Home কলাম চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আমেরিকা-জাপানের ৩ বিজ্ঞানী

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আমেরিকা-জাপানের ৩ বিজ্ঞানী

35

সাবিয়া সিদ্দিকা||

মারণ রোগের চিকিৎসায় ইমিউনো থেরাপি নিয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কার: ক্যানসারের মতো মারণ রোগের চিকিৎসায় ইমিউনো থেরাপি নিয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কার। চিকিৎসায় এবারে নোবেল পেলেন আমেরিকা-জাপানের ৩ বিজ্ঞানী । আমেরিকার বিজ্ঞানী মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের সাইমন সাকুগুচি । ক্যানসারের বিরুদ্ধে বডির নিজস্ব ইমিউনিটি কাজ করতে পারে না । টি রেগুলেটারি সেল (T Regulatory Cells) খারাপ কাজ করে । কিন্তু এই টি রেগুলেটারি সেল যে উৎস, যে গোত্র, যে জিন, তার নাম ফক্স পি থ্রি । এই ফক্স পি থ্রি (Fox P3) জিনটার আবিষ্কারক হচ্ছেন এরা। ফক্স পি থ্রি জিন বলে, ইদুরের মধ্যে মিউটেশন হওয়ার জন্য বডিতে, আনকন্ট্রোটলড হাইপার ইমিউন রিয়েকশন হতে পারে ।

তিনজন এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন গত ২০ বছর ধরে । আমাদের শরীরের মধ্যে একটা সেন্ট্রাল ইমিউনিটি সিস্টেম আছে। যেটা আমাদের বোনম্যারোর মধ্যে আছে । লিম্ব টিস্যুর মধ্যে আছে । যেটা কিনা বাইরের সমসÍ ইনফেকশন, এবং আক্রমণ থেকে, আমাদের সেন্ট্রাল ইমিউনিটি দিয়ে আমাদের শরীরকে রক্ষা করছে । এই টি রেগুলেটারি সেলের রিসার্সে নোবেল প্রাইজ পেলেন । এটি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি গবেষণা হবে । যাতে ডায়াবেটিসের মতো, থাইরয়েডের মতো,আমাদের কানকটিভ টিস্যু ডিসঅর্ডারের মতো, মারাত্মক সমসÍ অসুখকে, আমরা একেবারে নির্মূল করতে পারে ।


৬ই অক্টোবর ২০২৫ বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে এ বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে । সুইডেনের বিখ্যাত কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি এই বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের যে নাম ঘোষণা করেন তারা হলেন তিনজন গবেষক মেরি ই. ব্রাকৌ, ফ্রেড রামসডেল এবং শিমন সাকাগুচি । তাঁরা প্রান্তীয় অনাক্রম্যতন্ত্র (Peripheral Immune System)কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে, যাতে নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকেই আক্রমণ না করে, সেই গুরুত্বপূর্ণ রহস্য উন্মোচন করেছেন । এই গবেষণা ভবিষ্যতে অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা, ক্যান্সারের কার্যকর থেরাপি, এবং স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে । এটিই এ বছর ঘোষণা করা প্রথম নোবেল পুরস্কার। শরীর কীভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে তা নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয় । পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স হলো রোগ-প্রতিরোধ বা ইমিউন সিস্টেমের একটি প্রক্রিয়া । এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের নিজস্ব উপাদান (self-antigens) এবং ক্ষতিকারক নয় এমন বহিরাগত উপাদানের (যেমন: কিছু খাদ্য উপাদান, উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া) বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া (immune response) সৃষ্টি হওয়া রোধ করা হয় ।


চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
মেরি ই. ব্রাকৌ – জন্ম ১৯৬১ সালে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন । বর্তমানে সিয়াটেলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজিতে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।


ফ্রেড রামসডেল -জন্ম ১৯৬০ সালে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকসে বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।


শিমন সাকাগুচি
-জন্ম ১৯৫১ সালে। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এমডি ও ১৯৮৩ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের বিশিষ্ট অধ্যাপক।

নোবেল কমিটির চেয়ারপারসন জানিয়েছেন, “তাঁদের আবিষ্কার আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে, শরীরের ইমিউন সিস্টেম কীভাবে কাজ করে এবং কেন আমরা সকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুরুতর অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হই না।”আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে । নোবেল পুরস্কারের আরেকটি বিশেষ দিক হল এর গোপনীয়তা । কে মনোনীত কিছুই জানা যায় না । এই রহস্যই তৈরি করে নোবেলকে ঘিরে এক মায়াময় আকর্ষণ । মনোনয়ন জমা দেন শুধুমাত্র প্রাক্তন বিজয়ী, খ্যাতনামা অধ্যাপক, গবেষক ও সরকারি প্রতিনিধি । বছরভর চলা মূল্যায়নের শেষে, নির্বাচিত কমিটিগুলি কঠোরভাবে পর্যালোচনা করে প্রতিটি নাম ।

তারপরই অক্টোবর মাসে ঘোষণা হয় সেই কয়েকটি নাম, যারা চিরদিনের মতো মানব ইতিহাসে অমর হয়ে যান। নোবেল কেবল একটি পুরস্কার নয়, এটি এক মর্যাদা যে মানব মেধার সমন্বয়ে পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তোলা হবে । মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল, এবং শিমন সাগাগুচি তাঁরা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করেছেন। বিশেষ করে, শরীর কীভাবে নিজের কোষ বা নির্দোষ উপাদানের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় প্রতিরোধ তৈরি করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে এই প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করার জন্য তাঁদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ।

এই প্রক্রিয়াটি পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স নামে পরিচিত। এটি এমন এক জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীর নিজের উপাদান (self-antigens) এবং ক্ষতিকারক নয় এমন বাইরের উপাদান যেমন কিছু খাদ্য উপাদান বা উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভুলবশত আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকে । এই আবিষ্কার অটোইমিউন রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ বুঝতে ও নিয়ন্ত্রণে নতুন দিক খুলে দিয়েছে । নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানী পাবেন একটি করে মেডেল, একটি সনদপত্র এবং ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার বা ১৪ কোটি ৬১ লাখ বাংলাদেশি টাকা) পুরস্কার অর্থ । যদি একাধিক ব্যক্তি একই বিভাগে পুরস্কৃত হন, তবে এই অর্থ তাঁদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় ।

প্রতি বছরই চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করে সুইডেনের স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট । এবারের পুরস্কার দিয়ে নোবেল সপ্তাহের সূচনা হলো । সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস