আলোচিত মরিয়ম মান্নান ‘নাটক’ তদন্তে এবার মাঠে সিআইডি

49
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার।।
দেশব্যাপী আলোচিত খুলনার রহিমা বেগমের আত্মগোপন এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পরবর্তী তার কন্যা মরিয়ম মান্নানের নাটকীয় ঘটনা তদন্তে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
অপর তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই তদন্ত করে মরিয়ম মান্নান ও রহিমা বেগমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। উপরন্তু তাদের নারাজির কারণে সিআইডিকে ঘটনার ফের তদন্ত দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো।

এর আগে আত্মগোপনে থাকা রহিমা বেগমকে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে পিবিআই। এনিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পিবিআই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু সেই মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

মামলার বাদি রহিমা বেগমের কন্যা আদুরি আক্তার তদন্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি দিলে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের ভার দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম চলতি বছরের ১৭ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট রাতে খুলনার দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা বনিকপাড়া (খানাবাড়ি) এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রহিমা বেগম (৫২)। ঐ রাতেই নিখোঁজ রহিমা বেগমের ছেলে রিয়াজ আল সাদী দৌলতপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরের দিন ২৮ আগস্ট রহিমা বেগমের কন্যা আদুরী আক্তার তার মা অপহৃত হয়েছেন মর্মে বাদী হয়ে স্থানীয় দৌলতপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিবেশী মহিউদ্দিন, তার ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, তার ভাই মো. জুয়েল, হেলাল শরীফ এবং রহিমা বেগমের স্বামী বেল্লাল হোসেনের নাম উল্লেখ করেন। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। ঘটনাটি তখন দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়। ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এক পর্যায়ে ময়মনসিংহের ফুলপুরে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহকে মরিয়ম মান্নান নিজের মা রহিমা বেগম বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। মরিয়ম মান্নান তখন অপহরণের এ ঘটনাটি মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা কল্পকাহিনী সাঁজিয়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ে সক্ষম হন। ঘটনার কূল কিনারা না পেয়ে বেকায়দায় পড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এক পর্যায়ে ২৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালমারী সৈয়দপুর গ্রামের জনৈক আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ী থেকে সুস্থ ও অক্ষত অস্থায় রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে পিবিআই।

রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন করে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন মহানগর হাকিম আদালতে দাখিল করা হয়।অপহরণের পরিকল্পনাকারী এবং ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে রহিমা বেগমের কন্যা মরিয়ম মান্নানকে চিহ্নিত করা হয়। পিবিআই’র দাখিলকৃত প্রতিবেদনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মরিয়ম মান্নান এ নাটক সাজায় বলে উল্লেখ করা হয়।

খুলনা পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কথিত ভিকটিম রহিমা বেগম নিজের পক্ষের আদুরী আক্তার ও মরিয়ম আক্তারকে নিয়ে বিক্রিত জমি রক্ষায় নতুন অপকৌশলের অংশ হিসেবে আত্মগোপনে গিয়ে কথিত অপহরণের নাটক সাজায়।

পিবিআই’র চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামিকে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক মামলার বাদি আদুরী আক্তার, তার মা রহিমা আক্তার এবং অপহরণ নাটকের মাস্টারমাইন্ড মরিয়ম আক্তার ওরফে মরিয়ম মান্নানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দায়েরের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করে। এ বিষয়ে শুনানিতে বাদী পক্ষ নারাজি দিলে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি’র কাছে হস্থান্তর করলে সিআইডি তদন্ত শুরু করে।

অপহরণ মামলায় কারাভোগকারী মো. মহিউদ্দিন বলেন, সবাইকে ধোঁকা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে মরিয়ম মান্নান গং। বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা গুজব রটিয়ে মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জেল খাটিয়েছে।

তিনি বলেন, পিবিআই’র মতো সিআইডিও তাদের প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন এমনটাই আশা করছি।

এ বিষয়ে সিআইডি’র তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, আলোচিত এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।