সাবজাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি ॥
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে চলাচলকারী অবৈধ থ্রি-হুইলার থেকে মাসিক চুক্তিতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ট্রাক থামিয়ে চা খাওয়ার জন্য নেওয়া হয় টাকা। একাধিক যান চালকের এমন অভিযোগ বারবাজার হাইওয়ে থানার ওসির বিরুদ্ধে। এর কারনে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল করায় বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।
একাধিক গাড়ি চালকের সূত্রে জানাগেছে, যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বারবাজার হাইওয়ে থানায় মাসিক চুক্তিতে বিষয়খালী, কালীগঞ্জ, জীবননগর, কোটচাঁদপুর, বারবাজার, যশোর জেলার সাতমাইল, চুড়ামনকাঠি এলাকা থেকে আসা অবৈধ থ্রি হুইলারগুলো চলাচল করে থাকে। এসব টাকা আদায় করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে স্থানীয় বেশ কিছু টাউট দালাল। তাদের মাধ্যমে থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, ইটভাটার ট্রাক থেকে প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়াও রাতে বিভিন্ন ট্রাক সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও গাড়ী প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। চালকরা টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে মামলার ভয় দেখানো হয়। এছাড়াও চা খাওয়ার জন্য ট্রাক থামিয়ে টাকা নেওয়া হয় প্রতিনিয়ত।
চুক্তির বাইরের সড়কে চলাচল করা অনেক ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আটকে রাখা ও পরে টাকা দিলে সেগুলো ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মহাসড়কে লাগাতর সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বারোবাজার হাইওয়ে পুলিশের ব্যাপক চাঁদাবাজিকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল। তারা মনে করেন ফিটনেসবিহীন অবৈধ এ সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে হাইওয়ে পুলিশের অবৈধ বাণিজ্য থামানো সম্ভব। যেগুলোর কাগজপত্র নবায়ন নেই সেগুলো বন্ধ হলে দুর্ঘটনা কমে আসবে।
ট্রাক ড্রাইভার মহিদুল ইসলাম জানান, তিনি সম্প্রতি ট্রাক চালিয়ে যশোর যাচ্ছিলেন। পথে কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকায় গতিরোধ করে বারবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছে চা খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করা হয়। তিনি ১০০ টাকা দিলে গাড়ি ছেড়ে দেয়।
চালক পরিচয়ে বারবাজার হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্য হেমায়েতের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তিনি থ্রি-হুইলার থেকে মাসিক চুক্তিতে টাকা আদায় করেন। তিনি জানান, টাকা দিলে গাড়ি ধরবে কেন। গাড়ি প্রতি ৫০০ টাকা তার জিপি নম্বরে বিকাশ করতে।
অবৈধ থ্রি-হুইলারের টাকা আদায়কারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কালীগঞ্জ-যশোর সড়কে চলাচল করা সকল থ্রি-হুইলারের টাকা মাসিক হিসেবে বারবাজার হাইওয়ে থানায় দেওয়া হয়। এ সকল টাকা বারবাজার হাইওয়ে ওসিকে দেওয়া হয়।
এ্যাম্বুলেন্স চালক সিরাজ হোসেন জানান, এ্যাম্বুলেন্সগুলো সব মাসিক চুক্তি করা আছে। বারবাজার হাইওয়ে থানায় টাকা দিয়ে চালানো হয়। টাকা দিলে তেমন ঝামেলা করে না। বারবাজার হাইওয়ের এক পুলিশ সদস্যের কাছে তিনি সব এ্যাম্বুলেন্সের টাকা জমা দেন।
এ ব্যাপারে বারবাজার হাইওয়ে থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। চা খাওয়ার জন্য ১০০ টাকা নেওয়ার ব্যাপারটি জানালেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। থ্রি-হুইলার, এ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাসিক চুক্তিতে টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখন এগুলো হয় না।











































