নগরীতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে আহত ২২, আটক ৮
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেলে ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির নেতারা। অন্যদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় পুলিশের ১০ সদস্য আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ১০ দফা দাবিতে শনিবার বেলা দুইটার দিকে নগরের কেডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয় চত্বরে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা তিনটার দিকে সদর থানার সামনে দিয়ে একটি মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে আসছিলেন নেতা-কর্মীরা। তখন পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ ছাড়া স্টেশন রোড থেকে আসা একটি মিছিলে লাঠিপেটা করে পুলিশ। তখন পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীসহ শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপি কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান নেন। সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে যায়। তখন বিএনপির নেতারাও দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। মহানগর বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা, সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম তুহিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান, সদস্যসচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হোসেন বাবু, আশরাফুল আলমসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় বিকেল চারটার দিকে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা ও মহানগর বিএনপি। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী বলেন, সারা দেশের মতো খুলনায়ও শান্তিপূর্ণভাবে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশ বিনা কারণে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের হামলায় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী হাসানুর রশীদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইশতিয়াক হোসেন, ছাত্রদল নেতা ইমতিয়াজ আহমেদসহ বিএনপির ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আল মামুন বলেন, বিএনপি কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি নেয়নি। শান্তিশৃঙ্খলায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিল। আকস্মিকভাবে তাঁরা পুলিশের ওপর হামলা করেন। হামলায় পুলিশের ১০ সদস্য আহত হয়েছেন।
বিএনপির প্রেস ব্রিফিং: বিএনপির পুর্ব নির্ধারিত শান্তিপুর্ণ অবস্থান কর্মসুচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ, রবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে ত্রাস সৃষ্টি করে বিএনপির নেতাকর্মীদের আহত করেছে ও কয়েকজনকে আটক করেছে উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এড. নিতাই রায় চৌধুরি বলেছেন, নগরীর কেডি ঘোষ সড়কে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার বেলা ২টা থেকে ২ ঘণ্টাব্যাপী পুলিশ মারমুখি আচরন করে। পুলিশের তান্ডবে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা দোকারপাট বন্ধ করে দেয়। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদসহ ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনায় অবস্থান কর্মসুচি পালনের কথা ছিল। কিন্তু বেলা ১১টা থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ উপস্থিত হতে থাকে। বেলা ২টার দিকে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করলে পুলিশ হঠাৎ করে লাঠিপেটা, টিয়ার সেল ও রবার বুলেট নিক্ষেপ শুরু করে। টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে ৫নং ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ কবির শেখ, রূপসা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রুবেল মীর, বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাহাদুর মুন্সী, ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক শাহিন মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক তামিম মোল্লা, খুলনা জেলা যুবদলের সাজু হাওলাদার, খুলনা জেলা ছাত্রদলের মনিরুজ্জামান নয়ন হাওলাদার, ইয়াসিন, ফিরোজ মাহমুদ, ইসমাইল হোসেন, ইবাদুল হক রুবায়েত, ইস্তিয়াক আহমেদ ইস্তিসহ ১৫/২০ গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে। তিনি বলেন, শনিবারের কর্মসূচির আগে গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (০১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টায় বিএনপি কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং এ তিনি এসব কথা বলেন। ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, বিনাভোটের অবৈধ সরকার লুটপাটের মাধ্যমে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিনত করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। দফায় দফায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি করেছে। বাজার নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা এ সরকারের নেই। সরকারের অপকর্মের কথা বললে কথিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। সাংবাদিকরা সত্য কথা লিখতে পারে না। সরকারের দুর্নিতীর কথা প্রকাশ করায় সম্প্রতি প্রথম আলোর সম্পাদক ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। যাতে জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তিনি খুলনার অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যদের তান্ডবের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবিধানিকভাবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কর্মসুচি পালনের অধিকার আছে। কিন্তু পবিত্র রমযান মাসে রোজাদার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নারকীয় তান্ডব কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দমন-নিপিড়ন করে যেমন চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। ঠিক তেমন অবৈধ সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা যাবে না। এসময় জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, বর্তমান সরকারের সময় শেষ হয়ে এসেছে বুঝতে পেরে তারা বন্দুকের নলের জোরে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায় কিন্তু দেশের মানুষ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন, পুলিশের তান্ডবের ঘটনায় শীঘ্রই কর্মসুচি দেয়া হবে। কোনো কর্মসূচি এলেই পুলিশ সদস্যরা তা পণ্ড করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কর্মসূচির আগে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়। কর্মসূচির সময় টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের নিন্দা জানানোর কোন ভাষা নেই।
শেখ হাসিনার সরকারের অভাবনীয় উন্নয়নে আজকে দেশের চিত্র পাল্টে গেছে
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগর মহিলা শ্রমিক লীগের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বাদ-মাগরিব দলিয় কার্যালয়ে এক আলোচনা-সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আইনজীবি সমিতির সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মোতালেব মিয়া ও সাধারন সম্পাদক রনজিত কুমার ঘোষ। উক্ত অনষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ঝুমুর বেগম। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসুমা আক্তার রানী।
সভায় প্রধান অতিথি সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের অভাবনীয় উন্নয়নে আজকে দেশের চিত্র পাল্টে গেছে। এই সরকার সকল পর্যায়ের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ঠ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন দূর্নীতিমুক্ত, শোষনহীন, সুখী-সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ গড়তে তার সুযোগ্য কন্যা আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, মুকুটমনি, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটাই হোক প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শপথ।
উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন, খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মল্লিক নওশের আলী, মো: শিহাব উদ্দিন, মো: আব্দুর রশিদ শিকদার, মো: মনির হোসেন, আলমগীর মল্লিক, সঞ্জয় কর্মকার, আফজাল হোসেন, মো: নুর ইসলাম, প্রশান্ত কুমার রায়, সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মাজেদা বেগম, রেশমা বেগম, নাসিমা বেগম, মনিরা বেগম, সনিয়া বেগম, মুক্তা, নাসরিন বেগম, লাইলি বেগম, মনোরা বেগ, পারভিন বেগম, সুমা, রহিমা, হনুফা, ছন্দা, সেলিম ফরাজী, খোকন শীল কুটি, মো: কামাল, সাজু শিকদার সহ বিভিন্ন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ । অপরদিকে খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শরিফ মোর্ত্তজা আলী দুর্ঘটনায় আহত হয়ে নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন থাকায় তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান সুষ্টিকর্তার কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়।
খালিশপুর অবকাশ গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল
খবর বিজ্ঞপ্তি
খালিশপুর অবকাশ গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে সাধারণ সদস্য, আজীবন সদস্য, নির্বাহী কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ ও বিশিষ্ট সুধীজনের সম্মানে মাহে রমজান উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার বিকেলে খালিশপুর কেএফসি অডিটরিয়ামে এ ইফতারের আয়োজন করা হয়। গণগ্রন্থাগারের সাঃ সম্পাদক খন্দকার খলিলুর রহমান ও ইফতার আয়োজক কমিটির আহবায়ক শফিকুল ইসলাম অভির পরিচালনায় সভায় অতিথি ছিলেন খালিশপুর থানা আ’লীগের সাঃ সম্পাদক আলহাজ্ব মনিরুল ইসলাম বাশার, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন জেলা কমিটির সম্পাদক এড. কুদরত ই খুদা, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ডালিম হাওলাদার, ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুন্সি আঃ ওয়াদুদ, খালিশপুর থানা জাপার সভাপতি আকরামুজ্জামান খান, পেইভ-এর খালিশপুর আঞ্চলিক কমিটির সমন্বয়কারী নিজামুর রহমান লালু, খালিশপুর বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন বাচ্চু, খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা আঃ লতিফ কাজী, সুজন খালিশপুর থানা কমিটির সম্পাদক খলিলুর রহমান সুমন, ১০নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাঃ সম্পাদক ইমরুল ইসলাম। গ্রন্থাগারের সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন হাসিবের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন এম এ সালাম, সাবেক ছাত্র নেতা আবুল কালাম কাজল, আশরাফ হোসেন, তৈয়াবুর রহমান, ফারুখ আল মামুন, আঃ হালিম মাস্টার, শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান, নুরুল ইসলাম বাবুল, আসিফ ইকবাল, কাজী নেয়ামুল হক মিঠু, এড. মনিরুজ্জামান, জামাল হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি, মাহবুবুল হক, আঃ জলিল পাঠান, হান্নান ডাকুয়া, মিলন খান, জাহিদুল ইসলাম বাদশা, আলমগীর হোসেন, ডাঃ কামরুজ্জামান, মনিরুজ্জামান চাপলু, শাকিল আহমেদ, ইউসুফ খান, কামাল হোসেন, নাহিদা রহমান ডালিয়া, আফরোজা সুলতানা খুকু, ইলা রহমান, শাহিনুর রহমান নুপুর, রবিউল ইসলাম বিশাদ প্রমূখ।
রাজপথ রেলপথ অবরোধ সহ ৪ দিনের কর্মসূচি ঘোষনা
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি।।
বেসরকারী পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে গতকাল বিকাল ৩ টায় আফিলগেটস্থ খুলনা যশোর মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি চলাকালে শ্রমিক নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন আফিল জুট মিলের মালিক খামখেয়ালি ভাবে তার অনুগত দালাল সিবিএ নেতাদেরকে ম্যানেজ করে শ্রমিকদের চুড়ান্ত পাওনা শ্রম আইন মোতাবেক পরিশোধ না করে নিজেদের পছন্দমাফিক ব্যক্তিদেরকে নামমাত্র টাকা দিয়ে জোরপুর্বক ষ্টাম্পে সাক্ষর রেখেছে। এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালকের দপ্তর থেকে একাধিকবার আফিল জুট মিল মালিক কতৃপক্ষকে শ্রমিকদের চুড়ান্ত পাওনার হিসাব দাখিল করতে বলা হলেও মিল মালিক কতৃপক্ষ তা করেনি , শ্রমবান্ধব সরকার এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে মালিকপক্ষ বলেও জানান শ্রমিক নেতারা । বক্তারা বলেন এবার শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তাই সকল প্রকার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আমাদেরকে দাবি আদায়ে রাজপথে নামার বিকল্প কোন পথ খোলা নেই। বেসরকারী পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি শেখ আমজাদ হোসেন এর সভাপতিত্বে ও শ্রমিক নেতা মোঃ বাবুল হোসেন এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন খানজাহান আলী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন । প্রধান বক্তা ছিলেন বেসরকারী পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক ও মহসেন জুট মিল ওয়াকার্স ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম রসুল খান।বক্তৃতা করেন,আফিল জুট মিল মজদুর ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মোঃ নিজামউদ্দিন, জুট স্পিনার্স মিলের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বেসরকারী পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেক, শ্রমিক নেতা মোঃ আলাউদ্দিন, আমির মুন্সি,লুৎফর রহমান,সাংবাদিক মিহির রজ্ঞন বিশ^াস, আফিল জুট মিলের শ্রমিক নেতা মোঃ রেজাউল, আঃ হামিদ, আঃ ফারুক, মোঃ শাহাজান প্রমুখ। মানববন্ধন থেকে ৪ দিনের কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামি ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় শিরোমনি শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন, ৭ এপ্রিল শুক্রবার ফুলবাড়ীগেট জনতা মার্কেট চত্বরে শ্রমিক জনসভা, ৮ ও ৯ এপ্রিল ঢাকা শ্রম মন্ত্রনালয়ে পাট মন্ত্রী ,শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও খুলনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য বাবু নারায়ন চন্দ্র ,চন্দ্র এমপি”র সাথে বেসরকারী পাট, সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ জরুরী বৈঠক । এর মধ্যে ও যদি শ্রমিকদের দাবি আদায় না হয় তাহলে আগামি ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত খুলনা যশোর মহাসড়কের আফিলগেটে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।
খানজাহান আলী থানা এলাকাতে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান ৩ টি প্রতিষ্টানকে জরিমানা
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকার গিলাতলা, শিরোমণি ও বাদামতলা এলাকাতে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান চালিয়ে ৩ টি প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য আদায় করেছে। ১ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালায়।এ সময়ে গিলাতলার ইয়াদুল বেকারীকে ১০ হাজার, বাদামতলা এ,কে,টি, ফুড কে ১০ হাজার ,এবং শিরোমনি কাঁচা বাজার সংলগ্ন আলী হোটেলকে ১ হাজার মোট ২১ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করেন । জাতীয় ভোক্তা অধিকার এবং সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মোঃ ওয়ালিদ বিন হাবিব এর নেতৃতে এ অভিযান পরিচালনা হয় ।এ সময় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে সহযোগিতা করেন । ক্যাব, এর সদস্য এবং আনসার সদস্যবৃন্দ।
বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভা
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন খুলনা শাখার বর্ধিত সভা গতকাল বিকাল ৩ টায় খুলনা ৪ নং ঘাট কার্যালয়ে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরে আলম ভুইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আসন্ন মে দিবস পালন উপলক্ষে ৫ সদস্য বিশিষ্ট মে দিবস উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়। ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের বকেয়া সহ বোনাস প্রদানের জন্য সকল হোটেল , রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি , বেকারী মালিক সমিতির প্রতি আহবান জানানো হয়। এছাড়া আগামি মে দিবসে সকল শ্রমিকদের মহান মে দিবস পালনের জন্য প্রস্তুত থাকা ও ১ মে সকাল ৯ টায় খুলনা ৪ নং ঘাটে মে দিবস উদযাপন কমিটির ব্যানারে উপস্থিত থাকার আহবান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক জসিম সর্দার, আমাজাদ হোসেন, মিন্টু মিয়া, আঃ জলিল, সামিম জোয়াদ্দার প্রমুখ।
হালাল ব্যবসায়ের মধ্যেই আল্লাহ পাকের বরকত নিহীত রয়েছে: সিটি মেয়র
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ব্যবসা আল্লাহ পাকের একটি পছন্দের পেশা। একজন নেককার ব্যবসায়ী অনায়াসেই বেহেস্ত যাবেন। হালাল ব্যবসায়ের মধ্যেই আল্লাহ পাকের বরকত নিহীত রয়েছে। সুতরাং ব্যবসায়ীর এই রোজার মাসে সততার সাথে পণ্য কেনা-বেচা করে আখেরাতের পথকে সুগম করে নিবে। তিনি বলেন, বৈশি^ক মন্দার কারণে সব দ্রব্যের দাম বেড়েছে। সব দিব বজায় রেখে সকলকে ব্যবসা করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
গতকাল শনিবার ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি এস এস এম জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, খুলনা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. শামছুল আলম মাসুম, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ, খুলনা স্বাধীনতা সাংবাদিক পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফারুক আহমেদ, স্বাধীনতা সাংবাদিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহিদ হোসেন, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন রেজা, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ আবু হাসান, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মো. সাহেব আলী ও মল্লিক সুধাংশু, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিয়াজ, বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবির, খুলনা উন্নয়ন কমিটির স্থায়ী সদস্য ও মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যা. রুনু ইকবার বিথার, বিএনপি নেতা আশরাফুল আলম নান্নু, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোতালেব মিয়া, সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার ঘোষ, মহানগর যুব লীগের সভাপতি মো. সফিকুর রহমান পলাশ, মো. শিহাব উদ্দিন, মালিক সমিতির উপদেষ্টা রেজাউল করিম, খুলনা মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. জাহিদ হাবিব, যুগ্ম সম্পাদক মো. নাসিরউদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ হোসেন মাহমুদ বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল শেখ, দপ্তর সম্পাদক খালিদুল ইসলাম লিটন, শিল্প ও ফ্যাক্টরী বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল আলম সজীব, প্রচার ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ খান হিরণ, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এস এম সাহিদ হোসেন ও শেখ সাইদুর রহমান, সিনিয়র মালিক কলিম উদ্দিন, এবাদত গাজী, মো. গোলাম রাব্বানী, পার্থ সাহা, সুকুমার বিশ^াস, মো. মিজানুর রহমান, মো. বনি, আবুল কালাম, আনিসুর রহমান সোহাগ, মো. আসাদ, আব্দুল মুকিত, মো. হেলাল মুন্সি, মো. রাজু, মো. সজল, মো. রাশেদ, মো. ইব্রাহিম, মো. আসাদুজ্জামান, মো. ফয়েজ, মামুন দেওয়ান, শেখ মো. রাসেল, মো. রুয়েলসহ মালিক সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইফতারের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অভয়নগরে বাড়ির উঠানের বাল্ব জ্বালাতে গিয়ে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে বাড়ির উঠানের বাল্ব জ্বালাতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে সুব্রত দাস (১৭) নামের এক স্কুল পড়ুয়া ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার ধোপাদী গ্রামের ঋষিপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুব্রত দাস উপজেলার ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র ও ধোপাদী গ্রামের ঋষিপাড়া এলাকার পশুপতি দাসের ছেলে।
নিহতের চাচা রসময় দাস জানায়, রাতে নিজ বাড়ির উঠানের বাল্ব জ্বালাতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়। বাল্বটি লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অথৈ সাহা বলেন, সুব্রত নামের এক যুবককে তার স্বজনরা রাত ৯ টার সময় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আসার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম শামীম হাসান বলেন, ধোপাদী গ্রামের ঋষিপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে সুব্রত দাস নামের এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের টিম খোঁজ খবর নিয়েছে। একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের পরে লাশটি পরিবারের সদস্যদের কাছে দেওয়া হয়েছে।
বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোট এলাকায় গভীর রাতে মালিক বিহীন ২৪ টি গরু উদ্ধার
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
বটিয়াঘাটা উপজেলার ভান্ডারকোট পশ্চিম হালিয়া ও শিয়ালাডাঙ্গা এলাকায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ২৪ টি গরু রাস্তার উপর দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় ভান্ডারকোট পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেয়। খবর পেয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই প্রভাষ কুমার সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হযয়ে গরু গুলোকে প্রাথমিক ভাবে নিজ হেফাজতে নেন। পরবর্তীতে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন গরু গুলো পাশ্ববর্তী উপজেলা রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়ন থেকে ঘাস খেতে খেতে বটিয়াঘাটা উপজেলার ভান্ডারকোট চর হালিয়া ও শিয়ালাডাঙ্গা এলাকায় চলে আসে। গতকাল শনিবার বেলা ১১ টায় ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই প্রভাশ কুমার সাহা ২৪ টি গরুর মধ্যে ২২ টি গরু গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ রাজীব সরদার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গিয়াস উদ্দিনের কাছে হস্তন্তর করেন এবং বাকি ২ টি গরু ভান্ডারকোট ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চর হালিয়া এলাকার ইউপি সদস্য শশাঙ্ক রায়ের জিম্বায় রাখে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা’র বটিয়াঘাটায় এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের উপর রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী ও লুটপাট
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা এলাকায় হরিদাস মন্ডল নামে এক সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র ফিল্মী স্টাইলে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর, মালামাল লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে ওই এলাকার নারায়ন মন্ডের পুত্র। উক্ত সন্ত্রাসী চক্রটি রাতে হামলা চালিয়ে ক্ষান্ত হননি। ওই সময়ে সন্ত্রাসী চক্রটি ভূক্তভোগী হরিদাস মন্ডল সহ পরিবারের সকল সদস্যদের আহত করে স্ত্রী ও সন্তানদের শ্লীলতাহানী ঘটায়। এমনকি আশেপাশের লোকজন ছুঁটে এসে তাদেরকে রক্ষা করতে আসলেও তাদের উপরও হামলা চালিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। বাড়ির মালিক হরিদাস সহ গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দূর্বৃত্তরা পরদিন শুক্রবার সকালে পুনরায় হামলা চালিয়ে একটি মাত্র গরু তাও নিয়ে যায়। সূত্রে প্রকাশ, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে তেঁতুলতলা এলাকায় একটি দূর্র্ধষ পরসম্পদলোভী কুচক্রীমহল মহম্মদনগর, সাচিবুনিয়া চৌরাস্তা, দারোগারভিটা, চক্রাখালী ও তেঁতুলতলা এলাকা থেকে ২ টি পিকআপ ভ্যানে ৪০/৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী চক্র ফিল্ম স্টাইলে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করতে শুরু করে। এসময় তাদের বাঁধা দিলে মারপিট শুরু করে রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার সময়ে আশপাশ এলাকার আশীষ মন্ডল, বিধান মন্ডল সহ আরো অনেকে এগিয়ে আসলে তাদেরও মারপিট করে আহত করে। এসময় হরিদাস মন্ডলের পরিবার বারবার থানা পুলিশকে মোবাইল ফোন করে কোন প্রকার প্রতিকার না পেয়ে ট্রিপল নাইন নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশ কাউকে আটক না করায় সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে পরের দিন শুক্রবার সকালে সন্ত্রাসীদের রেখে যাওয়া একটি মাত্র গরু নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে সাবেক সচিব ড.প্রশান্ত কুমার রায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিধান রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ মল্লিক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হাজির হয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শওকত কবিরকে অবগত করলে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শওকত কবির ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করেন । উল্লেখ্য একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জমিতে কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট এবং জমি দখল করে আসছে। এব্যাপারে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা গোবিন্দ মল্লিক বলেন, সংঘবদ্ধভাবে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট সত্যি অমানবিক । এব্যাপার জলমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিধান রায় বলেন, আমার ইউনিয়নে তেঁতুলতলা এলাকায় প্রায় জমি জাল জালিয়াতি মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র ফিল্ম স্টাইলে হামলা-মামলা চালিয়ে অন্যের জমি রোজ পূর্বক দখল করে বিক্রি করছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে । এব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শওকত কবির বলেন সন্ত্রাসী যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগরীর মাসিক মিটিং অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
০১ এপ্রিল’২৩ নগর ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এর মাসিক সভা ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ নগর সভাপতি মুফতি আ হ ম আব্দুর রহমান মিয়াজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশিদ এর সঞ্চালনায় নগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ নগর সহ সভাপতি মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি এইচ এম জুনায়েদ মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুস সবুর, অর্থ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোমিন ইসলাম নাসিব, প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, দাওয়াত ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আজহার, যুব কল্যাণ ও কর্মসংস্থান সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম, পরিবার ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মানব অধিকার সম্পাদক মাওলানা মশিউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আলফাত হোসেন লিটন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মাওলানা হাবিবুল্লাহ গাজী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ইমামুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাইনুল ইসলাম, সংখ্যালঘু সম্পাদক মোঃ শাহীন হাওলাদার সহ থানা ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ। সভায় আগামী ১৫ রমজান মুজাহিদ প্রজন্ম ও যুবক ভাইদের সম্মানে ইফতার মাহফিল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় ।
ফকিরহাটে র্যাব-৬ এর অভিযানে ৩৪১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক-২
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে খুলনা র্যাব-৬ এর অভিযানে ৩৪১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মো. শহিদুল ইসলাম শেখ (৫৩) ও মো. মোস্তফা তারেক বাবু (২৫) নামের দু’জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (১লা এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে র্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খুলনা র্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল জানায়, শুক্রবার (৩১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে র্যাব-৬, স্পেশাল কোম্পানি খুলনার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফকিরহাট সদর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। আটককৃত দুই মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন রুপসা থানা এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম শেখ ও ফেনী জেলার দাগনভূয়া থানার মো. মোস্তফা তারেক বাবু। এ সময় আসামীদ্বয়ের নিকট হতে ৩৪১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পূর্বক তা জব্দ করেন র্যাব-৬। আটককৃতদেরকে ফকিরহাট মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও র্যাব জানান। ##
ফকিরহাটে যাকাত ও ক্যাশ ওয়াকফ শীর্ষক আলোচনা
ফকিরহাট প্রতিনিধি
“মাহে রমাদানের অফুরান সওগাত ক্যাশ ওয়াকফ, হজ্জ্ব ও যাকাত”সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ফকিরহাট শাখার উদ্যোগে যাকাত ও ক্যাশ ওয়াকফ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর প্রধান কার্যালয় কর্তৃক এপ্রিল ০১, ২০২৩ ইং তারিখে ব্যাংকের ১৭৯টি শাখার সম্মানীত গ্রাহক, নির্বাহী ও সকল স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনলাইন প্লাটফর্মে ব্যাংকের সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জাফর আলম এর সভাপতিত্বে যাকাত ও ক্যাশ ওয়াকফ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ফকিরহাট শাখার শাখা ব্যাবস্থাপক মোঃ মুহাসিন রেজার পরিচালনায় শাখার কর্মকর্তা যথাক্রমে মোঃ মাহমুদুল হাসান, মোঃ আঃ রহিম, মোঃ সাজেদুল করিম, মোঃ আল-আমীন সহ বিভিন্ন গ্রাহক ফকিরহাট ফিড মিলের এমডি আলহাজ্ব নুর ইসলাম ও ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ, শেখ সৈয়দ আলী সহ ব্যাংকের গ্রাহকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সকলের মাঝে শাখার পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী প্রদান করা হয়। ##
ডাঃ আবু সাইদ শুভর ভুল অপরেশনে বিভিন্ন ক্লিনিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অসহায় মা
আশাশুনি প্রতিনিধি
ডাঃ শেখ আবু সাইদ শুভর ভুল অপরেশনে বিভিন্ন ক্লিনিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অসহায় মা রাবেয়া খাতুন। আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের তুয়ারডাঙ্গা গ্রামের ছাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন কান্না বিজড়িত কন্ঠে জানান, আমার শিশু পুত্র রোহান(২) হার্নিয়া রোগে আক্রান্ত। গত ডিসেম্বর মাসে তার চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, শিশু সার্জারী ডাঃ শেখ আবু সাইদ শুভর কাছে যায়। তিনি আমার শিশুকে দেখে সংগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। সংগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ডাঃ শেখ আবু সাইদ শুভ ৪ হাজার টাকার পরীক্ষা দেন। যা আমি বুশরা ও আনোয়ারা ক্লিনিক থেকে করে নিয়ে আসি। পর্র্বতীতে পরীক্ষার কাগজ দেখে বলেন, আপনার সন্তানের হার্নিয়া, নাড়ি পঁচে গেছে এক্ষুনি অপরেশন করতে হবে এই বলে ২৪ হাজার টাকায় সংগ্রাম হাসপাতালে অপরেশন করানো হয়। যা আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে দেনা করে পরিশোধ করি। এছাড়া ঔষধ দিয়ে মোট ৫০ হাজার টাকার মতন খরচ করি। তাছাড়া আমার সন্তানের কোমরে দুই জায়গায় ক্ষত করে ডাক্তার। কিন্তু দুঃখের বিষয় অপরেশনের ১৯ দিন পর দেখি আমার সন্তানের কিছুই ভালো হয়নি আবার ডাক্তারের কাছে যায় ৩১ ডিসেম্বর। তখন ৯০০ টাকার পরীক্ষা ও ৬০০ টাকা ফি দিয়ে ডাক্তার দেখালে ডাক্তার বলেন আমি পারবনা, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে দেয়। তখন আমি বলি আমার জায়গা জমি কিছুই নেই, আমার স্বামী দিনমজুর, আমাদের অপরেশনের কিছু টাকা ফেরৎ দেন। কিন্তু ডাঃ আমাদের কোন টাকা দেয়নি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঝিনাইদহে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচী
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
বিদ্যুৎ, চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপণ্যের মুল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও বিএনপির ১০ দফা দাবী আদায়ে ঝিনাইদহে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে বিএনপি।
দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সামনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা বিএনপি।
জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আসাদুজ্জামান। সেসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সদর থানা বিএনপির সভাপতি এ্যাড, কামাল আজাদ পান্নু, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ^াস, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপপু, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা, বর্তমান সরকারকে অবৈধ দাবী করে জণগনের অধিকার ও ভোটাধিকার ফেরানোর আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবন্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
টেন্ডার ছাড়া অভয়নগরে রাস্তার পাশের দুইটি রেইনট্রি গাছ কর্তন
স্টাফ রিপোর্টার-
টেন্ডার ছাড়াই রাস্তার পাশ থেকে লক্ষাধিক টাকার রেইনট্্ির গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। সাবেক যুবলীগ নেতা জেলা পরিষদের সদস্য ও একজন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে ওই গাছ কাটা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের শাহীনপাড়া করিম সিমেন্ট মিলের সামনের রাস্তার পাশ থেকে এ গাছ কাটা হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকালে লেবার সরদার শফিকুল ইসলাম ৮/৯ জন শ্রমিক দিয়ে একটি রেইনট্রি গাছটি কাটার কাজ করছে। এর আগে গত শুক্রবার একটি বড় রেইনট্রি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে বলে জানান।
জানা গেছে, যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের শাহীনপাড়া রাস্তার পাশে তিনটি রেইনট্রি গাছ ঝুকিপূর্ণ বলে ওই ইউপি সদস্য আব্দুল্যাহ মোড়ল জেলা পরিষদ বরাবর আবেদন করেন। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আল মামুন একটি মনগড়া রিপোর্ট তৈরী করে জেলা পরিষদে জমা দেন। কিন্তু জেলা পরিষদ এখনও গাছ কাটার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি বলে জানা গেছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে জেলা পরিষদের সদস্য সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রউফ মোল্যা ও ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ মোড়ল ও সার্ভেয়ার আল মামুন ওই গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ওই গ্রামের আব্দুল্লা আল মামুন জানান, ‘শুনেছি ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে প্রায় অর্ধশত বছরের পুরানো তিনটি রেইনট্রি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরমধ্যে একটি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। অপর গাছের ডালপালা কাটা শেষ হয়েছে। গাছটির গোড়া প্রায় কাটা শেষ পর্যায়ে। গাছ দুটিতে পাঁচশত মণ কাঠ হবে যার মূল্য লক্ষাধিক টাকা হবে। লেবার সর্দার শফিকুল ইসলাম বলেন “ জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ মোল্যা ও মেম্বর আব্দুল্যাহ গাছ কাটতে বলেছে তাই কাটছি। আমি শুধু লেবার লাগাইছি। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সদস্য, সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রউফ মোল্যা বলেন, “ গাছ কাটার অনুমতি আছে। তাই গাছ কেটে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, রাস্তার উপর তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারনের জন্য স্থানীয় ইউপি মেম্বার জেলা পরিষদে চিঠি দেয়। এরপর সার্ভেয়ার দিয়ে আমরা বিষয়টি জরিপ করি কিন্তু আমরা গাছ কাটার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এরপরও আমাদের একজন সদস্য গাছ কেটে নিচ্ছে বলে শুনেছি। গতকাল শনিবার সকালে টিএনও সাহেব ফোনে অভিযোগ দিলে তাকে গাছ কাটা বন্ধ করতে বলেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মেজবাহ উদ্দিন বলেন “ প্রতি শুক্রবার ও শনিবার গাছ কাটার অভিযোগ পাচ্ছি। অভয়নগরে কোন গাছ কাটার অনুমতি নেই। তাই গাছ কাটা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
খুলনা উন্নয়ন কমিটির সভায় ২৫এপ্রিল ১৪২তম “খুলনা দিবস” পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন
খবর বিজ্ঞপ্তি
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নির্বাহী পরিষদের এক সভা অদ্য ১লা এপ্রিল শনিবার বেলা ১১ টায় সংগঠনের সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান এর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মাদ আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ২৫এপ্রিল খুলনা জিলার ১৪২তম প্রতিষ্ঠা দিবস জাঁকজমকপুর্ণ ভাবে পালন করার জন্য খুলনা ২ আসনের মাননীয় সংসদ সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এম.পি উপদেষ্টা মাননীয় মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক চেয়ারম্যান শেখ আশরাফ উজ জামান সমন্বয়কারী ও শেখ মোহাম্মদ আলীকে সদস্য সচিব করে উদযাপন কমিটি ও বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠনসহ “খুলনা দিবস” সফল করার জন্য ব্যপক কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। সভায় গৃহীত কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল ১০:০০টায় খুলনা দিবসের কর্মসূচী উদ্বোধন শেষে নগরীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা, স্মরণিকা প্রকাশ, সম্মাননা প্রদান, দূপুরে মেজবানী, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সভায় খুলনা দিবসের কর্মসূচীতে দলমত নির্বিশেষে খুলনার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে অংশগ্রহন করার আহবান জানানো হয়। এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল বাসার, এ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, জোবায়ের আহমেদ খান জবা, মামুনুরা জাকির খুকুমনি, যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম, এ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান হাফিজ, অর্থ সম্পাদক মিনা আজিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মনিরুল ইসলাম, পরিবেশ সম্পাদক এস.এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সরদার রবিউল ইসলাম রবি, মহিলা সম্পাদক রসু আক্তার, শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আজম খান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল আলম সরদার, শ্রম সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, সমাজসেবা সম্পাদক হায়দার আলী, নির্বাহী সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর, মোঃ ইলিয়াস মোল্লা, আফজাল হোসেন রাজু, বিশ্বাস জাফর আহমেদ ও প্রমিতি দফাদার প্রমুখ।
রামপালে মাদ্রসার সাধারণ শিক্ষক অন্য মাদরাসায় এক যুগ ধরে সভাপতি !
মেহেদী হাসান রামপাল, (বাগেরহাট) থেকে।।
রামপালে একটি মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে টানা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অন্য একটি দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রবিধানমালা ২০০৯ এর পরিপন্থীভাবে এমন নিয়োগ অবৈধ হলেও বহল তবিয়তে সভাপতির পদে সামলাচ্ছেন কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ ফাতিমাতুজ্জযোহরা (রঃ) দাখিল মহিলা মাদরাসায়
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু। তিনি পার্শ্ববর্তী ইসলামাবাদ ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার দাখিল পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষক ও বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা অপব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে ওই মাদ্রসায় সভাপতির পদ অলংকৃত করছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর পর দুই বছরের বেশী কেউ সভাপতি পদে থাকতে পারবেন না একটি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশনা মেনে রামপালের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পরিবর্তন হলেও শুধু ওই মাদ্রসায় ৫ম বারের মত বহল তবিয়তে সভাপতি হয়েছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
প্রবিধানমালার ম্যানেজিং কমিটি গঠন এর ৭ এর ২ ধারায় বলা হয়েছে ‘কোন শিক্ষক কিংবা শিক্ষক শ্রেণীর সদস্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হইবেন না’। প্রশ্ন উঠেছে একটি মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষক তা হলে কি করে অন্য একটি দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হতে পারেন ? তাও ২০১০ সাল থেকে টানা ২০২৩ সাল পর্যন্ত !
বার বার সভাপতি পদে নিয়োগ হওয়ায় ওই এলাকার অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা মাদরাসার সুপার মাওলানা গোলাম ফারুকের মুখোমুখি হলে তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে বাচ্চু সাহেব সভাপতি হয়ে আসছেন কিন্তু এরপর তিনি আর সভাপতি হবেন না। আপনারা এ বিষয়ে কোন কিছু লেখালেখি করবেন না বলে অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদরাসার উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে দীর্ঘ দিন সভাপতি পদে রাখা হয়েছে। সভাপতি নির্বাচনে কোন অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবী করেন। এটা নিয়ে সংবাদ প্রচার করতে তিনি নিষেধ করেন।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এমনটি তো হওয়ার কথা নয়। আমি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
এমন অভিযোগের বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম কে ম্যানেজিং কমিটির গঠনের পরিপত্র দেখিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি পরিপত্র দেখে বলেন, আমার দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে এমটি হয়নি। পরিপত্রের নিয়মের বাইরে বিধিবহির্ভূতভাবে সভাপতি পদে নিয়োগ হলে তা বাতিল হবে। মাদরাসা সুপার বা অন্য কেউ তথ্য গোপন করে দুই এর অধিক এবং সভাপতি যদি অন্য মাদরাসার সাধারণ শিক্ষক হয়ে থাকেন তবে সেটিও খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।#
রূপসা রামনগর হতে ১৮ পিস ইয়াবাসহ ২ জন গ্রেফতার
রূপসা প্রতিনিধি
রূপসা রামনগর সুন্দরবন সী ফুডের অনতিদূরে নতুন বাজার ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে ১৮ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে ১ মার্চ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রূপসা থানা ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশনায় কিসমত খুলনা ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মোঃ ফারুক হোসেন ও এএসআই আলিমুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স টহল অবস্থায় ইমরান হোসেন মানিক (৩০),পিং-বেলায়েত হোসেন,সাং-বাগমারা চর রূপসা ও মোঃইয়াসিন হাওলাদার (৩২), পিং-ইসমাইল হাওলাদার, সাং-বাগমারা চর রূপসা, রূপসা কে চ্যালেঞ্জ করে।তাদেরকে তল্লাশি করে ১৮ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাদের রূপসা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
রূপসায় ৮৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
রূপসা প্রতিনিধি
রূপসায় ৮৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে ৩১ মার্চ গ্রেফতার করে।
রূপসা থানা অফিসার ইন চার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন এর নির্দেশনায় কিসমত খুলনা ফাঁড়ির ইন চার্জ এস আই মোঃ ফারুক হোসেন ও এএসআই আলিমুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইব্রাহিম সেখ (৫২), পিং-আবুল সেখ, সাং- রামনগর,টুটুল (৩২),পিং-মোঃরবিউল ইসলাম,সাং-রহিমনগর,মিরাজ সেখ,পিং-আফতাব সেখ,সাং-রহিমনগর নিকট হতে ৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।পরবর্তীতে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ঈদকে সামনে রেখে জমে উটতে শুরু করেছে নড়াইলের বিভিন্ন বিপণি-বিতান
মো: তাহের, নড়াইল প্রতিনিধি:
ঈদকে সামনে রেখে জমে উটতে শুরু করেছে নড়াইলের বিভিন্ন বিপণি-বিতান। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১১-১২ টা পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ আগের চেয়ে বেড়েছে সব কাপড়ের দাম। জেলাশহরের কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বিপণি-বিতানগুলোতে ততই ভিড় বাড়ছে। ক্রেতারা পছন্দমতো পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন। এই ঈদে দোকানিরা ইন্ডিয়ান সাহারা, নারারা জর্জেট, লেহেঙ্গা, সুতি ফ্রগ, গাউন, কাশমিরী সিল্ক, পাকিস্তানি-কটি, শাহজাদি ইত্যাদি ডিজাইনের পোশাক এনেছেন। আবার টেইলার্সের দোকানেও প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। জেলার ২নং পৌরসুপার মার্কেটে ঈদবাজার করতে আসা শরিফুল ইসলাম জানান, রোজার দ্বিতীয় সপ্তাহে শপিং করতে এসেছি। চলতি সপ্তাহেই নিজের ও পরিবারের জন্য শপিং শেষ করতে চাই। কারণ শেষদিকে অনেক ভিড় হয়। সেখানে আরেক ক্রেতা সাদ্দাম হোসেন জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ঈদে সব জিনিসপত্রের দাম বেশি। কিন্তু কি আর করার ঈদে কিছু কেনাকাটা করা দরকার, তাই মার্কেটে এসেছি। রুপগন্জ মালেক মোল্যা মার্কেটের আচঁল বিপণীর মালিক তাপস সাহা জানান, ক্রেতারা নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনছেন। এ দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নিত্য-নতুন ডিজাইনের মেয়েদের সিল্ক, বেনারসি, টাঙ্গাইল প্রিন্ট, জামদানি ও কাতান শাড়িসহ থ্রি-পিস, লং-থ্রিপিস, সালোয়ার কামিজ, লেহেঙ্গা, ছিট-কাপড় শার্টের পিস, প্যান্টের পিস ও পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। ডিজাইন ও রকম ভেদে কাপড়গুলোর ৬০০ থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে রোজার শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা অনেক ভালো হবে। সিকদার প্লাজার জলি ফ্যাশনের সত্ত্বাধিকারী টিংকু জানান, রমজানের শুরু থেকেই বিক্রি বেড়েছে। আশা করছি, এই ঈদে বেচা-বিক্রি ভালো হবে। নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভাল। আমরা জনগণের জান-মাল রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন বিপণি-বিতান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সব সময় টহল দিচ্ছে।
রূপসায় তুচ্ছ ঘটনায় মারপিটে নারী আহত
রূপসা প্রতিনিধি
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে শিউলি (৪০) নামে এক নারী আহত হয়েছে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৩১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এব্যাপারে তার মেয়ে মনি খাতুন রূপসা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, বাগমারা গ্রামের আব্দুল জলিল শেখ এর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী শিউলী খাতুন কদমতলা খেলার মাঠের সন্নিকটে রেলের জমিতে দীর্ঘ দিন ধরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছে। তার বসত ঘরের পাশের একটি পুকুর নিয়ে প্রতিবেশী আবেদ আলী পাইকের ছেলে রসুল ড্রাইভারের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। ঘটনার দিন রসুল ওই পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় শিউলীর দেওয়া পুকুরের বাঁশের পাইালিং তুলে ফেলে। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে রসুলসহ তার লোকজন লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিউলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করতে থাকে। এসময় মাকে বাঁচাতে ছেলে মোঃ সাকিব শেখ ছুটে এলে তাকেও মারপিট করা হয়। মারপিটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিউলির ১১ বছরের নাতনী দোলাও। মারপিটে শিউলি রক্তাক্ত জখম হলে প্রতিবেশী লোকজন ও তার সন্তানেরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনায় শিউলির মেয়ে মনি খাতুন রূপসা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
শিউলী খাতুন জানায়, এই রসুলরা আমাকে ২০ বছর ধরে নানা ভাবে নির্যাতন করে আসছে।
এব্যাপারে আবেদ আলীর ছেলে রসুল জানায়, আমি আমার পুকুর থেকে মাছ মারতে গেলে শিউলী ও তার ছেলে-মেয়েরা আমাকে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। শিউলীকে আমরা মারপিট করিনি।
নোনা মাঠে সোনার ফসল
স্টাফ রিপোর্টার||
সিডর আর আইলার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছেন সুন্দরবনের কোলঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা কয়রার মানুষ। লবণাক্ত জমিতে সোনার ফসল ফলাচ্ছেন তারা। লবণাক্ত কয়রা উপজেলার দিগন্ত জুড়ে মিষ্টি আলু, তরমুজ আর সূর্যমুখী চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন উপকূলের সহস্রাধিক মানুষ। উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম পেলে চাষিরা আরও বেশি জমিতে চাষাবাদ শুরু করবেন বলে মন্তব্য কৃষি বিভাগের।
খুলনা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, লবণাক্ততাকে জয় করতে কয়রা উপজেলার লবণাক্ত জমিতে ফসল উৎপাদনের প্রকল্প গ্রহণ করে কৃষি অধিদপ্তর। ‘ক্লাইমেট-স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন” প্রকল্পের মাধ্যমে কয়রার একশ হেক্টরের বেশি পতিত জমিতে চাষ করা হয় মিষ্টি আলু, তরমুজ আর সূর্যমুখী। নোনা জমিতে সোনার ফসল ফলাতে কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তা নিয়ে কাজ করতে এগিয়ে আসেন সহস্রাধিক কৃষাণ-কৃষাণিও।
কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকশা গ্রামের কৃষাণি ব্রতিরানী বলেন, জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ৪ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ও ১০ বিঘা জমিতে মিষ্টি আলু রোপণ করেছি। প্রতি বিঘায় ১১০ মণের বেশি আলু উৎপাদিত হবে বলে আশা করছি। প্রতি কেজি আলু ৬ টাকার বেশি দরে বিক্রি হয়। এতে এক বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকার মতো লাভ হবে। দাম বেশি হলে ৫০ হাজার টাকার বেশি লাভ হতো।
মৌখালী এলাকার কৃষক আল আমিন সানা বলেন, গত বছর লিজ নিয়ে তিন বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম। তাতে ভালোই ফলন পেয়েছি। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তেমন লাভ করতে পারেননি। এবছরও তরমুজ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি ২০ মণের বেশি তরমুজ উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।
চণ্ডিপুর গ্রামের মেঘনাথ ঢালী বলেন, প্রকল্পের আওতায় পাকিজা জাতের তরমুজ চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। এরইমধ্যে তরমজু গাছে ফল আসতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, লবণাক্ত মাটিতে উৎপাদিত তরমুজ খুব স্বাদের হয়ে থাকে। আকারে একটু ছোট হলেও তা তৃপ্তি সহকারে খাওয়া যায়। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত না হানলে এবার তরমুজ ভালো লাভ হবে।
জেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শষ্য) মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, উপকূলীয় উপজেলার মধ্যে কয়রা অন্যতম। ঘূর্ণিঝড় সিডর আর জলোচ্ছ্বাস আইলার আঘাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগে জর্জরিত একটি উপজেলা। এখানকার মাটি অতিরিক্ত লবণাক্ত। সেই লবণাক্ত জমিতে কৃষকরা সোনার ফসল উৎপাদন করছেন। এটা একটা ভালো বিষয়। এখানকার কৃষকদের অনেক আগে থেকেই সহায়তা করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সার, বীজ, কীটনাশক প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন, কৃষি অধিদপ্তরের ‘ক্লাইমেট-স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন’ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে এই উপজেলার কৃষকদের পতিত জমিসহ চাষযোগ্য সব জমি চাষাবাদের আওতায় আনার কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে মিষ্টি আলু, তরমুজ, তেল জাতীয় ফসল সূর্যমুখীর চাষ করে এখানকার কৃষকরা সফলতার মুখ দেখছেন। সঠিক দাম পেলে কৃষকরা আরও বেশি চাষাবাদে আগ্রহী হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জানালা দিয়ে চেতনানাশক ছিটিয়ে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে ডাকাতি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে দিয়ে সবাইকে অজ্ঞান করে ডাকাতি করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৩১ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের নেবাখালী গ্রামের কাজীপাড়ায় পুলিশ সদস্য মাসুদ কাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। আটক ওই ব্যক্তির নাম আবদুল কাদের (৩৫)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রইচপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজী আবু সুলতান ওরফে তুষার জানান, সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের নেবাখালী গ্রামের মৃত কাজী আলাউদ্দিনের ছেলে কাজী মাসুদ ঢাকায় ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত রয়েছেন। তার একমাত্র ছেলে কাজী ফাহিমও পুলিশে চাকরি করেন। মাসুদের স্ত্রী রানী একমাত্র মেয়ে সুমাইয়াকে (১৩) নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বাড়িতে কোনও পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে ৪/৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত সেহরির সময় ঘরের জানলা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে দিলে ঘরে থাকা মা ও মেয়ে অচেতন হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা জানলা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাদের দুজনের হাত, পা ও মুখ বেঁধে ফেলে রেখে নগদ টাকা, সোনা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাসুদের স্ত্রী রানী আধা অচেতন অবস্থায় মোবাইলে কল করে তার স্বামীকে জানান। পরে মাসুদ বিষয়টি আমাকে জানালে আমি দ্রুত লোকজন নিয়ে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করে নেবাখালী বিল থেকে আবদুল কাদেরকে আটক করি। এ সময় বাকিরা পালিয়ে যায়। সকালে তাকে সদর থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। অসুস্থ রানী ও সুমাইয়াকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা এখন অনেকটা ভালো।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আবদুল কাদের নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে স্বপ্নে বিভোর কৃষাণ-কৃষাণী
যশোর অফিস
যশোর কৃষি জোনের আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে স্বপ্নে বিভোর কৃষাণ-কৃষাণী।এ অঞ্চলের গ্রামীণ মাঠঘাটে ধানের সোনালী শীষ দোল খাচ্ছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে কোনো কোনো এলাকায় পাকা ধান কাটা শুরু হবে বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে যশোর কৃষি জোনের আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় ৩ লাখ ৮১হাজার ১০হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।এ কৃষি জোনের আওতায় জেলাগুলো হচ্ছে-যশোর,ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বোরোর বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, যশোর জেলায় এবার ১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।এছাড়া ঝিনাইদহ জেলায় ৯২হাজার ২শ’হেক্টর জমিতে, মাগুরা জেলায় ৩৬ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে,কুষ্টিয়া জেলায় ৩৫হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে,চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩৬হাজার ৭শ’১০ হেক্টর জমিতে এবং মেহেরপুর জেলায় ২০হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত পরিচালক মো: আবু হোসেন বলেন, খাদ্য সংকট যাতে না হয় সে লক্ষ্যে বোরো চাষে সফলতার জন্য প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সার ও উন্নতমানের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক কৃষকদের স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করেছে। সামনে কোন প্রাকৃতিক দুূর্যোগ না হলে চলতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।











































