে নদী দিয়ে পরিবেষ্টিত। এঅঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এক সময়ে মৎস্য আহরনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর এ মৎস্য আহরনের অভয়ারণ্য ছিল উপজেলার উল্লেখযোগ্য ঢাকী, ভদ্রা, শিপসা, কাজীবাছা, মাঙ্গা, পশুর ও ঝপঝপিয়া নদী। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকার প্রায় হাজারো জেলে পরিবার এই পেশার উপর নির্ভরশীল। এসব জেলেরা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ ও মহাজনের দাদন নিয়ে জাল নৌকা কিনে অনেকে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু দিনরাত নদীতে জাল ফেলেও ইলিশ না পেয়ে তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এমনকি ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না এসব জেলেরা। যে কারনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও ক্রেতাদের সাথে ইলিশের দেখা মিলছে খুব কম। মাঝে মধ্যে দুই একজন জেলের জালে দুই একটি মাছ ধরা পড়লেও বাজারে তার দাম আগুনের মত। যা সাধারন মানুষ কিনে খেতে পারছেন না। এনজিও ঋনের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় তাদের সাথে প্রায়ই বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। মাঝে মধ্যে আবার আত্মগোপন করেও থাকতে হচ্ছে অনেক জেলেকে। অন্য কোন আয়ের উৎস্য না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন উপজেলার এসকল জেলে পরিবারগুলো। জেলেদের পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাছেন। এতে জেলেরা অর্থ কষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আবার সাধারন মানুষও রূপালী ইলিশ মাছের স্বাদ প্রায় ভুলতে বসেছেন। এদিকে দীর্ঘদিন ইলিশের দেখা না পেয়ে ইতি মধ্যে এ পেশা ছেড়ে কেউ কেউ আবার অন্য পেশা শুরু করে সংসার চালাছেন। সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিলে তাদের কিছুটা মাথা গোজার ঠাই হতো বলেও এসব জেলেরা জানান।
পশুর নদীর জেলে উপজেলার খলিসা এলাকার শিবপদ বিশ^াস জানান, তার একমাত্র পেশা ইলিশ মাছ ধরা। চলতি মৌসুমে মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে জাল এবং নৌকা কিনেছেন। কিন্তু ভরা মৌসুমেও নদীতে দিনরাত জাল ফেলে ইলিশ মাছের দেখা না পেয়ে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এতে অভাব অনাটনে তাদের ৪টি পরিবার অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছেন বলে জানান।
মাছ বাজারে এ প্রতিবেদকের কথা হয় আব্দুল ছাত্তার ও সোহাগ আহমেদ নামে ক্রেতার সাথে। তারা বলেন স্থানীয় নদীর ইলিশের স্বাদ বেশি বিধায় মাছ কিনতে এসেছেন। কিন্তু বাজারে দুই একটা মাছ আসায় দাম অত্যান্ত চড়া। সবার পক্ষে এতো দামে মাছ কিনে খাওয়া সম্ভব না। তাই মাছ না কিনে তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
চালনা বৌমার গাছতলার মাছ বাজারের ব্যবসায়ী জাহিদুল শেখ জানান, স্থানীয় নদীর ইলিশ তেমন একটা বাজারে আসছে না। যা দুই একটা আসছে তা ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তবে তারা খুলনা থেকে বরিশালের মাছ এনে বিক্রি করছেন। এক কেজি ওজনের ইলিশ ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা আর আধা কেজির মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে।
এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান বলেন, সাগরে তো এখন অনেক ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় নদীতে প্রচুর পরিমানে ইলিশ মাছ ধারা পড়বে। তা ছাড়া বৃষ্টি কম এবং স্থানীয় নদী পলি পড়ে ভরাট হওয়ায় ও নদীর মুখে বিভিন্ন কারণে বাধা প্রাপ্ত হওয়ায় মাছ উঠতে দেরি হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা
বঙ্গবন্ধুর মতোই শেখ কামালও ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানুষ
খবর বিজ্ঞপ্তি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বড় মানুষ ছিলেন, কত বড় একজন নেতা ছিলেন সেটা আমরা সবাই জানি। জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল এঁর মধ্যে বাবার গুণাবলি ধারণ করেছিলেন। চালচলন ও পোশাক-পরিচ্ছদে শেখ কামাল ছিলেন অতি সাধারণ। বিনয় ছিল তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পড়াশোনার বাইরেও সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া জগতে শেখ কামালের ছিল ব্যাপক আধিপত্য। তিনি ছিলেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি বেঁচে থাকলে দেশের ক্রীড়াকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতেন। যেটি এখন করছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাবা বঙ্গবন্ধুর মতোই শেখ কামালও ছিলেন একজন অত্যন্ত সাহসী মানুষ। ২৬ মার্চ ভোরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই তিনি তার মাকে লুকিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তার সাহসী চিন্তা-চেতনা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিচক্ষণতা তাকে যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণ সমাজের কাছে এক অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।” গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে চারটায় খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ শেখ আবু নাসের ব্যাংকুয়েট হলে খুলনা মহানগর যুবলীগের উদ্দ্যোগে শহীদ শেখ কামালের ৭৪ তম জন্মবর্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।
খুলনা মহানগর যুবলীগের সভাপতি সফিকুর রহমান পলাশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনের পরিচালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর কবির, কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু। অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোলার ড. বিশ্বাস শাহিন আহমেদ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সরকারি মডেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বদিউজ্জামান, খুলনা শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমির উপ পরিচালক শওকত হোসেন, সরকারি পিসি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মামুন কাদের, মহানগর যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের শেখ, এ্যাড. আলামিন উকিল, আবুল হোসেন, কবির পাঠান, মোস্তফা শিকদার, মহিদুল ইসলাম মিলন, মশিউর রহমান সুমন, মোঃ রাশেদুল ইসলাম, মামুন কবির কচি, ইলিয়াস হোসেন লাবু, শওকত হাসান, হাসান শেখ, বাদল সিপাহি, ইমরুল ইসলাম রিপন, আনিসুর রহমান, ইউসুফ মোল্লা, ইব্রাহিম হোসেন তপু, হারুন অর রশীদ, রিয়াজ মাহমুদ চৌধুরী, জামাল শেখ, লাবু আহমেদ, অলক শীল, মুহিদুল ইসলাম শান্ত, জামিল আহমেদ সোহাগ, মোঃ ফরিদ, সাবেক ছাত্রনেতা বাচ্চু মোড়ল, মাসুদ পারভেজ, মশিউর রহমান, রফিকুল ইসলাম রফিক, সবুজ হাজরা, মেহেদী হাসান রাসেল, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা, সোহেল বিশ্বাস, শেখ আসাদুজ্জামান বাবু, জববার আলী হিরা, জহির আব্বাস, ইমতিয়াজ রিপন, রফিকুল ইসলাম, হিরন হাওলাদার, জনি বসু, নিশাত ফেরদৌস অনি, যুবনেতা আজগর বিশ্বাস, বিপ্লব ধর তত্ত্বী, মোঃ সুমন হোসেন, খান মোহাম্মদ অপু, রাসেল শাখাওয়াত, মারুফ হোসেন সবুজ।
আলোচনা সভা শেষে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি রফিকুল ইসলাম।

ঝিনাইদহের মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস ভাঙচুর, থানায় জিডি
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের চান্দুয়ালি বাজারে চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বিশ্বাসের ব্যক্তিগত অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগি ওই চেয়ারম্যান। তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন, গতকাল (শুক্রবার) ৪ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে চান্দুয়ালি বাজারে তার ব্যক্তিগত অফিসে ১৫/২০ জন যুবক দলবদ্ধ হয়ে অতর্কিত হামলা করে এবং তার অফিস এলাকায় এসে তার পিতা মাতার নামে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে। এসময় অফিসের ভিতরে থাকা চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিস পত্র ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি করে বলে করা হয়। ভাংচুরের ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানার চান্দুয়ালি গ্রামের মৃত আফজালের ছেলে মাসুদ (২৬), মশিয়ারের ছেলে সজল (২৪), বাজার গোপালপুর খালেকের ছেলে মিল্টন (২৫), বিল্লাল গনির ছেলে ইনামুল ওরফে ডুবার (২৫), কোটচাঁদপুর রুদ্রপুর গ্রামের আসাদুলের ছেলে জনি (২৫) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাজার গোপালপুর ক্যাম্পের সহকারি পরিদর্শক মোঃ বদর উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে চান্দুয়ালি বাজারে গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যানের অফিসে বেশ কয়েকটি চেয়ার ও টেবিল ভাংচুরের ঘটনা দেখে এসেছি।
এ ঘটনায় চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বিশ্বাস জানান, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার প্রতিপক্ষের লোকজন ইউনিয়নে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সরকারি কার্যক্রমে বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করা সহ আমাকে নানা ভাবে ভয় ভীতি হুমকি দিয়ে আসছিলেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দাকোপে শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত
দাকোপ প্রতিনিধি
দাকোপে জাতীয় শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী যুবলীগের যৌথ আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যৈষ্ঠপুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
শনিবার সন্ধায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি গোবিন্দ বিশ^াসের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন চালনা পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম আক্কেল। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা উপজেলা আ.লীগ সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ ফকির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম রুহুল আমীন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী অধ্যাপক লিপিকা বৈরাগী,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক জি এম রেজা, চালনা পৌরসভা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিপন ভূঁইয়া, কুমারেশ বিশ^াস,প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান,বুলবুল, অধ্যাপক তপন মন্ডল, মোহন লাল সাহা, চয়ন সাহা, স্বপন রায়,শিবপদ মন্ডল, শিবপদ বৈরাগী, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক অমারেশ ঢালী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব উত্তম রায়, উপজেলা শ্রমিক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ইউনুছ জমাদ্দার,পাবক মিস্ত্রী, হরিপদ মন্ডল,আব্দুস ছাত্তার সরদার,অর্ধেন্দু রায়,স্বপন বর্মন, আরাফাত আজাদ, পারভেজ শেখ, ইকরামুল শেখ, মাহমুদুর হাসান আলমগীর, গোবিন্দ রায়,আলম হাওলাদার, টুটুল বিশ^াস,ছাত্রলীগনেতা রাসেল রায়,মাসুম হাওলাদার প্রমুখ।

খুলনা মহানগর পূজা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন
খবর বিজ্ঞপ্তি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় নগরীর ঐতিহাসিক জোড়া শিব মন্দির (৫নং ঘাট) প্রাঙ্গণে ০৫ আগস্ট, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুণ্ডু। এ সময় তিনি মহানগরের আওতাধীন ৮টি থানার প্রতিটি মঠ-মন্দির, শ্মশান কমিটির নিকট পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য স্ব-স্ব আঙ্গিনায় ফলজ ও ভেষজ বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি অরবিন্দ সাহা, সহ-সভাপতি সমরেশ সাহা, অধ্যাপক তারক চাঁদ ঢালী, যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে মিঠু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য উজ্জ্বল ব্যানার্জী, বাবলু বিশ্বাস, শিবনাথ ভক্ত, সুশান্ত ব্যানার্জী, সদর থানা সভাপতি বিকাশ কুমার সাহা, সোনাডাঙ্গা থানা সাধারণ সম্পাদক রামচন্দ্র পোদ্দার, মহানগর সহ-গণসংযোগ সম্পাদক রবীন দাস, সম্মানিত কার্যনির্বাহী সদস্য অলোক দে, উপদেষ্টা দেবীপ্রসাদ ঘোষ, নারায়ণ দাস, জয় মণ্ডল, সদর থানা যুগ্ম সম্পাদক পাপ্পু সরকার, সোনাডাঙ্গা থানা যুগ্ম সম্পাদক জনি বসু, কার্যনির্বাহী সদস্য বিদ্যুৎ নন্দী, চন্দন দে, জোড়া শিব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ভোলানাথ কাঞ্জিলাল প্রমুখ।

রামপালে লায়ন ইকবাল লতিফের গণসংযোগ
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বাগেরহাট -৩ (রামপাল মোংলা) আসনের নৌকার ভোট চাইছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সদস্য শেখ ইকবাল লতিফ সোহেল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরে নৌকার প্রত্যাশী হিসাবে তিনি ব্যাপক প্রচার -প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত বলে দাবী করেন। বর্তমানে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে সভা, সমাবেশ ও শোডাউনসহ ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছেন। নৌকার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে রামপালের গৌরম্ভা, রাজনগর ও হুড়কার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যান এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলেন।

বেহাল দশা দাকোপের পোদ্দারগঞ্জ ফেরীঘাটে যাতায়াতের সড়ক, মেরামতের দাবি এলাকাবাসীর
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপ উপজেলায় পূর্ণিমার জোয়ারে চুনকুড়ি, পশুর, ঢাকীসহ বিভিন্ন নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পোদ্দার গঞ্জ ঘাটের রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় পারাপারের জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও নদীর চর এলাকায় বসবাসকারীদের বাড়িঘরে পানি উঠেছে। শনিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জোয়ারে হঠাৎ করে নদী-খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুপুরে পোদ্দারগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চুনকুড়ি, পশুর নদীর তীরে থাকা ঘাট এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এলাকা ঘুরে জানা যায় কারও কারও ঘরের মধ্যেও পানি উঠে গেছে। ছাগল ও গবাদি পশু নিয়ে তারা বিপদে পড়ে গেছে। আর পানি ওঠায় রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে কয়েকজনের। এলাকার স্বপন রায় বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ মাস আসলে খুবই কষ্টে থাকতে হয়। মাঝে মাঝেই পানি উঠে যায়। উঠানামার এ রাস্তাটা যদি একটু উঁচু করে বাঁধ দেওয়া থাকত, তাহলে আমরা কিছুটা শান্তিতে পার হতে পারতাম। চালনা পৌরসভার এলাকার ব্যাবসায়িক সুবল ঘোষ বলেন, চারপাশে নদী, আর খালের মধ্যে আমাদের বাজুয়া, দাকোপ, কৈলাশগঞ্জ, বানিশান্তা, লাউডোবসহ দাকোপের নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা চালনা। হঠাৎ করে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু পরিবারসহ আমার মিষ্টির দোকানের কারখানায় যাতায়াতের পথে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি থাকায়, পানি সহজে নামছে না। পোদ্দারগঞ্জ ঘাট দিয়ে পার হওয়ার সময় বাজুয়া ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য কনিকা পোদ্দার বলেন আমাদের প্রায় সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদর চালনায় যেতে হয়। আর এই ঘাট পার হতে হয় সব সময় কিন্তু আমরা মহিলা কিভাবে এই পানির ভিতর দিয়ে কাপড় উঁচু করে হাটবো। এছাড়া রাস্তার যেখানে সেখানে বড় বড় গর্ত আছে এর ভিতর পড়লে বড় দুর্ঘটনা গঠতে পারে যে কোন সময়। ভুক্তভোগীরা আরো জানান, দাকোপ উপজেলার একমাত্র প্রবেশ পথ হলো পোদ্দারগঞ্জ ফেরিঘাটের এই রাস্তাটি সেখানেও একই অবস্থা। কিন্তু এই রাস্তাটির বেহাল দশা। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবহন। এলাকার জনগণের দাবি অতি দ্রুত মেরামত করা হোক এই রাস্তাটি না হলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা। স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ সময় তার সাথে ছিলেন, উজলকুড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজী শেখ সেকেন্দার আলী, আওয়ামীলীগ নেতা লিয়াকত শেখ, হায়দার আলী, মো. বাকি বিল্লাহ শেখ, আব্দুল মান্নান, সবুজ মিস্ত্রী, মো. মোসলেম উদ্দিন, মসিউর রহমান খোকন, সাবেক ছাত্রনেতা রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ নেতা সায়েম শেখ, এনামুল হক মোড়ল, মুজিবর রহমান প্রমুখ। #

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পৌর বিএনপি ও ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মীকে আটক
মাহমুদ হাসান রনি,দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দর্শনার পৌ বিএনপি ও ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দর্শনা থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট, দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন, ছাত্রদল নেতা সোয়েব আকতার, আসিব হাসান ও ফয়সাল হোসেনকে আটক করা হয়।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা জানান, শনিবার দুপুরে তাদের নাশকতা মামলায় কোর্টে চালান করা হয়েছে।

পাইকগাছার চাঁদখালী ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াতী সভা অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখা এর আওতাধীন পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে গতকাল সকাল ১১ টায় ইউনিয়ন এর অস্থায়ী কার্যলয়ে ইউনিয়ন শাখা এর সভাপতি জি এম আসাফুর রহমান এর সভাপতিত্বে ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দাওয়াতী সভা অনুষ্ঠিত হয়, উক্ত দাওয়াতী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখার সেক্রেটারি জননেতা হাফেজ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালীব, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পাইকগাছা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মোহাঃ কাবির হুসাইন।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাড়ুলী ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটার হাফেজ মোহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ। সভা শেষে আগামী ২০২৩-২৪ সেশনের জন্য আলঃ জি এম আসাফুর রহমানকে সভাপতি এবং মোহাঃ বাবুল সরদারকে সেক্রেটারি করে ইউনিয়ন এর ৫ নং ওয়ার্ড এর কমিটি গঠন করা হয়।

 

কেশবপুরে বাংলাদেশ সাহিত্য সেবা সংসদ (বাসাসেস)-এর মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
আলমগীর হোসেন,কেশবপুর প্রতিনিধি :
কেশবপুরে ‘এসো মন ভুবনে, সত্য সুন্দর কল্যাণে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সাহিত্য সেবা সংসদ (বাসাসেস)-এর আয়োজনে মাসিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শনিবার (০৫ আগস্ট) বিকালে শোকের মাসে ‘বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ক কবিতা পাঠ আসরে সংগঠনের সভাপতি বাংলা একাডেমি’র, আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ সাহিত্য সেবা সংসদ (বাসাসেস)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবি মুহম্মদ শফি-এর সভাপতিত্ব এবং সহকারী অধ্যাপক লেখক ও প্রাবন্ধিক তাপস মজুমদার-এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে আলোচনা করেন, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্তী।
কবিতা পাঠ ও আলোচনা করেন, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য সাংস্কৃতি সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, পাঁজিয়া সমাজ কল্যান সংস্থার পরিচালক বাবুরালী গোলদার, কবি ও সিনিয়র সাংবাদিক ইব্রাহিম রেজা, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাপস দে, চারণ কবি মুনছুর আজাদ, কবি বিশ্বজিত ঘোষ, কবি প্রনব কুমার মন্ডল, কবি সুব্রত বসু, কবি আমিনুর রহমান বুলবুল, সাংবাদিক পরেশ দেবনাথ প্রমূখ।

ডুমুরিয়ায় স্বাদু পানিতে বাগদা চাষে তবিবুরথর সাফল্য,৩০ লাখ টাকা বিক্রির স্বপ্ন বুনছেন
এস রফিক, ডুমুরিয়া
ডুমুরিয়ায় হাসানপুর গ্রামের চিংড়ি চাষি তবিবুর রহমান তার মিষ্টি পানির ঘেরে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে এলাকায় সাফল্যের দৃষ্টান্ত ¯’াপন করেছেন। পাশাপাশি উপজেলায় শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষির পুরষ্কারও পেয়েছে।সফল চাষি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের চিংড়ি চাষি তবিবুর রহমান জোয়াদ্দার (৪৬) নিজের ১ একর ২০ শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রচলিত পদ্ধতিতে মিষ্টি পানিতে গলদা চিংড়ি ও রুই-কাতলা জাতীয় মাছের চাষ করতেন। ২০২১ সালে তিনি বাগদা চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লোকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষামূলক ভাবে ওই চিংড়ি ঘেরের মিষ্টি পানিতে বাগদা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে ওই ঘেরের ৮ শতাংশ ক্যানেল (খাল) জীবানু নাশক দিয়ে পরিষ্কার করে বাজার থেকে ৫০ কেজি ওজনের ৫ বস্তা লবন এনে ক্যানেলের পানিতে ঢালেন। এর ৩ দিন পরে উন্নত জাতের ৫০ হাজার বাগদা রেনু ছাড়েন। ওই ক্যানেলে ১৫ দিন ধরে খাবার দিয়ে পরিচর্যার পর বাগদা পোনাগুলো ১ ইঞ্চিথর মত বড় হওয়ার পর বোরিং থেকে মিষ্টি পানি তুলে আস্তে আস্তে ঘেরটি ভরে দেন। এরপর ২টি এরেটরের (অক্সিজেন প্লান্ট) মাধ্যমে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখার পাশাপাশি একটানা ৯০ দিন যাবৎ সিপি খাবারের সঙ্গে সামান্য লবন মিশিয়ে খাওয়ানো-সহ নিয়মিত ওষুধ-পরিচর্যা শেষে মাছ ধরেন। সে বছর তিনি গড়ে ৮থশ ৮০ টাকা কেজি দরে আড়তে ২৮ মন বাগদা (অনুমান ৩৫ হাজার পিস) বিক্রি করে ১২ লাখ টাকা আয় করেন। এরমধ্যে ৮ লাখ টাকা খরচ বাদে ৪ লাখ টাকা লাভ হওয়ায় চাষির সামনে স্বপ্নের নতুন দুয়ার খুলে যায়।
৪ লাখ টাকা লাভের পর ২০২২ সালে তবিবুর বড় আশা নিয়ে অনেক মৎস্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করে ঘেরে পানির গভীরতা বাড়াতে মেশিনের সাহায্যে জমির ওপর থেকে প্রায় ২ ফুঠ মাটি কেঁটে নিয়ে বাধগুলো বড় করেন। এবং এপ্রিল মাসে পূর্বের পদ্ধতি অনুসরণ করে ৬০ হাজার বাগদা রেনু ছেড়ে পরিচর্যা করেন। ১থশ ২০ দিনের মাথায় ঘের থেকে প্রায় ৪০ মন বাগদা আড়তে বিক্রি করে ১৪ লাখ টাকা আয় করেন। ওই বছর তার ১০ লাখ টাকা খরচ হলেও ৪ লাখ টাকা লাভ থাকে। তাছাড়া মাছ তোলার পর শীতের সময় ঘেরের জমিতে উ”চ ফলনশীল ধানের বাম্পার ফলন ও আইলে প্রচুর সবজি উৎপন্ন হয়। আর ওই বছরই ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে মিষ্টি পানির শ্রেষ্ঠ বাগদা চাষির পুরষ্কারও অর্জন করেন।
পূর্ব-অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চলতি বছর আধা-নিবিড় পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য এপ্রিল(বৈশাখ) মাসে ৫ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ঘেরটি পুনঃসংস্কারের পাশাপাশি পানিতে ১০টি এরেটর (অক্সিজেন প্লান্ট) ও চারপাশে ৫ ফুট উচু নেট ¯’াপন করেন। এবং এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে উন্নত জাতের ৮০ হাজার বাগদা রেনু ছাড়েন। ইতোমধ্যে ১০১ দিনের মাথায় সরেজমিনে বাগদার বাম্পার ফলন দেখতে ও চাষি-কে উৎসাহিত করতে গত ৪ আগষ্ট শুক্রবার সকাল ১১টায় তার খামার পরিদর্শন করেন, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও খুলনা- ৫ সাংসদ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। ওই সময় ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিকথর সামনে ছোট খ্যাপলা-জাল দিয়ে ঘেরে খ্যাপন দিলে প্রতিবারে ৫০-৬০ পিস বড়-বড় বাগদা চিংড়ি উঠতে দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলার হাসানপুর গ্রামে মিষ্টি পানিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষির পুরষ্কার পাওয়া তবিবুর রহমান বলেন, এখন আমার স্বপ্ন, মিষ্টি পানিতে বাগদা-চিংড়ি চাষের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবো। পাশাপাশি আমি জাতীয় পুরষ্কারও জিততে চাই। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আশা করছি তবিবুরের ঘের থেকে এ বছর ২৮থশ কেজি বাগদা ধরা যাবে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল
ঢাকা অফিস
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৯৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৯ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪২৬ জন। একইসঙ্গে এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যু ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৯ হাজার ৩৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৪ হাজার ৬৮০ জন। অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪ হাজার ৬৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৯৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৪ হাজার ৫২৩ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৯ হাজার ৪৪৫ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৩৩১ জন। ঢাকায় ২৯ হাজার ৬০২ এবং ঢাকার বাইরে ২৪ হাজার ৭২৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিদেশিরা, শিগগিরই দরপত্র
ঢাকা অফিস
উৎপাদন বন্টন চুক্তি (পিএসসি) সংশোধন করায় গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কোম্পানি মৌখিকভাবে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। আর মার্কিন একটি কোম্পানি লিখিতভাবে জানিয়েছে। শিগগিরই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে সমুদ্র থেকে গ্যাস পাওয়া যাবে।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

‘বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: বঙ্গবন্ধুর দর্শন’ শীর্ষক সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ৩ বছরের শাসনামলে বঙ্গবন্ধু জ্বালানি নিরাপত্তার খুঁটি স্থাপন করে গেছেন। ’৭৫-এ মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কূপগুলো জাতীয়করণ করেন এবং মালিকানা কিনে নেন। সেই সিদ্ধান্তের কারণে অর্থনীতিতে ৩ লাখ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। এমন দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই তিনি বাঙালি জাতির পিতা। তার মৃত্যুর পর সোনার বাংলার স্বপ্ন আর কেউ দেখাতে পারেনি। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণ করে এবং ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এসে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, এখন সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করা। এ জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এখন ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা আছে, এটি বাড়িয়ে ৩ মাস করার জন্য ডিপো স্থাপন করা হয়েছে। নতুন গ্যাস কূপ খননে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে নতুন কূপ খনন করা হবে। এ জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। এলএনজি আমদানিতে কাতার, ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের পরিকল্পিত এলাকা (ইকোনমিক জোন) শিল্প স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে যত্রতত্র শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। আশুলিয়ায় একটা শিল্পের জন্য লাইনে গ্যাস টানা হলো। সেই লাইন ফুটো করে আরও ২০টি শিল্পে সংযোগ দেওয়া হলো। পরে সেই লাইন থেকে একটা গ্রামের ৫ হাজার গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়। তাহলে একটা লাইনে কতটুকু গ্যাস পাওয়া যাবে। পরিকল্পিত এলাকায় শিল্প স্থাপন করলে গ্যাস দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। এই মুহূর্তে ভোলায় বিনিয়োগ করলে ৩০ বছর নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দিতে পারব।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, এক সময় জ্বালানি মূল্য শিল্পের সক্ষমতা ছিল। এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা কমে গেছে। তারপরও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নিজস্ব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে হবে, সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনে মনোযোগ দেওয়া, কয়লাভিত্তিক আরও বেশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা দরকার।

মূল প্রবন্ধে ড. বদরুল ইমাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিল স্বনির্ভর বাংলাদেশ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু বিদেশি কোম্পানির কাছে গ্যাসক্ষেত্র না কিনলে গ্যাসের উৎপাদন থাকতোই না। ’৭৩-৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সমগ্র সমুদ্রকে অনুসন্ধানের আওতায় এনেছিলেন। তাকে হত্যার পর সেই কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। আজ পর্যন্ত এখনো কমপ্রিহেনসিভ অনুসন্ধান করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী ত্রিপুরা রাজ্য ১০০ বর্গকিলোমিটারের। সেখানে ১৬০টি কূপ খনন করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে ১০০টি কূপ খনন করা হয়েছে। বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ অনুসন্ধান করাই হয়নি। বাংলাদেশের যে ভূতাত্ত্বিক রূপ তাতে অনুসন্ধান করা গেলে আরও বড় বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করা যাবে।

মূল প্রবন্ধের ওপর বক্তব্য দেন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল আজিজ পাটোয়ারি, জ্বালানি বিষয়ক ম্যাগাজিন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের সম্পাদক মোল্লা এম আমজাদ, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়ের প্রমুখ।

যেভাবেই হোক রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধান বিচারপতি
যশোর অফিস
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, ত্রিশ লাখ মানুষ রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছেন। তাদের রক্তের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। যেভাবেই হোক রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে। বিচার বিভাগকে গতিশীল করতে হবে। মানুষ যদি বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘোরে, যদি ন্যায়বিচার না পায়, তা হলে ওই ব্যক্তি যদি বলে এ দেশে বিচার-আচার নাই, সেটা অন্যায় হবে।
শনিবার সকালে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মামলার জট প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, যশোর আদালতে ২০ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে এমন মামলা পেন্ডিং আছে। এটার মানে আমরা গত ২০ বছরে ওই লোকগুলোকে বিচার দিতে পারিনি। এর জন্য দায়ী কে। আমি মনে করি বিচারক ও আইনজীবী দুজনই দায়ী। আর কিছুটা দায়ী হতে পারে প্রসেস। যে প্রসেসে বিচার হয়।

তিনি বলেন, সেবাপ্রার্থীরা আমাদের বাবা-চাচা অথবা খালু। তাদের কষ্টের কথা ভেবে শুরু থেকে যেভাবে সহজেই মামলা ডিসপোজাল হয়, সেই চেষ্টা করুন। আমরা আদালতের বারান্দা থেকে যদি একদিন আগেও কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারি, তবে তিনি স্বস্তি পাবেন। এ জন্য আপনাদের অনুরোধ করি, আসুন আমরা চেষ্টা করে দেখি। এটা কারও একার পক্ষে সম্ভব নয়। একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু মর্তুজা ছোটর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম, স্পেশাল জেলা জজ মো. শামসুল হক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক গোলাম কবীর, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদা জাহাঙ্গীর, জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজুমদার, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার।
এর আগে সকালে জেলা জজ আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামের জন্য ন্যায়কুঞ্জ উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এর পর তিনি আদালত চত্বর একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন।

যেভাবে ২ সরকারি দপ্তর থেকে বেতন তোলেন ইউপি মেম্বার
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
কামাল হোসেন ২০১৩ সালে বিশারিঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরী পদে চাকরিতে যোগ দেন। একই সঙ্গে ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন।
নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি লাইলী বেগম নামে এক নারীকে দিয়ে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করিয়ে নেন। কিন্তু তথ্য গোপন করে বেতন নেন দুই প্রতিষ্ঠান থেকে। এ ঘটনা ঘটেছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে।

কামাল মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিশারিঘাটা গ্রামের নূর মোহাম্মদ খানের ছেলে। তিনি নিয়মিত তথ্য গোপন করে ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সম্মানীভাতা তোলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় বিশারিঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
অন্যদিকে সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে একই সঙ্গে ভাতা তোলার নিয়ম না থাকলেও, তথ্য গোপন করে প্রতি মাসে পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারি কোষাগার তিন হাজার ৬০০ টাকা সম্মানী নিচ্ছেন এবং বিশারিঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরী হিসেবে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেই প্রতিমাসে ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা বেতন নিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, মো. কামাল হোসেনের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তিনি প্রথম আইডি কার্ডটি করেন ২০০৮ সালে। সেখানে তার নাম লেখা রয়েছে মো. কামাল হোসেন। পিতা-নূর মোহাম্মাদ। জন্ম তারিখ-০১.০১.১৯৮৩। এর পর বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরি নিতে প্রায় ১০ বছর বয়স কমিয়ে ২০১৩ সালে নিজের নাম ও পিতার নামে কিছুটা পরিবর্তন দেখিয়ে আরও একটি ভোটার আইডি করেন। সেখানে জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ১৫.৭.১৯৯৪। নাম মো. কামাল হোসেন খান।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন আরও জানান, কামাল হোসেনের দুটি ভোটার আইডি সচল আছে। যার প্রথমটির নম্বর ০১১০৫২৮৩৮১০৫। দ্বিতীয়টির নম্বর ০১১০৫২০০০১৭৪। দুটি কার্ডে জন্ম তারিখ, নিজের নাম ও পিতার নামে কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন ও সম্মানী গ্রহণের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, আমি নিয়মিত স্কুলে চাকরি করি। পরিষদেও যাই। আমার অনুপস্থিতিতে অন্য একজন দায়িত্ব পালন করে। এতে কোনো সমস্যা তো আমি দেখি না। তা ছাড়া নির্বাচনের সময় সব তথ্য দিয়েছি। তখন তো আমার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন আক্তার বলেন, কামাল মাঝে মধ্যে থাকে না। তখন তার পরিবর্তে লাইলী নামে এক মহিলা দায়িত্ব পালন করে। প্রক্সির বিষয়ে লাইলী বেগমের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, কামাল হোসেন একটি বিদ্যালয়ে চাকরি করে তা জানি। এটায় আইনগত কোনো বাধা আছে কিনা আমার জানা নেই।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কামাল হোসেনের বিষয়টি জানা ছিল না। মূলত দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরীদের নিয়ন্ত্রণ করেন প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নেই তাদের বেতন হয়। প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের পক্ষে প্রতিমাসে প্রত্যয়ন দিয়েছে। কেন এই অনিয়মের বিষয় জানায়নি এবং অসত্য প্রত্যয়ন দিয়েছে। এ জন্য প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম তারেক সুলতান বলেন, বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হিসেবে দুটি পদে একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার ভারত সফরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল
ঢাকা অফিস
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে রোববার তিন দিনের সফরে ভারতের নয়াদিল্লি সফরে যাবে প্রতিনিধি দলটি।

শনিবার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, নির্বাহী কমিটির সদস্য মেরিনা জাহান ও সংসদ সদস্য আরমা দত্ত।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সফরে প্রতিনিধি দলটি ভারতের সরকার ও বিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের অন্যদের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাসহ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক হবে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলটির।

জোরপূর্বক নির্বাচন করতেই ডিসি-এসপিদের রদবদল ও পদোন্নতি: মির্জা ফখরুল
ঢাকা অফিস
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল
আওয়ামী লীগ আবার পাঁয়তারা করে যাচ্ছে, আগের মতো নির্বাচন করে তারা ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে— এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, তারা ডিসি-এসপি রদবদল, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি— এগুলো দিয়ে যাচ্ছে আবার জোর করে নির্বাচন করার জন্য।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করুন। দেশ ও জনগণের পক্ষে থাকুন। অন্যায় আদেশ মানবেন না। নিপীড়িত জনগণের পাশে থাকুন।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি রায়ের প্রতিবাদ এ সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ।

গুম করে খুন করে হয়রানি করে বাংলাদেশের মানুষের যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা স্তব্ধ করা যাবে না— এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আমাদের অন্তর্গত শক্তি। একসময় মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এখন গণতন্ত্রের জন্য, বাকস্বাধীনতা জন্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না, বাকস্বাধীনতা বিশ্বাস করে না। যদি বিশ্বাসই করত তা হলে তারা এ দেশকে গণতন্ত্রকামী রাষ্ট্র পরিণত করার জন্য চেষ্টা করত। এরা দুবার জোর করে ভোট করে দেশে নির্বাচনিব্যবস্থাকে ধ্বংস করে হাস্যকর অবস্থায় ক্ষমতা দখল করে আছে।

আওয়ামী লীগ আবার পাঁয়তারা করে যাচ্ছে আগের মত নির্বাচন করে তারা ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা ডিসি-এসপি রদবদল, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি— এগুলো দিয়ে যাচ্ছে আবার জোর করে নির্বাচন করার জন্য। এবার আর সেটা হবে না বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে।

বাংলাদেশের মানুষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এ দেশের গণতন্ত্র নেই। গত দুটি নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে চুরি-ডাকাতি হয়েছে। এবারের ভোটে অবশ্যই জনগণের মাধ্যমে ভোট দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবেভ কারণ এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ এখনই এরা ঘরে থাকতে দেয় না রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি ও গ্রেফতার করা শুরু হয়েছে। গায়েবি মামলা দিয়ে যাচ্ছে। জামিন পাওয়ার পরও গ্রেফতার করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্রোতের মতো বন্যার পানির মতো মানুষ আসছে, মানুষের এই দুর্বার আন্দোলন তরঙ্গের পর তরঙ্গ সৃষ্টি করে একদলীয় শাসককে পরাজিত করতে হবে। আজ শুধু আমরা একাই নই, সব রাজনৈতিক দল বলছে— এই সরকার থাকতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

আজকে বিচার বিভাগের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন করা হচ্ছে।, জামিন দিচ্ছে না এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, গায়েবি মামলায় কারাগারে আটক রাখা হচ্ছে। কারাগারে আরেক নির্যাতন। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ২৪ ঘণ্টা লকআপে রাখা হচ্ছে।

পরিষদের আহ্বায়ক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সাংবাদিক কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের শহীদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-অ্যাবের প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, আলমগীর হাসিন আহমেদ, প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, আসাদুজ্জামান চুন্নু, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, উমাশা উমায়ন মনি চৌধুরী, মেহেদী হাসান সোহেল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. শামসুল আলম, অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী প্রমুখ।

মানবাধিকার সংস্থার উদ্দেশে হানিফ
কী চান আপনারা? কার পক্ষে, কোন খেলায় নেমেছেন?
ঢাকা অফিস
শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনাসভায় মাহবুবউল আলম হানিফ এসব কথা বলেন
বিরোধী দলের মতপ্রকাশে আওয়ামী লীগ সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে—মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, কী চান আপনারা? কার পক্ষে, কোন খেলায় নেমেছেন? আপনাদের এই বক্তব্যগুলো মনে হয় সন্ত্রাসী, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পক্ষে নির্লজ্জ দালালি ছাড়া আর কিছু নয়। জাতি আপনাদের এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে।

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি কয়েক দিন আগে সমাবেশ করার পর ঢাকার প্রবেশমুখ অবরোধ ঘোষণা দিল। তারা অবস্থান নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করলেন।

এ রকম কর্মসূচি কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আছে। আপনি রাস্তা বন্ধ করে দিলেন এটা তো কোনো কর্মসূচি হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে, তখন পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা করে আহত করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। আর সেটির জন্য আজকে মানবাধিকার সংস্থা থেকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তারা বলছে— সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে।

কী চান আপনারা? কার পক্ষে, কোন খেলায় নেমেছেন? আপনাদের এই বক্তব্যগুলো মনে হয় সন্ত্রাসী, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পক্ষে নির্লজ্জ দালালি ছাড়া আর কিছু নয়। জাতি আপনাদের এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা আজকে আহ্বান জানাব, সেই সব বিদেশি সংগঠন, বিদেশি দূত বা যারা আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন, অনুরোধ করব উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে অনেক বিষয়ে আপনাদের কথা বলার সুযোগ আছে।

দয়া করে এ ধরনের একজন প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসী আপনাদের অভিযোগে অভিযুক্ত, কয়দিন আগেও কানাডার ফেডারেল আদালত পঞ্চমবারের মতো সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এ রকম একটি দল নিয়ে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবেন না। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে মদত দেবেন না, এই অনুরোধ থাকবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল সম্পর্কে হানিফ বলেন, শেখ কামাল ছিলেন তারুণ্যের অহংকার, আমাদের যুবসমাজের অহংকার।

তিনি শুধু একজন ছাত্রনেতা নয়; লেখাপড়ার পাশাপাশি একজন দক্ষ ক্রীড়াবিদও ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তার ছিল বহুমাত্রিক প্রতিভা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র, ভদ্র ও সদালাপী। আমাদের দুর্ভাগ্য শেখ কামাল ২৬ বছর বয়সে ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পুত্র হয়েও শেখ কামাল অর্থবিত্তের পেছনে কখনো ছুটেননি। তিনি নিরহংকারী ও নির্লোভ মানুষ ছিলেন। অথচ আজকে আমাদের দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান; তাকে যদি দেখি— এই দুটা মানুষের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। ২০০১ থেকে ২০০৬ যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন সরকারের মধ্যে সরকার গঠন হয়েছিল।

একদিকে তারেক রহমানের মায়ের সরকার, আরেক দিকে হাওয়া ভবন বানিয়ে তারেক রহমানের সরকার। এবং হাওয়া ভবনের সরকারই ছিল সবচেয়ে ক্ষমতাধর।

কাল তৃণমূল নেতাদের যে বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা অফিস
গণভবনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিতসভা রোববার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলের নেতাদের নির্দেশনা দেবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।
দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলের নেতাদের নির্দেশনা দেবেন সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণ যাতে ভোটকেন্দ্রে স্বস্তিতে এসে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও দায়িত্ব আছে। সে কাজগুলো কীভাবে করা হবে, সে বিষয়টিও কিন্তু আমাদের নেত্রী এ বর্ধিতসভায় পরামর্শমূলক, দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।

এদিকে গণভবনে ৬ আগস্ট অনুষ্ঠেয় বর্ধিতসভা কেন্দ্র করে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক জমায়েতের প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ সভায় নির্বাচন ও বিএনপির একদফার আন্দোলনকে সামনে রেখে দলীয় নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণভবনের এ সভায় আওয়ামী লীগের সব সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার মেয়ররাও বর্ধিতসভায় উপস্থিত থাকবেন। সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের এ সভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বর্ধিতসভায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, ৬ আগস্ট অনুষ্ঠেয় গণভবনের সভায় ঢাকাসহ জেলায় জেলায় সরকার পতনে বিএনপি যে একদফা আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করছে, তা রুখে দিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজনীতিতে ৫ বছর নিষিদ্ধ ইমরান খান
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সক্রিয় রাজনীতিতে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তোশাখানা মামলায় ৩ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের সঙ্গেই তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামাবাদের একটি আদালত। খবর দ্য গার্ডিয়ানের

শনিবার তোশাখানা মামলায় ইমরান খানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (এডিএসজে) হুমায়ুন দিলাওয়ার এ রায় দেন। কারাদণ্ডের রায়ের পরপরই গ্রেপ্তার হয়েছেন ইমরান খান।

রাষ্ট্রীয় কোষাগার তোশাখানার মালামাল অবৈধভাবে আত্মসাৎ ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। গত ১০ মে এ মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার রায় দেওয়ার সময় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (এডিএসআই) হুমায়ুন দিলাওয়ার বলেন, ইমরান খান ইচ্ছাকৃতভাবে তোশাখানার উপহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। দুর্নীতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে নির্বাচনী আইনের ১৭৪ ধারার অধীনে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিচারক দিলাওয়ার নির্দেশনা দেন, রায়টি কার্যকরে একটি কপি যেন ইসলামাবাদ পুলিশ প্রধানের কাছে পাঠানো হয়। যেন তারা রায় কার্যকর করতে পারেন।

এদিন দুপুরে আদালতের রায় ঘোষণার পরপরই লাহোরের জামান পার্কের বাসভবন থেকে তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে পাঞ্জাব পুলিশ। শনিবার টুইটবার্তায় পিটিআই জানায়, ‘ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করে কোট লাখপত জেলে নেওয়া করা হচ্ছে।’

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে ইমরান খানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যেতে পারে।

ডিমের কুসুম কি সত্যিই ক্ষতিকর?
মিলি রহমান
উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে অনেকেই ডিমের কুসুম বা হলুদ অংশটি বাদ দিয়ে খান। তবে খাবারের তালিকায় ‘আনসাং হিরো-’র দলে থাকা এই ডিমের কুসুমের পুষ্টিগুণ অনেক। তেমনটাই মত পুষ্টিবিদদের। ডিমের কুসুম খাওয়া খারাপ, এমন ধারণার কোনো যুক্তিই নেই। কবে থেকে এমন ধারণা শুরু হলো, সে দিকে একটু নজর রাখা যাক।

 

১৯৬৮ সালে ‘আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফে বলা হয়েছিল, হার্টের সমস্যা থাকলেও সপ্তাহে সর্বাধিক তিনটি কুসুমসহ ডিম খাওয়া যেতে পারে। কারণ তারা মনে করতেন, ডিমের কুসুম সরাসরি রক্তে কোলেস্টেরলের উপর প্রভাব ফেলে। পরবর্তীকালে চিকিৎসা-সংক্রান্ত যত প্রকার গবেষণা সম্ভব, তার প্রায় সব ক’টিতেই দেখা গিয়েছে, খাবারের মধ্যে থাকা কোলেস্টেরল, কোনোভাবেই রক্ত বা প্লাজমার কোলেস্টেরলের উপর প্রভাব ফেলে না। তাই ডিমের কুসুমে থাকা অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিয়ে অযথা মাথা ব্যথা হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তা না করে বরং পুষ্টিগুণের দিকে নজর রাখা যেতেই পারে। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, মাছ কিংবা গোশতের চেয়েও সামগ্রিকভাবে পুষ্টিগুণ বেশি কিন্তু ডিমে। প্রোটিন, ভিটামিন এবং বিভিন্ন খনিজের উৎস হলো এই কুসুম। কুসুমে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১, বি২, বি৫, বি৬, বি৯ এবং বি১২।

পুষ্টিবিদেরা বলছেন, খুঁজলেও একসাথে এত ভিটামিন অন্য কোনো খাবারে পাওয়া যাবে না। এছাড়াও ডিমে রয়েছে জিঙ্ক এবং আয়রনের মতো খনিজ, যা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই পূর্ণবয়স্ক, সুস্থ যেকোনো মানুষই প্রতি দিন একটি করে ডিম খেতে পারেন। কিন্তু হার্ট, কিডনি বা ডায়াবিটিসের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেয়াই ভালো।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

নোরার মানহানি মামলা, জবাব দিলেন জ্যাকলিনের আইনজীবী
বিনোদন ডেস্ক
২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখর ছাড়াও বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ এবং নোরা ফাতেহির নাম জড়ায়। সেই মামলায় নোরা রেহাই পেলেও আটকে আছেন জ্যাকলিন। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন নোরা ফাতেহি। গত সপ্তাহে জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের নামে করা মানহানির মামলায় নিজের বয়ান রেকর্ড করেন নোরা ফাতেহি।

যেখানে তিনি দাবি করেছেন, জ্যাকলিন তার নামে মিথ্যা কথা ছড়িয়ে জনসাধারণের চোখে তার খ্যাতি কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। তবে এবার নোরার অভিযোগের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল জ্যাকলিনের আইনজীবীরা। এবার নোরার এই বক্তব্যের ভিত্তিতে সরব হলেন জ্যাকলিনের আইনজীবীরা।

 

আইনজীবী প্রশান্ত পাটিল তার ক্লায়েন্টকে আইনি ঝামেলায় টেনে আনার জন্য নোরার বিরুদ্ধে মুখ খুলে বলেন, ‘আমার ক্লায়েন্ট নোরার বিরুদ্ধে জনসমক্ষে কোনও বিবৃতি দেননি। তাই আমরা এই ধরনের কোনো খবর নিশ্চিত করতে পারছি না। শুধু এটা বলতে পারি যে জ্যাকলিন কখনও ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়ার কারো বিরুদ্ধে কোনো বিবৃতি দেননি। তিনি মামলার বিষয়ে সর্বদা একটি মর্যাদাপূর্ণ নীরবতা বজায় রেখে চলেছেন। কারণ বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তবে তার মানে এই নয় যে কেউ চাইলেই তাকে যে কোনো অযৌক্তিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে টেনে নিয়ে যেতে পারে। যেখানে তিনি নির্দোষ।’

এর আগে জ্যাকলিনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সুকেশের চর্চিত বান্ধবী জ্যাকলিনের পক্ষ থেকে নাকি নোরার কাছে অনুরোধ গিয়েছিল মানহানির মামলা বা আদালতে না গিয়ে মুখোমুখি বসে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার। তবে তাতে সাড়া দেননি নোরা। তিনি বারবার দাবি করে আসছেন, সুকেশ তাকে প্রেমিক হওয়ার বদলে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি।

স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় স্বামীর জিডি, আটক ১
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে নিখোঁজের ৭ দিন পর টয়লেট থেকে ফিরোজা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার দেওয়ানবাটি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে, গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী নিখোঁজ দাবি করে বাগেরহাট মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নিহতের স্বামী মোহাম্মদ আলী হোসেন।

এদিকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আলী হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

নিহত ফিরোজা বেগম দেওয়ানবাটি গ্রামের গফুর মোল্লার মেয়ে। বছর দেড়েক আগে আলী হোসেনের বিয়ে হয় ফিরোজা বেগমের। ফিরোজা বেগম তার তৃতীয় স্ত্রী।

নিহতের চাচা বারিক মোল্লা বলেন, ‘রোববার রাত সাড়ে দশটার দিকে মোহাম্মাদ আলী হোসেন বলে, আপনাদের মেয়ে চলে গেছে। আমি রাস্তায় এসে দেখি কেউ নেই। তখন আলীর কাছে জানতে চাইলে বলে, অনেক দূর চলে গেছে, এখন পাবেন না। পরে আসবে হয়তো। এরপর থেকে আর ফিরোজার খোঁজ পাইনি। হয়ত ওইদিনই তাকে মেরে টয়েলেটের মধ্যে রেখে দিয়েছে।’

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলী হোসেনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যার মূল কারণ ও এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ‘

জুলাইয়ে সড়ক-রেল-নৌ পথে দুর্ঘটনায় নিহত ৬৪৪
ঢাকা অফিস
গত জুলাই মাসে ৫০৫ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭৬ জন নিহত ও এক হাজার ৫৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, একই সময় রেলপথে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ১৬টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও আহত ১৫ এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৫৬৮ দুর্ঘটনায় ৬৪৪ জন নিহত এবং ১০৭৫ জন আহত হয়েছেন।

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ পথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর পাঠানো দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে ১৮০ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৫ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ, নিহতদের মধ্যে ৩৮.৬১ শতাংশ ও আহতের ২৪.১৫ শতাংশ। এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৫৭ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত ও ২৭১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ২৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ১৩৮ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো- দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের অবাধ চলাচল; মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও তিন চাকার যানের ব্যাপক বৃদ্ধি; সড়ক-মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কে বাতি না থাকা; মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা; উল্টোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালানো; রেলক্রসিং-এ দায়িত্বরত ব্যাক্তির গাফিলতি। ফিডার রোড এবং আঞ্চলিক রোড থেকে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশগুলো হলো— মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মতো ছোট ছোট যানবাহন আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস প্রদান; ধীরগতির যান ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা; সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা; সড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং অঙ্কন ও স্থাপন করা; সড়ক পরিবহন আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা এবং গণপরিবহন বিকশিত করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

সম্পাদকীয়=========
বেড়াতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার: নিরপরাধের হয়রানি বন্ধ হোক
দেশে ২০১৮ সালে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ‘গায়েবি মামলা’ দেয়ার হিড়িক পড়ে। বিগত ১৫ বছর ধরে ভিন্নমত দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; বিশেষ করে পুলিশকে যথেচ্ছ ব্যবহার করছে সরকার। বিগত দেড় দশকে যখন তখন যে কাউকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রদ্রোহী ও সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গণহারে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কোনো জবাবদিহি করতে হয়নি। এখনো যে খুব একটা করতে হয় তা-ও নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ফের গায়েবি মামলা ও জবাবদিহিহীন গ্রেফতারের প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। এর সর্বশেষ নজির টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে যাওয়া একদল শিক্ষার্থীকে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের তকমা দিয়ে গ্রেফতারের ঘটনা। পরে হেফাজতে নিতে চাইলে আদালত পুলিশের আবেদন নাকচ করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে যাওয়া বুয়েটেরসহ ৩৪ শিক্ষার্থীকে গত রোববার সরকারের বিরুদ্ধে ‘গোপন ষড়যন্ত্র ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত’ করার অভিযোগে আটক করা হয়। সোমবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ বাদি হয়ে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা করে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে একই দিন বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক ৩২ জনকে কারাগারে ও দু’জন কিশোর হওয়ায় তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এক দিন পর ৩২ জনকে এবং গতকাল বাকি দুই কিশোরকে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, তাহিরপুর উপজেলা বাজারের নৌকাঘাট থেকে রোববার সকাল ৭টায় একটি নৌকায় বুয়েটসহ ৩৪ শিক্ষার্থী টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যান। হাওরে ঘোরাঘুরির পর দুপুরে পাটলাই নদী দিয়ে টেকেরঘাট পর্যটন এলাকায় যাওয়ার পথে তাহিরপুরের নতুন বাজারের সামনে নৌকাটি পৌঁছায়। এ সময় পুলিশের দু’টি স্পিডবোট পর্যটকবাহী নৌকাটি থামিয়ে ৩৪ শিক্ষার্থীকে আটক করে।
প্রশ্ন হলো- দেশের কোনো জায়গায় বেড়াতে যাওয়া কি অপরাধ? আমাদের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা আছে, আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ যেকোনো স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষত : আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।

 

একটি গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনো শিক্ষার্থী দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক হতে পারেন। আইন ভঙ্গ না করলে নিশ্চিত না হয়ে শুধু সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ভ্রমণরত অবস্থায় কাউকে গ্রেফতার করা কি সঙ্গত হয়েছে? কারণ হিসেবে পুলিশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছে বটে। যেমন- তারা গোপন বৈঠক ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করতে এসেছিলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ও মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্য ছিল।
সন্দেহবশত কাউকে আটকের আইনগত ক্ষমতা পুলিশের রয়েছে। কিন্তু এর আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কারো বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। শুধু ভিন্নমত দমনে সরকারের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিসেবে পুলিশের কাজ নয়। এখানে মনে রাখা আবশ্যক, সরকারের যৌক্তিক বিরোধিতা করা ও রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা এক নয়।

সঙ্গত কারণে বলা যায়, পুলিশের এই গ্রেফতার সংবিধান ও দেশের আইন অনুসারে কতটুকু হয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশে আইনের শাসন থাকলে এ ঘটনায় এসব পুলিশ সদস্যকে জবাবদিহি করতে হতো। এমনিতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি জাতিসঙ্ঘ, মার্কিন প্রশাসন ও পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরদারিতে রেখেছে। শুধু একশ্রেণীর অতি উৎসাহী পুলিশের কারণে বিশে^ আমাদের পুরো পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সুনাগরিক হিসেবে আমরা সবাই যেকোনো অপরাধীর শাস্তি চাই। কিন্তু নিরপরাধ ব্যক্তির এক দিনের জেলবাসও কাম্য নয়। তাই বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে অপরাধী হিসেবে ট্যাগ দেয়া দুঃখজনক।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতো আমরাও মনে করি, জামিন মঞ্জুর করে আদালত তার দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, নাকি ছাত্রদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো বাস্তবতা রয়েছে?

খুলনায় নগর পরিবহন এখন শুধুই স্মৃতি
স্টাফ রিপোর্টার
ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দাপটে হারিয়ে গেছে খুলনার নগর পরিবহন। স্বল্প ভাড়ার কারণে এক সময় নগরীর রূপসা ফেরিঘাট থেকে ফুলতলার ২০ কিলোমিটার পথ দাপিয়ে বেড়ানো নগর পরিবহন এখন খুলনাবাসীর কাছে শুধুই স্মৃতি। যাত্রী না থাকা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দিতে না পারার কারণে এই সার্ভিসটি বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা।

খুলনা মোটরবাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ৬০টি বাস দিয়ে নগরীর রূপসা ফেরিঘাট থেকে ফুলতলা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে চালু হয় নগর পরিবহন সার্ভিস। এ বাস চালুর পর থেকেই তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ করে ফুলবাড়ি গেট এলাকায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), দৌলতপুরের বি এল কলেজ, দিবানৈশ কলেজ, বয়রা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রছাত্রীদের আনা-নেওয়ার মাধ্যমে অর্ধবেলা পার করতেন নগর পরিবহনের চালকরা।
সেই সময়ে নগর পরিবহনের সঙ্গে সমানতালে চলেছে বেবিট্যাক্সি। পরিবেশ ধ্বংসকারী এই ছোট বাহনটি পরিবেশবাদীদের দাবির মুখে বন্ধ হয়ে যায় আরও প্রায় এক যুগ আগে। সেই জায়গা দখল করে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ইজিবাইকের সংখ্যা। ভাড়া কম থাকায় স্বল্প দূরত্বের পথ অতিক্রম করতে ইজিবাইককেই বেছে নিতে শুরু করে নগরবাসী। ক্রমাগত কমতে থাকে নগর পরিবহনের যাত্রী। এরইমধ্যে কুয়েটসহ নগরীর কলেজগুলোতে সরকারিভাবে দেওয়া হয় বাস। এতে করে আরও যাত্রী সংকটে পড়ে নগর পরিবহনের বাসগুলো।

নগর পরিবহন বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুজিবুর রহমান বলেন, যাত্রী সংকটে ভুগতে থাকা অবস্থায় আঘাত হানে বৈশ্বিক মহামারি করোনা। এ কারণে যাত্রী সংখ্যা একেবারে কমে যায়। ফলে ২০১৯ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় নগর পরিবহন। করোনা সংকট কেটে যাওয়ার পর ২০২২ ১ আগস্ট আবারও চারটি বাস দিয়ে চালু করা হয় নগর পরিবহন। এতে ১০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রমকারী যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এলেও স্বল্প দূরত্বের যাত্রী সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। অবস্থা এমন হয়ে যায় যে বাসের জ্বালানি কেনার জন্য বাড়ি থেকে টাকা সংগ্রহ করে দিতে হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে নগর পরিবহন সার্ভিসটি আবার বন্ধ করে দিতে হয়।
তিনি বলেন, রূপসা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এই রুটে নগর পরিবহন চলাচলের জন্য ফুলতলা থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ টাকা এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। নগর পরিবহন বন্ধ করে দিয়ে বাসগুলো আবারও বিভিন্ন রুটে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মরিচে স্বপ্ন বুনছেন মাগুরার কৃষকরা
মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে প্রশান্তির হাসি। এ জেলার কৃষকরা মরিচ চাষে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন। বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকদের পাশাপাশি লাভবান হচ্ছেন কৃষক-দিনমজুর-ব্যবসায়ীরা।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, জেলার রামনগর, দূর্গাপুর, লক্ষ্মীকান্তর, আঠারোখাদা, টেঙাখালি, বাঁশকুঠা, মৃগিডাঙা, বাঁকডাঙা এবং গাংনালিয়া গ্রামে সবচেয়ে বেশি মরিচের আবাদ করা হয়। এ বছর বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় মরিচ চাষ করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন এ এলাকার অনেক চাষিরা।

সরজমিনে সদরের রামনগর মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, কেউ মরিচক্ষেত পরিচর্যা করছেন, কেউ মরিচ তুলছেন আবার কেউ বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের মরিচ।

মরিচ চাষি নকুল বিশ্বাস বলেন, এ বছর ২ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১৫-২০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা মরিচক্ষেত ৮০-৯০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবো।

শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের বৈখালি গ্রামের কৃষাণী দিপিকা রানী বিশ্বাস জানান, তিনি ২৫ শতাংশ জমিতে এবার মরিচের আবাদ করেছেন। সেচ, সার ও অন্যান্য খরচসহ ১৫ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। আশা করছেন বেশ লাভবান হবেন।

কাঁচা মরিচ ব্যবসায়ী স্বপন পাল বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত মরিচ কিনেছি। এখন মরিচের দাম প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা বিক্রি করছি। যা খুচরা বাজারে ১২০-১৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪৯৫ হেক্টর (চলমান) জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। গতবছরের চেয়ে এবার মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে উচ্চমূল্য থাকায় কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিটি কৃষককে সার-বীজসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করেছি। বেশি করে মরিচ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় ব্যাপক সফলতা এসেছে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা।

গবেষণা করে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন তৈরির উদ্যোগ নেব: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
ঢাকা অফিস
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমরা গবেষণা করে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন তৈরির উদ্যোগ নেব। এ ব্যাপারে বিএসএমএমইউ’র ভাইরোলজি বিভাগকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য বলা হয়েছে।

শনিবার বিএসএমএমইউ মিলনায়তনে গণমাধ্যমের সঙ্গে ‘ডেঙ্গু বিরোধী সামাজিক আন্দোলন চাই’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, আমাদের দেশে সারা বছর ডেঙ্গু নিয়ে কাজ হয় না বলেই আজ এ অবস্থা। স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে যেকোনো কাজ, গবেষণা করার জন্য উৎকৃষ্ট স্থান হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে আমরা ডেঙ্গু রিসার্চ করব। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকরাও কাজ করবেন।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠার উদ্যোগটি ভালো। এজন্য মানুষকে সচেতন করতে আমাদের মাঠে নামতে হবে। সবাইকে জানাতে হবে, এখন ডেঙ্গুর ধরন পাল্টেছে। আগে দিনে মশা কামড়াতো, এখন ২৪ ঘণ্টা কামড়ায়। আগে ময়লা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া যেত, এখন পরিষ্কার পানিতেও পাওয়া যায়।

সবাইকে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাসায়, ছাদে, ফুলের টবে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। কমোড ব্যবহারের পর ঢেকে রাখতে হবে। রোববার থেকে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিটিআই প্রয়োগ করবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। এটি সিঙ্গাপুরে খুব ভালো কাজ করছে। আশা করছি, আমাদের এখানেও কাজ করবে।

জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত এনএসওয়ান (ঘঝ১) টেস্ট করার পরামর্শ দেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে। শিক্ষার্থীদের ফুল প্যান্ট, ফুল হাতা শার্ট ও জুতা-মোজা পরে বিদ্যালয়ে যেতে হবে।

সভায় বিএসএমএমইউ উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদকে চেয়ারম্যান ও আবাসিক চিকিৎসক (আরপি) সহকারী অধ্যাপক ডা. তৌফিক আহমেদকে সদস্য সচিব করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি-২০২৩ গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকে প্রধান উপদেষ্টা, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে বিশেষ উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলমকে উপদেষ্টা করা হয়েছে।

উপ-সম্পাদকীয়=========
তারুণ্যকেই জাগতে হবে
জাকির আবু জাফর
একটি জাতির নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে কারা? এর জবাবে বোধ করি সবাই এক সুরেই বলবেন, তারুণ্যই জাতির সম্ভাবনার নতুন সূর্য! হ্যাঁ, জবাবটি যথার্থ। কেননা, সব বাধা ভেঙেচুরে পথ চলার হিম্মত কেবল তারুণ্যই রাখে। তারুণ্যের বুকেই থাকে নতুন দিনের প্রবল জোয়ার। থাকে বাঁধভাঙা বানের জলের মতো আবেগ।

 

একটি সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হাত তারুণ্যই উঁচু করে। এমনকি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বা শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনেও থাকে তারুণ্যের হাত। যেকোনো লড়াই সংগ্রাম প্রতিরোধে তারুণ্যের পা থাকে অগ্রবর্তী। আমাদের সংগ্রামের ইতিহাসও এই সাক্ষ্য হাজির করে। স্বাধীনতা সংগ্রামের আগুনঝরা দিনগুলোর দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

একটি সমাজকে এগিয়ে নেয়ার কাজটি তারুণ্যই করে থাকে। না, শুধু তারুণ্যের কথা বলছি না। এগিয়ে যাওয়ার পথে আরো আরো শক্তি কাজ করে। যারা বয়সী, যারা শিক্ষিত, একদিন তারাও তরুণ ছিলেন। তাদেরও ছিল তারুণ্যভরা প্রাণ। তারাও নতুন কিছু করার সাধনা করেছেন। সেই সাধনার পথ থেকে তারা সঞ্চয় করেছেন বিপুল অভিজ্ঞতা। এখন যারা তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উচ্ছ্বসিত, তাদের জন্য প্রবীণদের অভিজ্ঞতা খুব প্রয়োজন। তারুণ্যের সাহস আর প্রবীণের অভিজ্ঞতা যোগ হলে সমাজকে এগিয়ে নেয়া সহজ হয়।

কিন্তু এগিয়ে নেয়ার কাজটি তারুণ্যকেই করতে হয়। কোনো জবরদখলের কবল থেকে মুক্তি পেতেও তারুণ্যের উপস্থিতি জরুরি। তাই বলতেই হয়, সমাজ বা রাষ্ট্রের যেকোনো পরিবর্তন তারুণ্যের মুখাপেক্ষী।

‘নতুন কিছু করাই তারুণ্যের ধর্ম’- কথাটি জর্জ বার্নার্ড শ’র। বচনটি একদম খাঁটি! তারুণ্যের রক্তের ফোঁটা থেকে জন্মায় নতুন বিপ্লব। তারুণ্যের দৃপ্ত পদভারে জাগ্রত হয় জীবনের নতুন ধ্বনি। তারুণ্যই নতুন স্বপ্ন গড়ে। পুরনো স্বপ্নকে নতুন করে তোলে। নতুন স্বপ্নকে করে বৃহৎ। এসব স্বপ্ন ছড়িয়ে দেয় জাতীয় জীবনে। পুরনো জীর্ণতার খোলস ছাড়িয়ে নতুন আনন্দের উত্তাপ আনে তারুণ্য।

তারুণ্য মানেই নতুন রক্ত। নতুন উদ্যম। নতুন স্বপ্ন। নতুন পথের যাত্রী। তরুণরাই একটি জাতির শক্তি। তরুণরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তরুণরাই সমাজের প্রতিবাদ। তরুণরাই সত্য ও সুন্দরের পতাকাবাহী।

কিন্তু আমাদের সমাজে তারুণ্যের অবস্থান কী! কোথায় আমাদের তারুণ্যের ঠিকানা। আমাদের তরুণরা কেমন করে আছে। কী অবস্থান তাদের। আমরা কি আমাদের তারুণ্যকে কখনো নতুন সম্ভাবনার জায়গায় ভেবেছি! নাকি ভাবছি! অথবা ভাবব বলে ইচ্ছে রাখছি!

এসব জিজ্ঞাসার একটিই জবাব, না। অবস্থাটি কি তবে! আমাদের তারুণ্যের দিকে আমাদের সমাজপতিদের এতটুকু নজরও কি আছে! নাকি ছিল! আছে কি কোনো পরিকল্পনা! এর জবাবও সেই ‘না’।

তারুণ্যকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার দায়িত্বটি কার? যারা সমাজকে রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেন তাদের নয় কি! কিন্তু তারা কতটা পালন করেছেন তাদের দায়িত্ব! পালনে কতটা সচেতন ছিলেন! নাকি আছেন!

ভবিষ্যতে কেউ থাকবেন কি না আগাম বলার অবকাশ নেই। তবে আশা রাখতে তো দোষ কি। আমরা আশা রাখি হয়তো ভবিষ্যতে কেউ না কেউ একদিন তারুণ্যের মনকে শাণিত করবেন। স্বপ্নকে দীর্ঘ করে তুলবেন। সে কথা ভবিষ্যতের!

বর্তমানের কথায় আসি। জাতির ভবিষ্যৎ এই কাণ্ডারীদের সামনে অন্তত একটি আইকন থাকতে হয়। থাকাটা অপরিহার্য। যাকে সামনে রেখে তুমুল বেগে এগিয়ে যাবে তারুণ্য। যাকে আদর্শ জ্ঞান করে তারা গড়ে নেবে নিজেদের। যাকে দেখে তারা বলবে, আমাকেও হতে হবে এমনই উঁচু মাপের মানুষ।

কিন্তু কই আমাদের আছে কি তেমন কোনো মুখ! আছে কি তেমন কোনো আইকন! যাকে অনুকরণ করা যায়! যাকে অনুসরণ করে হওয়া যায় বড়! যাকে সামনে রেখে চলা যায় পথ! তেমন একটি মুখও কি আছে যাকে আমরা বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে পেরেছি! যার শরীরের পোশাক-পরিচ্ছদ ঠিকঠাক রেখেছি। যাকে নিয়ে আমরা অশোভন ঘাঁটাঘাঁটি করিনি! কিংবা যে বিতর্কের জাঁতাকলে পিষ্ট নয়! আমাদের জাতীয় জীবনে একজনও কি নেই তেমন মানুষ! কিন্তু আমরা কি পেরেছি সেই সে মানুষের ইজ্জত রক্ষা করতে! পারিনি! পারিনি কারণ আমরা মন-মানসিকতায় ভীষণ নিচুস্তরের মালমসলায় গড়া। রুচির দিক থেকে ভীষণ নিম্ন। ফলে আমরা কারো মর্যাদা রক্ষা করার সৌজন্যটুকুও দেখাতে ব্যর্থ। কী করে আমাদের তারুণ্য উচ্চ মানসতায় বেড়ে উঠবে!

আমাদের সমাজ এবং সমাজের নিয়ম পদ্ধতির ভেতর কি আছে এখন? আছে কি তারুণ্যের শেখার মতো কোনো নীতি নৈতিকতা! আছে কি নিজেদের পরিশুদ্ধ করার কোনো আদর্শ! এর জবাবও হ্যাঁ হওয়ার কোনো জো নেই।

তাহলে আমাদের তারুণ্য বিভ্রান্ত হবে এতে আর অবাক হওয়ার কি আছে! আমাদের গোটা তরুণ সমাজ ডুবে আছে সামাজিক যোগাযোগ নামক এক ভয়াবহ নীল বিষের জলে। তারুণ্যের কাছে রাত এখন রাত নেই। রাত হলো মুঠোফোনের নীলাভ আলোর খেলার জগৎ! চোখের পাতা এক না হওয়ার এক অদ্ভুত নেশায় খরচ হয়ে যায় রাত। তারুণ্যের চোখে শুকিয়ে গেছে ঘুমের নদী। সারারাত নেট দুনিয়ায় ঘুরে বেড়িয়ে শেষ হয় রাত। যখন নতুন দিনের শুভেচ্ছা নিয়ে উঠে আসে সূর্য ঠিক তখন চোখের পাতা জোড়া করে এসব তরুণ। ফলে এদের কাছে দিনও এখন আর দিন নেই। দিন হলো আধো ঘুম আধো জাগরণের এক কর্মহীন সময়। অবেলায় ঘুম থেকে ওঠা। উঠেই আবার সেই মুঠোফোনে গুঁতোগুঁতি। সঙ্গে আলস্যে ঝিমানো এবং নেতানো ভঙ্গির মনমরা দৃষ্টি। এমন তারুণ্য দিয়ে নতুন কিছু তো দূরে, পুরনোটাও ধরে রাখার উপায় নেই।

এ সুযোগটিই নিচ্ছে সমাজের দুর্বৃত্তরা। সমস্ত অধিকার লুণ্ঠন করে মুখে তালা লাগিয়ে দেয়ার আয়োজন সম্পন্ন প্রায়। নাগরিক অধিকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের হিড়িক এখন চতুর্দিকে। সামনে শোনা যাচ্ছে আরো কঠিন সময়ের পদধ্বনি। সুতরাং এখন তারুণ্যকে জাগতেই হবে। লেখক : কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রবন্ধকার, শিশু-সাহিত্যিক, গীতিকার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

ডুমুরিয়ার সাহস ইউনিয়নে এ্যাড. সাইফুলের গণসংযোগ

খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী, খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগ এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম। গতকাল শনিবার বিকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গনি, সরদার নজরুল ইসলাম, এ্যাড. এনামুল হক, এ্যাড. তারিক মাহমুদ তারা, এ্যাড. কে এম ইকবাল হোসেন, এ্যাড. এম এম সাজ্জাদ আলী, এ্যাড. আশরাফ আলী পাপ্পু, অধ্যা. সিরাজুল ইসলাম, কাজী আনিসুর রহমান, এ্যাড. উল্লাস বৈরাগী, এ্যাড. মো. আব্দুল কুদ্দুস, এ্যাড. মো. মেহেদী হাসান, এ্যাড. সজিব ঘোষ, এ্যাড. মাসুম বিল্লাহ, এ্যাড. খোরশেদ আলম, এ্যাড. রথীন্দ্র নাথ সরদার, এ্যাড. আব্দুল জলিল, এ্যাড. অশোক কুমার গোলদার, এ্যাড. কে এম মিজানুর রহমান, এ্যাড. শেখর, এ্যাড. মো. মনিরুজ্জামান, এ্যাড. নিউটন মন্ডল, হিমাংশু বিশ্বাস, রামপ্রসাদ সরদার, সোহেল বিশ্বাস, শরিফুল ইসলাম মুন্না, মো. রাসেল, শাহিন মেম্বর, মো. রবিউল ইসলাম, মাহবুব সরদার, মুরারী বৈরাগী, এ্যাড. আশরাফুল আলম বাচ্চু, মো. সাগর, মো. সোহেল, মো. রিয়াজ হোসেন, ওয়াহিদুজ্জামান গোলদার, মো. জহুর শেখ, মো. নুর হোসেন, বিপুল মন্ডল, উৎপল দত্ত, মো. ফারুক হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. মিরাজ মাষ্টার, মো. সোলায়মান, মাশুক উল হুদা, নারায়ন হালদার, মো. ফেরদৌস, রাম প্রসাদ জোর্দ্দার, আদিত্য মন্ডল, মো. কামাল হোসেন, শফিকুল ইসলাম লিটু, মো. মেহেদী হাসান, আব্দুস সাত্তার সরদার, জি এম খলিলুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, দীনেশ মন্ডল, জগদীশ চন্দ্র সাহা, আব্দুল মজিদ সানা, শেখ মনসুর আলী, দেলোয়ার হোসেন, কামরুল হোসেন, শেখ বেল্লাল হোসেন, অপূর্ব জোর্দ্দার, মো. তুহিন শেখ, মো. রাসেল প্রমূখ।

হ্যাকারের টার্গেট এবার দেশের গণমাধ্যম
ঢাকা অফিস
হ্যাকাররা এবার দেশের গণমাধ্যমকে হ্যাকিংয়ের টার্গেট করে পোস্ট দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সরকারের সাইবার ইস্যু দেখভালকারী প্রতিষ্ঠান বিজিডি ই-গভ সার্টের গোয়েন্দা সূত্র হ্যাকার গ্রুপ পোস্টে লিখেছে, “আমরা শুধু ওয়েব সাইটেই আক্রমণ করবো না, আপনাদের টিভি চ্যানেল ব্রডকাস্টের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য আইওটি ডিভাইসের নিরাপত্তা বাড়ান”।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শাহজাহান মাহমুদ বাংলাভিশনকে জানান, আমাদের স্যাটেলাইট ব্রডকাস্টিং সিস্টেমে কয়েক প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আছে। তিনি বলেন, সাইবার হামলার বিষয়ে সার্ট এখনো সতর্কবার্তা আমাদের পাঠায়নি। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি। এর আগেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সাইবার হামলা হয়েছিল, কিন্তু অ্যাটাকাররা সফল হয়নি ।

এ বিষয়ে সময় টেলিভিশনের সম্প্রচার প্রধান ও তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বাংলাভিশনকে বলেন, এখানে ব্রডকাস্টিং সিস্টেম মূলত দুই ধরনের একটা স্যাটেলাইট আরেকটা ইন্টারনেট ভিত্তিক। বর্তমানে হ্যাকাররা বেশি ভাগ প্রতিষ্ঠিত চ্যানেলের সামাজিক মাধ্যম গুলোকে টার্গেট করে হ্যাকিং কার্যক্রম চালায়। কারন অনেক চ্যানেলের লাউভ ব্রডকাস্টিং সামাজিক মাধ্যমে হয়ে থাকে, মানে ডিজিটাল কনটেন্ট হলো তাদের টার্গেট পয়েন্ট। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটেও অ্যাটাক চালায় হ্যাটাকাররা। এক্ষেত্রে হ্যাক হলেও কম সময়ে রিকোভার করা যায়। কিন্তু সামাজিক মাধ্যম বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তা ফেরাতে সময় লেগে যায়।

সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, আমাদের স্যাটেলাইট ব্রডকাস্টিং এর ক্ষেত্রেও সতর্কতার বিষয় রয়েছে। কারন, আমাদের দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো বঙ্গবন্ধু স্যটেলাইটের মাধ্যমে অন-এয়ার হয়। দেশের সব চ্যানেলের কনটেন্ট ফাইবার অপটিকের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড ষ্টেশন থেকে স্যাটেলাইটে পাঠানো হয়। তাই চ্যানেল থেকে গ্রাউন্ড ষ্টেশন যাওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনো হামলা হয় তাহলে সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) আগামী ১৫ আগস্ট দেশে বড় ধরনের সাইবার হামলা হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে দেশে সাইবার ইস্যূ দেখভালকারী প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিজিডি ই-গভ সার্ট) । এতে বলা হয়েছে, নিজেদেরকে ভারতের একটি হ্যাকারগোষ্ঠী দাবি করে হুমকিতে বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানেও সাইবার আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছে একটি হ্যাকার গ্রুপ।

সার্টের এলার্ট আরও বলছে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (সিআইআই) সহ দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যখাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহ সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে বলা হয়, ধর্মীয় ও ভিন্ন মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ একটি হ্যাকারগোষ্ঠী বিগত ৩১ জুলাই আগামী ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাইবার জগতে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সিআইআইসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতি সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। আগামী ১৫ আগস্ট ও এর মধ্যবর্তী সময়ে সব প্রতিষ্ঠানকে ছোট থেকে মাঝারি সাইবার হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এই হ্যাকারগোষ্ঠীর সঙ্গে সাদৃশ্য আছে এমন বেশ কয়েকটি হ্যাকারগ্রুপের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে পরিচালিত অন্তত ৬টি সাইবার হামলা শনাক্ত করেছে বিজিডি সার্ট। গত ২০ জুন থেকে ১ আগস্ট সময়ের মধ্যে এই সাইবার হামলাগুলো করা হয়।

এসব হামলার মধ্যে আছে বাংলাদেশে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে বন্ধ করা (১ আগস্ট), পরিবহণ সেবা সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ডিডস আক্রমণ করে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা (৩ জুলাই), একটি সরকারি কলেজের ওয়েবসাইটে হামলা করে তথ্য নেওয়া (২৭ জুন), স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত একটি সংস্থার ওয়েবসাইটে হামলা করে তথ্য নেওয়া (২৪ জুন), সামরিক সংস্থার ওয়েবসাইটে ডিডস আক্রমণ (২১ জুন) এবং রাষ্ট্রায়ত্ত একটি বিনিয়োগকারী কোম্পানির ওয়েবসাইটে আক্রমণ করে এক লাখ বিনিয়োগকারীর ও বিনিয়োগ পাওয়ার আবেদনকারীদের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া (২০ জুন)।

সার্ট জানায়, হ্যাকারগোষ্ঠীর টার্গেট করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে আছে সরকারি ও সামরিক সংস্থা, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ফার্মাসিউটিক্যাল, খুচরা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি ও শিক্ষাখাত। হ্যাকারগোষ্ঠীরা ইতোমধ্যে ডিডস, ওয়েবসাইট বিকল করে দেওয়া এবং অনধিকার প্রবেশ নিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো সাইবার হামলা পরিচালনা করেছে। সাইবার আক্রমণকারীরা ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাইবার জগতে হামলার মাধ্যমে আইটি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্তের মাধ্যমে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনধারাকে ব্যাহত করতে চাচ্ছে।

হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা আইটি মনিটরিং বিশেষ করে অফিস সময়সূচির পরে, কোনো সার্ভারে যেন বাড়তি চাপ না থাকে, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফায়ারওয়াল স্থাপনের মাধ্যমে সিস্টেমে আসা প্রতিটি ট্র্যাফিককে মনিটর করা এবং সর্বোপরি পুরো সিস্টেমকে যথাসম্ভব নিরাপদ রাখা।