ঢাকা অফিস।।
২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ও তার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব নিয়েই আলোচনা ছিল তুঙ্গে। সময় গড়ানোর সঙ্গে বাড়তে থাকে শনাক্তের হার। নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বছরের প্রথম দিকে তাই ব্যস্ত ছিল কোভিড-১৯ সংক্রমিতদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। তবে তখন মোটাদাগে আলোচনার বাইরে ছিল অন্যান্য সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি।
কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশে মার্চ-এপ্রিলের দিকে বাড়তে থাকে ডায়রিয়ার প্রকোপ। সেটি সামাল দিয়ে সবাই যখন একটু স্বস্তির শ্বাস নিচ্ছিল, ঠিক তখনই দেশের হাসপাতালগুলোতে বাড়তে থাকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বছরের শেষ তিন মাসে এডিস মশার কামড়ে সৃষ্ট ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতেই হিমশিম খেতে হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করার ফলে একধরণের আত্মতুষ্টি চলে আসে প্রায় সব ক্ষেত্রে। আর তখন সাময়িক অর্জনে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার ফলে মশার কামড়েও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয় দেশের নাগরিকদের। অথচ রোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী ও স্থিতিশীল কাঠামো গড়ে তোলা ছিল স্বাভাবিক বিষয়। সেক্ষেত্রে হয়তো সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া গেলে মশার কামড়ে এতো মানুষের মৃত্যু দেখতে হতো না।
বছরের প্রথম ভাগ
বছরের প্রথম সাতদিন দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল এক হাজারের নিচে। তবে ৬ জানুয়ারি থেকে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। একইসঙ্গে বাড়তে থাকে দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হারও। জানুয়ারির শেষভাগে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে ১৫ হাজারের বেশি হয়ে যায়। দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে আবার কমে আসতে শুরু করে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ও দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হার। এই ধারা অব্যাহত থাকে জুন মাসের আগ পর্যন্ত। জুন ও জুলাই মাসের দিকে সংখ্যাগত পরিসংখ্যানে কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বছরের শেষভাগেও তাই কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের হার খুব একটা বেশি উদ্বিগ্ন করতে পারেনি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে।
আলোচনায় ডায়রিয়া
মার্চ মাসে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের হার কমে আসতে শুরু করলেও এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়তে থাকে ডায়রিয়ার প্রকোপ। ফলে দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্রেও (আইসিডিডিআর,বি) ডায়রিয়া রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সার্বিক অবস্থা মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।
আইসিডিডিআর,বি’র কর্মকর্তারা জানান, মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। যেখানে হাসপাতালটিতে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতেন, সেখানে এপ্রিল মাসে প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছিলেন। ছয় মাসের শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ডায়রিয়ায় কাবু হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছিলেন। স্মরণকালের রেকর্ড গড়ে দিনে এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছিল হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের স্থায়ী ক্যাম্পের বাইরে অস্থায়ী দুটো তাঁবু প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে এই প্রকোপও কমে আসে।
শেষ ভাগে মশার কামড়ে ব্যতিব্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা
২০০০ সালে প্রথম ঢাকাতে ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়। তারপর কেটে গেছে ২২ বছর। ২০২২ সালের আগ পর্যন্ত দেখা গেছে আগস্ট -সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমা-বাড়ার ভেতর দিয়ে গেলেও অক্টোবর এলেই কমতে শুরু করত। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসত। ২০১৯ সালে দেশে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়। এক লাখ এক হাজার ৩৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও ২০১৯ সালে ১৮৯ জন মৃত্যুবরণ করে। এই বছরের আগস্টে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও পরে তা কমতে থাকে।
তবে ২০২২ সালে দেখা গেল প্রায় ভিন্ন চিত্র। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ৬২ হাজার ৩৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী দেশে অক্টোবর, নভেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ হাজার ২৪৩ জন। শুধুমাত্র এই তিন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২৬ জন। এর আগে দেশে কখনো বছরের শেষ ভাগে এতো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি।
২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর মাঝে ১৭৩ জন মারা গেছেন ঢাকা মহানগরীর দুই সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতালগুলোতে। এর বাইরে কক্সবাজারে মারা গেছেন ২৬ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। এছাড়াও ঢাকা মহানগরীর বাইরে বিভাগের অন্যান্য এলাকায় দুই জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ছয় জন, খুলনা বিভাগে ১২ জন, রাজশাহী বিভাগে সাত জন, বরিশাল বিভাগে ১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রংপুর ও সিলেট বিভাগে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
মূলত সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ থেকেই এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে তা মোকাবিলা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হিমশিম খাওয়ার কথা জানান খোদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করে।
রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর থেকে ওই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য চারটি ইউনিট চালু করা হয়। একই সঙ্গে ১২ জন চিকিৎসককে তিন শিফটে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে গত এক বছরে সফলতা বিবেচনার চাইতেও দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৮১ জনের মারা যাওয়া। এর মাঝে শিশুদেরও আমরা দেখেছি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম দেশে কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্য খাতে পলিসি সংক্রান্ত যে পরিবর্তন আসবে এবং সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন করা হবে— এমন কিছুই আমরা এখন পর্যন্ত দেখিনি। আর এর একটা কারণ হয়ে থাকতে পারে অল্পতেই আত্মতুষ্টিতে ভোগা।
তিনি আরও বলেন, দেশে এ বছর ডেঙ্গুতে এতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তা এর আগে কখনও হয়নি। ডেঙ্গু তো গত ২০১৯, ২০২০ সালেও ছিল। সেই বছরগুলোতে এতজনের মৃত্যুর ঘটনা কিন্তু দেখা যায়নি। তাহলে কেন এ বছর এত মৃত্যু হলো? আমরা কি পূর্ববর্তী ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে কোনো শিক্ষা নিয়েছিলাম? শিক্ষা নেইনি, কারণ আমরা এমন একটা জাতি, যারা খুব বেশি আত্মতুষ্টিতে ভুগি।
অধ্যাপক হামিদ বলেন, কোভিডের সময় স্বাস্থ্যখাতে অনেক দুর্বলতা থাকার বিষয়টি সামনে আসে প্রবলভাবে। জরুরি ব্যবস্থা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়লেও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণে আমরা বেশিদূর এগুতে পারিনি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটিকে এনগেজ করতে পারিনি। সবমিলিয়ে পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে না পারায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুসংখ্যা বেড়েছে।
তিনি বলেন, ২০২২ সালের উল্লেখযোগ্য সফলতার কথা বলতে হলে সবার আগে সামনে আসবে ভ্যাক্সিনেশনের বিষয়টি। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন আগে যেসব জায়গায় ছিল না, সেসব জায়গায় আমরা নতুন করে স্থাপন করেছি। তবে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে যে জনবল প্রয়োজন তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কিনা সেটি জানা প্রয়োজন। নতুবা দেখা যাবে ২০২২ সালের সফলতা অতি অল্প সময়েই ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে।
‘করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনে সফলতা’
২০২২ সালের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ভ্যাকসিন কার্যক্রমে গতি আনার মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। এই সময়ে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থায় একটা অর্জন যোগ করতে পেরেছি। সারাদেশে প্রায় ২০ হাজারের মতো বেড বাড়িয়েছি। ১৭০টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে আমরা অক্সিজেন সাপ্লাই দিতে সক্ষম হয়েছি। নতুন করে ৪৩টি হাসপাতালে জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। আগে যেখানে মাত্র ২০০ আইসিইউ বেড ছিল সেখানে বাড়িয়ে এখন প্রায় দুই হাজারের মতো করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার আমাদের দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি খানিকটা দায়ী। কারণ এবার থেমে থেমে অনেক দিন বৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে আমাদের তরফ থেকে কোনো ব্যত্যয় হয়নি। আমাদের জনবল, হাসপাতাল, শয্যা— সবই প্রস্তুত ছিল।
তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরপরই ডেঙ্গুটা হওয়ার কারণে মানুষ প্রথমদিকে ততটা গুরুত্ব দেয়নি। আমরা হাসপাতালে মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখেছি, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ৭২ থেকে ৮০ শতাংশ ঘটেছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সময় থাকতে হাসপাতালে আসলে বাঁচানো যেত।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিষয় হলো, যখন রোগীর জ্বর কমে যায় তখনই এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে থাকে। ওই সময় রোগীর প্ল্যাটিলেট কমে যায়, ব্লিডিং হয়, হেমোরেজ হয় ইত্যাদি। জ্বর কমে যাওয়ার পর মানুষ ভাবে যে রোগী সুস্থ হয়ে গেছেন। যেমন- কোভিডের বেলায় জ্বর কমে গেলেই আমরা ধরে নিয়েছি যে রোগী মোটামুটি সুস্থতার দিকে। এসব কারণে মানুষের মধ্যে অনেক কনফিউশন তৈরি হয়।
‘নার্স-চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছি, ভ্যাকসিনে রোল মডেল বাংলাদেশ’
২০২২ সালের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ চললেও আমরা এরই মাঝে স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রেখেছি। এই সময়ে আমরা নতুন নতুন হাসপাতাল তৈরি করেছি ও পুরনো হাসপাতালের সেবার পরিধি বাড়িয়েছি। একইসঙ্গে বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতেও সেবার পরিধি বাড়িয়েছি।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরুর দিকে আমাদের মাত্র একটি ল্যাব ছিল নমুনা পরীক্ষার জন্য। তবে পরবর্তীতে আমরা সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়িয়েছি। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে আট শতাধিক আরটি-পিসিআর ল্যাব আছে। জিন এক্সপার্ট মেশিন ছিল হাতেগোনা কয়েকটি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় এখন হাসপাতাল আছে। বিশ্ব ব্যাংকের টাকায় আমাদের তিনটি অক্সিজেন প্লান্ট হচ্ছে। এগুলো হলে আমাদের আর বাইরে থেকে লিকুইড অক্সিজেন আনতে হবে না, বরং সারাদেশে অক্সিজেন সাপ্লাই দিয়ে আরও উদ্বৃত্ত থাকবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন ভ্যাকসিনেশন। দেশের একটা বিশাল অংশকে আমরা ভ্যাকসিন দিতে পেরেছি। ভ্যাকসিন প্রয়োগে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল। আর এ সবই আমাদের অর্জন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর বেশি মানুষ মারা গেছে, এটা সত্যি। তবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের লোকজন তো আর মশা মারতে পারবে না। সেটা সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাজ। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে আমরা সবসময় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।









































