ক্রীড়া ডেস্ক।।
বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসির ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর বদলে গেছে সেখানকার ফুটবলের চিত্র। মেসির খেলা দেখার জন্য পাগলের মতো ম্যাচের টিকিট খুঁজছেন ফুটবল ভক্তরা। এমনকি মেসিকে সামনে পেলে নিচ্ছেন তার অটোগ্রাফ। ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন এক যুবক। কিন্তু পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী এই যুবক এ কারণে চাকরিটাই খুইয়েছেন।
বৃহস্পতিবার লিগস কাপের ম্যাচে অরল্যান্ডো সিটিকে ৩-১ গোলে হারায় ইন্টার মিয়ামি। যেখানে জোড়া গোল করে দলের জয়ের নায়ক হন ৩৬ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তারকা। তবে ম্যাচটি এবার আলোচনায় এসেছে ভিন্ন প্রসঙ্গে।
সে দিন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ক্রিস্টিয়ান সালামাংকা নামের কলম্বিয়ান এক নাগরিক। তিনি স্টেডিয়াম এলাকায় ক্লিনারের কাজ করেন। কিন্তু মেসিকে দেখে নিজের পেশাদার আচরণ ভুলে গিয়ে অটোগ্রাফ গ্রহণ করেন। তাতেই চাকরি হারাতে হচ্ছে সালামাঞ্চার।
তাদের নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামে কিংবা বাইরে যারা কাজ করেন, তারা কখনও কোনো খেলোয়াড়কে বিরক্ত করতে পারবেন না। খেলোয়াড়দের সামনেও পেশাদার আচরণ বজায় রাখতে হবে। কিন্তু সালামাংকা এই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। যার কারণে তাকে চাকরি হারাতে হচ্ছে। অবশ্য চাকরি হারানোর চেয়ে মেসির অটোগ্রাফ নেয়ার মুহূর্তকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
বরখাস্ত হওয়া ক্রিস্টিয়ান সালামাংকা কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত এই যুবক পরিবারের সঙ্গে দেড় বছর ধরে মিয়ামিতে থাকেন। ফুটবলপ্রেমী এই যুবক চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, যারা মূলত বিভিন্ন স্পোর্টিং ইভেন্ট এবং কনসার্ট শেষে আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করে। মেসির বর্তমান ক্লাব ইন্টার মিয়ামি তাদের এই দায়িত্ব দিয়েছিল দলের সর্বশেষ ম্যাচে। ম্যাচটির ভেন্যু ছিল ক্লাবের নিজস্ব মাঠ ড্রাইভ পিঙ্ক স্টেডিয়াম।
এই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালামাংকা বলেন, টিম বাসগুলো যে সেক্টরে রাখা ছিল, সেখানকার টয়লেট পরিষ্কার করার দায়িত্বে ছিলাম আমি। আমার ভাগ্য ভালো যে, বাসগুলো থেকে খেলোয়াড়রা যখন নামছিলেন, তখন সেখানে ছিলাম। সবার শেষ নামেন মেসি। আমি তখন চিৎকার করে বলেছিলাম, ‘হে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’। এটা শুনে তিনি আমার দিকে ফিরে তাকান। আমি আমার ইউনিফর্ম তুলে আর্জেন্টিনার জার্সি বের করি এবং তিনি অটোগ্রাফ দেন। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা এলেন এবং আমাকে সেখান থেকে বের করে এনে চাকরি থেকেই বরখাস্ত করে দিলেন। তবে আমি প্রতিটা সেকেন্ড উপভোগ করেছি। সূত্র: দি মিরর









































