প্রশ্নফাঁস চক্র: আরো ১৪ জনকে খুঁজছে সিআইডি

12
Spread the love


ঢাকা অফিস

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পরীক্ষাসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যে আরো ১৪ জনে খুঁজছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তারা হলেন- পিএসসির সাবেক সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়সহ শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া, দীপক বনিক, মো. খোরশেদ আলম খোকন, কাজী মো. সুমন, এ কে এম গোলাম পারভেজ, মেহেদী হাসান খান, গোলাম হামিদুর রহমান, মুহা. মিজানুর রহমান, আতিকুল ইসলাম, এ টি এম মোস্তফা, মাহফুজ কালু, আসলাম ও কৌশিক দেবনাথ। এরাও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, জবানবনদী দেওয়া ছয়জনের মধ্যে পিএসসির অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান বলেছেন, ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় ১০ জন প্রার্থীর কাছে প্রশ্নফাঁস করেছেন তিনি। এর মধ্যে তিনজন বর্তমানে বিভিন্ন ক্যাডারে চাকরি করছেন। ঐ বিসিএসে তার ফাঁস করা প্রশ্নে ১০ জনের মধ্যে ছয়জন লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন। সেই ছয়জনের মধ্যে তিনজন মৌখিক পরীক্ষায় বাদ পড়েন।

তদন্তে যদি তার ফাঁস করা প্রশ্নে সত্যিই ঐ তিনজন কর্মকর্তার বিভিন্ন ক্যাডারে চাকরি করার সত্যতা মেলে তবে তাদের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে সিআইডি।

দায় স্বীকার করা অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যানের গাড়ির ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী জীবন, অফিস সহায়ক (ডিসপাস) সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী সহোদর সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন এবং বেকার যুবক লিটন সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুলাই) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবনদী দিয়েছেন সৈয়দ আবেদ আলী, খলিলুর রহমান, সাজেদুল ইসলাম, আবু সুলেমান মো. সোহেল, মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাইম হোসেন, লিটন সরকার।

জানা গেছে, আদালতে মুখ খুলেছেন সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যানের ড্রাইভার আলোচিত সৈয়দ আবেদ আলী জীবন। তিনি স্বীকারোক্তিতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সব কিছুই বলে দিয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই এখন ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে ক্যাডার (প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা) হওয়াদের নামের তালিকা তৈরি করছে একটি সংস্থা। কাউকে এরইমধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে নজরদারিতে।

তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইছেন না তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিমেল চাকমা বলেন, এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

তবে তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার কয়েকটি ব্যাচের এমন অনেকে আছেন, যারা এই চক্রের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর পেয়ে ক্যাডার হয়েছেন। চক্রটির গ্রেফতার হওয়া সদস্যদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।