সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

36
খুলনা নগরের খানজাহান আলী সড়কের ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। পুরোনো ড্রেনের নোংরা পানি ও সরঞ্জাম ফেলা হচ্ছে সড়কের ওপর। তাই দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
Spread the love

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কম্বল বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তিঃ
খুলনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে গতকাল বাদ আসর দলীয় কার্যালয়ে শীতার্থ, অসহায়, দুঃস্থ কর্মীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। জাতির জনকের সুযোগ্য তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের সকল কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সক্রিয় করে তুলছেন। তাদেরকে আজ নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এজন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে নারীদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। খুলনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসনেয়ারা চম্পা এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাজনিন নাহার কণার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিঃ মাহাফুজুর রহমান সোহাগ, শিউলি বিশ্বাস, তহমিনা বেগম, সঞ্চিতা রায়, রওশানার বেগম, আকলিমা বেগম, শিউলি মিস্ত্রী, জেসমিন, ভগবতী গোলদার, লিপিকা বৈরাগী, মলিনা জোয়ার্দার, কানন বালা প্রমুখ। এসময় শীতার্থ, অসহায়, দুঃস্থ কর্মীদের মাঝে বিতরণের জন্য উপজেলা ভিত্তিক প্রতিনীধিদের কাছে কম্বল হস্তান্তর করা হয়।

 

ফকিরহাট সরকারি শেখ হাসিনা কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের বিদায় সংবর্ধনা
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট সরকারি শেখ হাসিনা কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নীহার কান্তি ফৌজদারের অবসর জনিত বিদায় সংবর্ধনা কলেজের শেখ আবু নাসের একাডেমিক ভবনের মিলনায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. মনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন দাশ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক, ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদায় অতিথি অধ্যক্ষ নীহার কান্তি ফৌজদারকে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ ক্রেষ্ট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ ফিরোজ আহম্মেদ, শেখ হেলাল উদ্দীন কলেজের অধ্যক্ষ বটু গোপাল দাশ, সরকারি ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভার:) দেবদুলাল বসু চম্পক, সাকিনা আজহার টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আলতাফ হোসেন টিপু, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম ফকির, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শেখ নুর ইসলাম সোহেল আহম্মেদ, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মেহেরুন্নেছা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অত্র কলেজের প্রভাষক শ্যামল কুমার সাহা।
সহকারী অধ্যাপক খন্দকার আল ফেসানী তরিকুল্লাহের সঞ্চালনায় আরো বক্তৃতা করেন প্রধান শিক্ষক (অব:) অসিম কুমার মজুমদার, সহকারী অধ্যাপক অঞ্জনা রানী পাল কুন্ডু, সহকারী অধ্যাপক মাসুদ হোসেন মুক্ত, শিরীণ হক পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায়, খান মাহমুদ আরিফুল হক, শিক্ষক উত্তম দে ও শিক্ষার্থী জাকারিয়া মল্লিক প্রমূখ।
উল্লেখ্য, ফকিরহাট শেখ হাসিনা কারিগরি মহাবিদ্যালয়টি ১৯৯৮সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫/০৫/২০০০ ইং সাল থেকে ০৯/০২/২০২৩ পর্যন্ত নীহার কান্তি ফৌজদার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি দীর্ঘ এই ২৩বছরে অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন।

ফকিরহাটে ইউপি সদস্য’র পরিবারের উপর হামলা
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নিতিশ ঢালী (৪২) সহ তার স্ত্রী স্বপ্না রানী ঢালী (৩৫) ও তার স্কুলপড়ুয়া ছাত্র নয়ন কুমার ঢালী (১৬)কে মারপিট করেছে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন। সোমবার (৬ই ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় ডহরমৌভোগ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। মারপিটে আহত স্বপ্না ঢালীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। নিতিশ ঢালী ও তার ছেলে নয়ন ঢালী সামান্য আহত হন। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, এলাকার একটি অনুষ্ঠানের জন্য সার্বজনীন একটি পাত্র নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অমিত ঢালীসহ ২/৩জন মিলিত হয়ে ইউপি সদস্য নিতিশ ঢালীর পরিবারের উপর হামলা করেন বলে তাদের অভিযোগ। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য নিতিশ ঢালী বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পাইকগাছা পৌরসভার ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
পাইকগাছা প্রতিনিধি
নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পাইকগাছা পৌরসভার ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি টানা ৬ দিন খেলাধুলা সহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গত সোমবার কর্মসূচির শেষ দিনে কেককাঁটা, আলোচনা সভা ও ফুটবল মাঠে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম, ওসি জিয়াউর রহমান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু, পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার প্যানেল মেয়র শেখ মাহাবুবর রহমান রনজু, কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হাদিসুজ্জামান, এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সজিব শেখ, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ইউনিটের সভাপতি দাউদ শরীফ। উপস্থিত ছিলেন, কাউন্সিলর এসএম তৈয়েবুর রহমান, কবিতা দাশ, আলাউদ্দীন গাজী, অহেদ আলী গাজী, আব্দুল গফফার মোড়ল, রবি শংকর মন্ডল, কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ, ইমরান সরদার, এসএম ইমদাদুল হক, আসমা আহমেদ, রাফেজা খানম, ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফাতেমা তুজ জোহরা রূপা, নাজমা কামাল, ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির হোসেন, রায়হান পারভেজ রনি। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি পাইকগাছা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

পাইকগাছায় বাংলা ইশারা ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
বাংলা ইশারা ভাষার প্রচলন, বাঁক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধি ব্যক্তির জীবনমান উন্নয়ন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে পাইকগাছায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু। সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান। স্বাগত বক্তৃতা এবং সঞ্চালনা করেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোঃ ঈমান উদ্দীন, বিআরডিবি কর্মকর্তা রাজীবুল হাসান, পিআইও ইমরুল কায়েস, বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায়, পল¬ী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা বিপ¬ব কান্তি বৈদ্য। বক্তৃতা করেন, ব্রততী রায় শিশু ও প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট সভাপতি প্রজিৎ কুমার রায়, খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ হাসিবুর রহমান, এসএফডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়া, সাংবাদিক আঃ আজিজ ও পূর্ণ চন্দ্র মন্ডল।

পাইকগাছায় আমের মুকুল সৌরভ ছড়াচ্ছে
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকার আমের গাছে মুকুল সৌরভ ছড়াচ্ছে। সুমিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। বসন্তের শুরু থেকেই মুকুলে শোভা পাচ্ছে গাছ। মৌমাছির দল গুনগুন করে ভিড়তে শুরু করছে আমের মুকুলে। মুকুলের সেই সু-মিষ্টি সুবাসে আন্দোলিত হয়ে উঠেছে চাষীর মনও। এ বছর আশানারুপ মুকুল না হওয়ায় পরও মনে আশা নিয়ে আমচাষি ও বাগান মালিকরা বাগানের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অবশ্য গাছে মুকুল আশার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করে আসছেন তারা। যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়। পাইকগাছাসহ উপকুল এলাকায় চলতি বছর অনেক দেরিতে আম গাছে মুকুল বের হওয়া শুরু হয়েছে। অধিকাংশ গাছের মুকুল ভালো হয়েছে। কোন গাছের একটি দুইটি ডালে মুকুল বের হয়েছে আর বাকী ডালের পল¬বে মুকুল হয়নি। অনেক গাছে কোন মুকুলই বের হয়নি। হিসাবে শীতের মধ্যে অতি বৃস্টি ও ঝড়ো হাওয়া এর কারণ হিসাবে বিবেচনা করছে কৃষিবীদরা।
পাইকগাছার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ও পৌরসভা ছাড়া বাকি ইউয়িনগুলোতে সীমিত আমের গাছ রয়েছে। উপজেলায় ৫৮৫ হেক্টর জমিতে মোট আম গাছ রয়েছে। গাছের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। কিছু কিছু পরিকল্পিত আম বাগান রয়েছে। এসব বাগানে সর্বনিন্ম ১০টি গাছ রয়েছে। ৫ শতক, ১০ শতক, ১ বিঘা ও ৩ বিঘা পর্যন্ত আমের বাগান রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়ানো ছিটানো আম গাছ আছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এসব বাগানের ৮০/৭৯০ ভাগ গাছে মুকুল ধরেছে। তবে গাছের একটি দুইটি ডালে মুকুল বের হয়েছে আর বাকী ডালের পল¬বে মুকুল হয়নি। অনেক গাছে কোন মুকুলই বের হয়নি। ১০/১৫ ভাগ আম গাছে কোন মুকুল বের হয়নি। তবে এখনো সময় আছে আরো কিছু গাছে মুকুল বের হতে পারে এমন আশা করছে চাষী ও বাগান মালিকরা। আম বাগান থেকে চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৮ শত মেট্রিক টন আমের ফলন পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তারপরও বাগান মালিক, কৃষিবিদ, আমচাষিরা আশা করছেন বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উপজেলায় আমের ফলন আশানারুপ হবে।
উপজেলায় মলি¬কা, চুষা, আশ্বিনা, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি, লতা, বারি ৪, আম্রপলি, গোপালভোগ সহ অন্যান্য জাতের আম চাষের হয়। সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও বাগান মালিক জানান, নিয়মিত পরিচর্যা, গাছের গোড়ায় বাঁধ দিয়ে পানি সেচের কারণে সব বাগানে গাছগুলো নিয়মিত খাদ্য পাচ্ছে। ফলে আশানুরূপ ফলন বাড়ছে।
উপজেলার কপিলমুনি, গদাইপুর, হরিঢালী, রাড়ুলী, পৌরসভা, চাঁদখালীসহ বিভিন্ন এলাকা আম বাগানের গাছে মুকুল ভালো হয়নি, এমনই চিত্র দেখা গেছে। কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশী গ্রামের পুরস্কারপ্রাপ্ত আম চাষি অখিলবন্ধু ঘোষ জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। বাগানের আম গাছে মুকুল আসা শুরু করেছে। আমরা কৃষি বিভাগে গিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করছি। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও আমাদের বাগানে এসে আমের বাগান ভাল রাখার জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পুরোপুরিভাবে শীত বিদায়ের আগেই মুকুল না আসলে ভাল ফলন ভালো হবে না। ঘন কুয়াশায় মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও ফাগুনে কুয়াশার আশংকা কম তারপরও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রকৃতির বিরূপ আচারণে আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হরিঢালীর আকবর হোসেন, গদাইপুরের মোবারক ঢালী, তকিয়ার মুজিবর গাজীসহ বিভিন্ন এলাকার আম ব্যবসায়ীরা জানান, ঋণ করে আগাম আম বাগান নিয়েছে। অনেক চাষী আম বিক্রি ঋণের টাকা পরিশোধ করবে। আমের মুকুল বের হওয়া আর ফলনের উপর নির্ভর করছে আম চাষির সপ্ন।
কৃষিবিদরা জানান, আমগাছের বহু সমস্যার মধ্যে একটি বড় সমস্যা হলো প্রতি বছর ফুল ও ফল না আসা। দেখা গেছে, একেবারেই ফুল হয় না বা হলেও কোনো কোনো বছর খুব কম হয়। যখন অনেক গাছে এক বছর খুব ফুল হয় আর পরের বছর একেবারেই হয় না বা খুব সামান্য হয় এবং তৃতীয় বছর আবার খুব বেশি ফুল আর চতুর্থ বছর কিছুই না বা কম অর্থাৎ এরা একটু ছন্দের মতো চলে। এই রকম হলে বলা হয় অলটারনেট বা বায়িনিয়াল বেয়ারিং। আবার যেসব গাছে হয়তো এক বছর খুব বেশি ফুল হলো, তারপর দু-তিন বছর হলো না বা কম হলো, কিংবা পরপর দু’তিন বছর বেশ ফুল হলো তারপর এক বছর বা কয়েক বছর বন্ধ থাকে অর্থাৎ এরা একটু এলোপাতাড়ি ধরনের। এদের বলা হয় ইরেগুলার বেয়ারার। এই দুটি সমস্যা অনেক আমগাছে দেখা যায়। যে বছর খুব বেশি ফুল হয়, সেই বছরটিকে উদ্যান বিজ্ঞানে বলা হয় ‘অন ইয়ার’, আর বিনা ফলন বা কম ফলনের বছরকে বলা হয় ‘অফ-ইয়ার’। আমের একটি ডালে মুকুল আসতে হলে, ফুল আসার আগে ডালটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা ও নাইট্রোজেন দুই-ই থাকতে হবে আর শুধু তাই নয়, শর্করার ভাগ নাইট্রোজেনের ভাগের চেয়ে যথেষ্ট বেশি থাকতে হবে তবেই মুকুল আসবে। আর যদি দুটির ভাগ সমান হয় বা বিশেষ করে ডালটির নাইট্রোজেনের মাত্রা শর্করার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ঐ ডালটির ডগায়, বসন্তকালে মুকুল আসার বদলে পাতা এসে যাবে। আম গাছের এই সমস্যাটির জন্য উদ্ভিদ হরমোন ‘অক্সিন’, ‘জিবেরেলিন’ ও বিশেষ করে ‘গ্রোথ ইনহিবিটর’ জাতীয় হরমোনগুলো দায়ী বলে মনে করা হয়।
মাটিতে প্রয়োজনীয় পানি/রসের অভাব হলে সার প্রয়োগের পর সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। ফিডার রুটগুলো গাছের গোড়া থেকে দূরে থাকে। যে বছর গাছে প্রচুর ফুল আসে, সে বছর যদি গাছের অধের্ক ফুল ভেঙে দেয়া হয়, তাহলে গাছের সেই অংশ নতুন শাখা উৎপন্ন করবে। আগামী বছর সেই অংশে ফুল ও ফল উৎপন্ন করবে। এভাবে আম গাছ থেকে নিয়মিত ফলন পাওয়া যেতে পারে।
বাণিজ্যিক জাত যেমন, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, খিরসাপাত, আশ্বিনা ইত্যাদির অলটারনেট বেয়ারিং হ্যাবিট আছে এবং বারি আম-১, বারি আম-২, বারি আম-৩, বারি আম-৪ ইত্যাদি রেগুলার বেয়ারর জাত। তাই বাগানে শুধু ‘অলটারনেট বেয়ারার’ জাতের গাছ না লাগিয়ে, অন্তত কিছুসংখ্যক ‘রেগুলার বেয়ারার’ জাতও লাগানো উচিত। এতে প্রতি বছরই বাগান থেকে কিছু না কিছু ফলন পাওয়া যাবে। বাগানের গাছগুলোকে অধিক উৎপাদনক্ষম করার জন্য অবশ্যই আম বাগান বছরে ৩ বার বর্ষার আগে, বর্ষার পরে ও শীতকালে লাঙল, পাওয়ার টিলার অথবা কোদাল দ্বারা কুপিয়ে ভালোভাবে গভীর চাষাবাদ করতে হবে। ফলে বাগানের আগাছা মারা যাবে এবং মাটির সাথে মিশে জৈবসারে পরিণত হবে। মাটির ভেতরকার পোকামাকড়ও মরে জৈব পদার্থ হিসেবে মাটিতে যোগ হবে। তাছাড়া মাটির আর্দ্রতা ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পুষ্টি উপাদানগুলো গাছের গ্রহণের উপযোগী হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমাদের পাইকগাছায় ৯০ ভাগ গাছে মুকুল চলে এসেছে, চাষীদের ফুল ফোটার অবস্থায় কোন ঔষধ বা কীটনাশক ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ সময়ে বাগানে হপার এবং ফুদকী পোকা গুলো গাছের বাকলে লুকিয়ে থাকে। এ ধরনের পোকা খুব বেশী দেখা দিলে অনুমোদিত কীটনাশক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ প্রদান করছি। কুয়াশার কারণে আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হতেপারে। এজন্য অনুমোদিত সালফার বা বালাই নাশক স্প্রে’র পরামর্শ দিয়েছেন। আবহাওয়া যদি রৌদ্রজ্জ্বল হয় এবং তাপমাত্রা বাড়ে তবে গুটি ভালো হবে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ তৃনমূল পার্টির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারী যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ তৃনমূল পার্টি খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা গতকাল সন্ধায় ফুলবাড়িগেটস্থ খুলনা মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তৃনমূল পার্টি খালিশপুর থানার আহবায়ক মোঃ সেলিম শিকদার, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তৃনমূল পার্টির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শ্রমিক নেতা মোঃ সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ তৃনমূল পার্টির সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুমন আহমেদ বাবুর পরিচালনায় বক্তৃতা করেন সংগঠনের খুলনা মহানগর আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মোসলেম উদ্দিন, মোঃ তাহমিদ হোসেন, মোঃ ইমরান হোসেন , খানজাহান আলী থানার আহবায়ক মোঃ সাইদুল ইসলাম বাবুল, সদস্য সচিব মোঃ জসিম হাওলাদার, দৌলতপুর থানার আহবায়ক মোঃ শেখ শাহীন, সদস্য মোঃ মাহাবুবুর রহমান শামীম, খালিশপুর থানার যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, সদস্য সচিব মোঃ নান্নু খান প্রমুখ। এসময় বাংলাদেশ তৃনমূল পার্টির খুলনা মহানগর , থানা ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভুট্টা ছেড়ার অপরাধে এতিম শিশুকে পিটিয়ে আহত
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি,
ভুট্রা ক্ষেত থেকে একটি ভুট্রা ছেড়ার অপরাধে পিতা-মাতা হারা এতিম শিশু গৌরাঙ্গকে (৯) পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। শিশুটিকে পিটিয়ে আহত করেও ক্ষ্যান্ত হননি প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান। শিশুটির বাড়ীতে গিয়ে বাড়ী ঘর ছাড়ারও হুমকি দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান। মতিয়ার রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জিএইচজিপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
এ ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বিকালে মহেশপুর পৌর এলাকার দাস পাড়ার পাশের ভুট্রা ক্ষেতে।
এলাকাবাসী জানান, দাসপাড়ার শ্যামল দাসের ছেলে শিশু গৌরাঙ্গ ও তার দুই বন্ধু একই পাড়ার রাজকুমারের ছেলে পরম (৮) ও প্রসেনজিৎ এর ছেলে প্রশান্ত (৬) সামবার বিকালের দিকে মাঠে খেলতে গিয়ে মতিয়ার মাস্টারের ভুট্টা ক্ষেত থেকে একটি ভুট্টা ছিড়ে ফেলে। তখন মতিয়ার মাষ্টার গৌরাঙ্গ ও তার দুই বন্ধুকে লাঠি দিয়ে বেধরক পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করে।
দাস পাড়া গ্রামের মধুমালা রানী জানান, প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান আমার বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে গিয়েছে। যদি এরা আবার ভুট্টা ক্ষেতে যায় তাহলে আমাদের পুরো পরিবারকে দেখে নেবে। তিনি আরো জানান, একটা ভুট্রা ছেড়ার অপরাধে যদি এই শাস্তি হয় তাহলে আমাদের আর কিছুই বলার নেই। কারণ আমরা সংখ্যালঘু পরিবার। এ সংখ্যালঘু পরিবার টি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জিএইচজিপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান জানান, আমার ভুট্র ক্ষেত থেকে তারা প্রতিদিনই ভুট্রা নষ্ট করে। তাই আমি তাদেরকে মেরেছি।

রূপসায় যুবককে হত্যার হুমকি থানায় সাধারণ ডায়েরির
রূপসা প্রতিনিধি
রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের শিরগাতী গ্রামের মোঃ ফিরোজ মোড়ল (৩৩) নামের এক যুবককে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হাতেম মোড়ল গং গত ২৮ জানুয়ারী বেধরক মারপিট করেছে। সূত্র জানায় ফিরোজের মা ফাতেমা বেগম (৬০) ছেলেকে উদ্ধার করতে এলে তাকেও মারপিট করে আহত করে। পরবর্তীতে তাদের ডাক চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে ফাতেমা বেগমকে খুলনা সদর হাসপাতাল এবং ফিরোজ মোড়লকে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তী করে। চিকিৎসা শেষে গত ৫ ফেব্রুয়ারী ফিরোজ মোড়ল বাড়িতে আসলে হাতেম মোড়ল গংরা ফিরোজ মোড়লকে পুনরায় আক্রমন করে এবং হত্যা করার হুমকি দেয়। এ কারনে ফিরোজ মোড়ল এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে পরামর্শ করে হাতেম মোড়ল গংদের বিরুদ্ধে গত ৬ ফেব্রুয়ারী রূপসা থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করে।

কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা বকুলের শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগর কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক সানাউল্লাহ সানির মাতার মৃত্যুতে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের শোক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, খুলনা মহানগরী শাখার অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক সানাউল্লাহ সানির মাতা রেহেনা ইসলাম (৭০) সোমবার ৬ফেব্রুয়ারি আনুমানিক সকাল ৫টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) উল্লেখ্য যে, তিনি দীর্ঘদিন যাবত ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মরহুমার নামাজে জানাজা ৭ফেব্রুয়ারি বাদ জোহর চিতলমারী নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা মহানগরী কৃষক দলের অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক সানাউল্লাহ সানির মাতা রেহানা ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সম্মানিত সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল।

৪ টি থানায় ইসলামী আন্দোলনের কমিটি গঠন
খবর বিজ্ঞপ্তি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলার আওতাধীন ৪ টি উপজেলা ও চালনা পৌরসভা শাখা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফুলতলা উপজেলাঃ গতকাল ৭ফেব্রুয়ারি – মঙ্গলবার বিকাল ৫ টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফুলতলা উপজেলা শাখার সভাপতি ইঞ্জিয়ার গোলাম সরোয়ারের সভাপতিত্বে ও আলহাজ্ব রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আগামী ২০২৩-২৪ সেশনের জন্যক আলহাজ্ব মুফতি আঃ জব্বার আজমীকে সভাপতি হাফেজ মোঃ ইউসুফ আলীকে সেক্রেটারি করে ফুলতলা উপজেলা শাখা কমিটি ঘোষনা করা হয়।
বটিয়াঘাটা উপজলাঃ গত ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকাল ৫টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বটিয়াঘাটা উপজেলা পূর্ব শাখার সভাপতি শেখ রওশন আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হাফেজ জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আগামী ২০২৩ -২৪ সেশনের জন্য হাফেজ জাহিদুল ইসলামকে সভাপতি মোঃ জিয়াউর রহমানকেসেক্রেটারি করে বটিয়াঘাটা পুর্ব উপজেলার কমিটি ঘোষণা করা হয়।
দাকোপে উপজেলাঃ উপজেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাকোপ উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও চালনা পৌর শাখার সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোঃ সফিকুুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে আগামী ২০২৩, ২৪ সেশনের জন্য হাফেজ মাওলানা তাবারক হোসেনকে সভাপতি ও আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলামকে সহ সভাপতি এবং হাফেজ মোঃ উসমান করীমকে সেক্রেটারি করে দাকোপ উপজেলা এবং আলহাজ্ব আবু দাউদ শেখকে সভাপতি মাওলানা খালিদুর রহমানকে সহ সভাপতি এবং শফিকুল ইসলামকে সক্রেটারী করে চালনা পৌরসভা শাখার কমিটি ঘোষনা করা হয়।
দিঘলিয়া উপজেলাঃ দলের অস্থায়ী কার্যলয়ে উপজেলা সভাপতি মাওলানা আসাদুল্লাহ হামিদীর সভাপতিত্বে ও মুঃ নুরুল হুদা সাজুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত দ্বি -বার্ষিক সম্মেলন আগামী সেশনের জন্য মোঃ নুরুল হুদা সাজুকে সভাপতি ও মোঃ রফিকুল ইসলাম এসকেন্দারকে সেক্রেটারি এবং মাওলানা মোঃ গিয়াস উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে দিঘলিয়া উপজেলা কমিটি ঘোষনা করা হয়।পৃথক পৃথক অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহ সভাপতি শাইখুল ইসলাম বিন হাসান। উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি আসাদুল্লাহ আল গালিব ও জয়েন্ট সেক্রেটারি আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম,মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা মাহবুবুল আলম, আশরাফুল ইসলাম মাওলানা মেজবাহ উদ্দিন মুহাম্মদ।জেলা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেজাউল করিম। মুফতি সাইফুল্লাহ, নাজমুল হাসান আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, সহও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

কালিগঞ্জে ইসলামী জলসা ও সঙ্গীতের আড়ালে ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি
এলাকা বাসীর ব্যানারে মাহফিল ও ইসলামী সংগীতের নাম করে লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজি করে প্রশাসনের অগোচরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করে গেলেও কেউ টের পায়নি। সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ছিল ইসলামী ছাত্রশিবিরের জন্ম ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।; দিবস টি পালন উপলক্ষে প্রতি বছর এলাকা বাসীর ব্যানারে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিনের বাড়ির পাশে মাহফিল ও ইসলামী সংগীতের অন্তরালে দিবসটি পালিত হয়েআসছে।
এবছর ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। জেলা ও থানা পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজর এড়িয়ে এবারও সোমবার সন্ধ্যা থেকে উপজেলার মৌতলা গ্রামে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিনের বাড়ির পাশে ইসলামী সংগীতের নামে পালিত হয়ে গেল ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ””সাবেক ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতা ও উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল হাদী ও জামায়াত কর্মী মাসুম বিল্লাহ আব্দুল কাইয়ুম এর ব্যবস্থাপনায় এবং উপস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্রশিবিরের নেতৃ বৃন্দ কে নিয়ে পালিত হয়েছেদিবসটি।
উক্ত ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী এবং মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লের নাম বিশেষ অতিথির জায়গায় লেখা থাকলেও উক্ত অনুষ্ঠানে তাদেরকে পাওয়া যায়নি তবে সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যেয়ে সত্যতা মেলায় বিষয়টি ডিএসবিকে জানালে রাত ১২টার সময় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কালিগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক অবৈধ ব্রাদার্স ব্রিকস ভাঙার অভিযান শুরু
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি
মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পরিচালিত ব্রাদার্স ব্রিকস জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক অভিযানে ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। বছরের পর বছর কোন কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্রাদার্স ব্রিকস হাইকোর্ট জেলা, উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বহাল তবিয়াদের কাজ চালিয়ে আসছিল জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদ ও তার ভাইয়েরা। গত ৩ জানুয়ারি বেলা ১২টার সময় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামে গড়ে ওঠা অবৈধ ব্রাদার্স ব্রিকস ওরফে সিয়াম ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজাহার আলী এবং সাতক্ষীরার বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইট ভাটাটি বন্ধ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমান ঘোষণা করা হয়। উক্ত নির্দেশ অমান্য করে জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও বিজ্ঞ আদালত কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বহাল তবিয়াদের ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। যে কারণে মঙ্গলবার, (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা১১ টার সময় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজাহার আলী নেতৃত্বে সাতক্ষীরার বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে ভেকু দিয়ে অবৈধ ইটভাটা ভাঙার কার্যক্রম শুরু করেছে যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করে। আজ থেকে আবার বুলডোজার, ভেকু নিয়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজহার আলী জানান। ওই সময় ভাটা মালিক আব্দুস সেলিম ওরফে বাবলু স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার নামা দিয়ে রেহাই পায়। শীতলপুর গ্রামের উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি ও একাধিক সহিংস মামলার আসামি আব্দুল ওদুদ ও তার ভাই আব্দুস সেলিম এবং শামসুল আলম কয়েস মিলে শীতলপুর গ্রামের ভিতরে কিছু সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে ভাটা নির্মাণ করে চালিয়ে আসছিল।
এই অবৈধ ভাটার কালো ধোয়ায়এলাকায় ফসলের জমি ছাড়াও বায়ু দূষণে এলাকায় বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়ায় ভাটাটি অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসী জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করলে একাধিকবার ভাটাটি বন্ধ ঘোষণা করলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বহাল তবিয়াদে চালিয়ে আসছিল।
অতঃপর এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলা দায়ের করে। যার প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট অবৈধ ভাটাটি অপসারণের নির্দেশ দেন কিন্তু নিজের চ্যালেঞ্জ করে ভাটা কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে আপিল করলে বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগ বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চেয়ারম্যানের উপর দায়িত্ব দেন। এছাড়াও মহামান্য হাইকোর্ট দু মাসের মধ্যে ভাটার স্থান পরিবর্তন করার জন্য আদেশ দেন কিন্তু সে আদেশ অমান্য করে ওয়াদুদ গংরা এলাকার শত শত লোকের নিকট থেকে ইট দেওয়ার নাম করে প্রায় দুই তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ভুক্তভোগীদের টাকা না দিতে পারায় এবং আদালতে একাধিক প্রতারণার মামলা থাকায় ভাটাটি সানকা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবদুস সবুরের নামে বছরে ২৫ লক্ষ টাকায় ইজারা দিয়ে দুই বছরের অগ্রিম ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে ভাটাটি চালিয়ে আসছিল লিজগ্রহীতা প্রবাসী আব্দুস সবুর তার স্ত্রী রিনা খাতুন কে দিয়ে তার পুত্র সিয়ামের নাম ব্যবহার করে সিয়াম-ভাটা হিসেবে পরিচালনা করে আসছিল।

কালিগঞ্জের বাগবসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে অর্ধ লক্ষ্ টাকার প্রাইভেট বাণিজ্য
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মাসোহারার মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম, রাসেল কবীর মিলে তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয় ভবনেই গড়ে তুলেছে মাসে অর্ধ লক্ষ টাকার প্রাইভেট বাণিজ্য। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৩৫০ এবং পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিকট হতে মাসিক ৫ শত টাকা নিয়ে বছরের পর বছর এই কোচিং প্রাইভেট বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও দেখার কেউ নাই। মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার সময় সরে জমিনে গেলে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে প্রাইভেট বাণিজ্যের এমন ঘটনা দেখা যায়।
সাংবাদিক দেখে শিক্ষার্থীদের টাকা নেওয়ার বিষয়টি চেপে যেতে বললেও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের সামনে অকপটে সব সত্য প্রকাশ করে দেয়। বসন্তপুর গ্রামের অভিভাবক আব্বাস আলী, আব্দুল গফফার, মনিরুল, রুস্তম সহ একাধিক অভিভাবক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানায় বাগ বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ তৃতীয় চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের দুটি গ্রুপে ভাগ করে তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিকট হতে বাধ্যতামূলক সাড়ে ৩শ এবং পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিকট হতে মাসিক ৫শ টাকা নিয়ে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করা হয়। শ্রেণীপতি ২টি গ্রুপে বিভক্ত করে এক একটি গ্রুপে ৪০/ ৫০ জন শিক্ষার্থীদের ১ ঘণ্টা করে ২ ভাগে পড়ানো হয়ে থাকে। প্রথম গ্রুপ সকাল ৭টা থেকে৮টা পর্যন্ত দ্বিতীয় গুরুপ ৮টা হতে ৯ টা পর্যন্ত পড়ানো হয়। সাড়ে ৯টায় স্কুল শুরু হওয়ার আগেই প্রাইভেট পড়া ছাত্রছাত্রী গুলো স্কুল ত্যাগ করে। এইভাবে শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য এবং প্রাইভেট বাণিজ্যে করে স্কুলে নামমাত্র হাজিরা দিয়ে সময় পার করে চলে যায়। আর এইভাবে প্রতিমাসে প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার ঘোষের ছত্র ছায়ায় প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকার প্রাইভেট বাণিজ্য করে আসছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্কুল ভবনে উপজেলা জুড়ে জমে উঠেছে রমরমা প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য। কোচিং বা প্রাইভেট বাণিজ্যে অংশ না নিলে ওই শিক্ষার্থীর ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে অভিভাবকদের রাজি করাতে বাধ্য হয়। এ ব্যাপারে মাশোহারার বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান স্কুলের মধ্যে কোচিং, প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি তার জানা নাই। আপনারা পত্রিকায় লিখলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার ঘোষ বিষয়টি পত্রিকায় না লেখালেখির জন্য অনুরোধ জানিয়ে জেলা পরিষদের সদস্য ফিরোজ কবীর কাজলকে জানালে তিনি বিষয়টি পত্রিকায় না দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিনি এর নিকট জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। জেনে বিষয়টির দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

দাকোপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ চলছে যেন দেখার কেউ নাই
মোঃ শামীম হোসেন- বাজুয়া (দাকোপ)
খুলনার দাকোপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ চলছে যেন দেখার কেউ নাই। ক্ষমতা আর দাপটের সাথে সরকারি জায়গার উপর চলছে ঘর নির্মাণ। প্রশাসনের কোন নজর নেই।
দাকোপ উপজেলার ৮নং বাজুয়া ইউনিয়নের পোদ্দার গঞ্জ বাজার সংলগ্ন ১নং ওয়ার্ডের অধীনে সরকারী জায়গার উপর ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা একের পর এক ঘর নির্মাণ করেছে। এ নিয়ে এলাকায় চলে নানা গুনজন আর আলোচনা। তাদের বিরুদ্ধে কেহ কথা বলতে চায় না। এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, চুনকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা মৃকংক রায় নামের এ যুবক ঘর নির্মাণ করার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। ঘরের বিষয় মৃকংক রায়ের কাছে জানতে চাইলে, সাংবাদিকদের তিনি জানান, দাকোপ উপজেলার ৩৩ নং পোল্ডারের ব্যবস্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছেন তিনি। তিনি আরো জানান, এই ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, দাকোপ উপজেলার ৩৩ নং পোল্ডারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সভাপতি রবার্ট হালদারের নির্দেশে। মৃকংক রায়ের এমন বক্তব্য নিয়ে পরবর্তীতে ৩৩ নং পোল্ডারের দায়িত্বে থাকা সভাপতি রবার্ট হালদারকে মুটোফোনে কল করলে, তিনি জানিয়ে দেন, কাউকে তিনি ঘর নির্মাণ করার জন্য বলিনি। আর মৃকংক রায় মিথ্যা বলেছেন।
রবার্ট হালদার আরো বলেন, বাজার সংলগ্ন ওই একই জায়গার উপর, পাশে দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ বিষয়টাও দেখার অনুরোধ রইলো। উক্ত ঘর নির্মাণের ব্যাপারে এলাকার ইউপি সদস্য রাবিন্দ্রনাথ মোড়ল বলেন, কে বা কারা, ঘর নির্মাণ করছে, আমি জানি না। তবে আমি এ বিষয় শুনেছি যে ঘর নির্মাণ চলছে। তাই দাকোপ উপজেলার পোদ্দার গঞ্জ বাজার কমিটির সকলের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণের বন্ধের দাবি ও প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

কালীগঞ্জের বিষ্ণুপুরে শিক্ষা পদক ও ক্রিয়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে প্রাথমিক শিক্ষা পদক, ক্রিয়া প্রতিযোগিতা, ও পুরস্কার বিতরণ
অনুষ্ঠিত হয়েছে।শিক্ষক জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯ টায় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নয়ন কুমার সাহার সভাপতিত্বে সরদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ চত্বরে ২০২৩ শিক্ষা পদক ও ক্রিয়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য জি,এম আব্দুল কাদের, শ্রীধরকাটি সরকারি প্রাথঃ বিদ্যাঃ প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার মন্ডল, সহকারী শিক্ষক অশোক কুমার মন্ডল, সরদারপাড়া সরকারি প্রাথঃ বিদ্যাঃ শিক্ষক গপিনাথ পাল, লাকী কোমরপুর সরকারি প্রাথঃ বিদ্যাঃ শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, পারুলগাছা সরকারি প্রাথঃ বিদ্যাঃ শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন, প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সুকান্ত মন্ডল, কাকুলি, তারিকুল ইসলাম, মোস্তফা মাহমুদ, সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক, ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।

 

মহেশপুরে শিশু নিলয় ফাউন্ডশনের ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠিত
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারী শিল্পের উদ্যোক্তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিষয়ক ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে এই ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠিত হয়।
শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের এসইপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ইমদাদুল হোসেনের সভাপতিত্বে ওরিয়েন্টশনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রের মেডিকেল অফিসার উম্মে আরওয়া,এসইপি প্রকল্পের পরিবেশ কর্মকর্তা জাকির হোসেন,ফিনান্স অফিসার ইউনুস আলী। অনুষ্ঠানে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন (এসইপি) প্রকল্পের কারিগরি কর্মকর্তা মোস্তফা মহসিন।
বক্তারা অনুষ্ঠানে ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারী শিল্প উদ্যোক্তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরাসন, ভালো চর্চা, নিরাপদ ও সচেতন থাকার প্রতি আহবান জানান। শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন (এসএনএফ) সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাাইজ প্রজেক্ট (এসইপি)প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি এ উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জীবনকে বিকশিত ও আলোকিত করার বড় ক্ষেত্র হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় : উপাচার্য
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক/স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ৫ দিনব্যাপী একাডেমিক কাউন্সেলিং এন্ড মোটিভেশন শীর্ষক কর্মশালার তৃতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ০৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ৯.১৫ মিনিটে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ কর্মশালার তৃতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন হলো নিজেকে তৈরি করার জায়গা। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করে আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। আমরা ভবিষ্যতে নিজেদের কোন অবস্থানে দেখতে চাই, তার সোপান এখান থেকেই তৈরি করে নিতে হবে। মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, একজন আদর্শ মানুষ হতে হলে নিজেকে বিকশিত করতে হবে। জীবনকে বিকশিত ও আলোকিত করার বড় ক্ষেত্র হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। স্নাতক পর্যায়ের ৪ বছরের নির্দেশিত পথচলা ভবিষ্যতের কর্মপন্থা ঠিক করে দেয়।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও পরিবেশের দিক দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মধ্যে অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে যেমন ছাত্র রাজনীতি নেই, তেমনি সেশনজটও নেই। একই একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে সব ডিসিপ্লিনে ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চেয়ে এগিয়ে। এখানে শিক্ষার্থীরা গবেষণাকাজে শিক্ষকদের সাথে অংশ নিতে পারে। যা তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে উৎসাহ ও প্রেরণা যোগায়।
উপাচার্য নবাগত শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটেস অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। একই সাথে এমন একটি কর্মশালা আয়োজনের জন্য তিনি আইকিউএসির পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ ও চারুকলা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ। সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. জগদীশ চন্দ্র জোয়ারদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মতিউল ইসলাম। এসময় সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনসমূহের প্রধানবৃন্দ এবং নবাগত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথাগতভাবে নবাগত শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। উক্ত শপথবাক্যে র্যাগিং ও মাদককে না বলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরে তিনি রিসোর্স পারসন হিসেবে ‘কী টু সাকসেস ইন হায়ার এডুকেশন’ শীর্ষক একটি সেশন উপস্থাপন করেন।
কর্মশালার তৃতীয় দিনে জীববিজ্ঞান স্কুল এবং চারুকলা স্কুলের আওতাধীন ৬টি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও কর্মশালায় ‘টিচিং লার্নিং অ্যাপ্রোচেস ইন হায়ার এডুকেশন’, ‘এডুকেশন সিস্টেম, রুলস এন্ড রেগুলেশন্স’, ‘এক্সেস টু রিসোর্স, ইনফরমেশন এন্ড টেকনোলজি ইন কেইউ’ এবং ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস ইন কেইউ’ শীর্ষক ৪টি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

খুবিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আজ
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৩ আজ ০৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হবে। বেলা ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। সম্মানিত অতিথি থাকবেন ট্রেজারার প্রফেসর অমিত রায় চৌধুরী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস এবং ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মো. শরীফ হাসান লিমন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আহসান হাবীব। পরে বিকাল ৪টায় প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তে পথে বসতে চলেছে বাওড় পাড়ের সহশ্রাধিক জেলে পরিবার
শামীম খান জনী, মহেশপুর(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি,
মহেশপুরের কাঠগড়া বাওড়ে ৫০ বছর মাছ ধরছেন সাধন কুমার হালদার। তার পরিবারে ৮ সদস্য। যারা সবাই সাধন কুমারের উপর নির্ভরশীল। নিত্য হালদার ৬২ বছর বয়সের মধ্যে ৪০ বছরই কোটচাঁদপুরের জয়দিয়া বাওড়ে মাছ ধরার কাজ করেন। এই মাছ ধরেই চলে তার সংসার। এক মেয়ে চম্পা হালদারকে বিয়ে দিয়েছেন, আর এক ছেলে অনিক হালদার বর্তমানে যশোর এম.এম কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মার্স্টাস পড়ছে। গোকুল হালদার কালীগঞ্জের মর্জাদ বাওড়ে মাছ ধরেন ৩৫ বছর। তার একার আয়ে চলে ১০ জনের সংসার।
নিত্য, গোকুল ও সাধনের মতো ঝিনাইদহ ও যশোরের ৬ টি বাওড় পাড়ে বসবাসকারি প্রায় ১ হাজার পরিবার কর্ম হারিয়ে পথে বসতে চলেছে। এতোদিন তারা ওই ৬ বাওড়ে মাছ ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। সম্প্রতি সরকারের ভুমি মন্ত্রনালয় এগুলো ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইতিমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। মৎস্যজীবীরা বলছেন, বর্তমানে বাওড়গুলো ‘বিল ও বাওড় মৎস্য উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে তাদের ৪০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। বাওড়ের মাছ ধরার কাজ তারাই করেন। আর ইজারা দিলে আপতদৃষ্টিতে সরকার এককালীন বেশি আয় দেখালেও বাওড়গুলো নানামুখি ক্ষতির মুখে পড়বে। ধংশ হবে জীববৈচিত্র্য। বাওড়গুলো চলে যাবে প্রভাবশালীর দখলে। মালিকানা হারিয়ে মৎস্যজীবীরা পথে বসবে। মাছ চাষে সার-ঔষধের ব্যবহারে বাওড় থেকে রাণী মাছও হারিয়ে যাবে। বাওড়গুলো ঘিরে সরকারের যে লোকবল রয়েছে, তারাও হবে বেকার। যে কারনে তারা চলমান নিতিমালায় বাওড়গুলো পরিচালনার দাবি তাদের।
মৎস্য অধিদপ্তরে খোজ নিয়ে জানাগেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুরে কাঠগড়া ও ফতেপুর, কোটচাঁদপুরে বলুহর ও জয়দিয়া, কালীগঞ্জে মর্জাদ এবং যশোরের চৌগাছায় বেড়গোবিন্দপুর বাওড়টি বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে বাওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প এর আওতায় মাছ চাষ শুরু করে। ১৯৭৯ সাল থেকে ৩০ বছর মেয়াদী বিল ও বাওড় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এই সময়ে মাছ চাষের উপযোগি করতে বাওড়গুলোতে পানি নিয়ন্ত্রন অবকাঠামো, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, অফিস, আবাসিক ভবন, গার্ডসেটসহ নানা অবকাঠামো নির্মান করা হয়। পরবর্তীতে দুই দফায় আরো ২৪ বছর প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে অদ্যবদী এটি বাওড় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প রাজস্ব খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। একজন প্রকল্প পরিচালক এগুলো দেখভাল করেন, কর্মকর্তা কর্মচারি আছেন ১১০ জন। এছাড়া এই ৬ টি বাওড়ে রেনু সরবরাহের জন্য কোটচাঁদপুরে একটি কেন্দ্রীয় হ্যাচারী রয়েছে। যেখানে ২৯ টি পুকুর আছে।
অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ৬ টি বাওড়ে নিদৃষ্ট অংকের মাছ ছাড়া হয়। প্রতি বছর মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকে। বাওড়ের কর্মরতরা এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে অতিরিক্ত মাছ উৎপাদন করে থাকেন। এই মাছ চাষের মাধ্যমে বাওড় পাড়ের হালদারদের জীবন-মান উন্নত করতে বাওড়ে যে মাছ থাকবে তার ৬০ শতাংশ সরকার, আর ৪০ শতাংশ হালদাররা পেয়ে থাকেন। এছাড়া বাওড়ের পানিতে যে ছোট ছোট দেশিয় মাছ থাকে তা সবই হালদারদের প্রাপ্য। তারা এই মাছও বিক্রি করে অর্থ উপার্যন করেন। এভাবে একদিকে সরকার মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পুরণ করছে, অন্যদিকে বাওড় পাড়ের হালদারদের জীবন-মান উন্নয়ন করে যাচ্ছিলেন। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল ভুমি মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের চুক্তি শেষ হচ্ছে। এই চুক্তি শেষ হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির পরিবর্তে বাওড়গুলো ইজারা দেওয়ার পক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ২২ সালের ডিসেম্বর বাওড়গুলো ইজারা দরপত্র আহবান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এগুলো ইজারা পক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ফতেপুর বাওড় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সুশান্ত কুমার হালদার জানান, বাওড়গুলো ঘিরে তারা জীবন-যাপন করে থাকেন। ফতেপুর ও কাঠগড়া বাওড়ে ১৫০ জন মৎস্যজীবী রয়েছেন। বলুহর ও জয়দিয়া বাওড়ে কাজ করেন আরো ৪৭২ জন। মর্জাদ বাওড়ে আছেন ১৪৫ জন ও বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ে ২১০ জন মৎস্যজীবী নিয়মিত কাজ করেন। বাওড় সরকারের হাত থেকে চলে গেলে এরা সবাই বেকার হয়ে পড়বে। আর এদের উপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন আরো কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষ, যারা পথে বসবে।
জয়দিয়া বাওড়ের মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি নিত্য হালদার জানান, তারা বাওড়ে কোনো প্রকার সার-ঔষধ ছাড়াই মাছ চাষ করে থাকেন। পাশাপাশি টেংরা, পুটি, শিং, কৈ, পাবদা, খলিসা, বাটা সহ নানান প্রজাতির দেশিয় মাছ বাওড়ে লালন করে বিক্রি করেন। বাওড়ের পানিতে থাকা জীববৈচিত্র্য অক্ষুন্ন রেখে তারা মাছের চাষ করেন। কিন্তু ইজারা দিলে কৃত্রিম চাষ শুরু হবে, হারিয়ে যাবে জীববৈচিত্র্য ও দেশিয় মাছ।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মোঃ আলফাজ উদ্দিন শেখ জানান, মৎস্য বিভাগ চেষ্টা করছেন বর্তমান প্রকল্পের মেয়ার বৃদ্ধি করে চলমান নিয়মে মাছের চাষ করা। কিন্তু ভুমি মন্ত্রনালয় এগুলো ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা হলে অনেকে পথে বসবেন। মৎস্য বিভাগের অনেকে বেকার হয়ে যাবেন।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম জানান, বাওড়পাড়ের মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে ভুমি মন্ত্রনালয় মৎস্য অধিদপ্তরের এক প্রকল্পের মাধ্যমে মাছ চাষের জন্য দিয়েছিল। কিন্তু তারা সফলতা আনতে পারেনি। যে কারনে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা স্থানীয় ভাবে দাপ্তারিক কাজ করছেন মাত্র। তিনি আরো বলেন, বাওড়পাড়ের হলদারদের বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে তিনি কথা বলবেন বলে জানান।

কয়রা উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন-২০২৩
সভাপতি-সম্পাদকের পদে তৃর্ণমূলের মতামত ছাড়াই ঘোষনা আসতে পারে
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৮ বছর পর কয়রা উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন উপলক্ষ্যে দলের তৃর্ণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে নেই কোন গুঞ্জন। সবার ধারনা তাদের মতামত ছাড়া উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সম্পাদকের পদে নাম ঘোষণা দিতে পারেন। এদিকে দীর্ঘদিন পর দলের উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন উপলক্ষে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেভাবে দৌড়ঝাপ বিগত সম্মেলন গুলোতে দেখা যেত, এবারের সম্মেলন উপলক্ষে তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। তৃর্ণমূলের একাধিক নেতাকর্মীদের কাছে খবর নিয়ে জানা গেছে, দলের মধ্যে দীর্ঘদিন গ্রুপিং থাকা এবং মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর না নেওয়ায় সম্মেলনের কথা তারা ভাবছেন না। সেজন্য অনেকের অভিযোগ দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় থাকলেও তারা বিরোধী দলে থাকার সময় অনেকটা ভাল ছিল। এ বিষয় উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও ৬৩ টি ওয়ার্ডের্র একাধিক সম্ভাব্য কাউন্সিলার পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, দীর্ঘ ৮ বছরে ওয়ার্ড, ইউনিয়নসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের কোন বর্ধিত সভা না হওয়ায় নেতাকর্মীরা মনের ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেনি। এছাড়া ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতিক হওয়ায় প্রতিটি নির্বাচনের সময় দলের প্রার্থীর বিরেুদ্ধেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করায় বেড়েছে নিজেদের মধ্যে শত্রুতা। এসব নেতাকর্মীরা আরও জানায়, দলের এই গ্রুপিংয়ের মধ্যে তৃর্ণমূলের মতামত ছাড়া সম্মেলন হলে দলের শত্রু দল হয়ে দাড়াবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী দুঃসময়ের প্রভাবশালী নেতা বাবু নিশিত রঞ্জন মিস্ত্রী জানান, আসছে সম্মেলনে দলের সাবেক ছাত্র নেতা এবং দলের নিবেদিত প্রাণ সহ প্রবীণ নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী উপজেলা নেতৃত্ব আসলে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হবে। তিনি বলেন, এছাড়া অন্য কোন উপায়ে ঘোষিত নেতৃত্ব আসলে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তিনি তৃর্ণমূল নেতাকর্মীদের এবং দলের দুঃসময়ের নেতাদের সমর্থন নিয়ে উপজেলা নেতৃত্ব নির্বাচন করার জন্য দলের উপরমহলের নেতৃবৃন্দের নিকট দাবী জানিয়েছেন।
অন্যদিকে দলীয় নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে এমন এক নেতা পরিচয় গোপন করে জানান, দল যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই না করায় এবং তদবীরের মাধ্যমে নৌকা প্রতিক দেওয়ায় কয়রাতে দলের বিভাজন এখন চরম পর্যায়ে। অনুরুপ নৌকা প্রতিক নিয়ে পরাজিত একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন এমন দলের উপজেলা পর্যায়ের এক নেতা অভিযোগ করেন দলের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স¦াক্ষরিত নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বারবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের বারবার সাধারণ ক্ষমা পাওয়ায় এখন নৌকায় ভোট না দিলে ক্ষমা পাবেন ভেবে অধিকাংশ নেতাকর্মীরা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছেন।
এছাড়া দলের তৃর্ণমূলের একাধিক সূত্র আরও জানায়, দলের আগামী উপজেলা সম্মেলন উপলক্ষে সভাপতি -সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এমন সম্ভাব্য সব প্রার্থীরাই তৃর্ণমূল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ না করে সবাই ছুটছেন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে। ফলে মাঠের নেতাকর্মীরা আশঙ্কা তাদের মতামত ছাড়া প্রধান পদ গুলোতে ঘোষিত হতে পারে।

লোহাগড়ায় ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্ধোধন
মো: তাহের, নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় তিন দিনব্যাপি ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্ধোধন করা হয়েছে। লোহাগড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে (৭ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার উদ্ধোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে লাল ফিতা কেটে এ মেলার উদ্ধোধন করেন নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এর আগে একটি শোভাযাত্রা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আজগর আলী, ক্লামেইট স্মার্ট প্রযুক্তি প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ শেখ ফজলিল হক মনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ, লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান প্রমুখ। এ মেলায় ১২ টি স্টল রয়েছে।

 

ক্যানসারে আক্রান্ত পঙ্গু ফাতেমা বাঁচতে চায়
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
ক্যানসারের পর সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ফাতেমা (৫৯) আর্থিক সংকটে চিকিৎসার অভাবে অতিকষ্টে জীবনযাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছেন।
তিনি পাইকগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেজাউল করিমের স্ত্রী। ২০২১ সালের প্রথম দিকে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। দুই মাস আগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় ভ্যানের সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার হন।

এ সময় তার একটি পা ভেঙে যায়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিলেও এখনো সুস্থ হতে পারেননি। জায়গা-জমি বলতে কিছুই নেই। আবাসন প্রকল্পে প্রায় ১৫ বছর ধরে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে অতিকষ্টে জীবনযাপন করছেন। নিজের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ বিভিন্নজনের সুপারিশকৃত আবেদন জমা দিয়েছেন।

 

ছাগলের মাংসে কীটনাশক মিশিয়ে শিকার, বাঘের চামড়াসহ আটক ২
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সুন্দরবনের বাঘের চামড়াসহ ২ শিকারিকে আটক করেছে র্যাব। সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হরিনগর বাজার সংলগ্ন ধলপাড়া গ্রামের শেখ হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে ওই চামড়া উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোসতাক আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। আটক দুইজন হলেন- সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার মো. হাফিজুর শেখ ও মো. ইসমাইল শেখ।

র্যাব-৬ জানায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি র্যাবের সাতক্ষীরা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হরিণনগর ধল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাছধরা ও গোলপাতা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে প্রবেশ করে ছাগলের মাংসের মধ্যে কীটনাশক ব্যবহার করে বাঘসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী শিকার করার কথা স্বীকার করেছে।

র্যাব আরও জানায়, আটকরা বাঘের চামড়া দেশে ও বিদেশে সৌখিন মানুষের কাছে কোটি টাকা মূল্যে বিক্রি করতেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে।

কুষ্টিয়ায় চলন্ত বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে চলন্ত বিআরটিসি বাস থেকে নামতে গিয়ে চাকায় পিষ্ট হয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের কুমারখালী বাসস্টান্ডের গোলচত্ত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক আনোয়ারা সাহা (৩০) জেলার খোকসা উপজেলার কালীবাড়ি এলাকার আবুল সাহার ছেলে। তিনি পেশায় একজন হকার।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঝুড়িভাজা বিক্রির উদ্দেশ্যে আনোয়ার সাহা খোকসা বাসস্টান্ড থেকে বিআরটিসি বাস উঠেছিলেন। এরপর বাসচালক কুমারখালী বাসস্টান্ডের গোলচত্ত্বর এলাকায় গতি কমিয়ে তাকে নামিয়ে দেন। এ সময় বাসের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে প্রথমে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি দেবব্রত রায় বলেন, চলন্ত বাস থেকে নামতে গিয়ে পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
হরিণাকুণ্ড (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলায় ঠান্ডু মন্ডল নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. বাহাউদ্দিন আহম্মেদ এ দণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঠান্ডু মন্ডল শহরের বৃত্তিরপোল এলাকার বাবর আলীর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী লিপা খাতুনকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন ঠান্ডু মন্ডল। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে ঠান্ডুসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন লিপার পিতা ফজলু মন্ডল। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার দুপুরে এ দণ্ডাদেশ দেন আদালত। এ সময় মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

যশোরে ট্রাক-মাক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে ট্রাক এবং যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিধান চন্দ্র রায় নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।

মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ফকিররাস্তার বাজারের পাশে ছাতিয়ানতলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আইনজীবী বিধান চন্দ্র রায় বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার নরেন্দপুর গ্রামের মনোরঞ্জন রায়ের ছেলে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকালের দিকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার এমএন জোয়ার্দ্দার ও তার পরিবারের চার সদস্য আইনজীবী বিধান চন্দ্র রায়কে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাস যোগে একটি মামলা সংক্রান্ত ব্যাপারে ঝিনাইদহ জজ আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল ৯টার দিকে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মনিরামপুরের ফকিররাস্তার বাজারের পাশে ছাতিয়ানতলা মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ ভেঙ্গে দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং আইনজীবী বিধান চন্দ্র রায় নিহত হন। গুরুতর জখম হন এমএন জোয়ার্দ্দার, জলি জোয়ার্দ্দার, হোসনে য়ারা বেগম, শওকত আরা ও মাইক্রোচালক লিটন হোসেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদেরকে উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্মা ডা. তন্দয় বিশ্বাস।

মনিরামপুর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) গাজী মাহাবুবুর রহমান জানান, ঘটনার পর মরদেহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাস ও ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পল্লী চিকিৎসকের সন্ধান চেয়ে অঝোরে কাঁদলেন দুই স্ত্রী
যশোর অফিস
যশোরে এক পল্লী চিকিৎসককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিখোঁজ পল্লী চিকিৎসকের দুই স্ত্রী ও স্বজনরা। নিখোঁজ চিকিৎসক সেলিম হোসেন (৪৫) সদর উপজেলার বি-পতেঙ্গালী গ্রামের মৃত আলা বক্সের ছেলে। গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরতলির খড়কি গাজির বাজারের রিনা মেডিকেল চেম্বার থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

নিখোঁজের পর সাতদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তরে ঘুরে ঘুরে স্বামীকে ফিরে না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে অঝোরে কাঁদলেন পল্লী চিকিৎসকের প্রথম স্ত্রী আলজিয়া খাতুন রিনা ও দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা খাতুন। এসময় তাদের চার সন্তান ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পল্লী চিকিৎসক সেলিম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরতলির গাজীর বাজারে রিনা মেডিকেল নামে একটি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে দোকানের সামনে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে ১০-১২ জন নেমে সেলিম হোসেনকে পরিচয় দেন তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক। এখনই তাদের সঙ্গে যেতে হবে।
এসময় সেলিম রেজা তাদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা কোনো কার্ড না দেখিয়ে দোকানের শাটার বন্ধ করে সেলিমকে প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যান। এরপর স্ত্রী ও স্বজনরা তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে কয়েক দফা সেলিমের পরিবার যশোর ডিবি, পিবিআই, র্যাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়েও সেলিমের কোনো সন্ধান পায়নি। সেলিম কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা খাতুন জানান, দুই পরিবারে তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এর মধ্যে একটি ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী। দুই পরিবারই পল্লী চিকিৎসকের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। তার অনুপস্থিতিতে পরিবার দুটিই অসহায়ভাবে দিন অতিবাহিত করছে। শিশুরা তাদের বাবাকে না পেয়ে কান্নাকাটি করছে।

সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সরকারপ্রধানের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

জেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, সেলিমকে আমরা সজ্জন হিসেবেই চিনি। সহকর্মী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। এছাড়া পিবিআই ও র্যাবকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাতদিন পার হলেও কোনো ফলাফল না পেয়ে আমরা হতাশ। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় পরিবার দুটি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমরা দ্রুত তার সন্ধান চাই।
এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) বেলাল হোসাইন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

তদন্ত শেষে পিবিআই// মায়ের ‘অপহরণ’ সাজানো, নিয়মিত টাকা পাঠাতেন মরিয়ম
স্টাফ রিপোর্টার
দেশব্যাপী আলোচিত মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগমের ‘অপহরণের’ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে এ ‘অপহরণ নাটক’ সাজান মা-মেয়ে। এমনকি যাতে আরও বেশিদিন আত্মগোপনে থাকতে পারেন সেজন্য মা রহিমা বেগমকে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন মরিয়ম। তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একমাস আগে ঢাকায় পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। অনুমোদনের পর তা সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। শিগগির অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেও আশা করেন তিনি।

পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান জানান, রহিমা বেগম অপহরণের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে রহিমা বেগম ও তার দুই মেয়ের (মরিয়ম মান্নান ও আদুরী আক্তার) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে এ মামলায় পুলিশ যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশও করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, রহিমা বেগমের সৎছেলের কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন হেলাল শরিফ ও গোলাম কিবরিয়া। সেই জমি যেন তারা দখল নিতে না পারেন সেজন্যই পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন আদুরী। কথিত অপহরণ মামলায় তাদের জেলও খাটতে হয়েছে।

২০২২ সালের ২৭ আগস্ট রাতে খুলনা নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রহিমা বেগম। তাকে অপহরণের অভিযোগ তুলে ২৮ আগস্ট তার ছোট মেয়ে আদুরী দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। এ মামলায় গত ৪ সেপ্টেম্বর ও পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী পাঁচজনকে গ্রেফতার করে র্যাব ও পুলিশ।
তবে পিবিআই বলছে, রহিমা বেগম ২৭ আগস্ট রাতে তার তৃতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদারের সহযোগিতায় ঢাকায় চলে যান। ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকায় মেয়ে মরিয়মের কাছে ছিলেন। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর চলে যান বান্দরবান। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বান্দরবানে তিনি রিজিয়া বেগম নামের এক নারীর বাড়ি ছিলেন। ১২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই এলাকার মনি বেগমের ভাতের হোটেলে কাজ নেন এবং তার বাড়িতেই থাকেন।

পরে একটি অফিসে কাজের জন্য গেলে তারা রহিমার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন চান। এতে ভীত হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর রহিমা ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের বাড়িতে যান। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভুয়া নাম এবং বাড়ি বাগেরহাট উল্লেখ করে জন্মনিবন্ধনেরও চেষ্টা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত রহিমা বোয়ালমারীতে ছিলেন, যা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

মায়ের খোঁজ দেওয়ার দাবিতে তার মেয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেত্রী মরিয়ম ও পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, পোস্টারিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মাকে ফিরে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আকুতি-মিনতি করেন মরিয়ম মান্নান, যা দেশবাসীর মনে নাড়া দেয়। একপর্যায়ে ২২ আগস্ট ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা পুলিশ তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন মরিয়ম।
পরদিন ফুলপুর থানায় গিয়ে মরদেহটি তার মায়ের বলে শনাক্তও করেন। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর খুলনার দৌলতপুর থানা পুলিশ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের বাড়িতে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকা রহিমাকে উদ্ধার করে। কুদ্দুস একসময় মহেশ্বরপাশায় রহিমার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

গমের চালানে বালু-পাথর// তিন প্রতিষ্ঠানসহ ১২ জনের নামে মামলা, গ্রেফতার ৩
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় সরকারি গমের চালানের ট্রাকে বালুর বস্তা ও পাথর পাওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় আটক তিন ট্রাকের হেলপারকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জোনাকি পরিবহন, সরকার এন্টারপ্রাইজ ও সানরাইজ জুট ট্রেডার্স এ তিন প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন সদর উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামান জাগো নিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সোমবার দুপুরে তিনজনকে আটক করা হয়। মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ছয়টি ট্রাক থেকে সব গম নামানো হয়েছে। এতে ৩ টন ৭৭১ কেজি গম কম পাওয়া গেছে। এছাড়া ট্রাক থেকে উদ্ধার করা বালুর পরিমাণ ১ হাজার ৪৮৮ কেজি।

এ ঘটনায় একট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল হামিদ রেজা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাক চালক-হেলপাররা এ কারসাজিতে জড়িত। তবে তদন্তের পর বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হবে।

চুক্তি অনুযায়ী খুলনার সরকার এন্টারপ্রাইজ, জোনাকি পরিবহন ও সানরাইজ জুট ট্রেডার্স পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০০ মেট্রিক টন গম চুয়াডাঙ্গা সদর খাদ্যগুদামে পাঠানোর কথা ছিল। সে অনুযায়ী শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রথম চালানে ১০০ টন গম আসে।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দ্বিতীয় চালানের ১০০ টন গম এলে আনলোডের সময় একটি ট্রাকে বালুভর্তি সাতটি বস্তা পাওয়া যায়। এরপর অন্য ট্রাকগুলো আনলোড করার সময় পাওয়া যায় একে একে বালুভর্তি ২৮টি বস্তা ও কয়েকটি সিমেন্টের জমাট টুকরা। সব গম ওজনের পর ৩ টন ৭৭২ কেজি কম পাওয়ার অভিযোগে মামলা করে জেলা খাদ্য বিভাগ।

সড়কে প্রাণ গেলো স্কুলশিক্ষকের
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বেপরোয়া গতিতে চালানো ট্রাকের ধাক্কায় গণেশ চন্দ্র পোদ্দার (৪৭) নামে এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রাজপাট এলাকার খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত গণেশ চন্দ্র পোদ্দার মোল্লাহাট উপজেলার চাউলটুরি গ্রামের মৃত চিত্তরঞ্জন পোদ্দারের ছেলে। তিনি নাশুখালি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

মোল্লাহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, গণেশ চন্দ্র পোদ্দার রাস্তা পারাপার হচ্ছিলেন। এমন সময় অজ্ঞাত একটি ট্রাক তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘাতক ট্রাক ও চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শিবিরনেতাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৬
বাগেরহাট ও মোংলা প্রতিনিধি
বাগেরহাট সদরের চুলকাঠি এলাকায় জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আরিফকে বাড়ি থেকে অস্ত্রসহ আটককালে তাকে ছিনিয়ে নিতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এসময় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাগেরহাট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান পুলিশ পরির্দশক এস এম আশরাফুল আলম জানান, নাশকতার পরিকল্পনা করতে চুলকাঠি এলাকায় আরিফের বাড়িতে কয়েকজন জড়ো হয়েছেন বলে খবর আসে। পুলিশ গিয়ে আরিফসহ পাঁচজনকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে। আরিফসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন আহত হন।

আরিফ ছাড়া আটক অন্য চারজনের নাম জানা যায়নি।

এ ঘটনায় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটরা গিলতলায় আ’লীগ নেতা ড. মাহবুব উল ইসলাম’র গনসংযোগ
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
খুলনা জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ও আ’লীগ নেতা আলহাজ¦ প্রফেসর ড. মাহবুব উল ইসলাম মঙ্গলবার দিন ব্যাপী আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের গিলাতলা খেয়াঘাট, গিলাতলা মধ্যপাড়া, পাকারমাথা, মক্তবমোড়, গিলাতলা দক্ষিনপাড়া, গাজীরঘাট, , গাফফারফুড মোড় সহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে পুনরায় নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানান। উপস্থিত ছিলেন আ’লীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ, যুবলীগ রেতা আঃ জব্বার, ডাঃ মনিরুল, আমিনুল, ছাত্রলীগ নেতা আনারুল, কামরুল জমাদ্দার, মোঃ সবুজ প্রমুখ।

পাইকগাছা ১ কেজি গাঁজাসহ বিক্রেতাকে আটক
পাইকগাছা প্রতিনিধি।।
পাইকগাছা থানাপুলিশ ক্রেতা সেজে ১ কেজি গাঁজাসহ বিক্রেতাকে আটক করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আটক ওই ব্যক্তিকে মঙ্গলবার ১২ টায় উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পাইকগাছা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) সুকান্ত জানান, ক্রেতা সেজে মঙ্গবার সকাল সাড়ে ৮ টার সময় উপজেলার আঘাটা বাজার থেকে আটক করা হয়। সে পৌর সদরেরর সরল এলাকার মৃত্যু মানিক সরদারের ছেলে রবিউল ইসলাম(৩৮)। তিনি আরো জানান, রবিউল একজন ট্রাক ড্রাইভার। এর ১ বছর আগে কুমিল্লায় ২৪ কেজি গাঁজা সহ গ্রেফতার হয় বলে রবিউল জানান। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, রবিউল বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী। তাকে ধরার জন্য অনেকদিন ধরে চেষ্টা করা হচ্ছে। আটকের পর তাকে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তাজমীরা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত গামছা উদ্ধার করেছে পুলিশ
পাইকগাছা প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় তাজমীরা হত্যা কান্ডের মুল রহস্য উদঘাটনের পর পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তির সুত্র ধরে রোববার রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যার গামছা উদ্ধার করে। তাজমীরার স্বামীর বড় ভাই শহিদুল্লাহকে ৩ দিনের রিমান্ডের পর মীর শহিদুল্লার দেখানো মতে নিজ চা দোকান থেকে হত্যার ব্যবহারিক গামছা উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে আরেক আসামি শহিদুল গাজী( মাষ্টার) উপজেলা সিনিয়র উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারা জবানবন্ধি দেয়।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি রাত ১২ টায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে ছোট ভাই ওবায়দুল্লাহ স্ত্রী তাজমীরাকে বাড়ির পাশে চা দোকানে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ধানখেতের পাশে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় তাজমীরার ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪/৫ জনের নামে মামলা করে। এ মামলায় পুলিশ ধামরাইরাই গ্রামের মুছাল উদ্দীন মোড়লের ছেলে শহিদুল মোড়ল (মাষ্টার) (৪৫), ও একই এলাকার মৃত্যু আবুবক্কর গাজীর ছেলে মফিজুল গাজী(৫৮) ও মীর শহিদুল্লাহকে গ্রেফতার করে। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউর জানান, মীর ওবায়দুল্লাহ স্ত্রী তাজমীরা হত্যা মামলায় ওবায়দুল্লাহ বড় ভাই স্বীকারোক্তি সোমবার রাতে হত্যায় ব্যবহৃত গামছা উদ্ধার হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

পাইকগাছার জিরবুনিয়া সমবায় সমিতি’র সভপতি ভোল্টন সম্পাদক অমিতাভ

পাইকগাছা প্রতিনিধি।।
পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নের জিরবুনিয়া গ্রাম উন্নয়ন বহুমুখি সমবায় সমিতি’র নির্বচনে সভপতি ভোল্টন মন্ডল সম্পাদক অমিতাভ মন্ডল নির্বাচিত হয়েছে। সোমবার সমিতি ভবনে এ নির্বাচন হয়। ৪টি পদে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধতা করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বেনজির আহম্মেদ। ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে আটায় ফল ঘোষণা করেন করা হয়। সমিতির ২ হাজার ৮৬০ জন ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ৯৩ জন ভোট দেন। নির্বাচনে সভাপতি পদে ভোল্টন মন্ডল ১৪৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুকুমার কবিরাজ পেয়েছেন ৬২২ ভোট। সহ সভপতি পদে বিপ্রজিত সরকার পেয়েছেন ১২৭৫ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদন্দি অমিতাভ মন্ডল পেয়েছেন ৯০৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে অমিতাভ মন্ডল পেয়েছেন ৯০৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনারুল গাজী পান ৮২০ ভোট। সদস্য পদে অনিমা মন্ডল ১১৭৪, কৌশিক সরকার ১১৭৬, মনজুর শেখ ৮৭৮ পেয়ে নিবর্বচিত হয়েছেন।

ছবি ব্যাবহার করে প্যানা পোষ্টার করা যাবে না যুবলীগের
খবর বিজ্ঞপ্তি
প্যানা ও পোষ্টার নিয়ে খুলনা মহানগর যুবলীগ এর নব নির্বাচিত সভাপতি সফিকুর রহমান পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন একটি জরুরী নির্দেশনা দিয়েছেন। জরুরী নির্দেশনায় তারা বলেছেন, নগর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর ছবি ব্যাবহার করে প্যানা বা পোষ্টার তৈরীর আগে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ব্যাতিত কোন পোষ্টার বা প্যানায় খুলনা মহানগর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ ব্যবহার করেন তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়াও প্যানা ও পোষ্টারের ছবি ব্যাবহারের বিষয়ে দপ্তর সেলের সাথে যোগাযোগ করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তৈরী ও প্রচার করতে হবে।