ইসরায়েলের রাস্তায় লাখো জনতার বিক্ষোভ

6
Spread the love

অনলাইন ডেস্ক।।

ইসরায়েলে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন। গত ৭ অক্টোবর হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এ বিরোধ সাময়িক সময়ের জন্য স্তিমিত থাকলেও এখন আবার ইসরায়েলের রাস্তায় লাখো বিক্ষোভকারী নেমে এসেছেন। ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে কাঁপছে দেশটি। জেরুজালেমে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে লাখো মানুষ। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের সরকারের বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় সমাবেশ।

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুকে সরাতে বিক্ষোভকারীরা অনড় অবস্থানে আছেন। জেরুজালেমের রাস্তায় তাদের সরাতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা গাজায় বন্দি ১৩৪ জিম্মিকে ফেরাতে চুক্তির দাবি জানান। এরই মধ্যে সেখানে অজ্ঞাত সংখ্যক জিম্মি মারা গেছেন। জিম্মিদের বন্ধু ও স্বজনের আশঙ্কা, চুক্তি ছাড়া এ যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, বন্দিরা তত বেশি মারা যাবে।

সোমবার বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি পার্লামেন্টের চারপাশে হাজার হাজার মানুষকে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তাদের একজন কাতিয়া অ্যামোরজা। তাঁর ছেলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন। এখন তিনি গাজায় দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিক্ষোভের সময় তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি। আমি নেতানিয়াহুকে বলতে চাই– দেশ ছাড়ার জন্য আমি তোমাকে একটি প্রথম শ্রেণির টিকিট দিতে পারলে খুশি হবো। তুমি চলে যাও, আর এ দেশে ফিরো না।’ নেতানিয়াহুর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সেসব লোককেও সঙ্গে করে নিয়ে যান, যাদের আপনি সরকারে বসিয়েছেন। তারা সমাজের সবচেয়ে খারাপ মানুষ।’

বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, গণতন্ত্রের শত্রুরা নেতানিয়াহুর সরকারেই আছে। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিকের ধর্মীয় জায়োনিজম পার্টিও রয়েছে। তাদের দলের এক সংসদ সদস্য ওহাদ তাল বলেন, হামাসের ওপর সামরিক চাপ ছাড়া তারা কখনও বন্দিদের মুক্তি দেবে না।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসকে ধ্বংস করার ব্যাপারে ইসরায়েলিরা বিভক্ত নয়। সেই যুদ্ধের লক্ষ্যে তাদের সমর্থনও রয়েছে। তবে যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা হচ্ছে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ব্যর্থতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বেশ চাপে ফেলেছে।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল আসওয়াত জানায়, ৭ অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ৬০০ সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। এদিন ২০ বছরের সেনা নাদাভ কোহেন নিহত হওয়ার কথা ঘোষণা করে সামরিক বাহিনী।

হেজবুল্লাহর ওপর হামলা
দক্ষিণ লেবাননে হেজবুল্লাহর অন্তত ১০টি লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার তারা এসব বিমান হামলা চালায়। হামলায় হেজবুল্লাহর অস্ত্রাগার, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের স্থান ও বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যে পরিণত করা হয়েছে। রোববার ইসরায়েলের বিমান হামলায় এক হেজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত হন। গত বছরের ৮ অক্টোবর থেকে হামাসের সমর্থনে ইসরায়েলে হামলা শুরু করে হেজবুল্লাহ। এতে এ পর্যন্ত তাদের ২৭০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া লেবাননের প্রায় ৫০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু আছেন।