নওয়াপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি।।
অভয়নগর উপজেলার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রায় আড়াই হাজার হতদরিদ্র পরিবার চাল তুলতে পারছে না। তিন মাস চাল উত্তোলন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তালিকা যাচাই না হওয়ার কারণে তাদের নামে বরাদ্দ করা চালের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) দেওয়া হচ্ছে না। তাগিদ দেওয়ার পরও ইউনিয়ন থেকে তালিকা না পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
পল্লি অঞ্চলের দরিদ্র জনসাধারণকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সহায়তা দিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতি মাসে একজন ৩০ কেজি চাল পাবেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, তালিকা সঠিকভাবে তৈরি করতে ডিজিটাল ডাটাবেজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ উপকারভোগীর তালিকায় মৃত, সচ্ছল, ভুয়া, এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া এবং অন্য খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত, এমন ব্যক্তির পরিবর্তে প্রকৃত হতদরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করে। সে তালিকা উপজেলা কমিটিতে পাঠানো হয় এবং উপজেলা কমিটি তা যাচাই করে অনুমোদন দেয়। এরপর কমিটি প্রতি পরিবারের একজনের নামে ছবিসহ কার্ড ইস্যু করে। তবে গত অক্টোবর থেকে উপজেলায় ২ হাজার ২৩৯ জনের নাম যাচাই সম্পন্ন হয়নি। পরিবারগুলোও চাল পাননি।
তালিকা অনলাইন করার পরও চাল পাচ্ছেন না লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘তিন মাস চাল না পাওয়ায় খুব কষ্টে আছি। গাছ বিক্রি করে আমাকে চাল কিনতে হচ্ছে।’
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মিঠুন চক্রবর্তী জানান, প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে প্রতি মাসে তালিকা বাছাই করে জমা দিতে বলা হয়েছে। কয়েকটি তাগিদপত্রও দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ১০ নভেম্বর তাদের তাগিদপত্র দেওয়া হলেও সংশোধন হয়নি। এ কারণে ২ হাজার ২৩৯ জনের তালিকা ও ডিও দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. তৈয়েবুর রহমান দাবি করেন, সঠিকভাবে যাচাই না হওয়ার কারণে দেরি হচ্ছে। দ্রুত তালিকা জমা দেওয়া হবে। শ্রীধরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আগের তালিকায় অনেক অনিয়ম ছিল। সেগুলো সংশোধন করতে সময় লেগেছে। সংশোধন করে তালিকা উপজেলায় জমা দিয়েছি।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, ইউনিয়ন থেকে তালিকা পাঠাতে দেরি করার তাঁদের চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।









































