স্টাফ রিপোর্টার
তীব্র শীতের কারণে হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। আক্রান্তদের অধিকাংশই জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া ও নিউমোনিয়ায় ভুগছে। সরকারি হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কোনো হাসপাতালে আবার একটি শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চলছে চিকিৎসাসেবা। অনেককে বহির্বিভাগে ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখে বাসায় বা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, খুলনায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনে ১ হাজার ৪০০টি শিশু খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর, তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। শিশু হাসপাতালের শয্যাসংকট থাকায় রোগীদের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যান স্বজনেরা।
খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তীব্র শীতের কারণে তিন দিনে বিভাগের ১০ জেলা থেকে পানিবাহিত ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। এ সময়ে বহির্বিভাগে ১ হাজার ৪০০ জন বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে। এর মধ্যে ঠান্ডাজনিত কারণে আক্রান্ত হয়ে ৬৮ জন এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১২৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশ শিশু। তারা জ্বর, সর্দি-কাশি, কোল্ড ডায়রিয়া, পেটের পীড়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
গতকাল দুপুরে শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কোনো শয্যা খালি নেই। এ সময় বাগেরহাট থেকে শিশুসন্তানকে চিকিৎসা করাতে আসা নুরুন্নাহারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁর তিন বছরের ছেলে হায়দার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। নুরুন্নাহার বলেন, ‘গত রোববার ছেলের হঠাৎ জ্বর আসে, সঙ্গে কাশি শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও, কমেনি। পরে খুলনায় এসে শিশুচিকিৎসক ও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারলাম, ছেলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।’
জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডালিয়া বেগম বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে খুলনায় তীব্র শীত পড়ছে। এ সময় হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশুরা চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৪০০ জন। ঠান্ডাজনিত ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সব রোগীকে ভর্তি করাতে পারছি না। হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা কম থাকায় অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে যাচ্ছেন।’











































