ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশ: সেই রোগীর কিডনি ফুলে গেছে, নালীতে ইনফেকশন

7
Spread the love


যশোর অফিস
যশোর জেনারেল হাসপাতালে শরীরে তিন ব্যাগ ভিন্ন গ্রুপের রক্ত নেওয়া সেই বৃদ্ধার জীবন আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর প্রহর গুণছেন ৭৭ বছর বয়সী সালেহা বেগম। দিনদিন তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। পুরনো রোগের সঙ্গে নতুন করে বোনম্যারো, কিডনি ও হার্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছেন স্বজন।

সোমবার বৃদ্ধার মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, মা কিছু খেতে পারছেন না। ভুল রক্ত দেওয়ার আগে তার কিডনির রেঞ্জ ছিলো ১ দশমিক ৫ । এখন তা ফুলেফেঁপে ২ দশমিক ২২ হয়েছে। প্রস্রাবের নালীতে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে।

সালেহার শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশের ঘটনায় গত ৬ জুন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক গৌতম কুমার আচার্যকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করে হাসপাতাল প্রশাসন। কমিটিকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সালেহা বর্তমানে জেনারেল হাসপাতালের মহিলা পেয়িং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের খড়িঞ্চা হেলাঞ্চি গ্রামে।

বাধর্ক্যজনিত রোগে গত ২০ মে যশোর মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সালেহাকে। তার শরীরে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। সেখানে সালেহার রক্তের গ্রুপ আসে বি পজিটিভ। তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর ধরা পড়ে তার রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ।

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে দেখা যায়, রোগী কথা বলতে পারছেন না। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন। মৃত্যু পথযাত্রী সালেহা বেগমকে দেখতে আসছে স্বজনরা। তাদের অনেকেই বৃদ্ধাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করছেন।

আরেক মেয়ে শিরিনা আক্তার বলেন, হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের ভুলের কারণে আমার মা এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তিনি খুব অসুস্থ। ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার চান তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রধান গৌতম কুমার আচার্য বলেন, রোগী শঙ্কামুক্ত নয়। নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন আর রশিদ বলেন, রোগীর যাবতীয় চিকিৎসা হাসপাতাল থেকেই হচ্ছে। রোগীর রক্তে হিমোগ্লোবনের সঙ্গে রক্তের কিছু উপাদানও কম রয়েছে। এ কারণে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে বেগ পেতে হয় কর্মীদের। কারও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।