বাগআঁচড়ায় নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর আইসক্রিম

7

 

 

 

বেনাপোল প্রতিনিধি।।

 

যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে শিশুদের প্রিয় খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর আইসক্রিম। স্বাস্থ্যের জন্য আইসক্রিম তৈরির জন্য আলাদা পরিবেশ ও নিয়মনীতি থাকলেও তা মানছেন না বরফ ফ্যাক্টরির মালিকেরা। এসব আইসক্রিম মাছের কাজে ব্যবহৃত কক সেটের ভিতরে করে গ্রামের পাড়া মহল্লার অলিতে গলিতে এবং বিভিন্ন স্কুলের সামনে অবাধে বিক্রি হচ্ছে।

 

অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য বাগআঁচড়ার বেত্রাবতী সড়কের পাশে মজু মেম্বারের খাবার হেটেলের পাশে অবস্থিত হজরত আলীর পিয়াজি-সিঙ্গাড়া বিক্রি করার দোকানের পেছনে অস্বাস্থ্যকর পরিবশে দীর্ঘদিন ধরে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছে। আইসক্রিমের স্বাদ ও শিশুদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য মিশানো হচ্ছে রং, গ্লিসারিনসহ বিভিন্ন ফ্লেভারের ক্ষতিকারক কেমিক্যাল, যা মানুষের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। অপরিচ্ছন্ন বালতির মধ্যে খালি হাতেই মেশানো হচ্ছে আইসক্রিমের উপকরণ। পানি রাখার হাউজ রয়েছে অপরিষ্কার। ঢাকনা দেয়া হয়েছে কাঠ দিয়ে। তৈরি আইসক্রিম তুলে ময়লা হাতেই রাখা হচ্ছে বাঁশের তৈরি ঝুঁড়ির মধ্যে। আবার কারিগরদের জন্য নির্দিষ্ট কোন পোশাক নেই।

 

আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক হযরত আলী জানান, গ্লিসারিন, রং, সুইডেস মিশিয়ে তিনি আইসক্রিম তৈরি করেন কারখানায়। আইসক্রিমে গ্লিসারিন ও রং মেশানো যায় কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এগুলো তো সব ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করা খাবার খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে। যেমন পেট ব্যথা, আমাশয়, ডায়রিয়া, শরীর দুর্বলসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।

 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, ‘প্রথমত বিষয়টি আমার জানা ছিলো না, আপনার মাধ্যমে জানলাম। খুব দ্রুত এসব অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।