মোরেলগঞ্জে জমজমাট ঈদের বাজার: এবার নজর কাড়ছে পদ্মজা ড্রেস

8
Spread the love

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কাপড়ের বাজার। পাদুকা দোকান, কসমেটিক্স, প্রসাধনী, সিট কাপড় ও গার্মেন্টস দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সকলের নজর কেড়েছে এখন ভারতীয় পদ্মজা ড্রেস।

বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছরে প্রতিটি ড্রেসে দাম বেড়েছে চারশ থেকে পাঁচশ টাকা। শিশুদের পোশাকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ক্রেতা বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজার মনিটরিংয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে মোবাইল টিম। পৌর মেয়র মনিরুল হক তালুকদার ও থানার ওসি মো. সামসুদ্দীন বাজার পরিদর্শন করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে মোরেলগঞ্জ বাজার। সপ্তাহে হাটের দিন শুক্রবার ও সোমবার। এছাড়াও প্রতিনিয়ত দোকানগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের থাকছে ভিড়। সোমবার সকাল ১১টায় শহরের কাপুড়িয়া পট্টি সড়কে ঈদকে সামনে রেখে গার্মেন্টস, কাপড়ের দোকান ও পাদুকা পট্টি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সড়কের দুই প্রান্তে ২০ টি কাপড়ের দোকান, ছোট বড় ৪৫টি গার্মেন্টস ও ২৫টি পাদুকার দোকান রয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে এবছরে প্রতিটি দোকানে বিক্রয় বেড়েছে। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ও বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিক্রেতাদের থাকতে হচ্ছে ব্যস্ততায়। গার্মেন্টস ও কাপড়ের দোকানগুলোতে ঈদের বেচাকেনার জন্য অতিরিক্ত সেলসম্যান রাখছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে মেয়েদের পোশাকে থাকছে ভারতীয় পদ্মজা ড্রেস। সর্বনিম্ন ২৫শ’ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া নায়রা, সারারা, গারারা ও শিশুদের জরর্জেট ফ্রগ বেশি চলছে। যা ২ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। ভারতীয় লেহেঙ্গা, গাউন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের পোষাকের ক্ষেত্রে দেশীয় কর্ণফুলি পাঞ্জাবি, আল মদিনা ও ভারতীয় এ বি পাঞ্জাবি বেশি চলছে। দাম ২ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। পাবনার আমানত শাহ লুঙ্গির বেশি চাহিদা রয়েছে। সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা থেকে ১৫শ’ টাকা প্রতিটি লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে।

মিনা গার্মেন্টসের মালিক তরিকুল ইসলাম মিনা, শাহরিয়া মিনা, আইরিন গার্মেন্টসের মো. মনিরুল হাসান, দেবনাথ বস্ত্রালয়ের অসিম দেবনাথ, ভূইয়াদের কাপড়ের দোকান সুবল ভৌমিক, ঠাকুরের সিট কাপড়ের দোকান হরেকৃষ্ণ চক্রবর্তী, মোহাম্মাদিয়া সু স্টোরের জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন বিপণন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠানের মালিক ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশি সুতি তাঁত, সিল্ক, টাঙ্গাইল, ডিজিটাল প্রিন্ট দেশীয় কাপড়ের চাহিদা বেশি।

দাম গতবারের মতোই রয়েছে যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। বাহিরের কাপড়ের দাম কিছুটা বেশি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পকেটমার, ছিনতাইকারী প্রতিরোধে পুলিশের একটি মোবাইল টিম মাঠে সার্বক্ষণিক ডিউটি দিচ্ছেন। তবে মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইকের নির্ধারিত পার্কিং না থাকায় দোকানের সামনে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ঈদের এই কদিন বেচাকেনার মুহূর্তে বাজারের মধ্যে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ইজিবাইক প্রবেশ না করিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং ব্যবস্থা করার দাবি জানান প্রশাসনের প্রতি তারা।

মোরেলগঞ্জ শহরে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা রুমা আক্তার, হাবিবা আক্তার ও আফসানা আক্তার জানান, পোশাক পছন্দ হয়েছে। তবে দাম একটু বেশি। এখন পর্যন্ত ৭-৮ টি দোকান ঘুরেছি। কোথায় কম দামে পোষাক পাওয়া যাচ্ছে না। যে বাজেট নিয়ে এসেছি তাতেও হচ্ছে না। বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির মো. জাকির হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ক্রয়-বিক্রয় নিরাপদ রাখতে স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশের টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।

থানার ওসি সামসুদ্দিন বলেন, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে বাজারের ব্যবসায়ীদের ক্রয় বিক্রয়ের সুবিধার্থে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা হয়েছে। মোবাইল টিমসহ পুলিশের দুটি টিম মাঠে সার্বক্ষণিক পাহরা ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি বাজার পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম তারেক সুলতান বলেন, ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সুবিধার্থে বাজার কমিটি নিয়ে এরই মধ্যে সভা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় সাময়িক সমস্যা হলেও সামনে যাতে করে যানজট কমানো যায় তার ব্যবস্থা করা হবে। তবে বাজার পাহারার ক্ষেতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে থেকে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক পাহাড়ার ব্যবস্থা তাদের রাখতে হবে।