ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি।।
বারাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বারাকপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বারাকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংষ্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আনছার শেখ এর হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত আনছার এর পুত্র তানভির শেখ বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলার ১ নং আসামি বারাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেল গাজী সহ বাকি আসামিদের আটক ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে গতকাল ২ এপ্রিল রবিবার বিকাল ৪ টায় বারাকপুর ইউনিয়ন এর লাখোহাটি চারবাড়ি মোড়ে বারাকপুর ইউনিয়ন বাসির উদ্যোগে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি লাখোহাটি বাজারের গুরুত্বপুর্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে, লাখোহাটি চারবাড়ি মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিলে এলাকার শত শত নারী পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহন করে। মিছিলপুর্বক সংক্ষিপ্ত পথসভায় মামলার বাদী ও নিহত আনসার শেখ এর পুত্র তানভির শেখ বলেন, আমার পিতাকে পুর্বপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার পিতা একজন সামাজিক ও পরউপকারি মানুষ ছিলেন, তার বাইরে কোনো শত্রু নেই। এলাকায়ই তাঁর শত্রু আছে। সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ভাতিজা বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী সাহাগীর হোসেন (পাভেল গাজী) আমার পিতা হত্যার মুল মাষ্টারমাইন্ড। বারাকপুর বাজার কমিটির নির্বাচন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় সেই কারণেই এই ঘটনা তাঁরা ঘটিয়েছে।
আমার পিতাকে গুলি করে হত্যা করার মাত্র কয়েকদিন আগে আমার পিতা বারাকপুরে গেলে তাঁকে হুমকি ধামকি ও ধাওয়া দিয়েছিল ইউপি চেয়ারম্যান পাভেল গাজী ও তার সন্ত্রাসীবাহিনরা। আমাদের বারাকপুর বাজারে কাপড়ের ব্যবসা ছিল। গাজীরা আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করেছে। আমাদের বাড়িতে বোমা মেরেছে। ইউপি নির্বাচনের সময় আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করেছে। গাজী জাকির হত্যা মামলায় আমার পিতাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমাদেরকে বাড়ি ছাড়া করেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’ তিনি তাঁর পিতা (মো. আনছার শেখ) এর হত্যার ন্যায় বিচার চান । এজন্য তিনি খুলনা জেলা প্রশাসক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার , দিঘলিয়া ও খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আবজাল শেখ এর সভাপতিত্বে এ সময় বক্তৃতা করেন , শাহিদুল শেখ, মোঃ হেকমত, ইউসুফ শেখ, কুদ্দুস, শেখ, ওসমান, হাকিম , বিল্লাল, রেজাউল প্রমুখ। গত ২৬ মার্চ ২৩ জনকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনের নামে আনসার শেখ এর পুত্র , তানভির শেখ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে। যার নং-১৭ । এর মধ্যে খানজাহান আলী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার ভুক্ত ৪ নং আসামি মৃত তোকাম গাজীর পুত্র ফরহাদ গাজী , ঘোষগাতি এলাকার ডাক্তার ইব্রাহিম এর পুত্র এজাহার নামীয় ১৮ নং আসামি মাহাবুর শেখ (৩২), লাখেহাটি বদিয়ার রহমান মোড়লের পুত্র ইবাদুল ইসলাম মোড়ল কে আটক করেছে । এর মধ্যে ইবাদুল ইসলাম মোড়লকে এজাহার ভুক্ত আসামি না হলেও সন্দেহহীত হওয়ায় তাকে চালান দেওয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। উল্লেখ্য গত ২৪ মার্চ দুপুরে শিরোমনি পুর্বপাড়া মসজিদে আনসার আলী জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কয়েকজন সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তার শরীরে পরপর তিনটি গুলি করে হত্যা করা হয়। এঘটনার পর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩ জনকে আটক করে আদালতে প্রেরন করে। এদিকে আনসার হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি একটি স্পর্শকাতর হত্যাকান্ড । হত্যাকান্ডের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন অনেক দুর এগিয়েছি তবে তদন্তের স্বার্থে কিছুই বলা সম্ভব নয় বলে এড়িয়ে যান।









































