সৌদির দুম্বার খামার এখন খুলনায়

50
Spread the love


স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার রূপসা উপজেলার যুগিহাটি গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে সৌদি আরবের দুম্বার খামার। মরুভূমির এই পশুটি এ দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে। তিনটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন দুম্বার সংখ্যা ৬টি। আর বাচ্চা তৈরি করে নিজে বড় খামার করার পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে খামার মালিকের।
গাংচিল এগ্রো ফার্ম নামের খামারের মালিক এসএম নাসিম উদ্দিন জানান, শখের বশে ২ বছর আগে যুগিহাটি গ্রামে ৩টি দুম্বা লালনপালন শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে একটি পুরুষ প্রজাতির ও দুটি স্ত্রী প্রজাতির ছিল। ঢাকা থেকে তিনি দুম্বা দুটি কিনে এনেছিলেন। সেগুলো বাচ্চা প্রসব করেছে এখন তার খামারে দুম্বা রয়েছে মোট ৬টি। এগুলো দেখাশোনার জন্য কর্মচারি আছে।

খামারের ম্যানেজার মো. শামীম হোসেন জানান, দুম্বা মূলত মরুভূমির দেশ সৌদি আরবে লালনপালন করা হয়ে থাকে। পাঠা (পুরুষ প্রজাতির) দুম্বাটি আড়াই লাখ টাকা দিয়ে কিনে আনা হয়। মায়া (স্ত্রী প্রজাতির) দুটি দুম্বা কেনা হয়েছিল তিন লাখ টাকা দিয়ে। এখানকার আবহাওয়ায় দুম্বার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। দুম্বাগুলো খাপ খাইয়ে নিয়েছে। সুস্থ্য আছে, বাচ্চাও বড় হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, শীতকালে মাঝে মাঝে দুম্বার ঠান্ডা লাগে এবং জ্বর হয়। তখন জ্বরের ওষুধ দিতে হয়। পায়খানা হলে ওষুধ খাওয়ালে সুস্থ্য হয়ে যায়। এছাড়া সমস্যা হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া হয়। দিনে দুইবার সকাল ৮টায় এবং বিকেল ৫টায় খাবার দিই। ঘাস, লতাপাতা, সবজি, ধানের কুড়া, দানাদার খাবার, গমের ভুষি, ভুট্টার ভুষি প্রভৃতি খাওয়ানো হয়।
শামীম হোসেন জানান, তারা এখনও কোনো দুম্বা বিক্রি করেননি বা বিক্রি করার মতো পরিস্থিতি হয়নি। দুম্বার সংখ্যা আরও বাড়ানোর পর আস্তে আস্তে বিক্রি করা হবে। আপাতত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে সংখ্যা বাড়ানো। পরবর্তীতে তারা বিক্রি করবেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। যারা আগ্রহী তারা কিনে নিয়ে লালনপালন করবে। ভবিষ্যতে কুরবানির সময় বিক্রি করবে। তিনি আরও বলেন, খুলনায় সম্ভবত আর কোথাও দুম্বার খামার নেই। অনেকে দুম্বা দেখতে আসে। আমরা তাদেরকে দেখতে দেই।