Home আলোচিত সংবাদ চিকিৎসা নয়, কমিশন বাণিজ্যে ডুবে যাচ্ছে খুমেক হাসপাতাল

চিকিৎসা নয়, কমিশন বাণিজ্যে ডুবে যাচ্ছে খুমেক হাসপাতাল

13


দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের আস্থা যে ক্রমেই নড়বড়ে হচ্ছে—খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) সম্পর্কে সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য তার ভয়াবহ প্রমাণ। বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্যের ফলে রোগীরা প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন; টেস্ট ছাড়াই রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে; আর এর মধ্য দিয়ে চিকিৎসা সেবার নৈতিকতা, মানবতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, খুমেক হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিচ্ছেন। দালাল ও এটেন্ডেন্টদের ভাগ দিতে গিয়ে কমিশনের পরিমাণ আরও বাড়ছে। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য বিনা টেস্টেই ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করছে। অসুস্থ মানুষ যখন চিকিৎসকের কাছে নিরাময়ের আশায় যান, তখন তার অসহায়তাকে পুঁজি করে এভাবে প্রতারণা করা কেবল অনৈতিকই নয়-এটি সরাসরি অপরাধ।
এই কমিশন সংস্কৃতি এখন রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে ফেলেছে। ভুল রিপোর্টের কারণে রোগীরা ভুল চিকিৎসা পাচ্ছেন, অনেকের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। অর্থাৎ, চিকিৎসার নামে চলছে মানুষের জীবন নিয়ে ভয়াবহ জুয়া। আর এই চক্রের নীরব অংশীদার হয়ে উঠেছে হাসপাতালের ভেতরের কিছু কর্মচারী ও দালাল।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আরও হতাশাজনক। তারা বলছেন, “কোনো অভিযোগ পাইনি।” কিন্তু খুমেকের সামনেই যখন ২০–৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রোগী ভাগাভাগির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, তখন প্রশাসনের অজানা থাকার সুযোগ কোথায়? দায়িত্বশীলদের নীরবতা এখানে সমানভাবে অপরাধের অংশীদার।
চিকিৎসা পেশা কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়-এটি একটি মানবিক দায়িত্ব, একটি নৈতিক অঙ্গীকার। সেই জায়গা থেকে চিকিৎসক সমাজের সুনাম ও বিশ্বাস রক্ষা করা আজ জরুরি। স্বল্প কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো পেশাটিই কলঙ্কিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে কমিশন বাণিজ্য বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি, নিয়মিত মনিটরিং কমিটি, এবং স্বচ্ছ অভিযোগ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। যারা কমিশন চক্রে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া এই অপসংস্কৃতি বন্ধ হবে না। খুমেক হাসপাতাল খুলনা অঞ্চলের মানুষের শেষ ভরসাস্থল। সেই প্রতিষ্ঠানে যদি চিকিৎসা নয়, কমিশন হয় প্রাধান্য-তাহলে জনগণের আস্থা ভেঙে পড়বে ভয়াবহভাবে। সময় এসেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মুখ ফিরিয়ে না থেকে অবিলম্বে তদন্ত ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের। অন্যথায়, মানুষের জীবন নিয়ে এ নির্মম বাণিজ্য চলতেই থাকবে-আর “চিকিৎসা সেবা” নামটি হারিয়ে যাবে লোভের অন্ধকারে।