খামারিদের কাছে কদর বেড়েছে শামুকের, অবাধে নিধন: প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্টের শঙ্কা

15


ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার ডুমুরিয়ায় মাছের খামারিদের কাছে শামুকের কদর বেড়েই চলেছে। শামুকের মাংস চিংড়ি ও পাঙাশ মাছের খাদ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এ কারণে বাণিজ্যিকভাবে আহরণ শুরু হওয়ায় অবাধে নিধন হচ্ছে শামুক। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্টের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নে ছোট-বড় ১৯ হাজার ৭১২টি গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক ঘেরে পাঙাশ মাছের চাষ হচ্ছে। চিংড়িচাষিরা বিভিন্ন স্থান থেকে শামুক সংগ্রহ করেন। পরে শামুকের খোলস ছাড়িয়ে এর মাংস ছোট ছোট টুকরা করে মাছের ঘেরে ফেলেন। শামুকের মাংশ শুধু চিংড়ির খাদ্য হিসেবেই নয়, পাঙাশ মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলার ডুমুরিয়া সদর, হাসানপুর, রুদাঘরা, রংপুর, শলুয়া, গুটুদিয়া, ভান্ডারপাড়া, শরাফপুর, শোভনা, খর্নিয়া, বান্দা, তালতলা, সাহস, ধামালিয়া, বটবেড়া, শাহাপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুকুরে ঘের করে মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ি ও পাঙাশ মাছের চাষ হচ্ছে। ওই সব চিংড়ি ও পাঙাশ চাষকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অস্থায়ীভাবে ছোট ছোট শামুক বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, এক শ্রেণির মানুষ খাল, বিল ও মুক্ত জলাশয় থেকে শামুক কুড়িয়ে এনে ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শামুক নানাভাবে বিক্রি হয়ে থাকে। যেমন-ছোট-বড় ১০০টি শামুক ২০ থেকে ২৫ টাকা। আবার খোলস ছাড়ানো শামুক প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বস্তা বা ঝুড়িভর্তি শামুক নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করা হয়। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বাগেরহাট, পাবলা, ঝালকাটি ও কুষ্টিয়া থেকে ট্রাকযোগে বস্তাবন্দি হয়ে প্রতিদিন ভোরে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শামুক আমদানি করা হচ্ছে। গ্রামের হতদরিদ্র শ্রেণির মানুষ চুক্তিতে শামুক ভাঙার কাজ করে অর্থ উপার্জন করছেন।

উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের বিলপাবলা গ্রামের অমল কুমার রায়, অনিতা বিশ্বাস জানান, তারা প্রতিদিন বিল ও খাল থেকে শামুক কুড়িয়ে এলাকার বিভিন্ন ঘের মালিকের কাছে বিক্রি করেন। এতে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন।

শামুক ভাঙার কাজে নিয়োজিত উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের হাসিনা বেগম, জেবায়দা বেগম ও পারুল খাতুন জানান, তারা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একজন ৩ বস্তা শামুক ভাঙতে পারেন। এতে ৩০০ টাকা আয় করতে পারেন। তাদের পরিবারের নারী-পুরুষসহ শিশুরাও শামুক ভাঙার কাজ করে আয়-রোজগার করতে পারছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ও লতাখামাবাটি গ্রামের মৎস্য খামারি মো. আমিনুর রহমান গাজী ও বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, গলদা চিংড়ি ও পাঙাশ মাছকে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে শামুকের মাংস খেতে দিলে দ্রুত বেড়ে ওঠে। তাড়াতাড়ি বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠায় লাভও বেশি পাওয়া যায়।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোয়েল মো. জিল্লুর রহমান রিগান জানান, শামুক হচ্ছে, পানি শোধনের প্রাকৃতিক ফিল্টার। শামুক নিধনে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। চিংড়ি ও পাঙাশ মাছের খাদ্য হিসেবে শামুকের মাংস ব্যবহার না করার জন্য মাছ চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।