স্টাফ রিপোর্টার
নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২)-এ রাজনৈতিক তদ্বির ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের মধ্যেই একজন ৬ষ্ঠ গ্রেডের প্রভাবশালী প্রকৌশলীকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বোর্ড মিটিং ছাড়াই হঠাৎ করে জারি করা এই নিয়োগপত্রে ক্ষোভে ফুসছে খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
হঠাৎ পত্র—হঠাৎ নিয়োগ: ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. ইবাদত হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারক নং ৪৬.০০.০০০০.০৯৫.১৪.১৫৯.২০২৪-৭০১ পত্রে খুলনা ওয়াসায় পৌঁছায়। এতে বলা হয়—এডিবি’র অনুরোধে ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২)’ দ্রুত বাস্তবায়নে পিডি নিয়োগ জরুরি। যদিও অর্থ বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পিডি হতে হলে ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু খুলনা ওয়াসায় সে ধরনের কেউ না থাকায় প্রেষণে পিডি নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
কিন্তু বাস্তবে কী হলো? নিয়ম ভেঙে পিডি করা হলো একজন ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা, যিনি দীর্ঘদিন খুলনার একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। সূত্র দাবি করেছে— অতীতে তিনি আওয়ামী ঘরানার রাজনীতি ব্যবহার করে সুবিধা নিয়েছেন, এখন আবার সাবেক ছাত্রশিবির পরিচয় সামনে এনে নতুন মহলে তদ্বিরে ব্যস্ত, পিডি হওয়ার পেছনে ৫ কোটি টাকার ‘মিশন’ পরিচালনা করা হয়েছে।
বোর্ড সদস্য-রাজনৈতিক নেতৃত্ব‘সমন্বয়ক’—যোগসূত্রের অভিযোগ: ওয়াসাভবনের ভেতরে প্রচার আছে—ঢাকার এক আলোচিত ‘সমন্বয়ক’, নতুন রাজনৈতিক দলের এক নারী নেত্রী এবং খুলনা ওয়াসার ছাত্র প্রতিনিধি বোর্ড সদস্য ইব্রাহিম খলিল—এই তিন পক্ষের সমন্বয়েই এসব তদ্বির সফল হয়েছে। ইব্রাহিম খলিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে যোগ দেন। অন্যদিকে আলোচিত প্রকৌশলী রেজাউল করিম অতীতে আইইবি নির্বাচনে আওয়ামী-ঘরানার প্যানেল থেকে অংশ নিয়েছিলেন।
ওয়াসার ভেতরে চাপা আগুন: ওয়াসার বহু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন— “একজন বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে জোর করে পিডি করা হলো। পুরো ওয়াসাভবনে অস্থিরতা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে এই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হতে পারে।”
২৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প—ঝুঁকিতে বাস্তবায়ন: প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয় ৯ ডিসেম্বর। এটি বাস্তবায়িত হবে বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে। মেয়াদ: ১ অক্টোবর ২০২৫-৩০ জুন ২০৩০। কিন্তু পিডি নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তদ্বির, অনিয়ম, রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে নিয়োগকে কেন্দ্র করে খুলনা ওয়াসায় এখন চরম অস্থিরত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন— এই নিয়োগ বাতিল না হলে বড় ধরনের প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।











































