ঝিনাইদ প্রতিনিধি।।
ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেলের মাপে কম দেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সামনের সারির যোদ্ধা নীরব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সহিংস হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ শহর।
শনিবার (৭ মার্চ) রাতে এ হত্যাকাণ্ডের পর শহরের আরাপপুর এলাকায় সৃজনী ফিলিং স্টেশনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এর আগে আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং ইউনিলিভার ডিপোতে হামলা চালানো হয়।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাসিম, আড়ূয়াকান্দি গ্রামের ইউনূস আলীর ছেলে রমিজুল ও কাস্টসাগরা গ্রামের সোফিয়া আর রহমানের ছেলে আবু দাউদকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)।
সৃজনী পেট্রোল পাম্পের ক্যাশিয়ার আলামিন শেখ জানান, শনিবার মধ্যরাতে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল তাদের পাম্পে আকস্মিক হামলা চালিয়ে মেশিন ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে পাম্পের তিনটি মেশিন গুঁড়িয়ে দেয়।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার তানভীর হাসান জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কে বা কারা ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ঝিনাইদহ সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মীর রাকিব রোববার ভোরে জানিয়েছেন, বাদ জোহর নিহত নীরবের জানাজা শেষে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা হবে। শহরে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে শহরের বেপারীপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে নীরব খুন হন। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, নীরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় পালক পিতা আবুল কাশেমের কাছে বসবাস করতেন এবং সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ফাস্টফুডের দোকান ছিল।









































