সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলে নির্বাচনের দুই মাস আগে পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইইউ

8

ঢাকা অফিস।।
ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে জাতীয় নির্বাচনের দুই মাস আগে ইইউ পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবেন। তারা দুই মাস নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সোমবার গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দল।

বিভিন্ন পেশা ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বৈঠক করেন সফররত ইইউ প্রতিনিধি দল। ঢাকার গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের গণমাধ্যম কতটুকু স্বাধীনভাবে কাজ করছে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন ইইউ প্রতিনিধি দল। এছাড়া আগামী নির্বাচন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও গণমাধ্যমের বর্তমান বাস্তবতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

ইইউ প্রতিনিধি প্রধান রিকার্ডো কেলেরির নেতৃত্বে সাত সদস্যের দলের সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের পক্ষে আমন্ত্রিতদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন ডেইলি অবজারভার পত্রিকার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির, দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ এবং ডেইলি স্টারের যুগ্ম সম্পাদক আশা মেহরিন আমিন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শুরুতেই গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ইইউ প্রতিনিধি দলের কাছে চলমান বৈঠকের অগ্রগতি জানতে চান। জবাবে প্রতিনিধি দল তাদের জানায়, এ পর্যন্ত সরকার, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। এর আলোকে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জমা দেবেন। এরপর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে জাতীয় নির্বাচনের দুই মাস আগে ইইউ পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবেন। তারা দুই মাস নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

অন্যদিকে গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা প্রতিনিধি দলকে জানান, দেশে নানা ইস্যুতে বিভেদ থাকলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে সাংবাদিকরা একমত। সরকার ইতোমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সংশোধনের কথা জানিয়েছে। আমরাও সরকারকে বলেছি, আইনটির প্রয়োজন রয়েছে, তবে সেটি বির্বতনমূলক না হয়।

পরে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাবের পাঁচ সদস্য মাসুদ করিম, এ কে এম মইনুদ্দিন, মোরশেদ হাসিব, মাহফুজ মিশু, পান্থ রহমান ইইউ দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে ডিক্যাবের সদস্যরা সাংবাদকিদের জানান, নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৪ সালে ইইউ পার্লামেন্টে জামায়াতকে সহিংসতাকারী দল হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ঢাকায় রোববার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক কেন এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।