শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা বৃহস্পতিবার

4

স্টাফ রিপোর্টার।।

কাল বৃহস্পতিবার শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মের অমর প্রবর্তক মহামতি রাজকুমার সিদ্ধার্থের বা গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব বা বোধি লাভ এবং মহাপরিনির্বাণের (মৃত্যু) ত্রিস্মৃতিবিজড়িত ও ঘটনাবহুল দিবস এটি। আজকের এই বৈশাখী পূর্ণিমার সঙ্গে বুদ্ধ জীবনের মহান এ তিনটি প্রধান ঘটনা জড়িত বলে এর নাম বুদ্ধ পূর্ণিমা।

 

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং পবিত্র দিন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বৃহস্পতিবার ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ উদযাপন করবেন। আগামীকাল শুরু হবে ২৫৬৭ বুদ্ধাব্দ।

বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধদের ধর্মীয় জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ দিবসটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে একইসঙ্গে শোক ও গৌরবের। তাইতো ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তারা দিবসটি উদযাপন করবেন। দিনব্যাপী প্রার্থনা, বুদ্ধ জীবনের নানা দিক আলোচনা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দিনটি কাটাবেন। বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি থাকবে।

দিবসটিকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসব বাণীতে বৌদ্ধ জীবনদর্শনের নানা দিক তুলে ধরে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তা অনুকরণ ও অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যুগান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক আজ ক্রোড়পত্র, বিশেষ নিবন্ধ-প্রবন্ধ প্রকাশ করছে। টেলিভিশন ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

প্রায় সাড়ে ২৬শ’ বছর আগে অপর মহামানব যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও সোয়া ৬শ’ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন গৌতম বুদ্ধ। ৬২৪ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে এক পরম পবিত্রতম তিথিতে কপিলাবস্তুর নিকটবর্তী লুম্বিনী উদ্যানে তার জন্ম।

ছয় বছরের কঠোর তপস্যার পর ৫৮৯ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে তিনি বুদ্ধত্ব লাভ করেন প্রকৃতির সৌন্দর্য ঘেরা গয়ার বোধিবৃক্ষ মূলে। এরপর ৪৫ বছর ধর্মপ্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। ৫৪৪ খিস্ট পূর্বাব্দে কুশিনগরের মল­রাজাদের শালবনে ৮০ বছর বয়সে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন।

বুদ্ধের জন্মের হিসাবকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বুদ্ধাব্দ বা বছর হিসাব করেন। সেই বিবেচনায় আজ ২৫৬৬ বুদ্ধ বর্ষকে বিদায় এবং ২৫৬৭ নব বুদ্ধ বর্ষকে স্বাগত জানাচ্ছেন বিশ্ব বৌদ্ধরা।

সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধরা এবং মানবতাবাদী দার্শনিক চিন্তাবিদরা বুদ্ধের জীবনদর্শনকে গভীরভাবে অনুধাবন করেন। বৌদ্ধ ধর্মে অষ্টাঙ্গিক মার্গ বা আটটি বিশুদ্ধ পথের কথা বলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সৎ বাক্য বলা, সৎ চিন্তা, সৎ কর্ম, সৎ জীবিকা নির্বাহ, সৎ প্রচেষ্টা, সৎ স্মৃতি, সৎ সমাধি করা ইত্যাদি।

বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে অস্টাঙ্গিক মার্গের অনুশীলন ও চর্চায় জীবন সুন্দর, মাধুর্যময় ও পরিপূর্ণ হয়। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মে অপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘পঞ্চশীল’। এতে বলা হয়েছে- প্রাণী হত্যা, চৌর্যবৃত্তি, অবৈধ ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা এবং কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন না করা।

এসব কাজে কাউকে কোনো রকম উৎসাহিত না করার কথাও বলা হয়েছে। মহামতি বুদ্ধের এই পঞ্চনীতি পালনে ব্যক্তি যেমন উপকৃত হয়, নিরাপদে থাকে; তেমনি সমাজ ও দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে অবস্থান করতে পারে।

এভাবে বুদ্ধের বাণী ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবনে সুখ, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে স্বীকার করা হয়ে থাকে। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গৌতম বুদ্ধের জীবন এবং বাণী থেকে আমরা কী শিক্ষাগ্রহণ করছি কিংবা আদৌ কোনো শিক্ষা গ্রহণ করছি কিনা, তার পর্যালোচনার সময় এসেছে বলে মনে করেন অনেকে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উপাসনালয় ‘প্যাগোডা’য় বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিশেষ করে তিন পার্বত্য এলাকায় নানা কর্মসূচি পালিত হবে। ওই সব এলাকা উৎসবমুখর থাকবে।

এর বাইরে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন ঢাকার মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করবে।