স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা সিটি করপোরেশনে উচ্চমান সহকারী পদে চাকরির প্রলোভন দেওয়া হয় মো. শাহাদাৎ হোসেন নামের একজন চাকরিপ্রত্যাশীকে। সেই প্রলোভনে পড়ে জমি বিক্রি ও ধার-দেনা করে করপোরেশনের প্রশাসনিক শাখার প্রধান সহকারী মো. নাঈমুজ্জামান ওরফে নাঈমের কাছে ১৭ লাখ টাকা তুলে দেন শাহাদাৎ। অথচ সে চাকরিও পাননি; ফেরত পাচ্ছেন না টাকাও। শুধুই মো. শাহাদাৎ হোসেন নয়; অভিযোগ উঠেছে করপোরেশনে চাকরি দেওয়া প্রলোভনে দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সাড়ে ৩ লাখ, ৪ লাখ, ৫ লাখ, ১৭ লাখ ও ২৭ লাখ টাকা করে ১০ থেকে ১২ জন চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে কমপক্ষে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মো. নাঈমুজ্জামান। তার খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব ভুক্তভোগীদের পরিবার। তবে অস্থায়ী পদে কম ও স্থায়ী পদের জন্য বেশি অর্থ গ্রহণ করেছেন তিনি।
করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর ২৫টি শূন্য পদে জনবল চেয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিটি করপোরেশন। এরপর ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর করপোরেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ১৭টি শূন্য পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের জন্য দরখাস্তের আহ্বান করা হয়। এ ছাড়া ২০১৬ সালে ৪ অক্টোবর করপোরেশনে বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজে শর্ত সাপেক্ষ ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত করতে প্রশাসনিক অনুমোদন মেলে। সেই অনুমোদন সাপেক্ষ চাহিদার আলোকে নানা সময়ে বহিরাগত জনবল নিয়োগ চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, করপোরেশনের বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত জনবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে পুঁজি করে সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রশাসনিক শাখার প্রধান সহকারী মো. নাঈমুজ্জামান চাকরি বাণিজ্যে নামেন। চাকরি প্রত্যাশীদের প্রলোভন ফেলে তার কয়েকটি ব্যাংকের নিজের নামের অ্যাকাউন্টের চেক দিয়ে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের অর্থ। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর চাকরি প্রত্যাশীরা তার মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছেন। কারণ পরে তারা চাকরিও পাচ্ছেন না, ফেরত পাচ্ছেন না টাকাও। অনেক ভুক্তভোগী বাধ্য হয়ে আদালতে মামলাও করেছেন। তবে মামলা ও চেক ডিজ-অনার করে তার হুমকিরও সম্মুখীন হয়েছেন অনেকে। মো. নাঈমুজ্জামানের নিজের অ্যাকাউন্ট নামীয় দেওয়া এমন তিনটি চেক রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। চেকগুলোর মাধ্যমে মো. শাহাদাৎ হোসেনকে দুই দফায় ৫ লাখ ও ১২ লাখ এবং মো. সিরাজুল ইসলামকে ৪ লাখ টাকা দেওয়া সত্যতা পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের সিএ টু প্রণিক মো. মিজানুর রহমান জানান, আমার এক আত্মীয়কে চাকরি দেবে এমন প্রতিশ্রুতিতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করে মো. নাঈমুজ্জামান। অথচ চাকরি দিতে পারেনি। তার কাছে অনেক বার টাকা চেয়েও ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না।
আরেক ভুক্তভোগী কেসিসির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ভারতী ঢালী বলেন, তার চাকরির পেনশনের টাকা ছেলের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার পদে স্থায়ী চাকরির জন্য মো. নাঈমুজ্জামানের কাছে তুলে দেন। অথচ সেই চাকরি হয়নি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেই টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।
এ প্রসঙ্গে করপোরেশনের কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা বলেন, দুটি চেকে দিয়ে ভারতী ঢালীর ছেলেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২৭ লাখ টাকা নিয়েছে মো. নাঈমুজ্জামান। ভারতী চেক ডিজ-অনার করে আদালতে মামলা করেছে। শুধুই ভারতী না; এমন অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আরও বলেন, মো. নাঈমুজ্জামান করপোরেশনের প্রশাসনিক শাখায় কর্মরত রয়েছে। এ ছাড়া করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবের সঙ্গে তার চাকরি দেওয়া ব্যাপারে কথা হয়েছে এমন বানোয়াট কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। মুখের ওসব কথা শুনে সাধারণ মানুষও সরল বিশ^াসে টাকা দিয়ে প্রতারিত হচ্ছে। এ কারণে করপোশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই মো. নাঈমুজ্জামানকে প্রশাসনিক শাখা থেকে বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মো. নাঈমুজ্জামান বলেন, টাকাগুলো তার মাধ্যম এসেছে। কিন্তু টাকাগুলো পরে হাতবদল হয়েছে। তবে কারা নিয়েছে তা বলা যাবে না।











































