মাগুরায় উচ্চ ফলনশীল জাতের ওলকচু চাষে লাভবান কৃষকরা

8
Spread the love

মাগুরা প্রতিনিধি।।

মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর গ্রামের অন্তত ৩০টি কৃষক পরিবার উচ্চ ফলনশীল জাতের ওলকচু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তারা কয়েক বছর ধরে স্থানীয় ও মাদ্রাজী জাতের উচ্চ ফলনশীল ওলকচু চাষ করে আসছেন। ভালো ফলন ও বেশি দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি ওই গ্রামের কৃষকরা। শুরুতে স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে ওলকচুর বীজ সংগ্রহ করলেও এখন তারা নিজেরাই বীজ উৎপাদন করে এটির চাষ করে থাকেন।

এ গ্রামের কৃষক ভক্তকুমার বিশ্বাস জানান, গত বছরও আমি ওলকচুর ভালো ফলন পেয়েছিলাম। এ বছর ৮ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল মাদ্রাজী জাতের ওলকচু চাষ করেছি। এর মধ্যে নিজের ৩ বিঘা এবং বাকি ৫ বিঘা লিজ নিয়েছি। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। একটি ওলকচু ২ থেকে ১০ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। শুরুতে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৪০০পিস বীজ, সার ও কীটনাশক পেয়ে প্লটের মাধ্যমে এটির চাষ শুরু করেছিলেন। এখন বীজ নিজেই তৈরি করে চাষ করছেন। বাজারে এটির বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। ক্ষেত থেকে তোলার পর স্থানীয় আড়তে পাইকারি দরে বিক্রি করে থাকি। চাষকৃত জমি থেকে তিনি ৬৪০ মণ ফলন পাব বলে আশা করছেন। যা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার ওল বিক্রি করতে পারবেন।

এ চাষে সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকার উপরে। স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরমর্শ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তারমত অনেক কৃষকই এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ভক্তকুমার বিশ্বাস আরো জানান, এ গ্রামের কৃষি বিশ্বাস ২ বিঘা, গৌতম ১ বিঘা, বিভাষ ২ বিঘা, উত্তম ২ বিঘা, ওহেদ শেখ ৫০ শতক, হারুন শেখ ৪০ শতক এবং সিদ্দিক মোল্যা দেড় বিঘা জমিসহ অন্তত ৩০টি পরিবার এ চাষের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

সদর উপজেলা বগিয়া ইউনিয়নের পাতুড়িয়া গ্রামের সঞ্জয় বাড়ই ও স্বপ্না বাড়ির পাশে মোট ২০ শতক জমিতে এটির চাষ করেছেন। তারা ওলের ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। এ ক্ষেতে মোট চারা রয়েছে ৫৫০টি। শুরু এবং ক্ষেত থেকে ওলকচু তোলাসহ বাজারে বিক্রি করা পর্যন্ত তার খরচ হবে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। এ ক্ষেত থেকে এটি বিক্রির মাধ্যমে তিনি কঙ্খিত অর্থ লাভ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওলকুচু চাষ অধিক লাভজনক ও বেশি দামে বিক্র করা যায়। বাজারে এটির চাহিদা অনেক বেশি। স্বল্প পুজি বিনিয়োগ করে এ চাষে আর্থিকভাবে অনেক কৃষকই লাভবান হতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি অফিস ও কৃষকরা। যে কারণে কৃষকদের মাঝে উচ্চফলনশীল ওলকচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে, অপেক্ষকৃত নিচু জমি, স্বল্প ছায়াযুক্ত স্থান এবং অব্যবহৃত জমিতে এটি চাষ করা যায়। যার ফলে নিবিড়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়। মাত্র ৭ থেকে ৮ মাসে এটি জমি থেকে উত্তোলন করে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকরা অর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। জেলার চার উপজেলার মধ্যে মাগুরা সদর হাজিপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে বাড়ি আঙ্গিনা, কলা ক্ষেত, লিচু ক্ষেতে সাথী ফসল হিসেবেও এটির চাষ করেছেন অনেক কৃষক। এ বছর জেলার চার উপজেলায় মোট ৪৮ হেক্টর জমিতে ওলকচুর চাষ হয়েছে।

এ বিষয়ে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মোর্শারফ হোসেন বলেন, এ বছর মাগুরায় কন্দাল জাতীয় ফসল ওলকচুর আবাদ ভালো হয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা ও পরমর্শ কাজে লাগিয়ে কৃষকরা ক্ষেতে ভালো ফসল ফলাচ্ছেন। মাগুরায় ‘কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়’ ওলকচু চাষ বৃদ্ধির জন্য উন্নত বীজ,সার কীটনাশাসক সরবরাহের পাশাপাশি কৃষি কাজে সহায়তার বিষয়টি চলমান রয়েছে।