যুগল সৌন্দর্য দেখতে পদ্মা পাড়ে দর্শনার্থীর ভিড়

8
Spread the love


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।

ঈদুল আজহার ছুটিতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার ঐতিহ্যবাহী যুগল সৌন্দর্য লালন শাহ্ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছে শত শত মানুষ। ঈদের ছুটিতে যেন মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে ভেড়ামারা পদ্মা নদীর দু’পাড়। একদিকে অপরূপ সৌন্দর্য আর অপরদিকে প্রজন্মের সাক্ষী হয়ে ১১৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দেশের বৃহত্তম হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও পাশেই লালন শাহ সেতু দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
জানা যায়, অপরূপ সৌর্ন্দয দেখতে ভেড়ামারা-পাকশীর জোড়া সেতু এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। এছাড়াও নৌকায় চরে ওপাড় ঈশ্বরদী থেকে পদ্মা পাড় হয়ে ভেড়ামারা মনি পার্ক ও আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ হযরত সোলাইমান শাহ্ চিশতী (র.) মাজার দেখার জন্য আসছে মানুষ। আরো রয়েছে দেখার মতো পার মানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র,ঐতিহ্যবাহী পাকশী পেপার মিল, ফুরফুরা শরীফ, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর, বিশাল অঞ্চল নিয়ে পশ্চিম রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়, বিবিসি বাজার ও রিসোর্টসহ ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থাপনা।

দর্শনার্থী আব্দুল মমিন বলেন, পদ্মা নদীর ওপর লালরঙা হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি ১১৫ বছর পার হলে ও এ ব্রিজের সৌন্দর্য এক চিলতেও নষ্ট হয়নি, তাই ঘুরতে এসেছি।

অজপাড়া গাঁ থেকে একবার একদল লোক এসেছিল পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখতে। এত বড় ব্রিজ তারা জীবনেও কোনো দিন দেখেনি তারা। ভাবতেই পারে না কতো বড় কাণ্ড ঘটে গেছে পদ্মার ওপর দিয়ে। একজন লোক অবাক চোখে হার্ডিঞ্জ ব্রিজটির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো ‘দ্যাখতো কত বড় ব্রিজ মনে কর পাঁচশ টাকার নুয়াই নাগছে’। পাঁচশ টাকার বেশি কল্পনা করারও ক্ষমতা ছিল না লোকগুলোর। তাদের কথা লোহার সঠিক হিসাব না পাওয়া গেলেও ব্রিজটি যে আসলেও মস্ত বড়, সেটা বোঝা যায়।

স্থানীয়রা জানান, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেল স্টেশনের পাশে পদ্মা নদীর ওপর লালরঙা হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি দাঁড়িয়ে আছে। শত বছর পরও এ ব্রিজের সৌন্দর্য এক চিলতেও নষ্ট হয়নি। তাইতো প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী এ ব্রিজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে সমান্তরালভাবে দাঁড়িয়ে আছে লালন শাহ সেতু। এটি দেশের তৃতীয় দীর্ঘতম সড়ক সেতু। এ সেতুর কোল ঘেঁষেই নির্মিত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুউচ্চ (৩০ তলার সমপরিমাণ উঁচু) চুল্লি ও উঁচু স্থাপনাগুলো হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু থেকে খুব সহজের অবলোকন করা যায়। পদ্মার পাদ দেশে নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু মিলে এই এলাকা যেন সৌন্দর্যের আধারে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত দর্শনার্থী ব্রিজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। ঈদের সরকারি ছুটির কারণে মানুষের সমাগম অনেক বেড়েছে। যে যার মতো করে ছবি, সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ঘুরতে আসা নজরুল ইসলাম জানান, তিনি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু ও রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জিকে সেচ প্রকল্প দেখতে এসেছেন। সব মিলিয়ে জায়গাটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন প্রচুর মানুষের সমাগম হয় এখানে। জায়গাটি পর্যটন শিল্পের আওতায় আনা হলে দর্শনার্থীদের সমাগম আরো বাড়বে।

দর্শনার্থী পিয়াস বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখতে এসে একসঙ্গে পাকশীর নানন্দিক রেল স্টেশন, লালন শাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ হয়েছি। একসঙ্গে ব্রিটিশ স্থাপনা পাকশী রেলের বিভাগীয় কার্যালয়, শতবর্ষী অসংখ্য গাছ ও পদ্মা নদীর ঢেউ দর্শনার্থীদের হৃদয়কে ভরিয়ে দিয়েছে। ব্রিজের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও লালন শাহ সেতু এখানকার সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকাশ কুমার কুন্ডু বলেন, এখানে প্রতিদিন প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। দর্শনার্থীদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে দুটি টয়লেট, ডাস্টবিন, সোলার লাইট ও নলকূপের ব্যবস্থা অচিরেই করা হবে।