বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা খাদ্য দপ্তরের নিরাপত্তা প্রহরী অফিসে কাজ না করেও নিয়মিত বেতন তোলেন দীর্ঘদিন ধরে । বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা খাদ্য অফিসের পরিদর্শক আদুরী ব্রহ্ম এর আপন ছোটবোন হওয়ার সুবাদে এ সুযোগ গ্রহন করছে অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী (দারোয়ান) বাসন্তী রাণী ব্রহ্ম তাঁর । অভিযোগ উঠেছে বাসন্তী রাণী ব্রহ্ম অফিসে কাজ না করেনই বছরের পর বছর বেতন ভাতা তুলছেন। তাঁর এসব অপকর্মে সহযোগিতা করছে চিতলমারী উপজেলা খাদ্য অফিসের পরিদর্শক আদুরী ব্রহ্ম।
বুধবার (৩০ নভেম্বর, ২০২২) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিতলমারী উপজেলা খাদ্য দপ্তরে উপ-খাদ্য পরিদর্শক হিসাবে আদুরী ব্রহ্ম দীর্ঘ বছর চাকুরী করেন। এরপর তিনি ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ সালে পদন্নোতি পেয়ে একই অফিসে পরিদর্শক হিসাবে ৭ বছর ধরে চাকুরী করছেন চিতলমারী উপ জেলায়। তিনি চিতলমারী উপজেলার স্থায়ীবাসিন্দা ও দীর্ঘদিন চাকুরীর সুবাদে অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বসেছেন। ২০১৪ সালে তাঁর আপন ছোট বোন বাসন্তী রানী ব্রহ্ম গোডাউনের নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে যোগদান করেন। এরপর বড় বোনের সহযোগিতায় ডিউটি না করে প্রতি মাসে সরকারী বেতন ভাতা উত্তোলণ করে করেন বলে অঅিযোগ উঠেছে। ২০১৯ সালে বেতন-ভাতা অনলাইনে আসলে বাসন্তী রানী ব্রহ্ম চিতলমারী খাদ্য অফিস থেকে বদলী হয়ে সর্বশেষ রামপাল উপজেলার গৌরাম্ভায় যোগদান করেন। কিন্তু অফিস ফাঁকি দিতে পুনরায় ডেপুটেশনে চিতলমারী উপজেলায় বড়বোন আদুরী ব্রহ্মর কাছে চলে আসেন। কাগজে, কলমে ও খাতায় বাসন্তী রানী ব্রহ্মর হাজিরা নিয়মিত থাকলেও কোনদিনও অফিস করে না। বড় বোন আদুরী ব্রহ্ম গোপনে ব্যাগে করে হাজিরা খাতা বাসায় নিয়ে যান। সেখানেই স্বাক্ষর করে ডিউটি শেষ করেন বাসন্তী রাণী ব্রহ্ম এবং মাস গেলেই বেতন তোলেন বাসন্তী রাণী ব্রহ্ম।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে উপজেলার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা বলেন, ‘আমরা জীবনেও বাসন্তী রাণী ব্রহ্মকে অফিসে ডিউটি করতে দেখি নেই। তাকে আমরা চিনিও না। তাঁর বড় বোন খাদ্য অফিসের বড় অফিসার। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাসের পর মাস বেতন তুলছেন।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসের এক কর্মচারী বলেন, ‘আমি এই প্রথম বাসন্তী রানীর নাম শুনেছি। তাঁকে কোনদিন ডিউটি করতে দেখি নাই।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাসন্তী চিতলমারী থেকে বেতন তুলেছে। ডিজিটাল হওয়ার পরে সে বদলী নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। কিন্তু ডেপুটিশনে চিতলমারী রয়ে যায়।
চিতলমারী খাদ্য অফিসে তিন দিন ঘুরেও বাসন্তী রানী ব্রহ্মকে না পাওয়ায় তাঁর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর অফিসের খাদ্য পরিদর্শক আদুরী রাণী ব্রহ্ম তাঁর বোনের ফোন নাম্বার দেননি।
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আদুরী ব্রহ্ম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাসন্তী রানী ব্রহ্ম আমার আপন ছোটবোন এ কথা সত্য। ২০২০ সালে বাসন্তী চিতলমারীর খাদ্য গুদামে কমবেশি ডিউটি করেছে। সে চিতলমারীতে ডেপুটিশনে চাকুরী করে। ব্যাগে করে হাজিরা খাতা বাসায় নেয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য দিতে বাধ্য নয় বলে উল্লেখ করেন।’
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এস এম শামীম হাসান ভোরের আকাশ কে বলেন, ‘আমি বর্তমানে তিন উপজেলার দায়িত্বে আছি। সবদিন অফিসে থাকতে পারি না। আমি যেদিন অফিসে আসি সেদিন বাসন্তী রানী ব্রহ্মকে অফিসে দেখি। তবে তিনি গোডাউনে নয়, অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী।’
বাগেরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম তাহাসুনুল হক বলেন, ‘বাসন্তী ও আদুরী ব্রহ্মের ব্যাপারে শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা জানান, অফিস না করে বেতন তোলার কোন সুযোগ নেই। কারো সহযোগিতায় অনিয়ম হওয়ার প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #










































